আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

২০তম মৃত্যুবাষিকীর স্বরণ: দুই বাংলার সুধিজনের দৃষ্টিতে প্রিন্সিপাল আবুল কাসেম

বিশাল আকাশ জুরে

১১ ই মার্চ ঐতিহাসিক ভাষা-আন্দোলনের স্থপতি প্রিন্সিপাল আবুল কাসেম এর ২০তম মৃত্যুবাষিকী উপলক্ষে.......................... তমদ্দুন মজলিস-বাংলা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা, বাংলা একাডেমি-ইসলামি ফাউন্ডেশন- আর্ট কলেজ-ঢাকা সিটি কলেজ এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, লেখক, রাজনীতিবিদ, সাংস্কৃতিক সংগঠক, শিক্ষাবিদ, সমাজ সেবক এবং ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের জনক-স্থপতি প্রিন্সিপাল আবুল কাসেম অনেকের কাছে পরিচিত না হলেও দুই বাংলার লেখক ও সুধি সমাজের কাছে একটি পরিচিত মুখ। বহু গুনে গুনান্নীত মানুষটির কথা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা জাতীয় কর্ত্বব্য বলে আমার এই প্রচেষ্ঠা। বিষিষ্ট রাজনীতিকবিদের ভাষায়: প্রাক্তন মহামান্য রাষ্ট্রপতি প্রফেসর ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ তার কথা স্বরণ করতে গিয়ে বলেছেন- “ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন এবং বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসাবে প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে খ্যাতনামা সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব প্রিন্সিপাল আবুল কাসেমের অবদান স্মরণীয় হয়ে আছে। ভাষা আন্দোলনে অসামান্য অবদানের পাশাপাশি বাংলা ভাষায় (প্রথম) উচ্চ শিক্ষার প্রসারের লক্ষ্যে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন বাংলা কলেজ। এছাড়া বাংলায় পরিভাষা সহ পাঠ্য-পুস্তক রচনা এবং তার অন্যান্য সৃষ্টিকর্ম প্রশংসনীয়।

তার অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি স্বাধীনতা দিবস পুরষ্কার ও একুশে পদক লাভ করেন। শিক্ষা ক্ষেত্রে তার অবদান জাতী দীর্ঘদিন শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে। ” (মৃত্যুবার্ষিকীর মহামান্য রাষ্ট্রপতির বাণী-১১ মার্চ.২০০৩) মাননীয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন - “তমদ্দুন মজলিস এর অন্যতম প্রতিণ্ঠাতা, প্রিন্সিপাল আবুল কাসেম রাষ্ট্রভাষা সাব কমিটি এবং সর্বদলীয় সংগ্রাম কমিটি গঠনের মাধ্যমে ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনে জোরালো ভুমিকা রাখেন। এদেশের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তিনি একজন বিরল ব্যক্তিত্ব। ভাষা আন্দোলনের মূল চেতনাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদানে, বাংলাভাষার উচ্চ শিক্ষার দানের লক্ষ্যে বাংলা কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।

প্রাদেশীক আইন পরিষদের সদস্য থাকাকালীন প্রিন্সিপাল আবুল কাসেম ১৯৫৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর শিক্ষার মাধ্যম ও সরকারী ভাষা হিসাবে বাংলা ভাষা চালু করার প্রথম প্রস্তাব উত্থাপন করেন, যা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়” (মৃত্যুবার্ষিকতে বাণী-১১ মার্চ,২০০৩)। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রি বেগম খালেদা জিয়াও যথার্থই বলেছেন : “প্রিন্সিপাল আবুল কাসেম ...তমদ্দুন মজলিসের রাষ্ট্র্রীয় ভাষা সাব-কমিটি এবং পরে সর্বদলীয় রাষ্ট্র ভাষা সংগ্রাম কমিটি গঠনে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। .. বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের চেতনা বিকাশের ক্ষেত্রেও তিনি অত্যন্ত মূল্যবান অবদান রেখে গেছেন। ভাষা আন্দোলন তথা দেশের স্বাধিকার ও স্বাধীনতা আন্দোলনে প্রিন্সিপাল আবুল কাসেমের অবদান আমাদেরকে মাতৃভাষা মর্যাদা বৃদ্ধি এবং সমর্ ৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করতে সর্বদা অনুপ্রেরনা যোগাবে। ভাষা আন্দোলনের প্রধান ব্যক্তিত্ব প্রিন্সিপাল আবুল কাসেম জাতী গঠনমূলক বিভিন্ন কাজে আমাদের জন্য তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন” (মৃত্যুবার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রির বাণী-১১ মার্চ,২০০৩)।

বিষিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ত আবুল মনসুর আহমদ বলেন- যুক্তফ্রন্টের এম, এল এ, অন্যতম শ্রেষ্ট্র চিন্তাবিদ অধাপক আবুল কাসেম.. ( প্রিন্সিপাল আবুল কাসেম রচিত ‘একুশ দফার রূপায়ন’ শীর্ষক বই এর ভূমিকা ) ভারতের সাবেক কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক আয়োগ, সদস্য ডঃ সমর রঞ্জন সেন বলেন-“ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের স্থপতি, বাঙলা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা এবং বাংলা একাডেমীর অন্যতম পথিকৃৎ, অধ্যক্ষ আবুল কাসেমকে...... শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি। এই মহান ভাষার যথাযথগ্য স্বীকৃতি ও উন্নতির জন্য এবং এর মাধ্যমে আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিদ্যা শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে অধ্যাপক আবুল কাসেমের যে অবদান তা আমরা সকলে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। ’’.. (১৯৮৮ সালে প্রিন্সিপার আবূল কাসেমকে জাতীয় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের সরনিকার বাণী। ) বিষিষ্ট শিক্ষাবিদ এবং সাহিত্যিক : ষ্পষ্ট ভাষী বাংলার বিখ্যাত রমণী ও কবি বেগম সুফিয়া কামাল কত সহজে বলেছেন “এখানে শুধুমাত্র একজন মানুষকে আমি একশো বার করে ধন্যবাদ জানাবো, তিনি হচ্ছেন আমাদের অধ্যক্ষ আবুল কাসেম সাহেব। সেই থেকে তিনি লেগে আছেন।

তার নিষ্ঠা এবং একাগ্রতা সত্যই অনুসরণীয়। তিনি বাংলা কলেজ প্রতিষ্ঠা করে আজ পর্যন্ত তাকে বাচিয়ে রেখেছেন এবং নিজেও তার মধ্যে বেচে থাকবেন, অমর হয়ে থাকবেন, এটিই আমার বিশ্বাষ। .. তিনি কখনো বাংলা ভাষাকে ছেড়ে যাননি। ...একমাত্র কাসেম সাহেব ছাড়া আর কেউই বাংলা ভাষার সঠিক মর্ম উপলব্ধি করতে পারেন নাই। .. ভাষা আন্দোলনের সংগ্রামি, সাহসী সৈনিকদের অবদান বাঙ্গালীকে স্বাধীনতার সংগ্রামে লিপ্ত করে দেশকে স্বাধীন করে।

তার মধ্যে অগ্রদূত জনাব কাসেম সাহেবের অবদান অতুলনীয়। বাংলা ভাষার জন্য আজীবন সংগ্রামী... (বক্তব্যটি ১৯৮৮ সনের ১৫ই মার্চ রাষ্ট্রভাষা চৃক্তিস্বাক্ষর দিবস উপলক্ষ্যে এক আলোচনা সভার বিশেষ অথিতির ভাষণ ও প্রিন্সিপাল আবুল কাসেম পদক ২০০৪ সরনিকা থেকে উৎকলিত)। কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য ডঃ ভাষ্কর রায় চৌধুরী সত্যকে প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন-“বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের জনক প্রিন্সিপাল আবুর কাসেম গোটা বাঙ্গালি জাতির গর্ব। .. বাংলার ভাষা, সাহিত্য-সংস্কৃতি আর তার ঐতিহ্য সম্পর্কে বাংলাদেশের জনগনের মনে যে তীব্র চেতনা, বলিষ্ঠ উদ্দীপনা ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন গড়ে তুলে ছিল তার সংগঠনে আবুল কাসেমের ভূমিকা অবিস্মরনীয়। ভাষা আন্দোলন কেবল মাতৃভাষা বাংলার অধিকার প্রতিণ্ঠার আন্দোলন নয়, পুর্ব বাংলার মানুষের সামাজীক রাজনৈতিক অর্থনৈতিক স্বাধিকার প্রতিণ্ঠার আন্দোলন।

এই আন্দোলনে আবুল কাসেমের সক্রিয় অংশ অংশ গ্রহণ, বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও পরিচালনা, মহতী উৎসাহ ও প্রেরণা, নিরলস কর্ম ও সাধনা বাঙালীর স্মৃতিতে চিরজাগরূক ও অম্লান। নদীনালা বিধৌত বাংলাদেশের ভাষা ও সাহিত্যের বিকাশকল্পে বাংলা একাডেমীর প্রতিষ্ঠা ও প্রসারে তার অবদান অসামান্য। .. উভয় বঙ্গের সাংস্কৃতির পরিচয়, ভাবের বিনিময় ও সাহিত্যে ক্ষেত্রে..তার প্রচেষ্ঠা তুলনারহিত। ..পৃথিবীর মাত্র একটা দেশ সেটা হচ্ছে বাংলাদেশ যার জনসাধারণ তাদের নিজের মাতৃ ভাষা রক্ষা করার সংগ্রামকে সফল জাতীয় স্বাধীনতার সংগ্রামে পরিনত করতে সক্ষম হয়েছে এবং এটা খুবই সন্দেহের কথা, আজকে এই মহাপুরুষের (প্রিন্সিপাল আবুল কাসেম) জন্ম যদি না হত তা হলে ইতিহাস অন্যরকম হত কি না। ..”( ১৯৮৮ সালে প্রিন্সিপার আবূল কাসেমকে জাতীয় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির ভাষণ ও “প্রিন্সিপার আবূল কাসেম পদক-২০০৪” সরনিকা ) বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও কবি ডঃ নীলিমা ইব্রাহিম ঐতিহাসিক সত্যকে তুলে ধরেন এই ভাবে “...তার একটি কন্ঠ, মন ও মানসিকতাকে তিনি সমগ্র পূর্ববঙ্গে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন।

তার সৈনিক পত্রিকা ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকবে, তার প্রতিষ্ঠিত বাংলা কলেজ তাকে চিরঞ্জীব করবে। ... অধ্যক্ষ আবুল কাসেমের প্রাপ্য সম্মান, শ্রদ্ধা, স্বীকৃতি আমরা তাকে দিতে পারিনি। ...নগদ ফল হাতে কখনও মহৎ ব্যক্তিরা পান না। তাই বলে তাদের কর্ম ত্যাগ ও তিতিক্ষা ভোলা যায় না। অধ্যক্ষ আবুল কাসেমের দানও ইতিহাসে স্বীকৃতি পাবে এ বিশ্বাষ আমার আছে।

” (“প্রিন্সিপার আবূল কাসেম পদক-২০০৪” সরনিকা)। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও গবেষক ডঃ আনিসুজ্জামান ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় কলকাতা থেকে প্রকাশিত রক্তাক্ত বাংলা বই এ বলেন-“আরাম্ভের আগে আরম্ভ আছে। ছব্বিশে মার্চের আগে একুশে ফেব্রূয়ারি। একুশে ফেব্রুয়ারি শুরু ১৯৪৭-৪৮ এর ছায়াচ্চন্ন দিন গুলিতে। পকিস্তান প্র্রতিষ্ঠার এক মাসের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক (পরবর্তিতে প্রিন্সিপাল আবুল কাসেম) নেতৃত্বে গঠিত তমদ্দুন মজলিস রাষ্ট্রভাষার প্রশ্নটি সরাসরি উৎথাপন করেন ..১৯৪৭ এর ৬ই ডিসেম্বর (আবুল কাসেমের নেতৃত্বে)..ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয়ে সভা..ছাত্র-শিক্ষকরা পূর্ব বাংলার প্রধান মন্ত্রির বাস ভবনের সামনে ভাষার প্রশ্নে বিক্ষপ প্রদর্শন করে......তিনি পূর্ব বাংলার ভাষাকে আঞ্চলিক ভিত্তিতে স্বতন্ত্র রূপদানের চেষ্টা করেন এবং প্রধানত সেই উদ্দেশ্য থেকেই বাংলা বর্ণমালা সংস্কার সাধনে প্রবৃত্ত হন।

...তিনি বাংলাদেশী বাংলাভাষার স্বতন্ত্র রূপকার। ” (ডঃ আনিসুজ্জামান-রক্তাক্ত বাংলা/১৯৭১ ও “প্রিন্সিপার আবূল কাসেম পদক-২০০৪” সরনিকা)। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও গবেষক ড: রফিকুল ইসলাম বলেন- ১৯৪৭ এর ৬ই ডিসেম্বর ঢাকায় বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের এক বিরাট সভা হয় অধ্যাপক আবুল কাসেমের সভাপত্তিত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয় প্রঙ্গনে। বাংলা ভাষার দাবীতে প্রথম সংগ্রাম পরিষদ তাদের উদ্যোগেই গঠিত হয়..পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষা. মুদ্রা, ডাক টিকেট, মানি-অর্ডার ফর্ম ইত্যাদি থেকে বাংলা ভাষা বাদ দেওয়ার বিষয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানান। ..ভাষা আন্দোলনকে সাংস্কৃতিক আলোচনা ক্ষেত্র থেকে রাজনৈতিক আন্দোলনে উত্তির্ণ করার ব্যাপারের তাদের প্রচেষ্ঠা উল্লেখযোগ্য।

.. (“প্রিন্সিপার আবূল কাসেম পদক-২০০৪” সরনিকা) পশ্চিতবঙ্গের বিশ্বভারতী শান্তিনীকেতনের সাবেক উপাচার্য নিমাই সাধন বসু বলেছেন-“সেই স্মরণিয় আন্দোলনে জনাব আবুল কাসেমের ভূমিকা সকলের স্মৃতিতে উজ্জল হয়ে থাকবে। তিনি নিজে উচ্চ শিক্ষার উপযোগী ভাষা প্রয়োগের আদর্শ দেখিয়েছেন। .. (১৯৮৮ সালে প্রিন্সিপার আবূল কাসেমকে জাতীয় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের সরনিকার বাণী। ) কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালযের বাংলা বিভাগের সাবেক চেযারম্যান অধ্যাপক অরুন কুমার মুখোমাধ্যায় বলেছেন-“তার নাম (প্রিন্সিপাল আবুল কাসেম) উভয় বঙ্গের শিক্ষা-সাংস্কৃতি-ভাষা ক্ষেত্রে অবশ্য উচ্চআর্য নাম। অনেক হতাসা বেদনা ও বিফলতায় তিনি পিছিয়ে যাননি।

নবোদ্যমে অগ্রসর হয়েছেন। ...তিনি সারা জীবন যেসব কাজ করেছেন, তা স্মরণ করলে বিস্মিত হতে হয় বাংলা বর্ষপঞ্জীর সংস্কার, পঠন-পাঠনে কথ্যভাষাকে মর্যাদা দান, বিদ্যার বিস্তীর্ণ ক্ষেত্রে বাংলা গদ্যকে উপযুক্ত বাহন করে তোলা, বাংলা কলেজ প্রতিষ্ঠা, উচ্চ শ্রেণীর ছাত্রদের জন্য বাংলা পাঠ্যপুস্তক প্রনয়ন, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরিক্ষা বাংলার প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম, পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র বাংলা করার জন্য দাবী উত্থাপন, বিভিন্ন বিষয়ে বাংলা পরিভাষা রচনায় সোৎসাহ উদ্যোগ, বাংলা লিপি ও বানান সংস্সকার সচেনতার পরিচয় প্রদান, ভাবলে বিস্মিত হতে হয় অধ্যাক্ষক আবুল কাসেম সারা জীবন এতগুলি কাজ করেছেন। ...”(১৯৮৮ সালে প্রিন্সিপার আবূল কাসেমকে জাতীয় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের সরনিকার বাণী। ) কোলকাতা আর্ট কলেজ এর প্রথম অধ্যক্ষ মুকুল দেব বলেছেন-“প্রথিতযশা কর্মবীর শিক্ষা সংস্কৃতির ধারক ও বাহক সুপন্ডিত প্রিন্সিপাল আবুল কাসেম বাংলাদেশে বাংলাভাষায় প্রচার ও প্রসার-এর মহতী সাধনায় বাংলা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও আর্ট কলেজের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা মহাপ্রান আবুল কাসেম মহাশয় আমাদের সকলের নম্স্য। ”(১৯৮৮ সালে প্রিন্সিপার আবূল কাসেমকে জাতীয় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের সরনিকার বাণী।

) বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও সমালোচক অধ্যাপক সুনীল কুমার মুখোপাধ্যায় বলেন “বিজ্ঞানের অধ্যাপক আবুল কাসেম আমাদের শিক্ষা ও সংস্কৃতি জগতে এক ব্যতিক্রমধর্মী উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব। তার জীবন ও কর্মধারার সঙ্গে যারাই পরিচিত আছেন, তারাই স্বীকার করবেন তার সঙ্গে নানা ব্যাপাওে ভিন্নমত পোষণের অবকাশ থাকলেও ধর্ম, সমাজ, রাজনীতি, দর্শন, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ে তার রচনায় যে গভির চিন্তা ও অনুশীলনের ছাপ পাওয়া যায়, তা তার প্রতি আমাদের শ্রদ্ধান্নিত করে তোলে ..রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে তার ভুমিকার বলিষ্ঠতার কথা তার বিরধী পক্ষের লোকেরাও অকপটে স্বীকার করেন। ..বাংলা ভাষাাকে রাষ্ট্রিয় স্বিকৃতির দানের সঙ্গে সঙ্গে আবুল কাসেম সাহেবের ভাষা আন্দোলন শেষ হয় নি। ..তাই দেখি তার বিজ্ঞান চিন্তা সমাজ, রাষ্ট্র, অর্থনিিত, ধর্ম ও দর্শন চিন্তার বিরোধী না হয়ে সবসমযই পরিপুরক শক্তি হিসাবে দেখা দিয়েছে” (প্রিন্সিপাল আবুল কাসেম রচিত বাংলা একাডমির পুরুস্কার প্রাপ্ত ‘বিজ্ঞান, সমাজ ও ধর্ম ‘ বই এর মুল্যয়ণ রচনা, প্রকাশক: ইসলামি ফাউন্ডেশন ও মাসিক অগ্রপথিক)। বিশিষ্ট লোক বিজ্ঞানী ও কবি ডঃ আশরাফ সিদ্দিকী বলেন -“ তিনি বাংলা একাডেমি, ইসলামি ফাউন্ডেশ,(সাবেক ইসলামি একাডেমি) সিটি কলেজ ও আর্ট কলেজের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা।

... বাংলাদেশের অবহেলিত লোক সাহিত্য উন্নয়নে প্রথম তিনি ‘পল্লী ফোক সাহিত্য পরিষদ’ গঠনের মাধ্যমে গুও“ত্বপুর্ন আবদান রাখেন। কাসেম সাহেব এদেশে ‘ফোকলোর সোসাইটি’ প্রতিষ্ঠার পথিকৃৎ...এদেশের নেশা, দূনীতি ও কুসংস্কার বিরুদ্ধে আন্দোরন সূচনা করেন। তার রচনা গুলো বাংলা সাহিত্যে গুরুত্ব পুর্ন সম্পদ। .. (“প্রিন্সিপার আবূল কাসেম পদক-২০০৪” সরনিকা)। বিশিষ্ট শিক্ষাবীদ ড: আহমদ শরীফ বলেন- অধ্যাক্ষ আবুল কাসেম .. রাষ্ট্রভাষা হিসাবে বাংলা ভাষার প্রথম দাবিদার এবং সংগ্রামী সৈনিক।

তার এ কৃতিত্ত্ব তাকে ইতিহাসে চিরস্মরণীয় করে রাখবে। ..(বাংলা একাডেমির প্রাঙ্গনে প্রিন্সিপাল আবুল তাসেমের সৃত্মিতে ‘শোকবই’ )। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড: সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন-বাংলা ভাষার প্রতি তার ভালবাসাতে কোন খাদ ছিলো না। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের সঙ্গে তার আকস্মিক বা আপতিক ঘটনা বলতে পারিনা। কাজটি তাকে ভেতরের অনুপ্রেরণাতেই করতে হয়েছে।

....(‘প্রিন্সিপাল আবুল কাসেম সারক গ্রন্থ’)। বিশিষ্ট গবেষক ও বাংলা একাডেমির প্রাক্তন পরিচালক বশির আল হেলাল বলেন- আবুল কাসেম আমাদের কালের এমন এক বৃহৎ পুরুষ যার কর্মের ক্ষেত্রগুলি ছিল বহুধা বি¯তৃত, কিন্তু আমাদের কাছে তার প্রধান কীর্তির পরিছয় দাড়িয়ে গেছে ভাষা আন্দোলনের নেতা ও সংগঠক রূপে। ..বাংলা ভাষার দাবীতে প্রথম ছাত্র সভার সভাপত্তিত করেন আবুল কাসেম..প্রথম ও দ্বীতিয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠনের প্রধান উদ্যোগতা ছিলেন আবুল কাসেম। ..১৯৫২ সালের আন্দোলনে বিরাট সহযোগিতা যুগিয়েছে তমদ্দুনমজলিস ও তাদের মুখ পত্র সপ্তাহিক সৈনিক। ..বাংলা একাডেমির গঠন কার্যে.. আবুল কাসেমের ভুমিকা ছিল বিষিষ্ট।

..কাসেমের ভুমিকাকে সাম্যক মুল্য ও স্থান দেয়া হয়না। কে তাকে তার মর্যদা থেকে বঞ্চিত করবে ? ইতিহাস কখনও তা করতে দেয় না। ..(প্রিন্সিপাল আবুল কাসেম সারক গ্রন্থ, চট্টগ্রাম ১৯৯১)। বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধিন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ”চরম পত্র” এর রুপকার এম. আর আখতার মুকুল বলেন “পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা হওয়ার মাত্র এক মাসের মধ্যে ১৫ই সেপ্টেবর যে মহান ব্যাক্তিত্ব পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসাবে আংলার স্বীকৃতি দেয়ার লক্ষে সোচ্চার হয়েছিল, তিনি অধ্যাপক আবুল কাসেম...অধ্যাপক আবুল কাসেমের সম্পাদনায় আলোচ্য ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা, বাংলা না উর্দূ ?’ পুস্তককেই ভাষা আন্দোলনের সূচনা হিসাবে চিহ্নিত করতেই হয়। এরই সোপান বেয়ে ১৯৪৮ এবং ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলন।

..কিন্তু আফসোস.. বাঙ্গালি জাতীর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত থেকে গেলেন। এ লজ্জা আমরা রাখবো কোথায়। ”(দৈনিক বাংলা ১১মার্চ ১৯৯২)। ভাষা সৈনিক: ভাষা সৈনিক গাজিউল হক বলেন- বাংলায় কাব্য উপেক্ষিতা নায়িকা বলে একটি কথা আছে। এদেশের সামগ্রিক ভাষা আন্দোনকে একটি ছন্দময় কাব্য হিসাবে বিবেচনা করা যায়, তা হলে প্রিন্সিপাল আবুল কাসেম সেই কাব্যের উপেক্ষিত নায়ক।

...বাংলা ভাষা আন্দোলন যখন সূতিগারে তখন প্রিন্সিপার আবুল কাসেম তাকে মাতৃগর্ভে লালন করেছেন, তার প্রবৃদ্ধিতে সাহায্য করেছেন। উনিশ নম্বর আজিমপুরে কাসেম ভাই-এর সান্নিধ্যে আমরা ভাষা সৈনিকেরা উজ্জিবিত হয়েছি। ..(মোস্তফা কামাল রচিত ‘প্রিন্সিপাল আবুল কাসেম ও ভাষা আন্দোলন’ এর মূখবন্ধ ও “প্রিন্সিপার আবূল কাসেম পদক-২০০৪” সরনিকা) ভাষা সৈনিক অলি আহাদ বলেন- ১৯৪৭ সালের ১লা সেপ্টেম্বর..গঠিত তমদ্দুন মজলিসই মহান ভাষা আন্দোলনের গোরাপত্তন করে। অধ্যাপক আবুল কাসেম ছিলেন এ ইতিহাসিক আন্দোলনের সূল স্থপতি। ..ভাষা আন্দোলনের বিভিন্ন ঘটঁনা প্রবাহে তমদ্দুন মজলিস ও প্রিন্সিপাল আবুল কাসেমের ভূমিকা ছিল মূখ্য।

..(জাতীয় রাজনীতিঃ ১৯৪৫-৭৫)। ১৯৫২ সালের রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক এডভোকেট কাজী গোলাম মাহাবুব বলেন-“রাষ্ট্রভাষা হিসাবে প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের সূত্রপাত করে (অধ্যাপক আবুল কাসেম) ..ভাষা আন্দোলনের এ গুরত্ত্ব উপলদ্ধি করলে আবুল কাসেমের ভাষা আন্দোলনের আবদানকে আমরা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করতে পারি”। ..(‘প্রিন্সিপাল আবুল কাসেম পদক-২০০৪’ সরনিকা)। বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক ও ভাষা সৈনিক অধ্যাপক শাহেদ আলি বলেন- ১৯৪৭ সালে জাতীর চৈতন্যকে ধরে নাড়া দিলেন অধ্যাপক আবুল কাসেম বৃহত্বর লড়ায়ের জন্য তৈরি হও, বাচার লড়াই, সাংস্ক্রতির লড়াই, আদর্শের লড়াই,- এর জন্য প্র¯ত্তুত হও- এভাবেই বাচার লড়ায়ের সূচনা করেন আবুল কাসেম। ..এদেশে মানুষ যে স্বপ্ন দেখেছিল, পাকিস্তান মানে তাদের স্বাধীনতা, বাস্তবে সেই স্বাধিনতা কোথায় থাকলো ? ..সংখাগুরূ অংশের মাতৃভাষা বাংলা রাষ্ট্র পরিচালনায় স্থান পাবেনা।

তাহলে তারা যাথার্থ অর্থে স্বথীন হলো কেমন করে? ..জাতীকে বাচার জন্য এক দু:সাহসিক প্রশ্ন তুলেন আবুর কাসেম,”পাকিস্তানেরে রাষ্ট্র ভাষা বাংলা না উর্দূ” ? এই যুগান্তকারি পুস্তিকায় .. তৈরি হলো রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের এ্যাটমবোমা। পদার্থ বিজ্ঞানী আবুল কাসেম শেষ পুর্যন্ত একটি এ্যাটম বোমা তৈরী করলেন। ..(‘প্রিন্সিপাল আবুল কাসেম পদক-২০০৪’ সরনিকা)। সংবাদপত্র: “... কোন কোন মৃত্যু যেমন জীবনেরও বড় হইয়া দেখা দেয়, প্রিন্সিপাল আবুল কাসেমের মৃত্যু তেমনি এক মৃত্যু। আজ আমরা একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেষের নাগরিক।

ঐতিহাসিক মাত্রই স্বীকার করিয়াছেন, এই দেশের এই স্বাধীনতার পেছনে সার্বক্ষণিকভাবে যে আন্দোলনটি মূল প্রেরণা হইয়া বিরাজ করিতেছে, তাহা হইলো রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন। ১৯৪৭ সালের ১৪ই আগোষ্ট পাকিষ্তান প্রতিষ্ঠার পর পরই তদানীন্তন শাষকগোষ্ঠী দেশের সংখ্যাগুরূ মানুষের মুখের ভাষা বাংলাকে সকল রকম সরকারী কাজকর্ম হইতে বাদ দেওয়ার চক্র ান্ত চালাইতে শুরু করেন। গোড়াতেই এই চক্রান্তের বিবুদ্ভে এদেশের মানুষের হইয়া যিনি রূখিয়া দাড়াইয়াছিলেন তিনি হইতেছেন, তখনকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যা য়ের তরুন অধ্যাপক আবুল কাসেম। এই তরুন অধ্যাপকই সেদিন পাকিষ্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উদ্য শিরোনামে একটি পুষ্তক সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন। - পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার এক মাসের মধ্যেই ১৫ই সেপ্টেম্বও, ১৯৪৭ ইং তারিখে।

তিনিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যাল কে কেন্দ্র করিয়া তমদ্দুন মজলিসের মাধ্যমে দেশব্যাপী ভাষা আন্দোলন গড়িয়া তোলেন। ...... ১৯৫৬ সালে প্রাদেশিক আইন পরিষদের সদস্য হিসাবে বিল আননয় করেন এবং তাহা পরিষদে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়। বহুমুখি প্রতিভার অধিকারী অধ্যক্ষ আবুল কাসেমের প্রধার কীর্তি বাংলা কলেজ- এর প্রতিষ্ঠা। ......তাহারই উদ্যোগে বাংলা পঞ্জিকা সংশোধিত হইয়েিছ এবং তাহাই এথন এদেশের সবূত্র অনুসৃত হইতেছে”(ইন্তেকালের পরে ১২ই মার্চ ১৯৯১ তে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার সম্পাদকীয়)। “ বাংলা ভাষার দাবীতে প্রথম সংগঠন তমদ্দুন মজলিস প্রতিষ্ঠিত হয় ১লা সেপ্টেম্বও ১৯৪৭ মঃসালে।

ইতিহাস গ্রহণ কওেছে তমদ্দুন মজলিস ভাষা আন্দোলনের সূচনা কওে এবং পিওন্সিপাল আবুল কাসেম এর স্থপতি”(দৈনিক জনকন্ঠ, ৫ই ফেব্রুয়ারী ২০০৪)। “ ......যে মৃত্যু অপরিহার্য হয়েও অবিশ্বাস্য, বেদনার চেয়েও প্রগাঢ় শোকাবহ, যে মৃত্যু একটি যুগের অবসান সূচক, প্রিন্সিপাল ্পাবুল কাসেম সাহেবের মৃত্যু ঠিক সে রকমই। ......ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের তরুন অধ্যাপক আবুল কাসেম সেদিন পাকিসতএনর কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক বাংল্ ভাষার প্রতি ও অস্বীকৃতির বিরুদ্ধে সোচ্চর হয়ে উঠেন। প্রিন্সিপাল আবুল কাসেমের জীবন সাফল্য, সংগ্রাম এবং দৃঢ় আত্মপ্রত্যয়ের মিলিত রূপ। তার সাফল্য হলো তিনি একটি ইতিহাসের সূচনাপর্বে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা রাখেন।

আর তার আত্মপ্রত্যয়ের বাণী প্রস্ফুটিত হয়ে জাতির হৃদয়প্রাচীরে খোদাই করেছে প্রেরণার স্থায়ী স্বাক্ষর” (ইন্তেকালের পরে ১৩ই মার্চ ১৯৯১ তে দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার সম্পাদকীয়)। “ ......প্রিন্সিপাল আবুল কাসেমের মত মহান ব্যক্তিতদের যোগ্য মর্যাদা দিতে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের যে সব পরজীবীরা কুন্ঠা প্রকাশ করছে তাদের স্বরূপ উন্মোচন এখন জাতীয় সার্থেই প্রয়োজন” (ইন্তেকালের পরে ১৪ই মার্চ ১৯৯১ তে দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার সম্পাদকীয়)। “ ......প্রিন্সিপাল আবুল কাসেম ছিলেন স্বর্ণালী ইতিহাসের এক জীবন্ত প্রতীক। তার মৃত্যু চলমান ইতিহাসের দীপশিখা নির্বাপনের ঘোষনা দিয়ে গেল। মহান ভাষা আন্দোলনের তুর্যবাদক প্রিন্সিপাল আবুল কাসেমের এই মৃত্যু জাতীয় জীবনে যে শূন্যতার সৃষ্টি করে গেছে, তা কথনও পূরণ হবে বলে আমাদের মনে হয় না।

......একজন মানুষের জীবনে অনেক প্রতিভার একত্র সমাবেশ সহজে ঘটেনা। প্রিন্সিপাল আবুল কাসেমের জীবনে বিচিত্র প্রতিভার অদ্ভুত সমন্বয় ঘটেছিল। একাধারে শিক্ষাবিদ, গ্রন্থকার, সংস্কৃতি সংগঠক, ভাষাবিদ, ইসলামী চিন্তাবিদ ও অক্লান্ত সমাজসেবক হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন (ইন্তেকালের পরে ১৩ই মার্চ ১৯৯১ তে দৈনিক মিল্লাত পত্রিকার সম্পাদকীয়)। ” ``A brilliant student and a committed nationalist, Abul Quasem wrote a golden chapter in the nation’s history by starting `Bangla College’ in Dhaka with Bengali as the medium of higher education. His indomitable spirit and dedication to the cause of mother tongue would be ever remembered by this nation. `` (ইন্তকালের পরে ১৬ই মার্চ ১৯৯১ তে The New Nation পত্রিকার সম্পাদকী্য়) ``……He (Abul Quasem) was one of the first who embraced the cause of Bangla as an activist. Unlike all other activists, `bhasha sainiks’ to borrow a newfangled term, he took his activism to writing technical books in Bangla which was a very important job going abegging. He published forty text books on physics along. The nation remains ever grateful to this eminent student of physics not pursuing a career in that science-and devoting himself to things more important to the moulding and the blossoming of the society he was born in.`` (ইন্তকালের পরে ১৬ই মার্চ ১৯৯১ তে The Daily Star পত্রিকার সম্পাদকী্য়) এছাড়াও প্রিন্সিপাল আবুল কাসেমকে “জাতিয় পিতৃপুরুষ” বলা হয়েছে ‘দৈনিক দেশ’ পত্রিকায় ২৬শে মার্চ ১৯৯১ সালে, “বাংলা ভাষার জাগ্রত বিবেক” বলা হয়েছে ‘দৈনিক সংবাদ’ পত্রিকায় ১৫ই মার্চ ১৯৯১ সালে।


সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.