আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

ধন্য হোক পাকিপ্রেম ধন্য হোক। সাথে ভারতপ্রেমও।

অনেক আগে একটা তামিল মুভিতে দেখছিলাম, একে বারে বাচ্চা পোলাপান বলতে গেলে গুরাগারা ইন্ডিয়া হেরে যাওয়ার পর কান্নাকাটি করতেছিল। একটা দুইটা না, অনেক গুলা। তখন মনে হইছে, এতে কান্নাকাটি করার কি আছে। কিন্তু এখন বুঝি। এই আবেগটাই পরবর্তীতে একটা শক্ত দেশপ্রেমের ভিত গড়ে দেয়।

আমি বুঝি না, মানুষ কোন যুক্তিতে বাংলাদেশের খেলায় অন্যদেশকে সমর্থন দেয়। অনেকেই বলে আমরা প্রতিনিয়ত হারি, তাই সমর্থন করে লাভ নাই। ভাল, মেনে নিলাম। যারা খেলে তারা খারাপ খেলে। অনেকের মতে বাংলাদেশের টেস্ট ও ওয়ানডে স্ট্যাটাস কেড়ে নেয়া উচিৎ।

কিন্তু ভাইয়া যারা বাংলাদেশ দলে খেলে তারা কারও না কারও ভাই অথবা বাবা। আর যারা নিজেকে মুসলিম বলে পরিচয় দেয়, তারা তো জানে এক মুসলমান আর এক মুসলমানের ভাই। কাজেই ভাই হয়ে ভাইয়ের বিরুদ্ধে কিভাবে বাজে কথা বলেন?? এর পরও কি আপনি মুসলমান বলে দাবি করেন?? আচ্ছা, এবার আসি দেশের কথায়। আপনি ভাল করেই জানেন, হাদীসে আছে, “দেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ। ” আপনি কেমন দেশপ্রেমিক যে নিজের দেশকে বাদ দিয়ে অন্য দেশকে সমর্থন করেন?? শুধু কি তাই, আপনার হৃদয়ে শুধু ভারত বা পাকিস্তান।

সেখানে বাংলাদেশের জন্য জায়গা কোথায়? এর পরও আপনি মুসলমান!!!!!! যে দেশের আলো-ছায়ায়, পানি, বাতাসে আপনার দেহ মন প্রতিনিয়ত শীতল হচ্ছে, পুষ্ট হচ্ছে, সেই দেশকে নিয়ে কিভাবে বাজে কথা বলেন আপনি?? ইতিহাস মীরজাফর দেখেছে, কিন্তু আপনার মত মীরজাফর দেখে নি। ধন্য আপনার পাকিপ্রেম এবং সেই সাথে আপনারাও ধন্য যারা ভারতপ্রেমী। অমর হোক আপনাদের দেশপ্রেম। । সাথে আপনিও হোন অমর।

। খেলার সাথে রাজনীতি মেলানো ঠিক না (!!!) ও ফাকিপ্রেমের পক্ষে অন্যান্য যুক্তি খন্ডন... যুক্তি ১: পাকিস্তান কে যদি এতই ঘৃণা করেন তাহলে তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করলেই হয়!রাষ্ট্রিয় ভাবে তাদের দেশে আমন্ত্রন জানানো হয় কেন? খন্ডন ১: আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রপ্রধান যখন ইংল্যান্ডে যায় অথবা ইংল্যান্ডের রাষ্ট্রপ্রধান যখন আর্জেন্টিনা যায় তখনও রাষ্ট্রীয় আতিথেয়তা দেয়া হয়,তাই বলে কোন আর্জেন্টাইন ইংল্যান্ডকে সমর্থন করেনা,তেমনি ইংল্যান্ড আর্জেন্টিনার সাপোর্ট করেনা। রাশিয়ার সাথে তো জার্মানীর ভালো সম্পর্ক,কারন জার্মানরা নিজেদের সংশোধন করছে, যুদ্ধের ক্ষতিপূরনও দিয়েছে আবার মাফও চাইছে , সেই সাথে নিজের দেশের অপরাধীদের বিচার করছে । পক্ষান্তরে ফাকিস্তান এখনো ক্ষমা চায়নি, আর দেয়ার মধ্যে দিয়া গেছে কতগুলা পাকি জারজ, যারা বিভিন্ন ছুতায় ফাকিস্তানের গুনগান গায়। যুক্তি ২: খেলা তো খেলাই।

এর সাথে রাজনীতি মেশানোর কোনো দরকার নেই। খন্ডন ২.১: খেলার সাথে রাজনীতি আলাদা করে দেখার কোন উপায়ই নাই। বাংলাদেশ দল বলেন বা ভারত বা ইংল্যান্ড, দুনিয়ার প্রত্যেকটা টিমই একটা রাষ্ট্রের বা রাষ্ট্রপুঞ্জের প্রতিনিধিত্ব করে, আর রাষ্ট্র ব্যাপারটাই রাজনৈতিক। খেলার সাথে রাজনীতি যদি না-ই মিশত, তবে ভারত-পাকিস্তান খেলা নিয়া সবার এত আগ্রহ থাকতনা, ইংল্যান্ড অস্ট্রেলিয়ার এ্যাশেজ নিয়া এত মাতামাতি হতনা। রাজনৈতিকভাবে বা সাংস্কৃতিকভাবে এরা শত্রু বলেই এদের খেলাগুলোতেও সেই উত্তাপ ছড়ায় ।

খন্ডন ২.২: একটি কথোপকথন থেকে ব্যাপারটা আরও বোঝার চেষ্টা করি। রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছি এক বন্ধুর সাথে…কথা হচ্ছে… আমিঃআচ্ছা ক্রিকেটে এখন World Champion কেরে? বন্ধুঃকেন অষ্ট্রেলিয়া আমিঃঅষ্ট্রেলিয়া নাকি অষ্ট্রেলিয়া ক্রিকেট টিম??? বন্ধুঃএকই তো কথা… আমিঃ কেন এক হবে কেন?খেললো তো ওরা ১১ জন… বড়জোড় দলের ১৫ সদস্য আর কোচ (যদিও অধিকাংশ কোচ অন্য দেশের হয়ে থাকে) কে World Champion বলা যাতে পারে, তাই বলে পুরো অষ্ট্রেলিয়াকে!! বন্ধুঃআরে গাধা, এই যে বাংলাদেশের খেলা হচ্ছে তো ওরা কি শুধু ১১ জন খেলছে? আমরা…!! ওরা খারাপ করলে আমরা ১৬ কোটি মানুষ হতাশায় ডুবি, ওরা ভালো করলে ১৬ কোটি মানুষ সারা দিন রাত উল্লাস করি…এই যে ওদের সমর্থন এর জন্য কত কিছু… কেন করি…কারন ওদের সাথেই জড়িয়ে আছে আমাদের সবকিছু… ওদের হাতেই আজ বাংলাদেশের পতাকা…ওরা বাংলাদেশ কে তুলে ধরছে সারা বিশ্বের কাছে… আমিঃতাই নাকি!! আচ্ছা বন্ধু তাহলে অন্য দেশ গুলোও নিশ্চয় ওদের দেশ কে তুলে ধরার জন্য খেলে?? বন্ধুঃতুই যে এতো গাধা আগে জানতাম না…শোন যে কোন খেলায় দেশ ভিত্তিতে কেন এসেছে জানিস? ঐ দেশকে সারা পৃথিবীর সামনে তুলে ধরার জন্য…তাহলে তো শুধু একা একা খেললেই পারতো তাই না…আর আজকের যত নামি দামি খেলা যেমন - ফুটবল,ক্রিকেট এসব খেলা যে কিভাবে একটা দেশকে সারা বিশ্বের কাছে নিজের দেশ কে রিপ্রেজেন্ট করে চিন্তাও করা যায় না…এই যেমন ধর পৃথিবীর মানুষ কি বাংলাদেশ কে চিনতো?এই ক্রিকেট দিয়েই তো চিনলো… আমিঃহুম তাহলে ক্রিকেট শুধু ঐ ১৫ কে না পুরো জাতি বা দেশকেই তুলে ধরে? আজ যদি বাংলাদেশ বিশ্বকাপ জেতে তাহলে ওরা শুধু ১৫ জনই বিশ্বকাপ জিতবে না,জিতবে পুরো জাতি…পুরো বাংলাদেশ…! বন্ধুঃঅবশ্যই… আমিঃআচ্ছা বন্ধু তোমার কি মনে হয় না ৭১ এর জন্য পাকিস্থানের ক্ষমা চাওয়া উচিত? বন্ধুঃ হঠাত্‍ এ প্রসংগ? উচিত তো… ওরা যা করেছে তা তো যুদ্ধ নয় গনহত্যা…নির্মম গণহত্যা…ওদের এই গণহত্যা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল নিকৃষ্ট ঘৃন্যতম অপরাধ… আমিঃতাহলে যে তুমি ক্রিকেটে পাকিস্থানকে সমর্থন কর! আজ না পাকিস্থান নিয়ে কত লাফালাফি করলে! বন্ধুঃআরে ওটা তো ক্রিকেট…ক্রিকেটে সমর্থন করলেই কি পাকিস্থানকে সমর্থন করা হয় নাকি? আমিঃকেন তুমি যে বললে ক্রিকেট শুধু ১১ জন এর খেলানা…পুরো জাতির খেলা…ক্রিকেট রিপ্রেজেন্ট করে পুরো জাতি কেই? বাংলাদেশ ক্রিকেট দল বিশ্বকাপ জিতলে তা হবে বাংলাদেশের জয়? খন্ডন ২.৩: একজন পাকিস্তান সাপোর্টার কে যদি জিজ্ঞেস করি ভারত সাপোর্ট করেন না কেন- সেখানে তিনি অবশ্যই ভারতের বর্তমানে বাংলাদেশের সাথে অমানবিক আচরণের বিষয়টি তুলে আনবেন। সীমান্ত হত্যা, টিপাইমুখ সহ অনেক বিষয় আনবেন। তখন তাদের যদি বলা হয়-আপনি নিজেই তো রাজনৈতিক কারনে ভারতকে সাপোর্ট করছেন না-তো আমাকে কেন খেলার সাথে রাজনীতি মেশাতে নিষেধ করছেন? খন্ডন ২.৪: বাংলাদেশ খেললে সাপোর্ট দেন কেন? নিজের"দেশ", নিজের "রাষ্ট্র" জিনিসটা কি একটা পলিটিক্যাল এনটিটি না? যুক্তি ৩: পাকিস্তান ভালো খেলে/খেলা ভালো লাগে। খন্ডন ৩: নো কমেন্ট।

ভালো লাগলে সাপোর্ট কর গিয়া। কিন্তু আমি বলবো তুমি খেলা বোঝনা। পাকিস্তান এমন বিশেষ কোন ভালো খেলে না। অস্ট্রেলিয়া-সাউথ আফ্রিকা-ইংল্যান্ড এরা পাকিস্তানের থেকে অনেক ভালো টিম। যুক্তি ৪: পাকিস্তান প্রতিবেশী দেশ।

খন্ডন ৪:ভারত-শ্রী লঙ্কা আরো নিকট প্রতিবেশী। এই যুক্তিতে পাকিস্তানের চেয়ে বেশি সাপোর্ট ভারত বা শ্রীলঙ্কা পাওয়ার যোগ্যতা রাখে। যুক্তি ৫: ধর্মীয় কারণ। খন্ডন ৫: বিশ্বকাপ ফুটবলে সৌদি আরব,ইরান,তুরষ্ক, তিউনিশিয়া সহ অনেক মুসলিম দেশ খেলে। সেখানে বেশির ভাগ লোককেই ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা অথবা জার্মানি-ইটালি-স্পেন এসব দলকেই সাপোর্ট করতে দেখা যায়।

সুতরাং তাদের এটা ধর্মপ্রেম নাকি পাকিপ্রেম সেটা অবশ্যই সন্দেহের বিষয়। যুক্তি ৬: ধান ভানতে শিবের গীত এর মত ভারত টেনে আনা। খন্ডন ৬: ভাব দেখলে মনে হয় ক্রিকেট পৃথিবীর দুইটা দেশই খেলে - ভারত আর পাকিস্তান। পাকিস্তানের বিরোধিতা করা মানেই নাকি ভারত সাপোর্ট করা!!এই জন্য নাকি তারা পাকিস্তান সাপোর্ট করেন!!হাউ ফানি!! সকল পাকি,নব্য পাকি,পাকিগো প্রতি সহানুভূতিশীল, পাকি প্রেমী... আপনাদের সদয় অবগতির জন্য জানাচ্ছি,একাত্তরের যুদ্ধাপরাধ,হত্যা,ধর্ষণ,নির্যাতন এবং ক্ষয়ক্ষতির জন্য পাকিস্তানের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা এবং যথোপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রাপ্তির আগে কোন ধরণের বন্ধুত্ব বা হৃদয়বৃত্তিক চর্চা করতে আমরা অপারগ। সে পর্যন্ত আমাদের তরফ থেকে আপনাদের জন্য একমাত্র বরাদ্দ বিশুদ্ধ ঘৃণা।

** আসুন, বিজয়ের মাসে সব বিভেদ ভুলে, পাকিপ্রেম, ভারতপ্রেম চিরতরে বিদায় দিয়ে সত্যিকারে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হই। বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ে একতাবদ্ধ হই। লেখাটির কিছু অংশ @Bechelar Life থেকে নেয়া এবং বাকিটা নিজ থেকে লেখা। । ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.