আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

এভাবে ‘জিতেও’ খুশি কুক

২০০৯ সালে ওভালে উড়েছে কনফেত্তি, পুড়েছে বাজি। ২০১১-১২-তে মেলবোর্ন আর সিডনিতে গ্রায়েম সোয়ানের নেতৃত্বে ছিল ‘স্প্রিঙ্কলার’ নাচ। আর এবার? বদ্ধ ঘরে পুরস্কার বিতরণী, পরস্পর পিঠ চাপড়ে দেওয়া, ড্রেসিংরুমে শ্যাম্পেনের ছিপি খোলা—উদ্যাপন বলতে এটুকুই। বড় পর্দায় যখন ফুটে উঠল ‘ইংল্যান্ড রিটেইন দ্য অ্যাশেজ’, দিনের শুরুতে টইটম্বুর গ্যালারিতে তখন গুটিকয় দর্শক। তাঁরাও উদ্যাপনের মতো অবস্থায় নেই, বৃষ্টিতে সিক্ত অপেক্ষার অবসান দলের সাফল্যে সিক্ত হয়ে—এই যা।

 দ্য টাইমস-এ মাইকেল আথারটন লিখলেন, ‘এমনকি অ্যালিস্টার কুকের মতো নিরস চরিত্রও হয়তো স্রেফ প্রতিপক্ষ আর ম্যাচ অফিশিয়ালদের সঙ্গে হাত মেলানোর চেয়ে নাটকীয় কিছু পছন্দ করতেন। ’ শুধু অস্ট্রেলিয়ার স্বপ্ন নয়, বৃষ্টিতে ভেসে গেছে ৫৭ বছর পর ইংল্যান্ডের টানা তিনটি অ্যাশেজ ধরে রাখার উদ্যাপনও। তবে আথারটন যা-ই বলুন, অ্যালিস্টার কুকের কিন্তু কোনো আক্ষেপ নেই! পুরো খেলা হলে অস্ট্রেলিয়ার জয় ঠেকানো মুশকিল হতো, এটা হয়তো কুকের ভেতরের কথা। বাইরের কথা, প্রথম তিন টেস্টে অ্যাশেজ ধরে রাখতে পেরেই উচ্ছ্বসিত ইংল্যান্ড অধিনায়ক। সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নটা উঠতেই বললেন, ‘১৪ দিন আগে যদি আপনি আমাকে বলতেন যে শেষ দিনটা বৃষ্টিতে ভেসে যাবে কিন্তু আপনারা অ্যাশেজ ধরে রাখবেন, আমি সেটা লুফে নিতাম।

ইংল্যান্ডের ড্রেসিংরুমে কাটানোর জন্য সময়টা এখন দারুণ। এখন আমরা চাই সিরিজ জিততে। ’ বৃষ্টি না হলে ইংল্যান্ড ড্র করতে পারত কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর জানা যাবে না কোনো দিন। তবে উদাহরণ দেখিয়ে ইংল্যান্ড অধিনায়ক বুঝিয়ে দিলেন তাঁদের দিকটা, ‘জানি না, বৃষ্টি ছাড়া আমরা পারতাম কি না। কিন্তু গত বছর দুয়েকে এমন অবস্থায় পড়ে আমরা বেশ কবারই উতরে গেছি দারুণভাবে।

নিউজিল্যান্ডে (গত মার্চে) ম্যাট প্রায়র শেষ দিনে অসাধারণ ব্যাট করে ম্যাচ ড্র করেছে, নাগপুরে (গত ডিসেম্বরে) শেষ ইনিংসে দেড় শ ওভার ব্যাটিং করে আমরা মাত্র তিন উইকেটে (আসলে চার) হারিয়েছিলাম। এমন পরিস্থিতিকে জয় করার অভিজ্ঞতা তাই আমাদের ছিল। ’ তা লড়াইয়ের ইতিহাস কুক যতই শোনান, ম্যানচেস্টারের বৃষ্টিকে ধন্যবাদ না জানিয়ে পারেনই না ইংলিশরা। ১৮৮৪ সালে ওল্ড ট্রাফোর্ডে প্রথম টেস্টের প্রথম দিনটাই ভেসে গিয়েছিল বৃষ্টিতে। সেই থেকেই ওল্ড ট্রাফোর্ডের চিরসঙ্গী বৃষ্টি, ম্যানচেস্টারের আবহাওয়াকে গালমন্দ চলে নিত্যই।

এবার সেটিই এসেছে ইংল্যান্ডের জন্য আশীর্বাদ হয়ে। সোয়ান স্বভাবসুলভ রসিকতায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য বেছে নিলেন টুইটারকে, ‘ম্যানচেস্টারের বৃষ্টিকে অনেকবার অভিশাপ দিয়েছি। কিন্তু আজ আমি ওকে বাড়ি নিয়ে আমার দাদিমার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেব এবং ওকে বিয়ে করব!’ ম্যাচ শেষের ঘোষণা আসা মাত্রই সোয়ানের মতো টুইটারে উচ্ছ্বাস ফুটে উঠেছে বর্তমান-সাবেক ইংলিশ ক্রিকেটারদের। প্রথম ইনিংসে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি করা কেভিন পিটারসেনের টুইট, ‘অ্যাশেজ থাকছে...ওয়াও! কী যে এক অনুভূতি...তিন টেস্টেই অ্যাশেজ ধরে রাখা অসাধারণ এক কীর্তি। ’ অ্যাশেজ-সাফল্যে ইংলিশ ক্রীড়ার সোনালি সময়ে যোগ হলো নতুন পালক।

২০১২ অলিম্পিকে ইংল্যান্ডের সাফল্য, এবার অ্যান্ডি মারের উইম্বলডন জয়, ক্রিস ফ্রুমের ট্যুর ডি ফ্রান্স জয়, ব্রিটিশ ও আইরিশ লায়ন্সের অস্ট্রেলিয়া বিজয়ের পর কুকদের এই সাফল্য। তবু একটা আক্ষেপের জায়গা মনে করিয়ে দিলেন একসময়কার ক্রিকেটার ও ফুটবল ‘গ্রেট’ গ্যারি লিনেকার, ‘ব্রিটিশ ক্রীড়ার সাম্প্রতিক সাফল্যে আরেকটি সংযোজন অ্যাশেজ। কত সহজেই না আজকাল সাফল্য ধরা দিচ্ছে, তবে পা মাটিতেই রাখার জন্য চিরন্তন সেই ফুটবলের ওপর আমরা অনায়াসেই ভরসা রাখতে পারি!’ ১৯৬৬ বিশ্বকাপের পর বড় কোনো শিরোপা জেতেনি ইংল্যান্ড ফুটবল দল। তবে সেই ভাবনা লিনেকার বা জেরার্ড-রুনি-হজসনদের। কুকদের ভাবনায় এখন সিরিজ জয়।

সেটা হতে পারে শুক্রবার শুরু চেস্টার-লি-স্ট্রিট টেস্টেই! এএফপি, রয়টার্স, ওয়েবসাইট। ।

সোর্স: http://www.prothom-alo.com     দেখা হয়েছে বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.