আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

ইয়াবা প্রেমে উন্মাদ তরুণ প্রজন্ম

নিয়ন্ত্রণহীন মাদকের বিস্তৃতি এখন দেশজুড়েই, ক্রমেই হয়ে উঠেছে সর্বগ্রাসী। ভয়াল মাদক তারুণ্য, মেধা, বিবেক, লেখাপড়া, মনুষ্যত্ব- সবকিছু ধ্বংস করে দিচ্ছে। বিনষ্ট করে দিচ্ছে স্নেহ-মায়া, ভালোবাসা, পারিবারিক বন্ধন পর্যন্ত। মাদকাসক্ত সন্তানের হাতে বাবা-মা, ঘনিষ্ঠ স্বজন নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছেন, নেশাখোর পিতা মাদক সংগ্রহে ব্যর্থ হওয়ার ক্রোধে নিজ সন্তানকে খুন করছে অবলীলায়। নেশার টাকা না পেয়ে স্ত্রীকে আগুনে পুড়িয়ে মারা, মাকে জবাই করা, আদরের সন্তানকে বিক্রি করে দেওয়ার মতো মর্মস্পর্শী ঘটনা ঘটেছে সম্প্রতি।

বাংলাদেশ প্রতিদিনের এক অনুসন্ধানে জানা যায়, মাত্র এক বছরের মধ্যে নেশাখোর ছেলেদের হাতে অন্তত ২৭ জন পিতা-মাতা নৃশংসভাবে খুন হয়েছেন। একই সময়ে মাদকসেবী স্বামীর হাতে প্রাণ গেছে ১৬ জন নারীর। মাত্র কয়েক দিন আগে খোদ রাজধানীতেই মাদকসেবী মেয়ের হাতে বাবা-মা খুনের ঘটনা নিয়ে সারা দেশে তোলপাড় চলছে। এ নিয়ে অনেক পরিবারেই ছড়িয়ে পড়েছে চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। পুলিশের একাধিক প্রতিবেদনেও মাদকের জের হিসেবে অপরাধ বৃদ্ধির ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে।

ইদানীং মাদকাসক্তির কারণেই চাঁদাবাজি, ছিনতাই-রাহাজানি, ডাকাতি ও খুন-খারাবির ঘটনা বেশি ঘটছে বলেও গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

অপরাধের মূল সূত্র চিহ্নিত হওয়া সত্ত্বেও মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ নেই বললেই চলে। পুলিশ, র্যাব, ডিবি, মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর মাঝে-মধ্যে অভিযান চালায় ঠিকই, তবে বেশির ভাগ অভিযানই চলে টু পাইস কামানোর ধান্ধায়। আবার অভিযানের মাধ্যমে যেসব মাদক উদ্ধার হয় এর সিংহভাগই পুলিশের হাত ঘুরে মাদক ব্যবসায়ীদের কাছেই চলে যায়। ফলে একাধারে অভিযানও যেমন চলে তেমনি মাদকের কেনাবেচাও চলে পাল্লা দিয়ে, শুধু বেড়ে যায় দরদাম।

চারদিকেই মাদকের ছড়াছড়ি। স্কুল পড়ুয়ারাও এখন ইয়াবা, হেরোইন, ফেনসিডিলে আসক্ত হয়ে পড়েছে। এখন টিফিনের টাকা একত্র করে সহপাঠীরা মিলেমিশে হেরোইন-ইয়াবা সেবন করলেও টাকা না পেলেই তারা শুঁকছে জুতায় লাগানোর পেষ্টিং। কী রাজধানী, কী শহর-বন্দর-গঞ্জ, হাত বাড়ালেই পাওয়া যাচ্ছে চোলাই মদ, গাঁজা, ইয়াবা, ইনজেকশন, হিরোইন, আফিমসহ বিভিন্ন মাদক। এখন উপজেলা পর্যায়েও একাধিক পয়েন্টে চলে মাদকের কেনাবেচা।

যাদের টাকার জোর কম তারাও হাতুড়ে পদ্ধতিতে তৈরি করছে ভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য। বিভিন্ন কাশির সিরাপের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে তৈরি করা এ নেশাদ্রব্য ঝাঁকি বা 'ঘুটা' নামেই বেশি পরিচিতি। সহজলভ্য মদ-গাঁজা আর নিজেদের তৈরি ঘুটার পাশাপাশি অননুমোদিত যৌন উত্তেজক নেশাজাতীয় কোমল পানীয় (এনার্জি ড্রিংক) দ্বারাও নেশা করছে তরুণ-তরুণীরা। মূলত যে কোনো উপায়ে তরুণ-তরুণী নেশার সঙ্গে যুক্ত থাকছে এবং এটাকে 'আধুনিকতা-ফ্যাশন' বলেও মনে করছে। নেশার সর্বগ্রাসী থাবা সবচেয়ে বেশি ছড়িয়ে পড়ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে।

উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্যাম্পাস থেকে শুরু করে মাধ্যমিক স্কুলের গণ্ডি পর্যায়েও মাদকের ভয়াল অভিশাপ নেমে এসেছে। সহজলভ্যতা, বেকারত্ব বৃদ্ধি, কালো টাকার আধিক্য, পাশ্চাত্য সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণ ইত্যাদি কারণে মাদকাসক্তের মিছিল দিন দিন দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে।

৩২ ধরনের মাদকের ছড়াছড়ি : দেশে বর্তমানে ৩২ ধরনের মাদক সেবন চলছে। এ পর্যন্ত ভিন্ন ভিন্ন নামের যেসব মাদক উদ্ধার হয়েছে সেগুলো হচ্ছে- হেরোইন, গাঁজা, চোলাই মদ, দেশি মদ, বিদেশি মদ, বিয়ার, রেক্টিফাইড স্পিরিট, কেডিন, ফেনসিডিল, তাড়ি, প্যাথেডিন, ব্রুপ্রেনরফিন, টিডি জেসিক, ভাং, কোডিন ট্যাবলেট, ফার্মেন্টেড, ওয়াশ (জাওয়া), বনোজেসিক ইনজেকশন (বুপ্রেনরফিন), টেরাহাইড্রোবানাবিল, এঙ্এলমুগের, মরফিন, ইয়াবা, আইসপিল, ভায়াগ্রা, সানাগ্রা, টলুইন, পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট, মিথাইল, ইথানল ও কিটোন। এ ছাড়া ইনোকটিন, সিডাঙ্নিসহ বিভিন্ন ঘুমের ট্যাবলেট, জামবাকসহ ব্যথানাশক ওষুধ কিংবা টিকটিকির লেজ পুড়িয়ে কেউ কেউ নেশা করে থাকে।

এসব দ্রব্যের নেশাজনিত চাহিদা থাকায় বেশির ভাগই ভেজাল উৎপাদিত হচ্ছে দেশেই।

নতুন প্রজন্ম এখন ইয়াবার প্রেমে উন্মাদ। ইয়াবা আকারে ছোট হওয়ায় সহজে বহন করা যায়। এ কারণে অন্য মাদকের তুলনায় ইয়াবা সেবনকারী ও বিক্রেতারা খুব সহজে নিরাপদে সেবন ও বিক্রয় করতে পারে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা পড়ার আশঙ্কাও কম বলে খুব সহজেই বিক্রি করা যায় যেখানে-সেখানে বসেই।

যারা ইয়াবা সেবন করে তারাই বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত। আইনের চোখে ফাঁকি দেওয়ার জন্য সাংকেতিকভাবে নাম দেওয়া হয়েছে বাবা। এ ছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন রকম নামে ডাকা হয়। অভিজাত নেশাদ্রব্য হিসেবে পরিচিত ইয়াবার বিস্তার ঠেকানো যাচ্ছে না কিছুতেই। তরুণ-যুবক থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের মানুষ এতে আসক্ত হয়ে পড়ছেন।

এ সুযোগে রাজধানীজুড়ে গড়ে উঠেছে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের অপ্রতিরোধ্য নেটওয়ার্ক। এর মধ্যে 'ডিরেক্ট পার্টি' নামে পরিচিত পাইকারি বিক্রেতার সংখ্যাই তিন শতাধিক। তথ্য মতে, নগরীতে প্রতিদিন তিন লক্ষাধিক পিস ইয়াবা বিক্রি হয়। ক্রেতার একটি বড় অংশই প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ও ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রী। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে মাঝে-মধ্যেই ধরা পড়ছেন ইয়াবা ব্যবসায়ীরা, প্রচুর পরিমাণ ইয়াবাও উদ্ধার হচ্ছে।

কিন্তু এতকিছুর পরও মরণঘাতী এ মাদকটির দৌরাত্দ্য নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজধানীতে এখন চার রকমের ইয়াবা বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে গাঢ় লাল রঙের 'চম্পা' প্রতি পিস খুচরা ২০০ থেকে ২৩০ টাকায় বিক্রি হয়। টেকনাফে এটি কেনা হয় ১২০ থেকে ১৫০ টাকায়। হালকা গোলাপী রঙের 'আর সেভেন' ইয়াবার দাম সবচেয়ে বেশি।

এটি ঢাকায় কমপক্ষে ৫০০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। হালকা গোলাপী রঙের আরেক ধরনের ইয়াবার নাম 'জেপি'। এর খুচরা মূল্য ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা। 'ডগ' নামের মাটি রঙের ইয়াবা বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় প্রতিটি। এ ছাড়াও বিভিন্ন উপাদান মিশিয়ে দেশেই তৈরি হচ্ছে আরেক ধরনের ভেজাল ইয়াবা।

এগুলো ১৫০ থেকে ১৭০ টাকায় পাওয়া যায়।

মাদকের ট্র্যাজেডি : ১৯৯৯ সালের ৭ মে বিষাক্ত মাদকের ভয়াল ছোবলে জেলার ১৫৬ জনের জীবনপ্রদীপ নিভে যায়। বিক্রি করা বিষাক্ত স্পিরিট খেয়ে দরিদ্র পরিবারের মানুষগুলো মারা গেছে, সেই ঘটনার মূল হোতারা সব সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে আছে। মাদক ট্র্যাজেডির প্রায় একযুগেও তাদের শাস্তি হয়নি। অভিযুক্তরা সবাই এখন জামিনে মুক্ত হয়ে বহাল তবিয়তে আছে।

কেউ কেউ মাদক ব্যবসা করে এখন কোটি টাকার মালিক বনে গেলেও মৃতদের পরিবারগুলো মানবেতর জীবনযাপন করছে। গাইবান্ধাতেও অনুরূপ রেক্টিফাইড ও মিথানল মেশানো দেশি মদ খেয়ে ৬৮ জনের মৃত্যু ঘটেছিল। সিলেটের গোয়ালাবাজারেও ১২ জনের জীবনহানি ঘটে। এর পর প্রায় ধারাবাহিকভাবেই কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে, সিলেটে, ময়মনসিংহ, সিরাজগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে বিষাক্ত মাদক সেবনে প্রায় সাড়ে ৬০০ মানুষের জীবনপ্রদীপ নিভে যাওয়ার ঘটনা ঘটে।

মাদকাসক্তির উদ্বেগজনক চিত্র : বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার জরিপেও বাংলাদেশে মাদকাসক্তির উদ্বেগজনক চিত্র বেরিয়ে এসেছে।

বাংলাদেশের মাদক পরিস্থিতি নিয়ে এর আগে জাতিসংঘের একটি জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে কমপক্ষে ৬৫ লাখ মানুষ সরাসরি মাদকাসক্ত। এদের মধ্যে ৮৭ ভাগ পুরুষ, ১৩ ভাগ নারী। এক লাখেরও বেশি মানুষ মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। মাদক ব্যবসায় প্রভাবশালী ব্যক্তি থেকে শুরু করে নারী এবং শিশু-কিশোররাও সম্পৃক্ত রয়েছে। এদিকে বাংলাদেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা কত হবে তা নিয়ে অনেক বিতর্ক রয়েছে।

তামাক বা তামাকজাত দ্রব্যকে মাদক অভিহিত করলে নিশ্চয়ই তা কয়েক কোটি হবে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর ২০০৩ সালেও দেশে ৫ লাখ মাদকাসক্ত থাকার ঘোষণা দিয়েছিল। এখন রাষ্ট্রায়ত্ত এই মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থাই স্বীকার করে দেশে ৬০ লাখের মতো মাদকাসক্ত রয়েছে। অধিদফতরের জরিপে বলা হয়, আসক্তদের মধ্যে শতকরা ৯১ ভাগই কিশোর ও তরুণ। শতকরা ৪৫ ভাগ বেকার এবং ৬৫ ভাগ আন্ডার গ্র্যাজুয়েট।

১৫ ভাগ উচ্চ শিক্ষিত মাদকাসক্তও রয়েছেন। এদিকে ফ্যামেলি হেলথ ইন্টারন্যাশনালের পৃথক পরিসংখ্যান সূত্রে জানা যায়, দেশে সুই-সিরিঞ্জের মাধ্যমে মাদক গ্রহণকারীর সংখ্যাও এক লাখ ছাড়িয়ে গেছে। এ মাদকাসক্তরা শিরায় মাদক গ্রহণ করায় এইচআইভি ঝুঁকির মধ্যে থাকছে। গত বছর আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি) পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, রাজধানীর মাদকাসক্তদের ৭৯ দশমিক ৪ শতাংশ পুরুষ ও ২০ দশমিক ৬ শতাংশ মহিলা। মাদকাসক্তদের ৬৪ দশমিক ৮ শতাংশই অবিবাহিত।

বছরে ১০ হাজার কোটি টাকার লেনদেন : আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান না থাকলেও বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাদক আমদানির জন্য প্রতি বছর ১০ হাজার কোটি টাকারও বেশি দেশি মুদ্রা পাচার হচ্ছে। কিন্তু ফ্যামেলি হেলথ ইন্টারন্যাশনালের পরিসংখ্যানে বলা হয়, প্রতি বছর ভারত থেকেই ৩০৪৭ কোটি টাকার বিভিন্ন মাদকদ্রব্য বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এর মধ্যে শুধু ফেনসিডিলই আসে কমপক্ষে ২২০০ কোটি টাকার।

আইসিডিডিআরবি'র ওই সমীক্ষায় বেরিয়ে আসে, একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তির মাদক ব্যবহারজনিত ব্যয় বছরে গড়ে ৫৬ হাজার ৫৬০ টাকা থেকে ৯০ হাজার ৮০০ টাকা। গড়ে দৈনিক মাদকের জন্য ব্যয় হয় ১৩০ টাকা।

তবে গোয়েন্দা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে মাদকাসক্ত ব্যক্তির দৈনিক গড় ব্যয় হয় কমপক্ষে ৭০০ টাকা। একটিভ টুয়েন্টি-ফোরটি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ নামের একটি সংগঠন ২০০২ সালে মাদক জরিপ পরিচালনা করে দেখে, বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশে মাদকাসক্তরা বছরে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে।

মাদক সংক্রান্ত মামলার চিত্র : সারা দেশে বর্তমানে প্রায় ৩০ হাজার মাদক সংক্রান্ত মামলা ঝুলে আছে। র্যাব ও পুলিশের হাতে তদন্তাধীন মামলার সংখ্যা ২০ হাজারেরও বেশি। এর মধ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের হাতে তদন্তাধীন মামলা রয়েছে প্রায় ৮ হাজার।

মামলা হলেও সাক্ষ্য-প্রমাণের অভাবে ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে অভিযুক্তরা। রাজধানীতে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে থাকে এমন ১১৬ জন প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর তালিকা করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরে। বিভিন্ন থানা এলাকায় অনুসন্ধান চালিয়ে এই তালিকা করা হয়েছে। তবে মাঠ পর্যায়ের এসব ব্যবসায়ীর গডফাদাররা এখনো পর্দার আড়ালেই রয়ে গেছেন। প্রকৃত মাদক ব্যবসায়ীদের অনেকের নামই তালিকায় নেই।

এসব তালিকা হালনাগাদ করতেও তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

মাদক নিয়ন্ত্রণে বেহাল অধিদফতর : রাজধানীতে পাইকারি ও খুচরা মিলিয়ে পাঁচ শতাধিক মাদক স্পট নিয়ন্ত্রণ করছে সহস াধিক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। এ ছাড়া রয়েছে অসংখ্য ভাসমান বিক্রেতা। বিশাল এ সিন্ডিকেটকে নিয়ন্ত্রণ করতে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের ঢাকা মেট্রো অঞ্চলের কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন মাত্র ৫৯ জন। পাশাপাশি যানবাহনের সংখ্যাও অপ্রতুল।

সাকুল্যে মাত্র তিনটি। অধিদফতরের ঢাকা মেট্রো-অঞ্চলের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আলী আসলাম হোসেন জানিয়েছেন, জনবল ও যানবাহনসহ বিভিন্ন সমস্যার কারণে অভিযান চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে অধিদফতরের কার্যক্রম চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। অভিযান চালানোর জন্য ঢাকা মেট্রোর ১৪টি সার্কেলে ১৪ জন পরিদর্শক থাকলেও তাদের সহযোগিতা করার প্রয়োজনীয় জনবল নেই। ১৪ সার্কেলের জন্য রয়েছেন ৭ জন উপ-পরিদর্শক, ৭ জন সহকারী উপ-পরিদর্শক এবং ৩১ জন সিপাই।

অভিযান পরিচালনার জন্য রয়েছে জরাজীর্ণ তিনটি যানবাহন। এ ছাড়া অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে ১৪টি ওয়াকিটকি। মাদক ব্যবসা পরিচালনার সঙ্গে সম্পৃক্তদের অত্যাধুনিক সরঞ্জাম, দ্রুতগামী যানবাহন, ব্যাপক জনবল ও প্রভাবের সামনে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর রীতিমতো অসহায়। এদিকে রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে অযোগ্য অদক্ষ কর্মকর্তারাও ঢাকায় স্থায়ী পোস্টিং নিয়ে বসে আছেন। মাদক নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে মাদক থেকে মাসোহারা হাতিয়ে নেওয়াই তাদের প্রধান কাজ হয়ে উঠেছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. ইকবাল হোসেন বলেন, সীমিত জনবল আর নানাবিধ সমস্যা নিয়েও অধিদফতরের কর্মকর্তারা মাদকের বিস্তার রোধে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে চলছেন। নিয়মিত চলছে মাদকবিরোধী অভিযান। তিনি মাদকের প্রসার রোধে সামাজিক সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, এ ক্ষেত্রে সেমিনার সিম্পোজিয়াম, র্যালি, আলোচনাসভাসহ মাদকবিরোধী নানা কার্যক্রমের মাধ্যমে সমাজে সচেতনতা সৃষ্টির কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে মহাপরিচালক জানান, কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে মাদক সম্পৃক্ততার অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

 

 



সোর্স: http://www.bd-pratidin.com/     দেখা হয়েছে ১১ বার

এর পর.....

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.