আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

অর্থমন্ত্রী গাজীপুর গেলেন হেলিকপ্টারে: গরিবের ঘোড়ারোগ (কপি পেসট)

আমি একটা পাগোল ভুত আর্থ-রাজনৈতিক বিবেচনায় সরকারের ভূমিকা ঘরে এবং বাইরে যখন নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ; তখনও সরকারের কিছু মন্ত্রী-উপদেষ্টার নবাবি কর্মকাণ্ডে দেশটির ভবিষ্যত্ যে শিকেয় ওঠার জোগাড় হয়েছে, তা বলাই বাহুল্য। তাদের চালচলনে মনে পড়ে যায় পাকিস্তান আমলের বাইশ পরিবারের কথা। রাষ্ট্রযন্ত্রের দণ্ডমুণ্ডের কর্তা বনে যাওয়া এসব লোক জনগণকে ডিজিটাল বাংলাদেশ আর দশ টাকায় চাল খাওয়ানোর মুলো ঝুলিয়ে ক্ষমতায় এলেও তাদের স্বরূপ এখন সাধারণ মানুষের কাছে পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন সময় তাদের বাতুলতা ও কর্মকাণ্ডে যেমন প্রকাশ পেয়েছে তাদের গণবিচ্ছিন্ন মানসিকতা, তেমনি স্বার্থপরতাও। এরই ধারাবাহিকতায় বরাবরের মতো এবারও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সংবাদে আবার চাউর হলেন।

জানা যায়, গাজীপুরে একটি বেসরকারি শিল্পকারখানা পরিদর্শনে তিনি রাজধানীর ধানমন্ডি থেকে হেলিকপ্টারে উড়ে গেছেন। সরকারি কোনো জরুরি কাজের জন্য হলেও এ ব্যাপারে আমাদের বলার কিছু ছিল না। কিন্তু বেসরকারি কারখানা পরিদর্শনে সরকারের মন্ত্রী পর্যায়ের ব্যক্তিদের হেলিকপ্টারের ব্যবহার আদৌ প্রটোকল-সিদ্ধ কি না, তা আমাদের জানা নেই। হেলিকপ্টারে চড়ে বেসরকারি শিল্পকারখানা পরিদর্শনের নজির অন্তত দেশের ইতিহাসে আর কোনো মন্ত্রীর নেই। কথা উঠতে পারে, গত বিএনপি সরকারের আমলে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এহসানুল হক মিলন স্কুল-কলেজ পরদির্শনে হেলিকপ্টার ব্যবহার করেছিলেন; কিন্তু সেটি ছিল জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট।

হেলিকপ্টারে চড়ে ঝটিকা পরিদর্শনের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষায় নকল বন্ধে তিনি সফল হয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। কিন্তু আরবি গ্রুপ (ওয়ালটন) কর্তৃপক্ষ হেলিকপ্টারের আয়োজন করে মন্ত্রীর ইচ্ছানুযায়ী এবং এ ধরনের ঘটনায় তার ব্যক্তিগত লাভালাভের বিষয়টি উড়িয়ে দেননি বিশেষজ্ঞরা। ধানমন্ডি থেকে গাজীপুরের চন্দ্রার দূরত্ব মাত্র ২৫ কিলোমিটার। সড়কপথেই সময় নেয় বড়জোর ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট। বিশেষ করে সেদিন ছিল সাপ্তাহিক সরকারি ছুটি।

দেশে এখন প্রাইভেট হেলিকপ্টার ভাড়া করা আইনসিদ্ধ। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—যে দেশে প্রতিটি নবজাতক লাখ লাখ টাকা ঋণের বোঝা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে, যেখানে শেয়ারবাজারে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা সর্বস্ব হারিয়ে আহাজারি করে, কেউ কেউ আত্মহত্যা করে, অসহনীয় দ্রব্যমূল্যের কারণে বাজারের ব্যাগ ছোট করতে হয়, জলাঞ্জলি দিতে হয় অনেক ইচ্ছাকে, যে দেশে ডাস্টবিন থেকে ক্ষুধার্ত নারীর খাবার কুড়ানোর ঘটনা একটি ব্যর্থ সরকারের গালে চপেটাঘাত করে, সে দেশে একটি বেসরকারি কারখানা পরিদর্শনে মন্ত্রীর হেলিকপ্টার ব্যবহার দৃষ্টিকটু বিলাসিতা ছাড়া আর কী হতে পারে? মাত্র ২৫ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রমে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা গোনা এদেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সঙ্গে তামাশা ছাড়া আর কী? দারিদ্র্য বিমোচনে যারা দায়িত্বপ্রাপ্ত, দারিদ্র্য নিয়ে তাদের উপহাস কোনো বিচারেই সমীচীন নয়। এর ফল কখনোই শুভ হয় না। মন্ত্রী বাহাদুরদের এসবের আক্কেলসেলামি পরিণতিতে গুনতে হয় সাধারণ মানুষকেই। অবশ্য যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেনের ব্যর্থতার ফলে সড়ক ব্যবস্থার যে বেহাল দশার সৃষ্টি হয়েছে তাতে হয়তো সড়কপথে চলাফেরা বৃদ্ধ অর্থমন্ত্রীর মনঃপূত না-ও হতে পারে! মন্ত্রীদের কর্মকাণ্ডে সরকারের জনহিতকর চিন্তাধারার প্রতিফলন ঘটবে, এটাই কাম্য।

কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তা হচ্ছে না। সরকারের দণ্ডমুণ্ডের কর্তা এসব ব্যক্তির এহেন ঘোড়ারোগ জাতি হিসেবে আমাদের লজ্জায় ফেলে। সূত্র ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.