আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

পুঁজিতন্ত্র, সিভিল সোসাইটি ও নারী সৌন্দর্য (পর্ব-১)

কার্ণিশ ভাঙ্গা জানালার ফাঁক দিয়ে রাতের আকাশের যেটুকু অংশ দেখা যায়, অইটাই আমার পৃথিবী। বর্তমান পুঁজিতান্ত্রিক বিশ্ব বাণিজ্যে যে সব পণ্য সমূহ যেমনঃ অস্ত্র, মাদক, নারী (নারী তো একটা পণ্য হিশেবেই বিবেচিত হচ্ছে আমাদের এই সভ্য! ও আধুনিক পৃথিবীতে), যুদ্ধ (জানেন তো যুদ্ধ ও একটা পণ্য, যুদ্ধ ও একটা ব্যবসা)ইত্যাদি অত্যন্ত লাভজনক পণ্য হিশেবে বিক্রেতা ও খদ্দেরদের কাছে খুব চাহিদা সৃষ্টি করেছে যার মধ্যে নারী বা নারী সৌন্দর্য কিংবা সহজ কথায় সেক্স একেবারে প্রথম সারীর পণ্য সমূহের অবস্থান দখল করেছে। পুঁজিবাদের ক্ষেত্রে ব্যবসার সংজ্ঞায় ব্যবসার ক্ষেত্রে অবৈধ বা বিধি বিরুদ্ধ (Illegal) বলতে কোন কিছু নেই। অতএব, উক্ত পণ্য (?) সমূহের যে রমরমা ব্যবসা আপাতঃ দৃষ্টিতে এই ব্যবসায়ীদের কাছে এটা অবৈধ এই ধারণার ধার ধারেনা শুধু মাত্র আমাদের মতো ছাপোষারা ছাড়া যাদের কাছে পৃথিবী এখনও মানবিক, যারা এখনও নীতি ও নৈতিকতার ধার দিয়ে যেতেই পছন্দ করেন। অবশ্য তারা যারা এই ব্যবসাকে বৈধ বলেই মানে তাদের একটা বক্তব্য হচ্ছে পাপ সবার মনে বাস করে, কিন্তু কেউ এটাকে প্রকাশ করে সুযোগ পেলে আর কেউ সুযোগ পায় না বলেই নৈতিকতার কথা বলে।

আসলে কী তাই ? ব্যপারটা আসলে মোটেও তা নয়। অনেক মানুষ এখনও এমন আছেন যে চাইলেই আত্মসম্মানবোধ বা নৈতিকতাকে একটু দূরে সরিয়ে রাখতে পারলে বেশ আয়েশী জীবন তাদেরও হয়। কিন্তু তারা তা করেন না। সে যাই হোক, একদিকে নারীর শরীরকে সরাসরি পণ্য হিশেবে উন্মুক্ত ব্যবসা যেমন চলছে দেদারসে যেটা সবাই জানে এবং ক্ষেত্র বিশেষে বৈধও বটে তেমনি অন্যদিকে পণ্যের বিক্রি বাড়াতে, পণ্যের প্রচারে, ভোক্তার নিকট পণ্য আকর্ষণীয় ভাবে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে নারী সৌন্দর্যকে ও পরোক্ষভাবে পুঁজি বানিয়ে পণ্য হিশেবে এমনভাবে বিক্রি হচ্ছে যা ওপেন সিক্রেট হলেও তা প্রচ্ছন্ন থেকে যায়। কেননা এক্ষেত্রে যেটা প্রশ্নের বিষয় সেটা হচ্ছে এ ব্যবসায় একটা লেবাস রেখে দেয়া হয় বা আদর্শের প্রলেপ সাঁটা থাকে।

ফলে নারী সৌন্দর্যের যে বাণিজ্য বর্তমানে চলছে তার একক মূল্যমান নির্ণয় একরকম কঠিনই হয়ে পড়েছে। এটা হচ্ছে নারী সৌন্দর্য কে বিনিয়োগ করে যে পরোক্ষ সেক্স ট্রেড চলছে তার হাজার হাজার উদাহরণের মধ্য থেকে মাত্র একটা উদাহরণ। নারী শরীর কে নিয়ে প্রত্যক্ষ ব্যবসার বিষয়টি সর্বজন বিদিত এবং এটার বৈধতা নিয়ে দ্বিমত আছে। একটা অংশের দাবী হচ্ছে সমাজে অপরাধ প্রবণতা কমাতে বেশ্যা বা বেশ্যাপাড়ার দরকার আছে। বিষয়টা এমন শাক দিয়ে মাছ ঢাকা।

কিংবা অপরাধ কমাতে অপরাধের আশ্রয় নেয়া। মিথ্যের উপর ভর দিয়ে একটা আদর্শ দাঁড় করানোর চেষ্টা। কেননা, যদি অপরাধ কমাতে যদি অন্য একটা অপরাধের আশ্রয়ই নিতে হয় তো সমাজে আইন কানুন, নীতি নৈতিকতার দরকার কী। এক্ষেত্রে আমরা প্রশ্ন তুলছি না তাদের পক্ষে যারা স্বেচ্ছায় নিজেকে পণ্য হিশেবে বিক্রি করতে আগ্রহী। কিন্তু যারা ফাঁদে পড়ে কিংবা জোর পূর্বক বেশ্যাবৃত্তির পেশায় নিয়োজিত তাদের ক্ষেত্রে? পুঁজিতান্ত্রিক অর্থ ব্যবস্থার প্রধান বৈশিষ্ট হচ্ছে পুঁজি বাণিজ্য (making profit). পুঁজিবাদী অর্থনীতিতে ব্যবসার প্রধান অর্থ হচ্ছে টাকা বানানোর জন্য পুঁজি বিনিয়োগ।

এখানে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সেবা প্রদান নয়; বরং পণ্যের বিপরীতে লাভ অর্জন সিস্টেমটা-ই সারাংশ। এটা খারাপ কিছু না। লাভ ছাড়া ব্যবসা অচল। কিন্তু লাভের মাত্রা? ব্যবসার কায়দা? পদ্ধতি? ব্যবসায় বিনিয়োগ শুধুমাত্র মুনাফা অর্জন না হওয়াটাই সমাজের কাম্য। আমরা দেখি সমাজে আদর্শিক লেবাসে ঢেকে, সুন্দরতম আদলে মুড়িয়ে চকচকে কলেবরে সাজিয়ে যত ব্যবসা- বাণিজ্য তার বেশীর ভাগই নিছক বাণিজ্য নির্ভর ব্যবসা পদ্ধতি।

এখানে সেবার বিনিময়ে বিনিময় গ্রহণ নয় বরং অর্থ বানানোর জন্যই সেবা (!) বিনিয়োগ। এই ধরে নেয়া সেবাটা ও যে সমাজের সব শ্রেণীর মানুষের মধ্যে কত শতাংশ মানুষ পেলো এই দায়বদ্ধতা হতে পুঁজিতান্ত্রিক বাণিজ্য নীতি সম্পূর্ণরূপে মুক্ত। বিজ্ঞাপন, নারী সৌন্দর্য ও পুঁজিতন্ত্রঃ নারী বা নারী সৌন্দর্য কে সরাসরি পণ্য হিশেবে ব্যবহার করে প্রতি বছর বিশ্ব বাজারে প্রায় ২ কোটি ৮০ লক্ষ মার্কিন ডলারের প্রত্যক্ষ যৌন বাণিজ্য হয়। Protection Project নামের একটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রীয় গবেষক দল তাদের গবেষণায় দেখান যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর দুই মিলিয়ন নারী ও শিশু সেক্স ট্রেড (Sex Trade) এর জন্য বিক্রি হয় । পশ্চিম ইউরোপে প্রতি বছর ১২০,০০০ জন নারী পাচার হয়, যাদের পরবর্তীতে জোরপূর্বক বেশ্যাবৃত্তিতে ব্যবহার করা হয়, এবং এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ নারী অসহায়ভাবে এই ঘৃণ্য অপরাধের শিকার হয় মধ্য ও পুর্ব ইউরোপ থেকেই ।

Protection Project এর রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে যে, ১৫,০০০ হাজারেরও অধিক নারী প্রতি বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাচার হয় মেক্সিকো থেকে যাদের অধিকাংশ টিনএজ এবং এদেরকে বেশ্যাবৃত্তির কাজে ব্যবহার করা হয়। গবেষণা দলটির দাবি উত্তর আমেরিকার পতিতালয়গুলোতে এশিয়ান নারীদের বেশ্যা হিশেবে বিক্রি করা হয়, যার জন্য প্রত্যেক নারীর বিপরীতে বিনিময় মুল্য হচ্ছে ১৬,০০০ মার্কিন ডলার। ১৪ বছরের ও নিচের বয়সী এমন প্রায় ২০০,০০০ এর ও অধিক যুবতী প্রতি বছর নেপাল থেকে ভারতে সেক্স স্লেভ হিশেবে কাজ করতে আসে। আনুমানিক ১০,০০০ নারী প্রাক্তন সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে ইসরাইলে জোরপুর্বক বেশ্যাবৃত্তিতে ব্যবহার করা হয়েছিলো যারা পরবর্তীতে এখনও বেশ্যাবৃত্তিকে পেশা হিশেবেই জীবন ধারন করছে। ফলে বেশ্যাবৃত্তি কমার পরিবর্তে বৃদ্ধিই পেয়েছে ইসরাইলে।

থাই সরকারের একটি সরকারী রিপোর্টে প্রকাশ থাইল্যান্ডে প্রতি বছর প্রায় ৬০,০০০ শিশু বেশ্যাপাড়ায় বিক্রি হয়। প্রতি বছর প্রায় ৬ থেকে ১৪ বছরের বয়ষ্ক ১০,০০০ শিশু প্রকৃত প্রস্তাবে ক্রীতদাসী হিশেবে শ্রীলঙ্কার পতিতালয় গুলোতে নিয়োজিত করা হয়। মিয়ানমার থেকে প্রতি বছর প্রায় ২০,০০০ নারী ও শিশু থাইল্যান্ডের পতিতালয়গুলোতে জোরপূর্বক পতিতাবৃত্তিতে ব্যবহার করা হয়। Protection Project এর রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে নেদারল্যান্ডের আদালতে ১৫৫ টি জোরপূর্বক পতিতাবৃত্তির মামলার শুনানী হয় যার মধ্যে মাত্র ৪ টি মামলার রায় ঘোষিত হয় যেখানে পাচারকারী ও এই ব্যবসায় নিয়োজিতদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়। নিঃসন্দেহে সেক্স ট্রেড একটি ভয়ানক রকমের ঘৃণ্য, অবজ্ঞেয়, কুৎসিত ও অপছন্দনীয় ব্যবসা (?)।

অন্তত এই একবিংশ শতাব্দীতে। মানুষের শরীর কিংবা আরো স্পষ্ট ভাবে বলতে গেলে বলা যায় সৌন্দর্য নিয়েও ব্যবসা করা হয় এই সভ্য সমাজ ব্যবস্থায়। শরীর ও একটা পণ্য হিশেবে বিবেচিত আমাদের এই আধুনিক সমাজে। উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে এই সেক্স ট্রেড আশঙ্খাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে দিনকে দিন। Protection Project ১৯০ টি স্বাধীন ও পরাধীন বা স্বাধীনতা প্রাপ্তির পথে এমন ৬৩ টি রাষ্ট্রের পাচার আইন, জোরপূর্বক পতিতাবৃত্তিতে নিয়োজিত করণের শাস্তি (forced prostitution), দাসত্ব আইন, শ্রম আইন, debt bondage আইনের ওপর তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ পূর্বক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

এই প্রতিবেদন রিপোর্টে প্রকাশ করা হয়, বৃটেনে প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক টিনএজ তরুণী সমাজসেবা মূলক সংগঠনে কাজ করতে গিয়ে সংঘবদ্ধ অপরাধীদের দ্বারা অপহহৃত হয় যাদেরকে পরবর্তীতে অন্যান্য রাষ্ট্রে বিশেষত ইতালীতে জোরপূর্বক পতিতাবৃত্তিতে নিয়োজিত করা হয়। এ ধরণের সংগঠণ সমূহের মধ্যে একটি হচ্ছে West Sussex social services. এ ধরণের সংগঠণ সমূহে কাজ করতে আসা বেশীর ভাগ তরুণী আসে মূলত আফৃকা থেকে। তেমনিভাবে আফৃকা থেকে যেসব তরুণী বা মেয়েরা আশ্রয় প্রাপ্তির উদ্দেশ্যে ইংল্যান্ডে আসে তারাও অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবন যাপন করে। West Sussex social services এর প্রধান মুখপাত্রের সাথে এ বিষয়ে Protection Project জানতে চাইলে প্রধান মুখপাত্রের বক্তব্য ছিল, "It is true to say that a certain number of asylum seekers, minors, have gone missing from social services care. We believe they may have been taken by gangs abroad. "We have always done as much as we can to prevent this happening, but we cannot force people to stay inside all the time. "We are reducing the numbers who are going missing by working very closely with all the agencies, including the police. We are doing everything in our power to stop this." একটি আনুমানিক হিসাবে দেখা যায়, প্রতি বছর প্রায় ৩২ বিলিয়ন ডলারের মানব পাচার বা আদম ব্যবসা হয়। বর্তমান সময়ে মানব পাচার একটি দ্রুত বর্ধমান ব্যবসা অন্যভাবে বলতে গেলে অপরাধে পরিণত হয়েছে।

এবং এটি অত্যন্ত লোভনীয়, লাভজনক ব্যবসায়ে পরিণত হয়েছে। ২০০৫ সালে আইএলও’র প্রকাশিত একটি রিপোর্টে প্রকাশ করা হয় যে, “just a single female held for sexual exploitation yields an average of $67,200 annually in Western Europe and North America”. জাতিসংঘের অন্য একটি রিপোর্টে বলা হয়, “between 800,000 and 4 million men, women and children are deceived, recruited, transported from their homes and sold into slavery around the world each year. Eighty percent are women, girls and young boys trafficked into commercial sexual exploitation. Of these, more than 200,000 women and children from Russia and Eastern Europe are forced into prostitution each year”. Protection Project এর রিপোর্টের একটি উল্লেখযোগ্য অংশে বলা হয়, “Western demand for Eastern European prostitutes fuels today’s sex-slave industry. Currently, the market for Slavic woman and children in brothels and in pornography in "developed" countries — particularly the EU and the U.S. — is the hottest compared to other parts of the world, and is drawing on an endless supply of impoverished and vulnerable women”. সম্প্রতি অনেকগুলো গবেষণা রিপোর্টে নারীরা কেন এ ধরণের কাজে প্রলোভিত হচ্ছে এর ব্যাখ্যায় দেখানো হয়েছে যে, ক্ষুধা, দারিদ্রতা, দীর্ঘস্থায়ী বেকারত্ব, রাষ্ট্রীয় সহিংসতা, সামাজিক অস্থিরতা, কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি ও মাদকাসক্তি কে প্রাথমিক “push factors” হিশেবে দায়ী করেছেন। যুদ্ধ ও অস্ত্র ক্রয় বিক্রয় ও প্রস্তুতিতে যে পরিমাণ অর্থ ও মেধা ব্যয়িত হচ্ছে তার সিঁকি অংশ ও যদি ব্যয় করা হত একটা সবুজ সময়ের পৃথিবী তৈরীতে! যে পৃথিবী হবে অনেক বেশী মানবিক। বিজ্ঞাপন, নারী সৌন্দর্য ও পুজিবাদঃ নারী সৌন্দর্য কে ব্যবহার করে (প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ) যে ব্যবসাটা খুবই লাভজনক হিশেবে বিবেচিত, সেটি হল; পণ্যের প্রচার ও প্রসারে নারীকে বা তার সৌন্দর্যকে ব্যবহার। আজকাল বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে দেখা যায়, যতটা না পণ্যের গুণকীর্তন তার পাশাপাশি তারও চেয়ে বেশী বিভিন্নভাবে ব্যবহার করা হয় নারী বা তার সৌন্দর্যকে ক্রেতাকে প্রলুব্ধ করার জন্য।

ধরা যাক, একটা প্রসাধনী সামগ্রীর বিজ্ঞাপন। এক্ষেত্রে প্রসাধনীর গুণকীর্তন, বৈশিষ্ট তুলে ধরার চেয়ে বিজ্ঞাপনে বেশী জোর দেয়া হয় এটা কী ভাবে নারীর নারীত্বের বিকাশ ঘটাবে, নারীকে গ্ল্যামারস করে তুলবে, আরও রমণীয় কমনীয় করে তুলবে এ বিষয়ের উপর। অন্যদিকে একটা বডি স্প্রের বিজ্ঞাপনে দেখা যায় এটা ব্যবহারের ফলে পুরুষের পৌরষত্ব, আত্মবিশ্বাস আর নারীর কাছে কী ভাবে অধিকতর আকর্ষণীয় হয়ে যায় তার বর্ণনাই বেশী। আর এভাবে এসব বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে ভোগবাদী প্রচারণা, পুরুষতান্ত্রিক পুঁজিবাদীদের জয়গান। একটা বিজ্ঞাপনে একটা পরিকল্পিত ঘটনা সাজানো হয়।

এরপর রোম্যান্টিক আবহ সৃষ্টির মাধ্যমে যৌনাবেদন তৈরী করা হয়। পাশাপাশি থাকে পণ্যের তথ্য প্রচার এবং ভাবালুতা তৈরীর সচেষ্ট প্রয়াস। আমরা কোক’র বোতলের যে বর্তমান আকৃতি দেখি, তা কিন্তু শুরুতে এমনটি ছিল না। শুরুর দিকে কোক’র বোতল ছিল উপরে চিকন এবং নীচের দিকটা মোটা আকৃতির। পরবর্তীতে বাজারে পেপসি এসে কোক’র বাজারে ধ্বস নামালে কোক কোম্পানি বিজ্ঞাপনী সংস্থার দ্বারস্থ হন।

বিজ্ঞাপন নির্মাতারা অনেক ভেবে চিন্তে পরামর্শ দেন কোক কে সবচেয়ে আকর্ষণীয় বোতলে বাজারজাত করতে হবে। এবং এজন্য সবচে’ আকর্ষণীয় হবে যদি তা হয় নারী দেহ আকৃতির আদলে। অবশেষে কোক কে নারী দেহ আকৃতির বোতলে বাজারজাত করা হল, যেটা আমরা আজকাল দেখি এবং ব্যবসা হল চাঙ্গা। এভাবে ধীরে ধীরে পুঁজিবাদ পণ্যের প্রচারে, মুনাফার পাহাড় গড়তে নারী দেহ কে ব্যবহার করে যাচ্ছে অনায়াসে আর নারী পরিণত হচ্ছে পণ্যে। ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।