আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

গাধা

ছন্দহীন জীবন বড়ই নীরস আগের লেখার জন্য Click This Link পর্ব-৪ সাইফুলের জন্ম সোনারগাঁয়ের পেরাবো গ্রামে। রূপগঞ্জ থানার বেশিরভাগ গ্রামের নামের শেষেই বো আছে। সেগুলোতে অবশ্য ব'য় ওকার নেই। শুধু ব। নতুন অনেকেই তাই তারাব-কে তারাব্ পড়েন।

উচ্চারণটা কিন্তু তারাবো। তারাবো নামটা সাইফুলের নিজের কাছেই বলতে শরম লাগে। ঢাকা পেরিয়ে ডেমরা ব্রিজ দিয়ে নারায়ণগঞ্জে ঢুকতেই প্রথম নামটা তারাবো। যারা একটু খেয়াল করেন তারাই কপাল কুঁচকে ভাবেন এটা কেমন কথা হলো? আসার আগেই তাড়াবো! এরপর বরাবো, হাঁটাবো, গুঁতিয়াবো, আউখাবো, কেশোরাবো, মাসাবো, শিরাবো, জিরাবো, শুনাবো...। পেরাবো গ্রাম থাকার জন্য মন্দ না।

এখন তো বাংলার তাজমহলের কল্যাণে সেটা এক বিখ্যাত জায়গা। অবশ্য যারা স্থাপনাটা দেখতে যায়নি তাদের কাছেই আকর্ষণীয় বাংলার তাজমহল। কিন্তু যারা দেখেছে তাদের কারো কাছে সাইফুল সুনাম শোনেনি। অনেকে এমন মন্তব্যও করেছে : এর চেয়ে তো ঢাকার বড় শপিংমলগুলোর টয়লেটে অনেক সুন্দর টাইলস লাগানো থাকে। তারপরও নারায়ণগঞ্জে এসে থাকার কারণ পেরাবোতে গ্যাস নেই।

ঢাকার অনেক জায়গার চেয়ে নারায়ণগঞ্জ বসবাসের জন্য চমৎকার জায়গা। নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকায় এসি বাস আছে; মাত্র পাঁচ টাকায় ট্রেনে যাওয়া যায়। কোনো জ্যাম নেই; ঢাকার সবকিছুই এখানে সহজলভ্য। এবং হাতের কাছে প্রায় সব পাওয়া যায়। চাইলেই কেনা যায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা তাজা মাছ; নারায়ণগঞ্জের আশপাশ থেকে আসা কেমিক্যাল ছাড়া ফল।

বাসা থেকে সাইফুলের ওফিশ পাঁচ মিনিটের রাস্তা। এরচেয়েও বড় জিনিস হলো বাচ্চার স্কুল কাছে। সকালে বাচ্চাকে স্কুলে দিয়ে এসে বাজার-সদাই সেরে বাসায় এসে গোসল-নাস্তা করতে পারা যায়। এদিকে রুয়াইনার স্কুল ছুটির সময়ে রেশমারও রান্না শেষ হয়ে যায়। এক দৌড় দিয়ে তখন ওকে স্কুল থেকে নিয়ে আসতে পারে।

আজকে অবশ্য সাইফুলকে পাঁচ মিনিটের নয়, তিনঘণ্টার রাস্তা পাড়ি দিতে হবে। হেড ওফিশে যেতে হচ্ছে। যাচ্ছে যদিও বাসে, এসে টিএ/ডিএ বিল হবে বেবির। মাঝেমধ্যে যে বিষয়টা মনের মধ্যে খোঁচায় না তা নয়। পরক্ষণেই আবার ইনভেস্টমেন্ট ইনচার্জের কথায় পিছিয়ে আসতে হয়।

ইনভেস্টমেন্ট ইনচার্জ জাফর ভাই। তার কথা হলো, 'আপনি কীসে চড়ে গেছেন সেটা কেন? কীসে যাওয়ার পারমিশন আপনার আছে সেটা দেখবেন। আপনি সেই পরিমাণ টাকা নেবেন। এরপর তা খরচ করেন না করেন তা আপনার ব্যাপার। ' 'কিন্তু জাফর ভাই, এটা তো ডিএর বেলায়।

আমার ডিএ দুই হাজার, দুই হাজারই পাবো। আর টিএ যা খরচ হবে তাই। ' সাইফুল আপত্তি তোলে। জাফর ভাই নিচের দিকে তাকিয়ে ভাউচার লিখতে লিখতে বলেন, 'ঠিক আছে ভাই। আপনি নিজের বেলায় ওটা নিয়েন।

আমাদেরকে দেয়ার সময় ঠকাতে পারবেন না। ' এটা বলার কারণ হলো সাইফুল জিবি ইনচার্জ। ভাউচারে ওর একটা সই লাগে। সেকন্ডে ওফিসার ছোটখাটো ভাউচারে সই করেন না। সেগুলো ওকেই করতে হয়।

আর পাঁচ লাখের ওপরে গেলে সেটায় বসে ম্যানেজারের সই। জিবি ইনচার্জ যে কী জিনিস, এটা সাধারণ লোকদেরকে বোঝানো কষ্টকর। সাইফুল যেদিন ব্যাংকে যোগ দেয়, সেদিন হাজিরা খাতায় ডিপার্টমেন্টের ঘরে সেকেন্ড ওফিসার লিখেছিলেন জিবি। সাইফুল চিন্তা করতে থাকলো এটা আবার কোন সেকশন? বসালো অ্যাকাউন্ট খোলার টেবিলে, লিখলো জিবি। জিবি মানে তো গ্রেট ব্রিটেন।

বিকেল বেলা আনুষ্ঠানিক পরিচয় পর্বে জিবি ইনচার্জের বক্তৃতায় জানতে পারলো জিবি মানে জেনারেল ব্যাংকিং। জিবি ইনচার্জ আর রাজনৈতিক দলের সেক্রেটারি একই রকম। এদেরকে দুনিয়ার সব সামলাতে হয়। সাধারণ মানুষ ব্যাংক বলতে বোঝে টাকা জমা দেয়া আর নেয়া। অনেকে মাঝেমধ্যে চোখ টেরিয়ে ক্যাশের বাইরের ডেস্কগুলোর দিকে তাকায়ও।

হয়তো কেউ কেউ ভাবে, এই লোকগুলো এস টাকা দেয়া-নেয়া শুরু করলেই তো আমাদেরকে আর এতক্ষণ লাইনে থাকতে হয় না। আরেকটা বিখ্যাত কৌতুক তো আছেই ব্যাংকে। এক বৃদ্ধ লোক যখন ম্যানেজারের ব্যাপারে জানতে পারলেন যে সে ম্যানেজার, তিনি দোয়া করলেন, 'আল্লাহ তোমাকে তাড়াতাড়ি ক্যাশিয়ার বানিয়ে দিক। ' চ ল বে ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।