আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

কমছে না ইভ টিজিং

মোঃ বেলায়েত উল্লাহ

এক. বখাটে যুবক দিদার নগরের পাহাড়তলী থানার সাবের সওদাগর কলোনির বাসিন্দা। ১৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় পাহাড়তলী এলাকায় নারী শ্রমিকদের উত্ত্যক্ত করার সময় গ্রেপ্তার হন তিনি। পরদিন ইভ টিজিংয়ের অপরাধে দিদারকে ১০ দিনের কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা করেন আদালত। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে আসামিকে আরও দুদিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। জ্যেষ্ঠ মহানগর হাকিম মোহাম্মদ মাহাবুবুর রহমান অভিযুক্তকে এই দণ্ড দেন।

দুই. বখাটে যুবক মোহাম্মদ ইব্রাহিম (১৮)। তিনি বাকলিয়া কে বি আমান আলী সড়কের কামাল ভিলার বাসিন্দা। তাঁর বিরুদ্ধে গত বছরের ৬ নভেম্বর রাতে চান্দগাঁও থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০ ধারায় মামলা করেন ভুক্তভোগী এক ছাত্রী। মামলা হওয়ার পরই পুলিশ ইব্রাহিমকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁর জামিন নামঞ্জুর হয়।

ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি গত ২৬ অক্টোবর বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে বাকলিয়া এলাকায় এক ছাত্রীর হাত ধরে টান দেন। এর আগেও মেয়েটিকে উত্ত্যক্ত করেন তিনি। তিন. গত ৩ নভেম্বর রাতে কয়েকজন নারীশ্রমিক কারখানায় কাজ সেরে বাসায় ফিরছিলেন। বায়েজিদ থানার কুঞ্জছায়া এলাকায় তাঁদের ধরে টানা-হেঁচড়া করেন তিন বখাটে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় বায়েজিদ থানার পুলিশ।

পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দুই যুবক পালিয়ে যান। বাবুল নামের এক বখাটেকে ধাওয়া করে ধরে ফেলে পুলিশ। পরে তাঁকে গাড়িতে উঠিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। থানা ভবনের অদূরে কুঞ্জছায়া এলাকায় পুলিশের গাড়ি থেকে তাঁকে ছিনিয়ে নেয় সন্ত্রাসীরা। এতে বায়েজিদ থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) জহির আহমদ গুরুতর আহত হন।

জহিরকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ওই রাতেই মামুন (২৯) ও শাহিন (২৭) নামের দুই বখাটে যুবক গ্রেপ্তার হয়। এ ঘটনায় ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। একের পর এক মামলা, গ্রেপ্তার ও সাজার পরও থামছে না বখাটেপনা (ইভ টিজিং)। গত দেড় বছরে চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় ৪৩৭টি বখাটেপনার ঘটনা নিষ্পত্তি করেছে পুলিশ।

অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অনেক যুবককে ধরেছে। কয়েকটি ঘটনায় তাৎক্ষণিক বিচার শেষে সাজা দিয়েছেন আদালত। ইতিমধ্যে অন্তত ১৩-১৪ জন বখাটে সাজা খেটেছে। উঠতি বয়সের ছেলেরা ইভ টিজিংয়ের সঙ্গে জড়িত বলে পুলিশি তদন্তে জানা গেছে। উত্ত্যক্তকারীদের মধ্যে মধ্যবয়সী লোকজনও রয়েছেন।

পুলিশ সূত্র জানায়, মহানগর এলাকায় প্রতি তিন দিনে গড়ে দুটি করে মেয়েকে উত্ত্যক্ত করা বা ইভ টিজিংয়ের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। অষ্টম থেকে উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণীর মেয়েরা এসব ঘটনার শিকার বেশি হচ্ছে বলে পুলিশের তদন্তে জানা গেছে। তবে প্রাথমিক শ্রেণীর গণ্ডি পার হয়নি এমন মেয়েরাও রেহাই পাচ্ছে না বখাটেদের নিপীড়ন থেকে। পুলিশও বখাটেদের শনাক্ত করে মুচলেকা নিচ্ছে। সূত্র জানায়, অষ্টম থেকে উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণীর কিশোরীরা বিদ্যালয় ও কলেজে যাতায়াতের পথে ইভ টিজিংয়ের শিকার হচ্ছেন।

মেয়েদের নানাভাবে হেনস্থা ও খারাপ মন্তব্য করে বখাটেরা। যাতায়াতে বাধারও সৃষ্টি করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপপুলিশ কমিশনার (উত্তর) আমেনা বেগম এ প্রসঙ্গে প্রথম আলোকে বলেন, ‘দেড় বছরে চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় ৪৩৭টি ঘটনার নিষ্পত্তি হয়েছে। বখাটে ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলি। আগামী দিনে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না বলে মুচলেকা দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয় না।

এতে অভিযুক্ত ব্যক্তি সতর্ক হন। একজনের বিরুদ্ধে দ্বিতীয়বার ইভ টিজিংয়ের অভিযোগ পাওয়া যায়নি। দ্বিতীয়বার একই কাজ করলে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট বখাটের বিরুদ্ধে মামলা হবে। এভাবে আমরা ইভ টিজিং বন্ধের চেষ্টা করছি। এতে সুফল পাচ্ছেন কিশোরী-তরুণীরা।

’ পুলিশ সূত্র জানায়, ইভ টিজিং বন্ধ করতে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের সাবেক উপকমিশনার (উত্তর) বনজ কুমার মজুমদার বছর দেড়েক আগে ‘হেল্প লাইন’ বিভাগ চালু করেন, যা এখনো চালু আছে। ভুক্তভোগী মেয়ে বা তাঁদের অভিভাবক পুলিশের সাহায্য পেয়ে আসছেন। কোনো মেয়ে ইভ টিজিংয়ের কারণে মানসিক যন্ত্রণায় পড়লে মহানগর পুলিশের একটি মুঠোফোনে খুদেবার্তা (এসএমএস) পাঠিয়ে সাহায্য নিতে পারেন। পরে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট মেয়ের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ নথিভুক্ত করেন। পুলিশ সূত্র আরও জানায়, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপকমিশনারের (উত্তর) মুঠোফোনে (০১৭১৩ ৩৭৩২৫৩) ভুক্তভোগী মেয়ে বা অভিভাবক খুদেবার্তা পাঠিয়ে সাহায্য নিয়ে আসছেন।

বার্তাটি মুঠোফোনের হেল্প লাইনের ৩৭৩ নম্বরে পাঠালে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ফিরতি কল দিয়ে মেয়েটির কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা নথিভুক্ত করে। এতে সংশ্লিষ্ট মেয়ের পরিচয় পুরোপুরি গোপন রাখা হয়। এরপর বখাটে যুবককে শনাক্ত করতে মাঠে নামে পুলিশ। পরে সংশ্লিষ্ট বখাটে ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করে মুচলেকা নেওয়া হয়।


অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।