আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

মালয়েশিয়া বো'লে ! ...... ৪



Click This Link http://www.malaysia-maps.com/ নতুন মন্ত্র- ওয়ান মালয়েশিয়া মালয় আর শিয়া মিলে মালয়েশিয়া অর্থাৎ মালয়ীদের আবাস। জানালেন আমাদের কোর্সের তরুন কর্মকর্তা, মালয়েশীয় জাতীয় যুব ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় মো: আমিন আমিরুল জামান। তবে সাথে সাথে বললেন বিষয়টি স্পর্শ কাতর। কারণ মালয়েশিয়া সবার জন্য সমান সুযোগে বিশ্বাসী। তাই ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবার ভাবনা ''ওয়ান মালয়েশিয়া''।

মালয়েশিয়ার অটুট ঐক্যের নতুন মন্ত্র সবার অন্তরে গেঁথে দেবার চেষ্টা করছে সরকার। সংখ্যাগুরু মালয়ী, সংখ্যা লঘু চীনা, ভারতীয়, বা আদিবাসী ( সাবা ও সারাওয়াকে ৬০টি আদিবাসী নৃ গোষ্ঠী বাস করে) সবাই নিজেদের মালয়েশীয় পরিচয় দিতে ভালোবাসে। যদিও চীনা বা ভারতীয়রা নিজেদের মধ্যে নিজ ভাষা (চীনা বা তামিল বা তেলেগু বা গুজরাটী) ব্যবহার করে। এক নজরে মালয়েশিয়া কুয়ালা লামপুরের সাথে মালয়েশিয়ার ইতিহাসের একটু আমেজ ছিলো। এখানে আরেকটু জুড়ে দিই।

এমনিতে মালয়েশিয়ার ইতিহাস খুব প্রাচীন না হলেও প্রস্তর যুগের দেহাবশেষ প্রাপ্তির ফলে আদি নৃ-গোষ্ঠীর মালয়েশিয়া আগমনের খবর জানান দিচ্ছে। সাধারনভাবে সিঙ্গাপুরের মতোই চীনা আর ভারতীয় ব্যবসায়ীদের মিলন কেন্দ্র হিসাবে মালয়েশিয়ার ঐতিহাসিক গুরুত্ব নিহিত। ইউরোপীয়দের মধ্যে সবার আগে আসে পর্তুগীজরা। এর পর আসে ওলন্দাজ আর ইংরেজ। লক্ষ্য ছিলো মসলা, সিল্ক আর রূপার ব্যবসা।

১৯৫৭ সালে স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৬৩ সালে গঠিত ''ফেডারেশন অব মালয়শিয়া''-এর অন্তর্ভুক্ত ছিলো পেনিনসুলার মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, বোর্নিও দ্বীপের দু'টি স্টেট সাবাহ ও সারাওয়াক। ১৯৬৫ সালে সিঙ্গাপুর ফেডারেশন থেকে বের হয়ে পৃথক রাষ্ট্ররূপে আত্মপ্রকাশ করে। আর বোর্নিও দ্বীপটি গঠিত হয়েছে মালয়েশিয়ান ফেডারেশনভুক্ত সাবাহ, সারাওয়াক, ব্রুনাই (পৃথক রাষ্ট্র) আর ইন্দোনেশীয় স্টেট কালিমান্তান (৪টি প্রদেশ) নিয়ে। বোর্নিও পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম দ্বীপ। এর ৭৩% ইন্দোনেশিয়ায়, ২৬% সাবাহ ও সারাওয়াক বাকী ১% ব্রুনাই-এর অন্তর্গত।

১৯৬৭ সালে গঠিত অর্থনৈতিক জোট ''আসিয়ান''-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মালয়েশিয়া। থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, ব্রনাই, সিঙ্গাপুর আর সাগরবেস্টিত দেশ মালয়েশিয়া। বিষুব রেখার উত্তরে ২ ডিগ্রী থেকে ৭ ডিগ্রীর মধ্যে এর অবস্থান। আয়তন ৩ লাখ ২৯ হাজার ৭৫৮ বর্গকিলোমিটার। (বাংলাদেশের দ্বিগুনের বেশি।

লোক সংখ্যা ২ কোটি ৭০ লাখ প্রায়। ( বাংলাদেশের ৫ ভাগের ১ ভাগ) ভাষা- মালয়ী ( Bahasa Melayu)। ইংরেজির ব্যবহার ব্যবসা বাণিজ্যে আছে। মালয়েশীয় চীনা বা মালয়েশীয় ভারতীয় বা আদিবাসীরা নিজেদের ভাষাও ব্যবহার করেন। জনসংখ্যার ৫৭% মালয়ী।

ধর্মীয় সহাবস্থানের এক অনন্য নিদর্শন মালয়েশিয়া। ইসলাম official religion. কিন্তু ধর্মীয় বৈচিত্র্য বিদ্যমান। মুসলিম ছাড়াও আছে বৌদ্ধ, তাওবাদী, কনফুসীয়, হিন্দু, শিখ, খ্রিস্টান। আদীবাসীরা তাদের আদি ধর্ম (Animist religion) পালন করে। মালয়েশিয়া মৌসুমী জলবায়ু অঞ্চলে অবস্থিত।

সারা বছরই তাপমাত্রা ২১ ডিগ্রী থেকে ৩২ ডিগ্রী সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে। উঁচু স্থানগুলোতে একটু ঠান্ডা থাকে ( ১৫ ডিগ্রী সে.)। বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার মিলিমিটার। মালয়েশিয়া এখনো ঘনবনে ছাওয়া। উত্তর থেকে দক্ষিণে প্রসারিত পাহাড়রাজি পেনিনসুলার মালয়েশিয়াকে পূর্ব আর পশ্চিম এই দুইভাগে ভাগ করে ফেলেছে।

বলা হয় মালয়েশিয়ার বনাঞ্চল বিশ্বের প্রাচীনতম। দেশের দুই-তৃতীয়াংশ বনাঞ্চল। উপকূলীয় সমতল আর পশ্চিমের পাহাড়ী অঞ্চলে রাবার চাষ হয়। মালয়েশিয়া বিশ্বের বৃহত্তম রাবার উৎপাদনকারী দেশ। পাহাড়ে পাহাড়ে চাষ হচ্ছে পাম।

বৈচিত্র্যময় বিশাল বনে আছে সাড়ে আট হাজার প্রজাতির ফুল-গাছ (flowering plants) আর আড়াই হাজার প্রজাতির বৃক্ষ। সেখানে আছে ৪৫০ প্রজাতির স্থানীয় পাখি। পরিযায়ী পাখির ব্যাপক আনাগোনও আছে সেখানে। বোর্নিও দ্বীপে এখনো টিকে আছে কিছু ওরাংওটাং (বন-মানুষ)। আফ্রিকার বাইরে বিশ্বের একমাত্র এখানেই আছে ওরা।

এছাড়া আছে গন্ডার, ভাল্লুক, চিতা বাঘ, প্যান্থার (কালো বাঘ), হাতি, বানর আর কুমীর। বোর্নিওতে আছে ১৬০ প্রজাতির সাপ। মালয়েশিয়া বিশ্বের অন্যতম প্রধান কাঠ রপ্তানীকারক দেশ। বেশ কম দামে দারুন সব ফার্নিচার বানাবার জন্য মালয়েশিয়া আদর্শ স্থান। (চলবে) Click This Link


অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।