আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

একটি আতঙ্কের নাম আলমডাঙ্গা লালব্রিজ (কপি/পেস্ট)


মাথার খুলিতে লম্বা লম্বা চুল। অনেকের ফিতা দিয়ে বাঁধা। অনেকের খোলা। আর হাতের কঙ্কালের মধ্যে শাখা ও প্লাস্টিকের বালা বা চুড়ি। এ চিহ্ন আমাদের বুঝিয়ে দেয় কতো নারীকে খানরা নির্যাতনের পর এ লালব্রিজে হত্যা করেছিলো।

প্রায় ৮শ লাশ এ গণকবর থেকে তোলা হয়। প্রচণ্ড দুর্গন্ধের কারণে লাশ উত্তোলনের কাজ বন্ধ করা হয়। এ গণকবরটিতে না হলেও দুই হাজারের ওপরে নারী-পুরুষ আর শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। খুব কষ্টের সাথে কথাগুলো জানালেন মুক্তিযোদ্ধা ছবেদ আলী। তিনি আরও জানান, চুয়াডাঙ্গা আলমডাঙ্গার এ লালব্রিজের পাশে অবস্থিত এতোবড় গণকবর বৃহত্তর কুষ্টিয়ার মধ্যে আর নেই।

অথচ এখনও পর্যন্ত গণকবরটি চিহ্নিত করা হলো না। গণকবরের জায়গাটি এখন দখল করে আবাদি জমিতে রূপান্তরিত হয়েছে। আমারা মারা গেলে গণকবরটির কোনো চিহ্ন আর পাওয়া যাবে না বলে সবেদ আলী মনে করেন। একই অবস্থা চুয়াডাঙ্গা জেলায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা গণকবরগুলোর। স্বাধীনতার সময় এ অঞ্চলের মানুষের একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম হয়ে ওঠে ট্রেন।

আর এ সুযোগটি গ্রহণ করে রাজাকার-আলবদর-পাকিস্তানি বাহিনী। প্রতিটি ট্রেনকে বাধ্যতামূলকভাবে চুয়াডাঙ্গা আলমডাঙ্গার লালব্রিজের ওপর দাঁড় করানো হতো। এরপর প্রতিটি বগিতে উঠে মূল্যবান জিনিসপত্র কেড়ে নেয়া হতো। নামিয়ে নেয়া হতো সুন্দরি নারীদের, যুবকদের এবং সন্দেহভাজন সকলকে। এরপর নারীদেরকে যৌন নির্যাতন শেষে ফেলে দেয়া হতো লালব্রিজের কাছেই অবস্থিত গর্তে।

আর যুবদেরকে গর্তের পাশে অবস্থিত টর্চার সেলে নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের বিষয়ে তথ্যের জন্য নির্যাতন করে হত্যা করে ফেলে দেয়া হতো একই স্থানে। শুধু ট্রেন নয়। আলমডাঙ্গা ও এর আশপাশ এলাকার অসংখ্য নারী ও পুরুষকেও নিয়ে একই কায়দায় নির্যাতন শেষে হত্যা করা হতো। স্বাধীনতার ৩৯ বছর পর এখনও আলমডাঙ্গার লালব্রিজ এ অঞ্চলের মনুষের কাছে আতঙ্কের নাম। স্থানটিকে সংরক্ষণ করা জন্য স্থানীয় ভাবে বহু চেষ্টা ও লেখালেখি করেও কোনো লাভ হয়নি বলে জানান বীর মুক্তিযোদ্ধা ছবেদ আলী।

গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সেনাবাহিনীর লোকজন একবার গণকবর চিহ্নিত করার জন্য এসেছিলেন। তারপর আর কোনো সাড়াশব্দ নেই বলে জানান তিনি। স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে নবনির্মিত চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালটি ছিলো পাকবাহিনীর ক্যাম্প। আর হাসপাতালের সীমানা পাঁচিলের শেষ সীমানার একটি কোয়ার্টার ছিলো টর্চার সেল। এ টর্চার সেলে নির্যাতন শেষে কাকতলীয় ভবে বেঁচে যান কেয়ামত আলী বিশ্বাস।

তিনি জানান, প্রতিদিন টর্চার সেলে নতুন নতুন মানুষকে ধরে আনা হতো। মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পর্কে বিভিন্ন ধরণে তথ্য আদায় করার নামে অকথ্য নির্যাতন করা হতো বন্দিদের। দুই/চারদিন পর তাদেরকে প্রথমে গুলি ও পরে জবাই করে হত্যা করে হাসপাতালের মধ্যেই পুঁতে দেয়া হতো। পরে হাসপাতাল বাউন্ডারির পাশে একটি ইটভাটার জ্বালানী কূয়ার মধ্যে ও রেলের কয়লার গর্তে ফেলে দেয়া হতো লাশ। বীর মুক্তিযোদ্ধা আঃ রহিম জানান, স্বাধীনতার পর ফিরে দেখি চুয়াডাঙ্গা শহরের প্রায় সকল স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে লাশ।

চুয়াডাঙ্গার গণকবরগুলো এখনও চিহ্নিত করা হয়নি। গণকবরের স্থানগুলোকে চিহ্নিত করতে চুয়াডাঙ্গা জেলা ইউনিটের ইউনিট কমান্ড নুরুল ইসলাম মালিকের সময় লেগে যায় প্রায় ১ ঘণ্টা। তিনি জানান, আমাদের হারিয়ে যাবার পর এ ঐতিহাসিক স্থানগুলো খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হয়ে উঠবে। এখনই এগুলোকে চিহ্নিত করে যাথযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত বলে মনে করেন ওই এলাকার পলাশ, মারুফ, কাশেম, পিন্টু, কামালসহ অসংখ্য যুবক। চুয়াডাঙ্গা জেলার দামাড়হুদা উপজেলার নাটুদাহ স্কুলে গণকবরগুলো এখনও চিহ্নিত করা না হলেও ৮ শহীদের গণকবরটি চিহ্নিত হয়েছে।

সেখানে গত আওয়ামী সরকারের আমলে একটি স্মৃতিসৌধ্য নির্মিত হয়েছে। প্রতিদিন সেখানে অনেক দর্শনার্থী ভিড় জমান। আর জীবননগরে মাধবখালীতে গণকবর চিহ্নিত হয়েছে। চলছে স্মৃতিসৌধ নির্মাণের প্রক্রিয়া। গণকবরগুলি চিহ্নিত করার বিষয়ে সরকার এলজিইডিকে পত্র দিয়েছে বলে জানান চুয়াডাঙ্গা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিটের ইউনিট কমান্ডার নূরুল ইসলাম মালিক।

তিনি জানান, খুব দ্রুত সকলের সহযোগিতায় এ কাজটি সম্পন্ন করে কাগজপত্র কেন্দ্রে পাঠানো হবে। মাথার খুলিতে লম্বা লম্বা চুল। অনেকের ফিতা দিয়ে বাঁধা। অনেকের খোলা। আর হাতের কঙ্কালের মধ্যে শাখা ও প্লাস্টিকের বালা বা চুড়ি।

এ চিহ্ন আমাদের বুঝিয়ে দেয় কতো নারীকে খানরা নির্যাতনের পর এ লালব্রিজে হত্যা করেছিলো। প্রায় ৮শ লাশ এ গণকবর থেকে তোলা হয়। প্রচণ্ড দুর্গন্ধের কারণে লাশ উত্তোলনের কাজ বন্ধ করা হয়। এ গণকবরটিতে না হলেও দুই হাজারের ওপরে নারী-পুরুষ আর শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। খুব কষ্টের সাথে কথাগুলো জানালেন মুক্তিযোদ্ধা ছবেদ আলী।

তিনি আরও জানান, চুয়াডাঙ্গা আলমডাঙ্গার এ লালব্রিজের পাশে অবস্থিত এতোবড় গণকবর বৃহত্তর কুষ্টিয়ার মধ্যে আর নেই। অথচ এখনও পর্যন্ত গণকবরটি চিহ্নিত করা হলো না। গণকবরের জায়গাটি এখন দখল করে আবাদি জমিতে রূপান্তরিত হয়েছে। আমারা মারা গেলে গণকবরটির কোনো চিহ্ন আর পাওয়া যাবে না বলে সবেদ আলী মনে করেন। একই অবস্থা চুয়াডাঙ্গা জেলায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা গণকবরগুলোর।

স্বাধীনতার সময় এ অঞ্চলের মানুষের একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম হয়ে ওঠে ট্রেন। আর এ সুযোগটি গ্রহণ করে রাজাকার-আলবদর-পাকিস্তানি বাহিনী। প্রতিটি ট্রেনকে বাধ্যতামূলকভাবে চুয়াডাঙ্গা আলমডাঙ্গার লালব্রিজের ওপর দাঁড় করানো হতো। এরপর প্রতিটি বগিতে উঠে মূল্যবান জিনিসপত্র কেড়ে নেয়া হতো। নামিয়ে নেয়া হতো সুন্দরি নারীদের, যুবকদের এবং সন্দেহভাজন সকলকে।

এরপর নারীদেরকে যৌন নির্যাতন শেষে ফেলে দেয়া হতো লালব্রিজের কাছেই অবস্থিত গর্তে। আর যুবদেরকে গর্তের পাশে অবস্থিত টর্চার সেলে নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের বিষয়ে তথ্যের জন্য নির্যাতন করে হত্যা করে ফেলে দেয়া হতো একই স্থানে। শুধু ট্রেন নয়। আলমডাঙ্গা ও এর আশপাশ এলাকার অসংখ্য নারী ও পুরুষকেও নিয়ে একই কায়দায় নির্যাতন শেষে হত্যা করা হতো। স্বাধীনতার ৩৯ বছর পর এখনও আলমডাঙ্গার লালব্রিজ এ অঞ্চলের মনুষের কাছে আতঙ্কের নাম।

স্থানটিকে সংরক্ষণ করা জন্য স্থানীয় ভাবে বহু চেষ্টা ও লেখালেখি করেও কোনো লাভ হয়নি বলে জানান বীর মুক্তিযোদ্ধা ছবেদ আলী। গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সেনাবাহিনীর লোকজন একবার গণকবর চিহ্নিত করার জন্য এসেছিলেন। তারপর আর কোনো সাড়াশব্দ নেই বলে জানান তিনি। স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে নবনির্মিত চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালটি ছিলো পাকবাহিনীর ক্যাম্প। আর হাসপাতালের সীমানা পাঁচিলের শেষ সীমানার একটি কোয়ার্টার ছিলো টর্চার সেল।

এ টর্চার সেলে নির্যাতন শেষে কাকতলীয় ভবে বেঁচে যান কেয়ামত আলী বিশ্বাস। তিনি জানান, প্রতিদিন টর্চার সেলে নতুন নতুন মানুষকে ধরে আনা হতো। মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পর্কে বিভিন্ন ধরণে তথ্য আদায় করার নামে অকথ্য নির্যাতন করা হতো বন্দিদের। দুই/চারদিন পর তাদেরকে প্রথমে গুলি ও পরে জবাই করে হত্যা করে হাসপাতালের মধ্যেই পুঁতে দেয়া হতো। পরে হাসপাতাল বাউন্ডারির পাশে একটি ইটভাটার জ্বালানী কূয়ার মধ্যে ও রেলের কয়লার গর্তে ফেলে দেয়া হতো লাশ।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আঃ রহিম জানান, স্বাধীনতার পর ফিরে দেখি চুয়াডাঙ্গা শহরের প্রায় সকল স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে লাশ। চুয়াডাঙ্গার গণকবরগুলো এখনও চিহ্নিত করা হয়নি। গণকবরের স্থানগুলোকে চিহ্নিত করতে চুয়াডাঙ্গা জেলা ইউনিটের ইউনিট কমান্ড নুরুল ইসলাম মালিকের সময় লেগে যায় প্রায় ১ ঘণ্টা। তিনি জানান, আমাদের হারিয়ে যাবার পর এ ঐতিহাসিক স্থানগুলো খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হয়ে উঠবে। এখনই এগুলোকে চিহ্নিত করে যাথযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত বলে মনে করেন ওই এলাকার পলাশ, মারুফ, কাশেম, পিন্টু, কামালসহ অসংখ্য যুবক।

চুয়াডাঙ্গা জেলার দামাড়হুদা উপজেলার নাটুদাহ স্কুলে গণকবরগুলো এখনও চিহ্নিত করা না হলেও ৮ শহীদের গণকবরটি চিহ্নিত হয়েছে। সেখানে গত আওয়ামী সরকারের আমলে একটি স্মৃতিসৌধ্য নির্মিত হয়েছে। প্রতিদিন সেখানে অনেক দর্শনার্থী ভিড় জমান। আর জীবননগরে মাধবখালীতে গণকবর চিহ্নিত হয়েছে। চলছে স্মৃতিসৌধ নির্মাণের প্রক্রিয়া।

গণকবরগুলি চিহ্নিত করার বিষয়ে সরকার এলজিইডিকে পত্র দিয়েছে বলে জানান চুয়াডাঙ্গা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিটের ইউনিট কমান্ডার নূরুল ইসলাম মালিক। তিনি জানান, খুব দ্রুত সকলের সহযোগিতায় এ কাজটি সম্পন্ন করে কাগজপত্র কেন্দ্রে পাঠানো হবে।
 

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.