আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

‘তারা হয়তো আমাকে মেরেই ফেলতো’ নারী দিবসের আগের দিন একজন নারী সংসদ সদস্যের প্রতি পুলিশের আচরন! নীরব স্পীকার! নীরব নারী বাদীরা!!!

সেই চিরবিদ্রো.... যে লড়াই , কখনো শেষ হয়না.... নারী দিবসের আগের দিন একজন নারী সংসদ সদস্যের প্রতি পুলিশের আচরন! নীরব স্পীকার! নীরব নারী বাদীরা!!! নারী প্রধানমন্ত্রীর গ!ণতান্ত্রিক উপহার!!!!!!!!! ‘‘মনে হচ্ছিল আমার মাথাটা গুড়িয়ে দিয়ে যাবে তারা, গাড়ির চাকা মাথাটা পিষ্ট করে দেবে। ওদের পুলিশটা আমার সঙ্গে না পড়লে তারা হয়তো আমাকে মেরেই ফেলতো’’- বলছিলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য শাম্মী আখতার এমপি। বৃহস্পতিবারের হরতালে নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আটক হওয়ার সময় পুলিশের গাড়ি থেকে পড়ে গিয়ে আহত হন তিনি। আর শনিবার ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় সেদিনের স্মৃতিই বাংলানিউজকে জানানোর চেষ্টা করেন শাম্মী। তিনি বলেন, ‘‘খুব যন্ত্রণায় পড়েছি।

নিজের কষ্ট, বাচ্চাদের কষ্ট, স্বামীর ভোগান্তি! আমার বাচ্চারা টিভিতে দৃশ্যটি দেখেছে, ভুলতে পারছে না। খুব কষ্ট পাচ্ছে। আমিতো তাদের মা। শাম্মী সে দিনের প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘গাড়িতে ওঠার পরে কেউ আমার কোমরে জোরে ধাক্কা দিলো। এরপর পড়ে গেলাম।

দেখলাম, চোখের খুব কাছ দিয়ে গাড়ির চাকাটি চলে গেল। মনে হচ্ছিল, এবার বুঝি মারাই যাচ্ছি। ’’ শাম্মী বলেন, ‘‘প্রচণ্ড ব্যথায় আকুতি জানালাম, আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে। কারণ আমার হাত পা থেকে রক্ত পড়ছিলো। কিন্তু ওরা(পুলিশ) আমাকে হাসপাতালে না নিয়ে ডিসি অফিসে আটকে রাখলো।

’’ শাম্মীর ক্ষোভ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকারের নারী সদস্যদের প্রতি। তিনি বলেন, ‘‘নারী দিবসে বড় বড় কথা বলে তারা। আর তার আগের দিনই একজন নারী এমপির ওপর এভাবে হামলা!’’ তিনি বলেন, ‘‘যে সরকার একজন নারী এমপি’র সঙ্গে এই দুর্ব্যবহার করতে পারে, তারা অন্য আট-দশটা সাধারণ মেয়ের সঙ্গে কী ব্যবহার করতে পারে তা সহজেই বোঝা যায়। ’’ তার অভিযোগ ঢাকা মহানগর পুলিশের মতিঝিল অঞ্চলের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মেহেদী হাসানের প্রতিও। তিনি বলেন, ‘‘মেহেদী অতি উৎসাহী হয়ে এসব আচরণ করেছেন।

আমাদের কেন আটক করবেন তিনি? আমাদের কার্যালয়ে আমরা ঢুকতে পারবো না?’’ আরও বলেন, ‘‘আমাদের পুলিশ দিয়ে ঘিরে রাখতে পারতেন তারা। স্লোগান দিতে দিতে এক সময় আমরা ক্লান্ত হয়ে পড়তাম। শুধু শুধু এভাবে আটক করার মানে কী?’’ দলের নির্বাহী কমিটির আরেক সদস্য রাশেদা বেগম হীরা এমপি’কে আটকের প্রসঙ্গও আনেন শাম্মী। তিনি বলেন, ‘‘হীরা আপা কতো সিনিয়র! তাকে যেভাবে গাড়িতে ওঠালো, সেটা খুবই অপমানজনক। একজন সম্মানিত নারী এমপি’র সঙ্গে এমন আচরণ জাতির জন্য খুবই লজ্জার।

’’ স্পিকারের সমালোচনা করে শাম্মী বলেন, ‘‘একজন এমপি পুলিশি হামলায় আহত। জাতীয় সংসদের অভিভাবক হিসেবে মাননীয় স্পিকার সাহেব একবার দেখতে আসতে পারতেন। তিনি তা করেন নি, এটা খুবই দুঃখজনক। ’’ নিজের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বলেন, ‘‘বাম হাতের মাংস কনুইয়ের আশপাশ দিয়ে ভয়ংকরভাবে থেতলে গেছে। ডান হাতের চামড়া ছিলে গেছে।

আর পায়ের চামড়াও ছিলে গেছে হাঁটুর কাছে। ’’ এ সময় শাম্মীর পাশে ছিলেন তার স্বামী মোশাররফ সবুজ। তিনি বলেন, ‘‘আমার বাচ্চাদের স্কুল চলছে। এরমধ্যে তাদের মায়ের এই অবস্থা। ওদের মানসিক কষ্ট দেখতে পারছি না।

তাদের ঘুম পাড়িয়ে আসতে আসতে কখনো আমার রাত ২টা বেজে যায়। ’’ কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, শাম্মীর পুরোপুরি সুস্থ হতে আরো কিছু সময় লাগবে। কোথাও ‘ফ্র্যাকচার’ হয়নি, তবে মাংস ও চামড়ার অবস্থা দেখে কবে নাগাদ তিনি পুরো সুস্থ হবেন, তা বলা মুশকিল। ’’ উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে হরতাল চলাকালে বিএনপি অফিসের সামনে থেকে সংরক্ষিত আসনের চার এমপিকে আটক করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সোয়া দশটার পর সাংসদ আশিফা আশরাফী পাপিয়া, রেহেনা আক্তার রানু, শাম্মী আক্তার ও রাশেদা বেগম হীরা পার্টি অফিসের দিকে আসেন।

এ সময় তাদের আটকের চেষ্টা করলে তারা পার্টি অফিসের তালাবদ্ধ প্রবেশ পথের কাছে রাস্তায় বসে পড়েন। একপর্যায়ে টানাহেঁচড়া করে তাদের পুলিশের একটি মাইক্রোবাসে (ঢাকা মেট্রো-চ-১৩৮০৫৪) তোলা হয়। গাড়িটি ডিবি অফিসের উদ্দেশে চলতে শুরু করলে গাড়ির শোরুম হকস বে এর কাছে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে রাস্তায় পড়ে যান শাম্মী আক্তার। তার পেছনে পাপিয়াও জোর করে নেমে আসেন। এ সময় তারা দু’জন ছাড়াও শরীফা নামে এক নারী কনস্টেবলও গাড়ি থেকে পড়ে আহত হন।

সূত্র  ।

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে ১১ বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.