আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

কোরবানির ইতিকথা

Mahmood Khan

আরবি জিলহজ মাসের দশ, এগার, বার তারিখে প্রভুর সন্তুষ্টি লাভের আশায় যে পশু জবাই করা হয় তাকেই কোরবানি বলে। সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলমানই এ কোরবানি করে থাকেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো কোরবানির মূল কথা কী? এর কি আছে কোনো ইতিহাস বা অত্যুজ্জ্বল কাহিনী, যা হৃদয় মাঝে কোনো শিহরন জাগায়। সাড়া জাগায় তনু-মনে। কিংবা আন্দোলিত করে।

নাকি শুধু আনন্দ ফুর্তি, মার্কেটে কেনাকাটার ভিড়। ডিপ ফ্রিজ কেনার প্রতিযোগিতা বা কোরবানি উপলক্ষে বিভিন্ন সামগ্রীর মূল্য হ্রাসকেই বুঝায়? এসব প্রশ্নের জবাবে বলতে হয় অবশ্যই এ কোরবানির পেছনে রয়েছে একটি গৌরবের ইতিহাস। একটি হৃদয়স্পর্শী কাহিনী। মুসলিম জাতির পিতা হযরত ইব্রাহীম (আ.)। জীবনের সবুজ প্রান্তর পেরিয়ে গেছে।

শয়ের কাছাকাছি বয়স। জীবনটা পেরিয়ে গেল একাকিত্বের দুর্বিষহ কষ্ট নিয়ে। এই নিঃসন্তান একাকিত্বের কষ্ট লাঘব করতে আশায় বুক বাঁধলেন। প্রবল আত্মবিশ্বাসী তিনি। অবশ্যই প্রভু তাঁর দোয়া কবুল করবেন।

জীবন সায়াহ্নে একটি সন্তান লাভের জন্য দোয়া করতে লাগলেন। অনেক বিনিদ্র রজনী কাটিয়ে দিলেন অশ্রুসজল নয়নে। কোরআনের ভাষায়- হে প্রভু আমাকে একটি নেক সন্তান দিন। আল্লাহ তাঁর দোয়া কবুল করলেন। সুসংবাদ দিলেন একটি নেক সন্তানের।

কোরআনের ভাষায় অতঃপর তাঁকে সহনশীল এক সন্তানের সুসংবাদ দিলাম। শুকরিয়া আদায়ে প্রভুর দরবারে সেজদায় লুটিয়ে পড়লেন। আদায় করলেন প্রভুর কৃতজ্ঞতা। এবার ঘুচবে একাকিত্ব। আনন্দের ঢেউ বয়ে গেল।

জন্ম নিলেন হযরত ইসমাঈল (আ.)। কিন্তু কে জানত পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে। শিশু ইসমাঈল বড় হতে লাগলেন। ইব্রাহীম (আ.) ভালোই কাটিয়ে দিচ্ছিলেন বৃদ্ধ বয়সের শেষ সময়গুলো। এক রাতে তিনি স্বপ্নে দেখলেন প্রিয় বস্তু কোরবানি করার।

কোরআনের ভাষায়- হে বৎস আমি তোমাকে স্বপ্নে কোরবানি করতে দেখেছি। তো তোমার মতামত কি? বালক ইসমাঈল দীপ্ত কণ্ঠে পিতাকে জানিয়ে দিলেন, আপনাকে যে নির্দেশ দেয়া হয়েছে তা বাস্তবায়ন করুন, নিশ্চয় আমাকে ধৈর্যশীলদের মাঝে পাবেন। পিতা-পুত্র মিলে প্রভুর আদেশ বাস্তবায়নে চললেন মিনা প্রান্তরে। পুত্র প্রস্তুত খোদার আদেশে জীবন দিতে। পিতা ইব্রাহীম ছুরি চালাতে চূড়ান্ত প্রস্তুতি শেষ করলেন।

দুনিয়ার আকাশ এখনি দেখতে পাবে খোদাপ্রেমের এক অভূতপূর্ব দৃষ্টান্ত। পিতা ছুরি চালালেন। খুব শক্তভাবে চালালেন। জবাইও সম্পন্ন হলো। তবে পুত্র নয় বরং জান্নাতি দুম্বা।

পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেন হযরত ইব্রাহীম ও তাঁর আদরের ইসমাঈল। আল্লাহ রাজি হয়ে গেলেন। ঘোষণা দিলেন- হে ইব্রাহীম তোমার স্বপ্ন তুমি বাস্তবায়ন করেছো। এটাই হলো কোরবানির প্রকৃত ইতিহাস। আর সে কোরবানিই মুসলমানরা করে থাকে।

আল্লাহ উম্মতে মুহম্মদির জন্য তা ওয়াজিব করে দিয়েছেন। আমরা সে ওয়াজিব আদায় করতেই পশু জবাই করে থাকি; কিন্তু আমরা তো আমাদের ভেতরের পশুত্বটা জবাই করতে পারি না। দিন দিন আমাদের ভেতরের পশুত্বটা তাজা হয়ে যাচ্ছে। আমাদের ভেতরের হিংসা-বিদ্বেষের পরশ্রীকাতরতার জন্তুটা আরো হিংস্র হয়ে উঠছে। আমরাতো বড় পশুর প্রদর্শনী আর ফ্রিজ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হচ্ছি।

সরে পড়ছি কোরবানির মূল উদ্দেশ্য থেকে। কোরবানির মাধ্যমে রেজায়ে এলাহী প্রত্যাশার বদলে আমরা আজ প্রত্যাশা করি অন্য কিছু। অথচ এসব কিছুই প্রভুর দরবারে পৌঁছে না। পৌঁছতো শুধু তাকওয়া, খোদাভীতি। কোরবানির মাধ্যমে সেই তাকওয়া বা খোদাভীতি অর্জনে সক্ষম হলেই আমাদের কোরবানি সার্থক হবে।


অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।