আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

খাদ্যে ভেজালের নির্মম পরিণতি।

মানুষ খুন নিঃসন্দেহে জঘন্ন অপরাধ। আর এ জন্য রয়েছে যথোপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা ..... সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড। খাদ্যে ভেজাল খুনের চেয়েও ভয়ানক, মৃত্যুর চেয়েও ভয়াবহ। ক্ষুনের পর নিহত ব্যক্তির ইহ জাগতিক আর কোন কষ্ট থাকে না। কিন্ত ভেজাল খাদ্য গ্রহনের জন্য রয়েছে তাৎক্ষণিক ও সুদূরপ্রসারী বিষময় প্রতিক্রিয়া।

ভক্ষক তিলে তিলে মৃত্যু পথযাত্রী হয়। দীর্ঘ পথ চলার পর ক্যান্সার সহ অন্যান্য দুরারোগ্য রোগে তাকে রূপ-রস-গস্ধ- স্পর্স ভরা ধরণী থেকে বিদায় নিতে হয়। শুধু কি তাই! রোগ-ব্যধির দুঃসহ যন্ত্রনায় জীবন হয়ে উঠে অবাঞ্ছিত এক জগদ্দল পাথর। কাজেই খাদ্যে ভেজাল শুধু মৃত্যুর চেয়ে ভয়ানকই নয়, ব্যপক ও বিস্তৃত। এটা গনহত্যার চেয়েও মারাত্বক।

কারণ গনহত্যায় সবাই আক্রান্ত হয়না। অপরদিকে আপামর জনগন খাদ্যে ভেজালের অনিবার্য শিকার। এটি একটি চরম মানবিক বিপর্যয়। এর অবশ্যসম্ভাবী উপহার হচ্ছে একটি রুগ্ন ও বিকলাঙ্গ জাতি। সবচেয়ে মজার ব্যপার এমন এক অপরাধের শাস্তির পরিমান খুবই নগন্য।

প্রথম অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি ৫০০০ টাকা জরিমানা ও তিন মাসের জেল। একই ব্যক্তি দ্বিতীয়বার অপরাধ করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের জেল ও দুই লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা। তারও আবার রয়েছে আপীলের বিধান। অতএব শাস্তি পাওয়া প্রায় এক অসম্ভব ব্যপার। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে দেয় শাস্তি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জরিমানার মধ্যে সীমাবদ্ব থাকে।

জরিমানা দিয়েই অপরাধীরা দ্বিগুন উৎসাহে জরিমানার টাকা উঠানোর জন্য তৎপর হয়। ফলে ভেজালের পরিমান আরও কয়েকডিগ্রী বেড়ে যায়। এ জঘন্নতম অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিৎ মৃত্যুদন্ড। সংক্ষিপ্ত পদ্বতিতে বিশেষ আদালতের এদের বিচার হওয়া উচিৎ। রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করার সুযোগ তাদেরকে দেয়া উচিৎ নয়।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.