আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

গাধা

ছন্দহীন জীবন বড়ই নীরস আগের পর্বের জন্য Click This Link ৪.গ 'তাই?' হাসিমুখে এটুকু বলে সাইফুল এবার জানালা দিয়ে বাইরে তাকালো। খুব সহজেই ওর কথা ফুরিয়ে যায়। এর চেয়ে বরং বাইরে তাকালে কোনো দৃশ্য দেখে নতুন একটা কথা শেখাও যেতে পারে। ওদের বাংলা পড়াতেন মেহের নিগার ম্যাডাম। উনি বলতেন, 'ভুল-শুদ্ধ বানান শেখার জন্য সবসময় বই পড়ার দরকার নেই।

নীলক্ষেতে গেলে দেখবা ব্যানারে বড় হরফে লেখা যোগাযোগ করুণ। ক্রিয়াপদে মূর্ধন্য ণ বসিয়ে দিয়েছে। ' অবশ্য ম্যাডাম বলার অনেক আগ থেকেই ওর ব্যানার-পোস্টার পড়ার স্বভাব। এত দাম দিয়ে নেতারা ব্যানার-পোস্টার বানায়, না পড়লে তো হক আদায় হয় না। যেহেতু এগুলো জনগণের পয়সায় তৈরি--হোক সেটা ট্যাক্স অথবা চাঁদা--নিজেদের পয়সায়ই তো।

এখনকার ব্যানার-ফেস্টুন আবার সব ডিজিটাল। আগে ব্যানার লেখাতে খরচ পড়তো দুইশো টাকা; এখন লাগে দুই হাজার টাকা। এগুলো অবশ্যই পড়া উচিত। ওর বাইরে তাকানোর পর লবণ ফ্যাক্টরির ম্যানেজারও আর কথা বললো না। হয়তো ব্যবসার হিসাব শুরু করে দিয়েছে।

ব্যাংকে আসার কারণে কত ব্যবসার সাথে যে পরিচিতি ঘটলো! মাছের আঁশ বিদেশে রফতানি হয়--এটা কেউ ভাবতে পারে? সেই আঁশের বড় এক উৎস এই যাত্রাবাড়ি। একটা সময় মুরগি ড্রেসিং করতে পাঁচ টাকা খরচ হতো। এখন মুরগিঅলারা বিনা পয়সায় ড্রেসিং করে দেয়। মাছও তেমনি ঢাকার অনেক বাজারে বিনা পয়সায় কুটে নেয়ার ব্যবস্থা আছে। আজাদ অবশ্য বলেছিলো, 'তার মানে চান্দু মনে কইরো না যে, ড্রেসিং মেশিনের কারেন্ট খরচ আর মাছ কোটার লোকটার মজুরি তোমার দামের মধ্যে নাই।

অক্ষণ যে ডিজিটাল পাল্লা বার হইছে, এইটার উপরে একটা আলগা টিন থাকে। এই টিনের নিচে যদি তুমি কিছু রাখো, সেইটা সহই কিন্তু ওজন হইবো। আমরা একশো দশ টাকা কইরা মুরগি আইনা একশো ত্রিশে বেইচ্চাও লাভ করতে পারি না; আর মাইনষের একশো দশেরটা একশো দশে ব্যাচলেও বহুত ফায়দা। ' ওর আজাদ মুরগির ব্যবসা করে। নিজের অজান্তেই ভেতর থেকে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো।

যাত্রাবাড়ির সিগনাল ছাড়তে দশ মিনিট তো লাগবেই। এই ফাঁকে বেশি দূরের চিত্রগুলোও দেখে নেয়া যাবে। ওর নানা ... চলবে... ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।