আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

একটি অত্যন্ত বোরিং পোস্ট লিখলাম

............................................ এই তো সেদিন আমার একটা ফ্রেন্ড বললো ফোনে তার বয়ফ্রেন্ডের সাথে কিছুক্ষণ ন্যাকামি করতে। প্রথমে রাজী ছিলাম না তারপরে রাজী হয়ে গেলাম কি মনে করে যেন। ফোন করে প্রথমেই বললাম, পার্থ ভাইয়া বলছেন? উনি বললেন, হ্যাঁ কিন্তু আপনি কে? আমি বললাম, ভাইয়া আসলে আপনি আমাকে চিনবেন না। ভাইয়া আমার নাম নিশি। পুরো নাম ভাইয়া আমার সংগীতা দাস।

ভাইয়া আমি সরকার ও রাজনীতিতে ভর্তি হয়েছি। আমি কি ভাইয়া মাইগ্রেট করে লোক প্রশাসনে আসতে পারবো? সে খুবই কড়া ভাষায় উত্তর দিলো,তুমি ভর্তি হয়েছো, তুমি জানো! আমাকে জিজ্ঞেস করছো কেন! তারপর আমাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে ফোনটা কেটে দিলো এর পরপরই বাংলা লিংকের একটা নাম্বার থেকে ফোন আসলো। নিস্পাপ কণ্ঠে একটা ছেলে বললো, হ্যালো কে বলছেন? আমি অত্যন্ত বাজেভাবে বললাম, আমি কে বলছি মানে? আপনি কে? আপনি জানেন না আপনি কাকে ফোন করেছেন? সে একটু থতমত খেয়ে চুপ থাকলো কয়েক সেকেন্ড। তারপর অসম্ভব বিনয়ী কণ্ঠে বলে উঠলো, জ্বিনা! জানিনা বলেই তো জিজ্ঞেস করছি! আমি অত্যন্ত তাচ্ছিল্য করে বললাম, মানে কি? আন্দাজে ফোন করেছেন? সে বললো, হ্যাঁ আন্দাজেই! আমি বললাম, ঠিক আছে তাহলে আন্দাজে আরো কয়েক জায়গায় ফোন করে নাম পরিচয় জিজ্ঞেস করেন গিয়ে! ভাগেন… আরো কিছু বলার আগেই বেচারা ভয়ে ফোন কেটে দিলো এই ঘটনার পরই আমার ফ্রেন্ডের ফোনে ফোন করে পার্থ রাগন্বিত হয়ে বলতে লাগলো, নিজেকে খুব চালাক মনে করো, না? আমার ফ্রেন্ড আকাশ থেকে পড়ার ভান করে বললো, মানে? পার্থ বললো, তুমি কোন মেয়েকে দিয়ে আমাকে ফোন করিয়েছো? ও বললো, আশ্চর্য আমি কি জানি! আমাকে এগুলো বলছো কেন? তুমিই তো বলেছো তোমার কাছে এ্যাডমিশন টেস্টের রেজাল্ট জানতে নাকি অনেক মেয়েরা ফোন করে! তাদের মধ্যেই কেউ করেছে হয়তোবা! তোমাকে একটা মেয়ে ফোন করলে, সেই দোষটাও তুমি আমাকে দিতে চাও?! সেই একটা চিৎকার মেরে বললো, চুপ করো তুমি! আমি ঐ মেয়েকে এক্ষুণি অন্য নাম্বার থেকে ফোন করবো! তুমি ফোন ছাড়বে না। আমি জানি সে তোমার সাথেই আছে।

আমার সাথে তোমার কথা বলা কালীন সময়ে তাকে ফোন দিয়ে দেখতে চাই আমি! আমার ফ্রেন্ড আমাকে ইশারা করে দূরে সরে যেতে বললো। আমি একটা দৌড় দিয়ে সরে আসলাম। এর পরপরই বাংলা লিংকের সেই নাম্বারটা থেকেই ফোন আসলো সেই সহজ-সরল নিস্পাপ ভদ্রলোক আবার নিস্পাপভাবে জিজ্ঞেস করলো, আপনি কে? এই জায়গাটা কোথায়? আমি অসম্ভব বিরক্তি নিয়ে বললাম, আপনি কে যে আপনাকে আমার নাম পরিচয় দিতে হবে? সে বললো, আপনি দিবেন কারণ আপনার ব্যাপারে আমি জানতে চাই! আমি বললাম, অচেনা একজনকে কেন আমি আমার নাম পরিচয় দিবো? সে বললো, আপনি দিবেন কারণ আমি চাইছি! আমি বললাম, বললেই হলো? আচ্ছা ঠিক আছে আমি এখন বরিশালে থাকি! আমার নাম সোনিয়া! এইবার হয়েছে? সে বললো, আপনি এরকম করছেন কেন? সত্যি করে বলেন না আপনি কে! আমি বললাম, আপনি কিভাবে বুঝলেন যে আমি সত্যি বলিনি? এর মানে আপনি আমাকে চেনেন? সে বললো, নাহ আপনি কে আমি সত্যিই জানিনা। আমি বললাম, তাহলে আমি যা বলবো তাই বিশ্বাস করতে হবে। আমি যদি এথন বলি আমি বরিশাল থাকি তাহলেও আপনাকে বিশ্বাস করতে হবে আবার যদি বলি আমি চট্টগ্রাম থাকি তাহলেও বিশ্বাস করতে হবে।

সে এইবার একটা পাপ করে ফেললো। তার পাপ আমাকে তুমি করে বলার পাপ। এই পাপকে আমি মহাপাপ হিসেবে গণ্য করি। আমাকে বললো, কেন তুমি অযথা আমাকে মিথ্যা বলবে? আমি চিৎকার দিয়ে বললাম, আশ্চর্য ব্যাপার! আপনি আমাকে তুমি করে বলছেন কেন? আপনি জানেন না অপরিচিত একটা ভদ্রমহিলার সাথে কিভাবে কথা বলতে হয়? সে বোকার মতো বলে বসলো, তোমাকে তুমি বলছি কারণ তোমার আমি সিনিয়ার। আমি অবাক হবার ভান করে বললাম, সিনিয়ার মানে…মানে…মানে কি আপনি কি পার্থ ভাইয়া যাকে আমি একটু আগে ফোন করেছিলাম? সে এইবার কোনো উত্তর দিতে না পেরে খটাস করে লাইন দিলো কেটে! এই ফোনালাপ বিষয়ে বলতে বলতে আমি আর আমার ফ্রেন্ড যখন হাসতে হাসতে হাঁপিয়ে উঠেছি ঠিক সেই মুহূর্তে পার্থ আবার আমাকে ফোন দিয়ে জেরা শুরু করলো।

প্রথমে নাম বললাম যে সংগীতা দাস (নিশি)! তারপর আমাকে জিজ্ঞেস করলো, তোমার ভর্তি হতে কত টাকা লেগেছে? এক এক ডিপার্টমেন্টে ভর্তি হতে এক এক রকম টাকা লাগে। বিবিএরটা আমি জানি। আর্টসে কত লাগে এই বিষয়ে আমার ধারণা নাই তাই বোকার মতো মুখ ফসকে বলে বসলাম, ভাইয়া আমি ঠিক জানিনা। এগুলো আমার আব্বু জানে। আইমিন আমার বাবা জানে! (হিন্দু হলে তো আব্বু বলা যাবে না, বলতে হবে বাবা তাই সাথে সাথে ঠিক করে নিয়েছিলাম।

) কিন্তু সে সে সাথে সাথে এটাই ধরে বসলো। বললো, তুমি না হিন্দু! তুমি তাহলে আব্বু বললা কেন? আমি বললাম, আসলে ভাইয়া ফ্রেন্ডদের সাথে তাল দিতে দিতে ওদের মতো আব্বু বলাই অভ্যাস হয়ে গেছে। কিন্তু আপনি যেহেতু আমাদের রিলিজিওনের তাই আবার ঠিক করে নিলাম! সে বললো, তোমার ভর্তি হতে কত টাকা লেগেছে তুমি জানো না? মাইগ্রেশন যে করছো, এ্যাপ্লিকেশন করেছো? আমি বললাম, জ্বি ভাইয়া। উনি বললেন, কি লিখেছো এ্যাপ্লিকেশনে? আমি এইবারও সমস্যায় পড়ে গেলাম কারণ মাইগ্রেশন করতে হলে এ্যাপ্লিকেশনে কি লিখতে হয় এ সম্পর্কে আমার ধারণাই নাই। আমি মাইগ্রেশনই করিনি কখনো।

তাই আবার বললাম, ভাইয়া এটা তো আমার বাবা জানে। সে বললো, বাহ্! পড়ালেখা কি তুমি করবে না তোমার বাবা করবে? তোমার ইউনিতে পড়ার কোনো যোগ্যতাই নেই। আমি তখন নিস্পাপ কণ্ঠে হেসে বললাম, ভাইয়া এটা কি বললেন! আমি তো এডমিট হয়ে গেছি! সে বললো, এডমিট হয়েছো কিন্তু টিকে থাকার যোগ্যতা তোমার নেই! এরপর জিজ্ঞেস করলো, তোমার বাড়ি কোথায়? আমি বললাম, ভাইয়া টাঙ্গাইল। সে বললো, ও! ঢাকাতে কোথায় থাকো? কলেজ কোনটা ছিল? আমি বললাম, ভাইয়া মিরপুরে থাকি। আর কলেজ টাঙ্গাইলেই ছিল।

সে বললো, টাঙ্গাইলে কোন কলেজে? আমি অত্যন্ত আত্নবিশ্বাসের সাথেই এবার বললাম “টাঙ্গাইল সরকারী মহিলা কলেজ”। এতো আত্নবিশ্বাসী হবার কারণ প্রতিটা জেলাতেই একটা করে সরকারী মহিলা কলেজ থাকে এবার জিজ্ঞেস করলো, টাঙ্গাইলে কোন উপজেলায় বাড়ি? এইবার আমি আবার একটু সমস্যায় পড়লাম। কারণ টাঙ্গাইলের কোনো উপজেলার নামই আমি জানিনা। তাই পজ দিয়ে দিয়ে বলতে লাগলাম, ভাইয়া টাঙ্গাইল সিটি হসপিটালের উল্টা দিকে যেই বাড়িটা আছে না? ওইটা আমাদের বাড়ি। সে বললো, তোমাকে আমি যা জিজ্ঞেস করেছি তার উত্তর দাও।

বলো কোন উপজেলা? নাকি উপজেলার নামও তোমার বাবা জানে? আমার তখন হঠাৎ মনে হলো প্রতিটা জেলাতেই একটা করে সদর থাকে। তাই সাথে সাথে অতি আনন্দের সাথে বললাম, টাঙ্গাইল সদরে ভাইয়া! সে বললো, গুড। কিন্তু তুমি হাসতেছো কেন? তোমার আচার ব্যবহার কিন্তু ভালো না! সিনিয়ার ভাইয়াদের সাথে কি এভাবে হেসে হেসে কথা বলতে হয়? আমি বললাম, ভাইয়া ঠান্ডা লাগছে তো। তাই কাশি আসছে বারবার। কাশি চেপে রাখতে গিয়ে গলা থেকে হাসির মতো ফ্যাসফ্যাসে শব্দ বের হয়ে যাচ্ছে সে বললো, আচ্ছা ঠিকআছে।

কিন্তু আমার এই নাম্বারটা কোথায় পেয়েছো? (আমাকে আগে থেকেই আমার ফ্রেন্ড বলে রেখেছিল এই প্রশ্ন করলে ‘আনহা’ নামের একটা মেয়ের কথা বলতে) কিন্তু আমি মাঝখানে আরেকজনকে টেনে এনে বললাম, ভাইয়া আমার একটা ফ্রেন্ড মউ! মউ যেন আনহা না কার কাছ থেকে পেয়েছে। আমি পেয়েছি মউয়ের কাছ থেকে। আপনার নাম্বার দিয়ে মউ বলছে যে আপনার কাছে নাকি রেজাল্ট থাকে! তারপর হাঁপিয়ে গিয়ে ফোন রাখবো বলে পাম দিতে বললাম, ভাইয়া খুব ভাল্লাগছে আপনি এতোক্ষণ আমার সাথে কথা বললেন তাই। অনেক কিছু শিখতে পারলাম আপনার কাছ থেকে সে অসম্ভব রোম্যান্টিক কণ্ঠে বললো, শুনো আমারও না তোমাকে অনেক ভাল্লাগছে। তুমি মাঝে মাঝে কিন্তু আমাকে ফোন দিও… শেষেরটুকু যে আমার ফ্রেন্ডকে জেলাস করতে বলা সেটা বুঝতে আমাদের বাকী রইলো না।

যা-ই হোক, ফ্রেন্ডের সাথে যখন আবার আলাপ করে রুমে চলে যাচ্ছিলাম ঠিক তখন আবার সে ফোন দিয়ে আমার ফ্রেন্ডকে শাসাতে লাগলো। এরপর আমার ফ্রেন্ড অতিষ্ট হওয়ার ভান করে বললো, কে সেই মেয়ে! নাম কি তার? তার নাম্বারটাও দাও! আমি ঐ মেয়েকে এক্ষুণি ঝাড়ি দিবো। সে বললো, ঝাড়ি দিবা খুব ভাল কথা। কিন্তু কনফারেন্স ডেকে। আমি চুপচাপ বসে থাকবো।

তুমি ওর সাথে কথা বলবা, ওকে? ও রাজী হয়ে দৌড়াতে দৌড়াতে আমার রুমে এসে বলে গেল প্রস্তুত থাকতে। এরপর ফোন আসলো। আমি রিসিভ করে বললাম, হ্যালো কে বলছেন? আমার ফ্রেন্ড তার পুরো নাম বলে বললো, আমি অমুক। জাহাঙ্গীরনগর ইউনি থেকে। আমি প্রায়ই গদগদ হয়ে গিয়ে বললাম, ও আচ্ছা।

আপনি কোন ইয়ারে? সে বললো, তা না জানলেও তোমার চলবে! তা তুমি একটু আগে কি পার্থ নামে কাউকে ফোন দিয়েছিলে? আমি বললাম, হ্যাঁ আপু। আসলে আপু আমি সরকার ও রাজনীতিতে ভর্তি হয়েছি কিন্তু পাবলিক এ্যাডমিনিস্ট্রেশনে আসতে পারবো কিনা সেটা জানতে ভাইয়াকে ফোন দিয়েছিলাম। এরপর আমাকে জিজ্ঞেস করলো, তোমার মেরিট পজিশন কত ছিল? আমি বললাম, ১৪০! সে বললো, সমস্যা নেই। তোমাকে রেজাল্ট আমি জানাবো। আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম, আপু আপনি কোন ডিপার্টমেন্টের? সে বললো, বায়োকেমিস্ট্রি।

আমি বললাম, ওকে আপু। জানায়েন। ভালো থাকবেন আপু। স্লামালেকুম। সারাদিনটা আমার মিথ্যার উপরে দিয়েই গেল।

যদিও অনেক হাসছি। হাসার কারণ এই ছেলে আমার জুনিয়ার। এইবার সে আমার ডিপার্টমেন্টেই ভর্তি হয়েছে। গত বছর সে অন্য আর এক ডিপার্টমেন্টে ছিল। আমার ফ্রেন্ডের চেয়ে সে এক বছরের জুনিয়ার আরকি! সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো… ফোনে কনফারেন্স করার পর সে আমার ফ্রেন্ডকে গুল মেরেছে যে আমাকে নাকি সে অনেক বড় রেগ দিয়েছে এবং তাকেও বলেছে আমাকে রেগ দিতে।

আমার ফ্রেন্ড তো একদিন না একদিন বলবেই যে ফোনের ঐ মেয়েটা আমি ছিলাম! তখন সে কি রকম ফিল করবে এটা ভাবলেই আমার হাসি পাচ্ছে। তার পায়ের তলায় মাটিই থাকবে না যা-ই হোক সারাদিন খামোখা মিথ্যা বলেছি সেদিন। আসলে একটা মিথ্যা বললে দশটা মিথ্যা বলতে হয় এটাই তার প্রমাণ ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.