আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

যে সাতটি কারণে আমি এই সরকারকে স্বৈরাচারী বলে মনে করি।

যে কারণগুলোর জন্য আমি বর্তমান সরকারকে স্বৈরাচারী বলে মনে করিঃ ১. কোনধরনের জনদাবী ব্যতিরেকে, সচেতন সমাজের মতামতকে উপেক্ষাকরে, শুভাকাঙ্খিদের পরামর্শকে অবজ্ঞা করে শুধু মাত্র ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করার কুৎসিত বাসনা থেকে তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলকরণ ছিল একটি স্বৈরাচারী পদক্ষেপ। এর ফলে বাংলাদেশ একটি গভীর সংকটের মধ্যে পড়তে যাচ্ছে। অচিরেই বাংলাদেশের মানুষকে ২০০৬ সালের শেষ অংশের মতো কিংবা তারচেয়েও খারাপ পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হতে পারে। অথচ আমাদের সর্বশক্তি নিয়োগ করা উচিৎ জলবায়ু পরিবর্তন জনিত অবশ্যম্ভাবি ভবিষ্যৎ খারাপ পরিস্থিতি মোকাবিলায়। আমাদের সর্বশক্তি নিয়োগ করা উচিৎ আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য।

আমাদের সর্বশক্তি নিয়োগ করা উচিৎ জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে, শিক্ষা বিস্তারে, শিল্পন্নোয়নে। কিন্তু হায়, জনগণের সরকার তার মৌলিক সমস্যাগুলোর দিকে নজর না দিয়ে বরং উটকো সমস্যা সৃষ্টিতেই বেশী মনোনিবেশ করেছে। ২. ঢাকা ভাগ অথবা ডিসিসি ভাগ। এটিও একটি হঠকারি পদক্ষেপ। জনগণের কোন অংশ কোনদিন এ দাবী তোলেনি, এমনকি, অনেক মন্ত্রি, সরকার দলীয় এম,পি, নেতা এবং আওয়ামীলীগ-সমর্থক এর সমর্থন করেন না।

অত্যন্ত ক্ষুদ্র দলীয় স্বার্থে এমন একটি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, যা প্রচুর প্রশাষনিক জটিলতা ও অর্থ অপচয় ছাড়া আর ভালো কিছুই দেবে না দেশকে। ৩. নারায়নগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ছিল সরকারের জন্য একটি অগ্নি পরীক্ষা। সরকারদলীয় দু'জন মেয়র প্রার্থী ছিলেন এই নির্বাচনী দৌড়ে। একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী এবং অপরজন জনগণের আস্থাভাজন। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি, সরকারীদল এই নির্বাচনে সমর্থন দিয়েছিল সেই চিহ্নিত সন্ত্রাসীকে।

ব্যাপক প্রতিবাদ, আবেদন নিবেদন সত্বেও সরকারের টনক নড়েনি। এর একমাত্র কারণ এই যে, ঐ চিহ্নিত সন্ত্রাসী ভবিষ্যৎ সম্ভাব্য বিরোধীদলিয় আন্দোলনকে সন্ত্রাসের মাধ্যমে দমন করার যোগ্যতা রাখেন যা, ঐ জন-আস্থাভাজন নেতা 'রাখেন না' অথবা বলা যায় তিনি সে পথে যাবেন না। কাজেই এটিও একটি স্বৈরাচারী পদক্ষেপ ছিল যা জনগণ ভোটের মাধ্যমে ভন্ডুল করে দিয়েছে। ৪. ব্যাপক জন দাবী সত্বেও ভারত কর্তৃক বরাক নদীর ভারত অংশ, টিপাইমুখে বাঁধ বা ড্যাম নির্মাণের বিরূদ্ধে সরকার ভারতের কাছে কোন কার্যকর ও সময়োপযোগী প্রতিবাদ করছে না। এই বাঁধ/ড্যাম নির্মিত হলে বাংলাদেশের ব্যপক অংশে অসময়ে বণ্যা হবে, ফসলের ক্ষতি হবে, মানুষের জীবন সংকটে পড়বে, অর্থনৈতীক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বাংলাদেশ।

এই নিরবতাও একটি স্বৈরাচারী সিদ্ধান্তের ফসল। ৫. নরসিংদির মেয়র (আওয়ামি লীগ দলীয় নেতা) হত্যা পরিকল্পনার সাথে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রির ভাইয়ের নাম এসেছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মন্ত্রির ভাইসহ আরো অনেক আওয়ামীলীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। অথচ এই মন্ত্রিকে এখনো ক্ষমতায় বহাল রাখা হয়েছে। এটিও একটি স্বৈরাচারী আচরণ।

৬. যোগাযোগ মন্ত্রির অপসারন একটি ব্যাপক জনদাবী হিসেবে দীর্ঘদিন যাবৎ ঝুলে রয়েছে। এই লোকটির জন্য পদ্মা সেতুর মতো একটি বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়িত হওয়া থেকে বাংলাদেশ পিছিয়ে গেল। অথচ এই দাবীটিকে উপেক্ষা করে এখনো ঐ ব্যক্তিটিকে মন্ত্রি হিসেবে বহাল রাখা হয়েছে। ৭. শেয়ার বাজার ধ্বংশ, লাখ লাখ বিনিয়োগকারীকে পথে বসানো, বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় তলানিতে নেয়া এবং সার্বিকভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে শেষ করে দেয়ার কারনে অর্থমন্ত্রির প্রতি সকল সচেতন মহলই নাখোশ। প্রায় সকল দৈনিক পত্রিকা, বুদ্ধিজীবিগণ, ব্লগারগণ এই মন্ত্রিকে অথর্ব হিসেবে চিহ্নিত করেছেন এবং তাঁর অপসারন চেয়েছেন।

কিন্তু তাঁকেও বহাল রাখা হয়েছে। ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।