আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

চীনের কমিউনিষ্ট পার্টি

মানুষ আর প্রাণীর মধ্যে পার্থক্য হলো-চেতনাগত ও সংস্কৃতিগত।

চীনের কমিউনিষ্ট পার্টি চীনের শ্রমিক শ্রেণীর অগ্রনী বাহিনী , চীনা জনগণ ও চীনা জাতির অগ্রনী বাহিনী । চীনের কমিউনিষ্ট পার্টি চীনের স্ববৈশিষ্ট্যসম্পন্ন সমাজতান্ত্রিক ব্রতের প্রধান নেতৃস্থানীয় শক্তি , চীনা কমিউনিষ্ট পার্টি চীনের অগ্রনী উত্পাদন শক্তির উন্নয়ন , চীনের উন্নত সংস্কৃতির অগ্রগতির দিকস্থিতি আর চীনের ব্যাপক জনসাধারনের মৌলিক স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করে । চীনের কমিউনিষ্ট পার্টির সর্বোচ্চ আদর্শ ও চুড়ান্ত লক্ষ্য হলো সাম্যবাদ বাস্তবায়ন করা । চীনের কমিউনিষ্ট পার্টির সনদে বলা হয়েছে , মাক্সবাদ-লেনিনবাদ , মাও সে তুঙ চিন্তাধারা , তেং সিয়াও পিং তত্ব আর তিন প্রতিনিধিত্বের গুরুত্বপূর্ণ চিন্তাধারা হচ্ছে চীনের কমিউনিষ্ট পার্টির পথনির্দেশক চিন্তাধারা ।

১৯২১ সালের জুলাই মাসে চীনের কমিউনিষ্ট পার্টি প্রতিষ্ঠিত হয় । ১৯২১ সাল থেকে ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে চীনের কমিউনিষ্ট পার্টির নেতৃত্বে চীনা জনগন কঠোর সংগ্রাম চালিয়ে সাম্রাজ্যবাদ , সামনতবাদ আর আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদের শাসন উচ্ছেদ করে গণ প্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠিত করে । নয়া চীন প্রতিষ্ঠার পর চীনের কমিউনিষ্ট পার্টি সমগ্র চীনের বিভিন্ন জাতির জনগনকে পরিচালিত করে দেশের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা সমুন্নত রেখেছে , সাফল্যের সংগে চীনকে নয়া গনতান্ত্রিক দেশ থেকে সমাজতান্ত্রিক দেশে রুপান্তরিত করেছে , চীনে সুপরিকল্পিতভাবে বিরাটাকারের সমাজতান্ত্রিক গঠনকাজ চালিয়েছে , ফলে চীনের অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ব্রতে অভুতপূর্ব বিরাট উন্নতি হয়েছে । ১৯৫৬ সালে উত্পাদন উপকরনের ব্যক্তিমালিকানা থেকে সমাজতান্ত্রিক মালিকানা ব্যবস্থায় রুপান্তর মোটামুটিভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর অভিজ্ঞতার অভাবের দরুন চীনে সমাজতান্ত্রিক গঠনব্রতে পরিচালনার প্রক্রিয়ায় চীনের কমিউনিষ্ট পার্টি কিছু ভুল করেছিল । ১৯৬৬ সাল থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত দশ বছরে চীনের কমিউনিষ্ট পার্টি আবার তথাকথিত “ মহা সাংস্কৃতিক বিপ্লব”ধরনের দীর্ঘস্থায়ী মারাত্মক ভুল করে ।

১৯৭৬ সালের অক্টোবর মাসে তথাকথিত “মহা সাংস্কৃতিক বিপ্লবের” অবসান ঘটার পর চীন এক নতুন ঐতিহাসিক উন্নয়ন পর্বে প্রবেশ করে । ১৯৭৮ সালের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত পার্টির ১১তমো জাতীয় কংগ্রেসের তৃতীয় পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে নয়া চীন প্রতিষ্ঠার পর সুগভীর তাত্পর্যসম্পন্ন মহত্ রুপান্তর সম্পন্ন করা হয়েছে । ১৯৭৯ সাল থেকে চীনের কমিউনিষ্ট পার্টি তেং সিয়াও পিংয়ের উথ্থাপিত সংস্কার ও উন্মুক্ত নীতি কার্যকরী করতে শুরু করে । সংস্কার অভিযান শুরু হওয়ার পর চীনের জাতীয় আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করার মত বিরাট সাফল্য অর্জিত হয়েছে , দেশের বিভিন্ন জায়গায় আমুল পরিবর্তন ঘটেছে , এই সময়পর্ব নয়া চীন প্রতিষ্ঠার পর সবচেয়ে ভালো সময়পর্ব , এই সময়পর্বে জনসাধারণ সবচেয়ে বেশী সুযোগসুবিধা পেয়েছেন । চীনের কমিউনিষ্ট পার্টি সক্রিয়ভাবে বিদেশের সংগে সম্পর্ক প্রসারের পক্ষপাতী ।

চীনের কমিউনিষ্ট পার্টি চীনের সংস্কার , উন্মুক্ততা আর আধুনিকায়নের গঠনকাজের জন্য অনুকুল আন্তর্জাতিক পরিবেশ পাওয়ার প্রয়াস চালিয়েছে ,আন্তর্জাতিক ব্যাপারাদিতে দৃঢ়ভাবে স্বাধীন ও স্বতন্ত্র শান্তিপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে , চীনের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে, আধিপত্যবাদ ও শক্তির রাজনীতির বিরোধিতা করে, বিশ্বশান্তি অক্ষুন্ন রাখা আর মানবজাতির অগ্রগতি তরান্বিত করার প্রচেষ্টা চালায়, শান্তিপূর্ন সহাবস্থানের পঞ্চশীল নীতি অর্থাত্ পরস্পরের সার্বভৌমত্ব ও ভুভাগীয় অখন্ডতার প্রতি মর্যাদা প্রদর্শন, পারস্পরিক অনাক্রমন , পরস্পরের অভ্যন্তরীন ব্যাপারে হস্তক্ষেপ না করা , সমতা ও পারস্পরিক কল্যান আর শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ভিত্তিতে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সংগে সম্পর্ক প্রসার করেছে । চীনের কমিউনিষ্ট পার্টি স্বাধীনতা ও স্বাতন্ত্র্য, সমতা , পারস্পরিক মর্যাদা প্রদর্শন ও পরস্পরের অভ্যন্তরীন ব্যাপারে হস্তক্ষেপ না করা --এই চারটি নীতি অনুসারে পৃথিবীর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সংগে মৈত্রী সম্পর্ক প্রসারিত করেছে । চীনের কমিউনিষ্ট পার্টি ইতিমধ্যে পৃথিবীর ১২০টি দেশের তিন শরও বেশী রাজনৈতিক দলের সংগে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত করেছে এবং বজায় রেখেছে । চীনের কমিউনিষ্ট পার্টি হচ্ছে নিজের কর্মসুচী ও সনদ অনুসারে গণতান্ত্রিক কেন্দ্রিকতার নীতি অনুসারে সংগঠিত একটি রাজনৈতিক পার্টি । চীনের কমিউনিষ্ট পার্টির সনদ অনুসারে চীনের শ্রমিক , কৃষক , সৈনিক , বুদ্ধিজীবী আর সমাজের অন্যান্য স্তরের অগ্রনী ব্যক্তিদের মধ্যে যাদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়েছে , যারা কমিউনিষ্ট পার্টির কর্মসূচী ও সনদ স্বীকৃতি দেন , পার্টির একটি সংগঠনে অংশ নেন এবং সক্রিয়ভাবে কাজ করেন , পার্টির সিদ্ধান্ত মেনে নেন এবং নিয়মিতভাবে ফি জমা দেন, তারা চীনের কমিউনিষ্ট পার্টিতে যোগ দেয়ার আবেদন জানাতে পারেন।

চীনের কমিউনিষ্ট পার্টির কেন্দ্রীয় পর্যায়ের সংগঠনের মধ্যে আছে পার্টির জাতীয় কংগ্রেস, কেন্দ্রীয় কমিটি, কেন্দ্রীয় কমিটির পলিট ব্যুরো, কেন্দ্রীয় কমিটির পলিট ব্যুরোর স্ট্যান্ডিং কমিটি , কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক মন্ডলী , কেন্দ্রীয় কমিটির সামরিক কমিশন ও কেন্দ্রীয় কমিটির শৃঙ্খলা তত্ত্বাবধান কমিটি । পার্টির জাতীয় কংগ্রেস প্রতি পাঁচ বছরে একবার অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় কংগ্রেস শেষে নির্বাচিত কেন্দ্রীয় কমিটি চীনের কমিউনিষ্ট পার্টির সর্বোচ্চ নেতৃস্থানীয় সংস্থা । চীনের কমিউনিষ্ট পার্টির সদস্য সংখ্যা সাত কোটি, বর্তমানে সাধারণ সম্পাদক হলেন হু চিং থাও । তথ্য: চিনা রেডিও ইন্টারন্যাশনাল বাংলা


অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।