আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

মালয়েশিয়া বো'লে !



সূচনা জ্বালানী বিষয়ে একটি ট্রেনিং প্রোগ্রামে মালয়েশিয়া ভ্রমনের সুযোগ পেলাম। আসা যাওয়া মিলে দু'সপ্তাহ। মাহাথির মোহাম্মদের যাদুকরী নেতৃত্বে মাত্র দু্ই দশকে বিশ্বের প্রথম সারির একটি দেশ হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে বিশ্বকে চমকে দিয়েছে মালয়েশিয়া। তাই প্রথমবারের মতো সে দেশ ভ্রমনের সুযোগ পেয়ে রোমাঞ্চিত বোধ করছিলাম। সাথে সাথে পাশ্চাত্যের কিছু দেশ আর প্রতিবেশী দেশের ভিসা বিষয়ক ভোগান্তির প্রেক্ষিতে ভিসা নিয়ে একটা ভয়ও ছিলো।

ধন-গর্বে না জানি কী আচরণ করে ওদের দূতাবাস। কিন্তু বাস্তবে ভিসা নিয়ে ভোগান্তি পোহাতে হয়নি একটুও। সব খরচ যেহেতু ওদের তাই অন্য কোন ঝামেলা ছিলো না। ফুরফুরে মনে ভ্রমনের প্রস্তুতি শুরু করলাম। প্রস্তুতি বাইরে যাবার একটা সমস্যা হলো লাগেজ।

বেশিরভাগ এয়ার লাইন্স ইকোনোমি ক্লাসের যাত্রীদের জন্য লাগেজ ওয়েট রেখেছে ২০ কেজি। মালয়েশিয়ান এয়ারের লিমিটও তাই। ফর্মাল পোষাকের সাথে শীতের কাপড় মিলে লাগেজ হিমালয়ের সাথে পাল্লা দিতে শুরু করে। ফলে হালকা শপিংও করতে হয় হাজার রকম ভেবে। মালয়েশিয়ার আবহাওয়ার খবর নিতে গিয়ে ম্যাপে দেখি মালয়েশিয়া বসে আছে বিষুব রেখার ঠিক ওপরে প্রায় পা লাগিয়ে।

তার মানে এখানে সারা বছর প্রায় এক ঋতু। বাংলাদেশের বর্ষাকালে যেমন গরমের সাথে মাঝে মাঝে বৃষ্টি হয় তেমন। সূর্যের উত্তরায়নের শেষ দিকে আর দক্ষিণায়নের শেষ দিকে একটু শীত পড়বে। সময় মিলিয়ে বুঝে গেলাম বাড়তি শীতের কাপড় নিয়ে লাগেজকে 'এভারেস্ট' কিংবা 'কে-টু' বানাতে হবে না। মালয়েশিয়া ভ্রমন করেছেন এমন দু'এক জনের কাছে জেনে গেলাম আমার অনুমান ঠিক আছে।

ফলে লাগেজ-ভাবনা থেকে মুক্ত থাকলাম। যাত্রা শুরু ১০ জুলাই রাত দেড়টায় ফ্লাইট। রাত সোয়া-দশটায় বের হলাম যাতে ফ্লাইটের ঘন্টা দুই আগেই এয়ারপোর্টে পৌঁছাতে সমস্যা না হয়। কিন্তু ইংল্যান্ডের সাথে এক দিনের ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম জয়ের সুবাস ছড়ানো ম্যাচটি রেখে বাসা থেকে বের হতে ভালো লাগছিলো না। যা হোক জ্যাম পেরিয়ে যথাসময়ে পৌঁছে গেলাম।

চেক-ইন আর ইমিগ্রেশন সেরে এয়ারপোর্টে বসেই বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় প্রত্যক্ষ করলাম। জার্মানী-নেদারল্যান্ডস তৃতীয় স্থান নির্ধারনী ম্যাচের কিছুটা দেখে খুশী মনেই চড়লাম বিমানে। এ-৩৮০ এয়ারবাস। কিছুটা পুরনো। তিনশ'র মত হবে যাত্রী।

ক্যাপ্টেন মালয়েশীয় বংশোদ্ভুত ভারতীয়। কেবিন-ক্রুদের ভেতরও মালয়ী, চীনা আর ভারতীয় চেহারার মিশেল। এই তিন নৃ-গোষ্টী নিয়েই মালয়েশিয়ার পথ চলা। কুয়ালা লামপুর সারাপথ মেঘের ভেতর দিয়ে চলতে চলতে স্থানীয় সময় সকাল সোয়া ৭টায় ( বাংলাদেশ সময় ভোর সোয়া ৫টা) কুয়ালা লামপুরের মাটি স্পর্শ করলাম। তখনো সূর্য দেখা যাচ্ছিলো না।

মেঘ কুয়াশায় একাকার। বিশাল আধুনিক বিমানবন্দর। এক টার্মিনাল থেকে আরেক টার্মিনালে যেতে হয় ট্রেনে। চালক-বিহীন ট্রেন খুব দ্রুত পৌঁছে গেলো। তারপরও হাঁটতে হলো বহু পথ।

মাঝে মাঝে কনভেয়ার বেল্ট আছে। ইচ্ছে করলে সেটা ব্যবহার করা যায়। ইমিগ্রেশনের লম্বা লাইন পার হয়ে দেখা মিললো আমাদের জন্য অপেক্ষমান ব্যক্তির। নাম লেখা কার্ড ধরেছিলেন। ঝকঝকে সকালের আলোয় বিমান বন্দর থেকে ৬৫ কিলোমিটার দূরবর্তী কুয়ালা লামপুর শহরের উদ্দেশ্যে ছুটলো।

ঘনসবুজ আর তরতাজা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা পাহাড়ী পথের বুক চিরে ১১০/২০ কিলোমিটার বেগে ছুটে চললো গাড়ী। গন্তব্য জালান পুত্রায় ( প্রিন্স এভিনিউ) অবস্থিত লিজেন্ড হোটেল। ৯টায় পৌঁছে গেলাম হোটেলে। কিন্তু রুম খালি হয়নি। চেক-আউটের সময় ১২টা।

শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়নি। সাড়ে দশটায় রুমের দখল পেলাম। অপেক্ষার এ ফাঁকে হোটেলের লাগোয়া ম্যাগডোনালসের রেস্টুরেন্টে সেরে নিলাম নাস্তা। তারপর হাঁটতে নামলাম শৈশব থেকে নাম শুনে আসা কুয়ালা লামপুরের রাস্তায়। রাস্তা জুড়ে চলছে নানা রকমের কার/জীপ।

টাউন সার্ভিস বাস আসছে। সব চেয়ে বেশি ট্যুরিস্ট বাস। মালয়ী ভাষায়- বাস পারসিয়ারান। ভলবো, স্কেনিয়া, মার্সিডিস-সব দামী বাস। কুয়ালা লামপুর নামের মানে মালয়ী ভাষায় ''কুয়ালা'' মানে দুই নদীর মিলনস্থল।

''লামপুর'' মানে কর্দমাক্ত নদীতীর। ''ক্লাঙ'' এবং ''গামবাক'' নদীর মিলনস্থলে গড়ে উঠেছে কুয়ালা লামপুর শহর। (চলবে) Click This Link

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।