আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

আশুরা ও আমাদের প্রেক্ষাপট

হট নিউজ নীলসিয়া আসমান লালে লাল দুনিয়া, আম্মা! লাল তেরী খুন কিয়া খুনিয়া। কাঁদে কোন ক্রন্দসী কারবালা ফোরাতে সে কাঁদনে আসু আনে সীমারের ছোরাতে, সত্য মিথ্যার দ্বন্ধ চিরকাল থাকবে। বর্তমানেও আছে,তবে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে। ইসলামি আন্দোলনের সাথে তাগুতের লোমহর্ষক নির্যাতন। তবে হক ও বাতিলের চিরন্তন সংঘাতে হকের বিজয় নিশ্চিত এবং আল্লাহর সাহায্য হকপন্থীদের জন্য অবধারিত।

এ বাস্তবতা আমাদেরকে স্বীকার করতে হবে এবং বিশ্বাসে পরিণত করতে হবে। তাই আল্লাহ তা'আলা বনী ইসরাঈলকে আশুরার এ দিবসে বিজয় দান করেছেন। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে এভাবে তুলে ধরেছেন : ‘‘আর যে জাতিকে দুর্বল মনে করা হত আমি তাদেরকে যমীনের পূর্ব ও তার পশ্চিমের উত্তরাধিকারী বানালাম, যেখানে আমি বরকত দিয়েছি এবং বনী ইসরাঈলের উপর তোমার রবের উত্তম বাণী পরিপূর্ণ হল। কারণ তারা ধৈর্যধারণ করেছে। আর ধ্বংস করে দিলাম যা কিছু তৈরি করেছিল ফির'আউন ও তার কওম এবং তারা যা নির্মাণ করেছিল।

’’ (সূরা আরাফ : ৩৭) আশুরা একটি গুরুত্বপূর্ণ ইসলামী দিবস যাতে কেবল সিয়াম পালন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া এ দিবসে অন্য কোন ধরনের আনুষ্ঠানিকতা বা ইবাদত পালনের শরয়ী বৈধতা ও মর্যাদা নেই। তাই এ দিবসকে বিশেষভাবে ঘটা করে পালন করার কোন প্রকারের দলিল দ্বারা সাব্যস্ত হয়নি। শুকরিয়া আদায় কেবল মৌখিক বিষয় নয়। শুকরিয়া আদায়ের একটি উপায় হচ্ছে, সিয়াস পালন।

মুসা আলাইহিস্সালাম সিয়াম পালনের মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলার শুকরিয়া আদায় করেছেন। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও এ কাজটিকে হাদীসের মাধ্যমে সমর্থন করেছেন। পৃথিবীর সমস্ত সৃষ্টি যেদিন ভয়ে শিহরিত হয়ে গিয়েছিল, যেদিন শান্ত পশুরা কারবালার নিষ্ঠুর ঘটনা প্রত্যক্ষ করে ভয়ে শিহরিত হয়ে গিয়েছিল এবং তাদের আহাজারি ও আত্মবিলাপে আকাশ-বাতাস কেঁপে উঠেছিল, রাঙ্গা খুনে লাল হয়ে গিয়েছিল কারবালার প্রান্তর, এই সেই আশুরা দিবস, কারবালা দিবস ১০ই মুহাররম। এই দিনে হযরত ইমাম হুসাইন (রাঃ) ফোরাত নদীর উপকূলে কারবালার প্রান্তরে তার ৭২ জন সাথীসহ শহীদ হয়েছিলেন ইয়াযীদের বাহিনীর হাতে। ইসলামের ইতিহাসের কুচক্রী শাসক ইয়াযীদের তত্ত্বাবধানেই এই বিষাদময় ঘটনার ফলক উন্মোচিত হয়।

কুফার লোকদের আমন্ত্রণে হযরত ইমাম হুসাইন (রাঃ) সেখানে যেতে চাইলে পথিমধ্যে ইয়াযীদের নরপশু সৈন্যরা তাকে গৃহবন্দী করে এবং পানির সংকটে ফেলে দিয়ে নির্মম নির্যাতন করে। কুহক পাতক মায়াবী ছলনাময়ী অর্থের লালসায় পড়ে মনুষত্বহীন পিচাশ সীমার হযরত ইমাম হুসাইন (রাঃ)কে শহীদ করেছিল এবং তার খন্ডিত মস্তক নিয়ে হাজির হয়েছিল স্বৈরাচারী শাসক ইয়াযীদের দরবারে। যা দেখে মানবতা সেদিন আর্তনাদ করছিল : ‘‘আমাকে বাঁচাও’’ ‘‘আমাকে বাঁচাও’’ বলে। সাহসী সিপাহসালার হযরত ইমাম হুসাইন (রাঃ) ছিলেন আপোষহীন সংগ্রামী চেতনার অধিকারী সুমহান ব্যক্তিত্ব। ইতিহাসের পাতায় হযরত ইমাম হুসাইন (রাঃ) একজন অকুতোভয়ী সাহসী বীর সেনাপতির নাম।

যাঁর মধ্যে সমাবেশ ঘটেছিল একাধারে বীরত্ব, সহিষ্ণুতা, আত্মত্যাগ, মানবতা এবং অনুপম চরিত্রের। ন্যায়ের জন্য দ্বীনের জন্য সত্যের জন্য চূড়ান্ত সর্বনাশা বাতিল শক্তির মোকাবিলায় তিনি নির্ভীক চিত্তে কথা বলেছিলেন, লড়াই করেছিলেন। দ্বীন ও মিল্লাতের স্বার্থ বিরোধী সকল স্বৈরাচারী ধর্মনিরপেক্ষ স্বার্থান্বেষী অপশক্তিগুলোর মোকাবিলায় তিনি ছিলেন এক ভয়ংকর আতংক। ইসলামের অনুসারী কোন ঈমানদার মানুষই কোন অপশক্তির কাছে মাথা নত করে না। ইসলাম ন্যায় ও ইনসাফ শিক্ষা দেয়, তাতে পক্ষপাতিত্ব নেই।

কুরআন ও হাদীস যে মুসলিম উম্মাহর সংবিধান। কারো মনগড়া মতবাদ ইসলাম স্বীকার করে না, মুসলিম উম্মাহ মেনে নিতে পারে না। শহীদ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত এই কথাগুলো তিনি দীপ্ত কণ্ঠে ঘোষণা করেছিলেন। সর্বদাই অন্যায় আর অসত্যের বেড়াজালগুলো ছিন্ন ভিন্ন করে দিতেন, বলিষ্ঠভাবে। তাই তো ইয়াযীদের বশ্যতা স্বীকার না করে তিনি শাহাদাতের অমীয় সুধা পান করেছেন সানন্দে।

তবু তিনি দ্বীন ও মিল্লাত বিরোধী চুক্তিতে আপোষ করেননি। ‘‘মুসলমান ভাংগে, তবু মচকায় না’’-এর বাস্তবতা তিনি তার জীবনের বিনিময়ে দেখিয়ে গেলেন। তাই এই সাহসী সিপাহসালারের আলোকিত নাম পৃথিবীর ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে এবং লেখা থাকবে কেয়ামত পর্যন্ত। আজো যারা ইসলামের পথে তাদের ত্যাগের দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন, তারা কখনো মৃত্যু বরণ করবেন না। আল্লাহর পথে তারা চিরঞ্জীব থাকবেন।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।