আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১০ এর তৃতীয় কোয়ার্টার ফাইনাল, আর্জেন্টিনা বনাম জার্মানি।(একজন অতি সামান্য ফুটবল ভক্তের দৃষ্টিতে)

বিশেষ কিছু নেই বলার মত। প্রতিবাদী একজন মানুষ আমি। অনেকেরই মত...... :)

গতকালই বিশ্বকাপ ফুটবলের দুটি কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। একটিতে ব্রাজিলিয়ান সাপোর্টারদের মন ভেঙে দিয়ে নেদারল্যান্ডসের কাছে ২-১ গোলের ব্যবধানে হেরে গিয়ে বিদায় নিলো ব্রাজিল। এবং কোয়ার্টার ফাইনালের অপর ম্যাচটি ছিলো নানাপ্রকার নাটকীয়তায় ভরপুর।

উরুগুয়ে বনাম ঘানার ম্যাচটি। আফ্রিকার শেষ দেশ হিসেবে ঘানাও এখন আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ হতে বিদায় নিলো। ম্যাচটিতে অনেককিছুই হয়েছে। তারমাঝে অবশ্যই উল্লেখযোগ্য হলো, খেলার একদম শেষ মূহুর্তে(অতিরিক্ত সময়ের শেষ মিনিটে। নির্ধারিত ৯০ মিনিট সময়ে খেলা ১-১ গোলে অমীমাংসিত থাকায় খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

সেখান থেকে টাইব্রেকারে। ) উরুগুয়ের ষ্ট্রাইকার সুয়ারেজের হাত দিয়ে বল ফিরিয়ে দেশকে বাঁচিয়ে লালকার্ড খেয়ে নিজের মাঠত্যাগ করা। সেইসাথে আরও একটি কথা অবশ্যই আসবে। সুয়ারেজের হ্যান্ডবলের কারণেই মূল খেলার শেষ সময়ে পাওয়া পেনাল্টি থেকে পেনাল্টি বিশেষজ্ঞ আসামোয়াহ গিয়ানের গোল করার সহজতম সুযোগ নষ্ট করা। তবে লালকার্ড দেখা সত্বেও সর্বশেষে সুয়ারেজই হিরো হয়ে থাকবেন উরুগুয়ের জন্য।

আজ হচ্ছে কোয়ার্টার ফাইনালের বাকি দুইটি খেলা। একটিতে মুখোমুখি হচ্ছে দুই চিরশত্রু আর্জেন্টিনা-জার্মানি। এবং অপরটিতে মুখোমুখি হচ্ছে স্পেন এবং প্যারাগুয়ে। তৃতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে আজ বাংলাদেশ সময় রাত ৮:০০ মিনিটে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা এবং জার্মানি। এই আর্জেন্টিনা গত বিশ্বকাপে এই জার্মানির কাছেই টাইব্রেকারে হেরে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নিয়েছিলো।

তাই কিছু বলতে না চাইলেও পুরানো স্মৃতি এমনিতেই ফিরে আসছে। তবে বিশ্ব এখন ভিন্ন কিছু দেখার আশায় অপেক্ষা করছে। আর্জেন্টিনিয়ানদের প্রতিশোধ নেওয়ার এই সুযোগ। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে যে দু'টি দল পূর্ণ ৯ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠে এসেছিলো, তাদের একটি হচ্ছে আর্জেন্টিনা এবং অপরটি হচ্ছে নেদারল্যান্ডস। সাফল্য বজায় রেখে নেদারল্যান্ডস ব্রাজিলকে এবার কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় করে দিয়েছে।

আর্জেন্টিনা কি পারবে সাফল্য বজায় রাখতে? জার্মানি ====== জার্মানরা অষ্ট্রেলিয়াকে ৪-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করেছিলো স্বপ্নের মত করে। কিন্তু পরের ম্যাচেই আকাশ হতে মাটিতে পতিত হয়েছে সার্বিয়ার কাছে ০-১ গোলের ব্যবধানে ম্যাচ হেরে। কিন্তু পরবর্তীতে জার্মান মেশিন আবারও সচল হয়েছে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ঘানাকে ১-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছে। এরপর জার্মানরা ইংল্যান্ডকে ৪-১ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে দিয়ে উঠে এসেছে কোয়ার্টার ফাইনালে।

এখন তারা মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনার। জার্মান মেশিন কি থামবে? নাকি চলতেই থাকবে? আর্জেন্টিনা ======== আর্জেন্টিনা গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচেই মুখোমুখি হয়েছিলো সুপার ঈগল নাইজেরিয়ানদের। ম্যাচটি আর্জেন্টিনা ১-০ গোলের ব্যবধানে জিতে নেয়। এরপর মুখোমুখি হয় এশিয়ার তুলনামুলক শক্তিশালী দল দক্ষিণ কোরিয়ার। কিন্তু এ ম্যাচটিও জিতে নেয় আলবিসেলেস্তেরা।

ব্যবধান ছিলো ৪-১ গোলের। ম্যাচটিতে এবারের বিশ্বকাপের প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র হ্যাটট্রিকটি করেন গনজালো হিগুয়াইন। গ্রুপের শেষ ম্যাচে আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হয় ইউরো ২০০৪ চ্যাম্পিয়ন গ্রিসের। ম্যাচটিতে গোল পেতে আর্জেন্টিনার অপেক্ষা করতে হয় ৭৭ মিনিট পর্যন্ত। অতি আরাধ্য গোলটি এনে দেন আর্জেন্টিনিয়ান ডিফেন্ডার মার্টিন দেমিকেলিস।

ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা জিতে নেয় ২-০ গোলের ব্যবধানে। এরপর ২য় রাউন্ডে এসে মুখোমুখি হয় শক্তিশালী মেক্সিকোর। ম্যাচটি ৩-১ গোলের ব্যবধানে জিতে নেয় আর্জেন্টিনিয়ানরা। এখন তারা মুখোমুখি হচ্ছে জার্মানির। বিগত ঘটনাগুলোর প্রতিশোধ নেওয়ার মোক্ষম সুযোগ আর্জেন্টিনার সামনে।

পারবে কি প্রতিশোধ নিতে? আর্জেন্টিনা vs জার্মানি ================ আর্জেন্টিনা জার্মানি বলাই বাহুল্য, উভয় দলের খেলোয়াড়রা সেরা ফর্মে আছে। জার্মানির মূল একাদশে আজ তেমন কোন পরিবর্তন দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। আর্জেন্টিনাও তাই'ই। শুধুমাত্র আর্জেন্টিনার "ওয়াল"খ্যাত ডিফেন্ডার ওয়াল্টার স্যামুয়েলের ফেরার সম্ভাবনা আছে। তারমানে দাঁড়ালো, জার্মান একাদশে আছেন ম্যানুয়েল নিউয়ের, ফিলিপ লাম, আর্নে ফ্রেডরিখ, পার মার্টেস্যাকার, জেরোমে বোটেং, বাস্তিয়ান শোয়েনষ্টেইগার, স্যামি খেদিরা, মেসুট ওজিল, লুকাস পোডলস্কি, থমাস মুলার এবং মিরোস্লাভ ক্লোসা।

বিপরীতে আর্জেন্টিনিয়ান একাদশে দেখা যাবে সার্জিও রোমেরো, নিকোলাস ওতামেন্দি, মার্টিন দেমিকেলিস, ওয়াল্টার স্যামুয়েল/নিকোলাস বুরদিসো, গ্যাব্রিয়েল হাইঞ্জ, হাভিয়ের মাসকেরানো, ম্যাক্সিমিলানো রদ্রিগেজ, অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া, লিওনেল মেসি, গনজালো হিগুয়াইন এবং কার্লোস তেভেজ। লড়াইটা ভালোই জমবে মনে হচ্ছে! জার্মানদের ম্যানুয়েল নিউয়ের মোটামুটি ভালো গোলকিপার। তবে আর্জেন্টিনার সার্জিও রোমেরোও কোন অংশে কম যান না। উভয়েরই দেশের হয়ে খেলা আন্তর্জাতিক ম্যাচের সংখ্যা প্রায় একই। রোমেরোর তুলনায় এক ম্যাচ কম খেলেছেন নিউয়ের।

কাজেই গোলকিপিং এ তেমন কিছু বলার নেই। গোলকিপারদের আসল ভূমিকা আজ বোধহয় হবে যদি ম্যাচ টাইব্রেকার পর্যন্ত গড়ায়, তবে। জার্মানি লং পাসে খেলতে অভ্যস্ত। কিন্তু আর্জেন্টিনা ছোট ছোট দৃষ্টিনন্দন পাসে খেলতে অভ্যস্ত। তবে আজ বোধহয় নিঃসন্দেহে উভয় দলের ব্যবধান গড়ে দেবে ডিফেন্সের অংশটি।

জার্মানি আজও হয়তো তাদের পুরানো ৪-৩-২-১ ফর্মেশনেই খেলবে। এবং আর্জেন্টিনাও হয়তো তাতের ঐতিহ্য বজায় রেখে ৪-৩-১-২ ফর্মেশনেই খেলবে। সেক্ষেত্রে আর্জেন্টিনায় রয়েছেন নিকোলাস ওতামেন্দি, মার্টিন দেমিকেলিস , ওয়াল্টার স্যামুয়েল এবং গ্যাব্রিয়েল হাইঞ্জ। বিপরীতে জার্মানিতে রয়েছেন ফিলিপ লাম, বিশালদেহী পার মার্টেস্যাকার, জেরোমে বোটেং এবং আর্নে ফ্রেডরিখ। মূল ডিফেন্স সামলানোর দায়িত্ব থাকবে আর্জেন্টিনার মার্টিন দেমিকেলিস এবং ওয়াল্টার স্যামুয়েল ও জার্মানির পার মার্টেস্যাকার, জেরোমে বোটেং এবং আর্নে ফ্রেডরিখের ওপর।

ফিলিপ লাম আক্রমণে সহায়তা করার জন্য উপরে উঠে যান। আর্জেন্টিনার হয়ে এই কাজটি করেন দুইজন। নিকোলাস ওতামেন্দি এবং গ্যাব্রিয়েল হাইঞ্জ। হোল্ডিং মিডফিল্ডার হিসেবে জার্মানির থাকবেন স্যামি খেদিরা এবং আর্জেন্টিনার হাভিয়ের মাসকেরানো। উভয়েরই নিজ নিজ কাজে পাস নম্বর পেয়েছেন এতদিন।

রাইট মিডফিল্ডে জার্মানির হয়ে থাকবেন বাস্তিয়ান শোয়েনষ্টেইগার। তবে মাঝেমাঝে হোল্ডিং মিডফিল্ডারের দায়িত্বও পালন করবেন তিনি। লেফট মিডফিল্ডার হিসেবে থাকবেন তরুণ তুর্কি মেসুট ওজিল। যিনি তার ভূমিকা পালন করবেন অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারের। এদিকে আর্জেন্টিনা দলে রাইট মিডফিল্ডার হিসেবে থাকবেন ম্যাক্সিমিলানো রদ্রিগেজ।

এবং লেফট মিডফিল্ডার হিসেবে থাকবেন অ্যাঞ্জেলো ডি মারিয়া। যিনি উইংগারের কাজ করবেন। অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে আর্জেন্টিনা দলে রয়েছেন অনন্য লিওনেল মেসি। এদিকে ফর্মেশন হিসেবে এইখানে জার্মানির থাকবেন দুইজন। লুকাস পোডলস্কি এবং থমাস মুলার।

একমাত্র ষ্ট্রাইকার হিসেবে সামনে খেলবেন ভয়ংকর ষ্ট্রাইকার মিরোস্লাভ ক্লোসা। এদিকে আর্জেন্টিনায় লিওনেল মেসির সামনে থাকবেন দুইজন। হ্যাটট্রিকম্যান গনজালো হিগুয়াইন এবং সর্বশেষ ম্যাচে দুই গোল করা কার্লোস তেভেজ। আশা করা যায়, জার্মানরা আজও খেলবে গতিময় ফুটবল। এবং আর্জেন্টিনা তাদের দৃষ্টিনন্দন ছোট ছোট পাসের ঐতিহ্যবাহী ল্যাটিন ফুটবল।

লং পাস বনাম শর্ট পাস। কেমন হবে খেলাটি? আশা করি, উভয় দলই সুন্দর ফুটবলের জয়গান গাইবে। রেফারির কালো হাত আমরা এই ম্যাচেও আশা করছি না। সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।


অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.