আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

ডাইনী (ছোট গল্প)

Wit beyond measure is man's greatest treasure. (এই গল্পের সকল ঘটনা ও চরিত্র কাল্পনিক। কোন বাস্তব ঘটনা অথবা চরিত্রের সাথে কোন ধরনের মিল পাওয়া গেলে সেটা অনভিপ্রেত কাকতলমাত্র বলে ধরে নিতে হবে। সেজন্য লেখককে কোন অবস্থাতেই দায়ী করা যাবে না। গল্পের ডাইনীকেই গল্পটি উৎসর্গ করলাম; এই প্রত্যাশায় যে সে গল্পের পাতাতেই থাকবে। ) ১ "কোন কারণ ছাড়া তোমাকে ডাকিনি।

আমার একটা উপকার করতে হবে। পারবে?" "জি, মানে............ " "তোমার তো পরীক্ষা শেষ। এখন তো তুমি ফ্রিই আছ। রাফিকে একটু গাইডেন্স দিতে হবে। ফার্স্ট টার্ম পরীক্ষায় খুব একটা ভালো করেনি।

" "জি, ম্যাডাম। আমি পারব। " বিকৃত ও কলুষিত মানসিকতার গল্প ডাইনীতে আপনাকে স্বাগতম। গল্পের প্রধান চরিত্র রেবেকা হক। ঢাকা কলেজের রসায়ন বিভাগের লেকচারার।

ব্যতিক্রমি পদ্ধতিতে পড়িয়ে ছাত্রদের রসায়নভীতি দূর করেছেন মিসেস হক। ছাত্রমহলে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়। তার স্বামী খুরশিদ হক পক্ষাঘাতে বিছানায় শয্যাশায়ী ৩ বছর ধরে। দম্পতির একমাত্র ছেলে রাফি গভ ল্যাব স্কুলে ৭ম শ্রেণীতে পড়ছে। খালেদের সাথে কথা বলছেন রেবেকা ম্যাডাম।

খালেদ ঢাকা কলেজ থেকে এইচ এস সি পরীক্ষা দিল। তুখোড় ছাত্র। ডাক্তার হয়ে দেশসেবা করার স্বপ্ন দেখে সে। "তাহলে আগামিকাল থেকে এসো। " ২ ৭ দিন পর "রাফি আজ পড়বে না।

আজ তাদের এক্সকারসন। " "ও, আচ্ছা। আমি তাহলে আসি। " "একটু বস। চা খেয়ে যাও।

তোমার সাথে একটু কথা ছিল। " "জি, মানে। কি কথা?" "তোমার সাথে কথা বলে আমি খুব আনন্দ পাই। জি, মানে - এটা কি তোমার প্রিয় উক্তি? হা হা হা" "না, মানে..........." "তোমার ছাত্র কিরকম করছে?" "জি, মানে; ভালোই করছে। " "আচ্ছা, তোমার কি কোন কাজ আছে এখন?" "না, মানে; নেই।

" "তাহলে চল আমরা একটু পার্কে যাই। তোমাকে আমার জীবনের কিছু কষ্টের গল্প শোনাব। " ................................................................ রাত ৩ টা। এখন ও ঘুমায়নি খালেদ। মেসের ঘিঞ্জি বারান্দায় বসে আছে।

তার কপালে গভীর একটা ভাজ। ক্রিং। ক্রিং। "হ্যালো। হাসিব।

কি খবর? ভালো আছিস?" "ভাইয়া! আপনাকে এতো বার বললাম বিকেলে আমাদের বাসায় আসতে। আমার জন্মদিন ছিল। আপনি আসলেন না। খুব কষ্ট পেলাম। " "আমি বিকেলে একটু ব্যস্ত ছিলাম।

" "তাই বলে ফোন কলও রিসিভ করবেন না?" "আচ্ছা, শোন। আমি এখন ব্যস্ত আছি। পরে কথা হবে। " খালেদের ১ বছর জুনিয়র হাসিব। সেও ঢাকা কলেজের ছাত্র।

স্কুল জীবন থেকেই তাদের মাঝে খুব ভালো বন্ধুত্ব। টুট টুট শব্দে তন্দ্রা ভেঙ্গে গেলো খালেদের। এস এম এস করলো কে এতো রাতে? akjer bikel ta amar jiboner srestho bikel. khub enjoy korechi somoy tuku. thank u. valo theko raj putro. কপালের ভাঁজটা আরেকটু বাড়ল খালেদের। রাতটা নির্ঘুম কাটলো। ৩ "শোন খালেদ।

তুমি এতো কষ্ট করে মেসে থাক কেন? এক কাজ কর, আমার বাসায় চলে এসো। এখানে থেকেই তুমি পড়াশোনা করবে এখন থেকে। যাও, এখনই তোমার জিনিসপত্র নিয়ে এসো। " "জি, মানে............" "আবারও 'জি মানে'? হি হি হি। আই জাস্ট লাভ ইট।

" ......................................... "বলেন কি? অবশ্যই যাবেন। মেসে কি পড়াশোনা করা যায় নাকি?" "হাসিব; আমার কিন্তু মনে হচ্ছে, না গেলেই ভালো হবে। " 'ভাইয়া, সৌভাগ্য কখনো পায়ে ঠেলতে নেই। আপনি অবশ্যই যান। মেডিকেল জাতীয় মেধাতালিতায় ১০ এর মাঝে আপনাকে দেখতে চাই।

এনি ওয়ে, আমি ভাবছি শুধু রেবেকা ম্যাডামের কথা। কি মাই ডিয়ার মানুষ। কত হেল্পফুল। " ৪ সকাল ১০ টা। রেবেকা হকের সরকারি বাসা।

ম্যাডাম বেডরুমে। "খালেদ। একটু শুনে যাও। " "জি ম্যাডাম। বলুন।

" "আমার খুব মাথা ধরেছে। মাইগ্রেনের ব্যাথা। একটু বস না আমার পাশে। একটু গল্প কর। " "জি , মানে।

কি গল্প করবো?" "হি হি। কোন গল্প করতে হবে না। শুধু 'জি, মানে- জি মানে' করতে থাক। হা হা হা। আচ্ছা রাজ পুত্র, তোমাকে না এখন আমার ছাত্র থেকেও বেশি কিছু মনে হয়।

কাছের কেউ মনে হয়। আমাকে 'তুমি' করে বলতে পারো না?" "জি, মানে..........................." রেবেকা অট্টহাসির জন্য লক্ষ্য করলেন না খালেদের কপালের গভীর ভাজ। ৫ "আমার ভর্তি পরিক্ষার ডেট দিয়েছে। ২২ নভেম্বর। আর মাত্র এক মাস বাকি।

আমি ভাবছি বাড়ি গিয়ে সবার দোয়া দিয়ে আসব। " "কবে যেতে চাও রাজ পুত্র? আমি ড্রাইভারকে বলে রাখব। " "আমি বাসের টিকিট করে ফেলেছি। আজ রাতেই যাব। " "ঠিক আছে যেও।

ভালো কথা, আমি তোমাকে বোকা মনে করতাম। তুমি তো ভালোই চালাক। কি সুন্দর করে আপনি- তুমি এড়িয়ে কথা বলে যাচ্ছ। হা হা হা। " "না, মানে......................." "হি হি হি।

আচ্ছা, আমি তোমাকে রাজপুত্র ডাকায় কি তুমি রাগ কর? রাগ করলেও লাভ নেই অবশ্য। ডাকা বন্ধ করছি না আমি। " ৬ ভোর ৪ টা। বারান্দায় বসে আছে খালেদ। টুট টুট শব্দে এস এম এস এলো।

ki go raj putro. tin dinei ki vule gele naki amake? khub miss korchi tomake. valo theko. taratari esho dhakay. হঠাৎ বারান্দায় এলো শারমিন। খালেদের বড় বোন। ময়মনসিং মেডিকেলের ইন্টারনি ডাক্তার। "তোর মোবাইল টা একটু দিবি?" "কেন?" "দেখতাম রাত ৪ টায় কে তোকে স্মরণ করে। কার সাথে প্রেম করছিস?" "না, মানে...................................." "তোর কি হইছে একটু বলবি? গত তিন দিন ২৪ ঘণ্টা বারান্দায় বসে আছিস।

কিছু জিজ্ঞেস করলেই 'মানে-মানে' শুরু করিস। সমস্যা কি? পড়া লেখাও করতে দেখি না। বুঝলাম ঢাকা মেডিক্যালে চান্স পাওয়া সিওর। তবুও কি একটুও বই পুস্তক ধরবি না? রাত পোহাইলে পরীক্ষা" "প্লীজ। আমাকে একটু একা থাকতে দে।

" "থাক তুই একা। যা খুশি কর। " ভোর ৫ টায় একটা কঠিন সিদ্ধান্ত নিল খালেদ। তারপর বহু দিন পর সে ঘুমাল শান্তির একটা ঘুম। ৭ "আরে খালেদ।

এতো সকালে?" "তোমার সাথে আমার কিছু জরুরি কথা আছে। " ভ্রূ কুচকালো রেবেকা। কর্কশ গলায় জানতে চাইল, "কি কথা?" "আমাদের সম্পর্কটা নিয়ে মনে হয় আমাদের কথা বলা উচিত। " আকাশ থেকে পড়লো রেবেকা। "সম্পর্ক?" "আমার মনে হয় বহু দিন থেকেই আমাদের সম্পর্কটা আর ছাত্র শিক্ষকের সম্পর্ক নেই।

" "কি যা টা বলছ তুমি?" বলতে থাকে খালেদ, "আমাদের সম্পর্কটা এখন খুব আপন। তুমি নিজেই এটা বলেছিলে। ভুলে গেছ?" "ছি, ছি, ছি। তুমি এতো খারাপ মনের মানুষ? এতো দুষিত তোমার চিন্তা ভাবনা? আমি তোমার উপকারের জন্য তোমাকে আমার বাসায় থাকতে বলেছি, সেই সাহসে তুমি এতো বিকৃত জিনিস চিন্তা করে বের করেছ। বের হয়ে যাও আমার বাসা থেকে।

আর কোনদিনও আমার সামনে আসবে না। ছি। কি কলুষিত মন মানসিকতা তোমার। " ৮ "হাসিবরে, কালকে আমার মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা। কিছুই পড়ি নাই গত ৪ মাস আমি।

কি হবে বল দেখি?" "ভালো ছাত্রদের এই একটা সমস্যা। সব পরীক্ষার আগের রাতে এরা যেভাবে কান্নাকাঁটি করে; তাতে ফেল্টুস ছাত্ররাও লজ্জা পায়। ডি এম সি চান্স পাইয়া এই মূর্খরে স্মরণ কইরেন, বুঝলেন? আর ন্যাকামি বাদ দিয়া আমার জন্য দোয়া কইরেন, পরশু থেকে আমার টেস্ট পরীক্ষা। " ৯ "ম্যাডাম? ভালো আছেন?" "আশ্চর্য। তুমি কি চাও আমার কাছে? তোমাকে আমি আসতে মানা করেছি না?" "আমার মেডিকেল পরীক্ষার রেজাল্ট বলতে এসেছি।

" ঠোঁটের কোনে হাসি ঝিলিক দিয়ে উঠলো রেবেকার। "কোথাও চান্স পাওনি? তাই না?" কথা বাড়ায় না খালেদ। চলে আসে। পিচ ঢালা রাজপথে একাকি হেটে চলেছে সে। তার মনে শুধু একটাই প্রশ্ন।

ওই হাসি কি কোন মানবীর নাকি ডাইনীর? ১০ কয়েক মাস পর। হাসিবের জন্মদিন আজ। এবার আসতে ভুল করেনি খালেদ। "বহু দিন পর এদিকে আসলাম। থাকি খুলনা।

তাই আর আসা হয় না। কি খবর তোদের? সবাই ভালো আছে তো?" "আছে। সবাই ভালো আছে। আচ্ছা ভাইয়া, একটা প্রশ্ন করি? প্লীজ কিছু মনে করবেন না। আপনার মতো তুখোড় ছাত্রকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা সাহিত্য পড়তে হয় কেন?" "বাদ দে।

ভালো কথা, নয়ন কই? ওকে আসতে বলিস নাই?" "বলেছিলাম। কিন্তু সে তো ভি আই পি স্টুডেন্ট। তার টিউশনি আছে। তাই আসতে পারবে না। " "কাকে পড়ায় নয়ন? " "রাফি কে চিনেন? রেবেকা ম্যাডামের ছেলে?" বজ্রপাত হল যেন।

" কিইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইই?" ১১ "শোনেন ভাইয়া, আপনার মন মানসিকতা এতো দূষিত আমি ভাবতেও পারি নাই। এরকম দেবতুল্য একজন মানুষকে নিয়ে এসব কথা বলতে আপনার লজ্জা করলো না?' "শোন হাসিব ভাই , আমি মিথ্যা কিছু বলি নাই। " "তার থেকে বলেন, আপনি নিজে কিছু পড়েন নাই ওই ৫ মাস। ম্যাডামকে নিতে ফ্যান্টাসি চিন্তা ভাবনা করতেন। তাই কোথাও চান্স পান নাই।

কীভাবে আপনি তার সম্পর্কে এতো খারাপ সব কথা বলতে পারলেন। তার প্রতি আপনার কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। তিনি আপনার কত উপকার করছে একটু ভেবে দেখেন। " "ভাবছি। অনেক ভাবছি।

ভেবে ভেবে বের করেছি, সে একটা ডাইনী। " ১২ রাত ৩ টা। হাসিব বিছানায় শুয়ে আছে। হঠাৎ ফোঁপানির শব্দে তার তন্দ্রা ভেঙ্গে গেলো। শান্তার ঘর থেকে শব্দটা আসছে।

"কিরে? এই রাত দুপুরে কাদছিস কেন?" "নয়নদা এখন আর আমার ফোন রিসিভ করে না। " "পড়া শোনা নিয়ে ব্যস্ত থাকে হয়তো। " "পড়াশোনা না ছাই? " , ঝর ঝর করে কাদতে থাকে শান্তা। "তোদের মেয়ে জাতির জেনেটিক প্রবলেম আছে। সমস্যা কি খুলে বল।

কান্নাকাঁটি করে তো সমস্যার সমাধান হয় না। " "আজকে সিমির বার্থডে ছিল। আমাদেরকে কে এফ সি তে ট্রিট দিল সে। " "তো সমস্যা কোথায়?" "সেখানে দেখলাম, এক মহিলার সাথে খুব ক্লোজ হয়ে বসে গল্প করছে নয়নদা। " "কি যা তা বলছিস? কাকে দেখতে কাকে দেখেছিস? সে জন্য এভাবে মাঝরাতে কাদছিস? যা, ঘুমাতে যা।

" বোনকে সান্ত্বনা দিল হাসিব। কিন্তু তার কপালে পড়লো একটা গভীর ভাঁজ। রাতটা নির্ঘুম কাটল তার। ১৩ ৫ মাস পর। "হ্যালো।

খালেদ ভাই। ভালো আছেন ?" "আমি ভালো আছি কিনা জানতে তো আর তুই ফোন করিস নি। কেন করেছিস সেটা আমি জানি। বুয়েট ভর্তি পরীক্ষার রেজাল্ট দিয়েছে। তাই না?" "জি," "থামলি কেন? বল।

নয়নের রেজাল্ট বল। " "ভাইয়া। খুব অপরাধবোধ হচ্ছে। আমি চাইলে নয়নকে বাঁচাতে পারতাম। " "মন খারাপ করিস না।

মন খারাপ করে এখন আর কোন লাভ নেই। যাই হক, তোকে একটা কথা বলি? কথা না আসলে। প্রবচন বলতে পারিস। " "বলুন। " যদি কোন মহিলা তোমাকে তোমার মায়ের থেকেও বেশি পছন্দ করে, তবে সে কোন মহিলা না; সে একটা ডাইনী।

 ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.