আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

ভারতের হিন্দু মৌলবাদের বীভৎস রূপ

মুক্তস্বর

প্রমোদ মুথালিক বললেন, হিন্দুত্ব প্রতিষ্ঠার চে' ভারতীয় মুসলিমদের প্রতিহত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য । প্রমোদ মুথালিক ভারতের হিন্দু জঙ্গী সংগঠন শ্রী রামসেনার সভাপতি। ১৯৬৬ সাল থেকে হিন্দুত্ব প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করে যাচ্ছে সংগঠনটি। উগ্র সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, হত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, নৈরাজ্য সৃষ্টিসহ নানা কীর্তিকলাপের কারণে কয়েক বছর ধরেই নামটি বেশ আলোচিত। চুক্তিবদ্ধ হয়ে বিভিন্ন স্থানে হামলা ও বিশৃঙ্খলা ছাড়ানোর অভিযোগও অনেকের।

এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে একটি অনুসন্ধান চালায় ভারতের অন্যতম শীর্ষ সাপ্তাহিক তেহেলকা । পত্রিকাটির প্রতিনিধি নিজের সাংবাদিক পরিচয় গোপন রেখে, চিত্রশিল্পীর পরিচয়ে একটি প্রদর্শনীতে হামলার চুক্তি নিয়ে আলোচনা করেন রামসেনার শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে। এই আলোচনার মাধ্যমে ধর্মীয় খোলসের আড়ালে থাকা রামসেনার আসল রূপটি বেরিয়ে আসে। সাপ্তাহিক তেহেলকা প্রতিনিধিকে রামসেনা প্রধান মুথালিক বলছিলেন, সাধারণ মানুষ জানে, আমরা হিন্দুত্বের যথাযথ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছি। কিন্তু আমাদের লক্ষ্য ভিন্ন।

হিন্দুত্ব প্রতিষ্ঠার চে' ভারতীয় মুসলিমদের প্রতিহত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। আর এ জন্য যা প্রয়োজন, তার সবই করে যাচ্ছি আমরা । অবশ্যি অর্থের জোগানের জন্যে আমরা নানা ধরনের কাজ করে থাকি। আমরা আমাদের রাম সেনাদের মাধ্যমে এ দেশের মুসলিম মেয়েদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছি। রামসেনাদেরকে মুসলিম মেয়ে বিয়ে করতে উৎসাহী করে তুলছি।

যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হিন্দুয়ানি রীতিতে আগ্রহী হয়। আমরা মনে করি, মুসলিমদের লক্ষ্য হচ্ছে দেশটাকে বিভক্ত করা। আমরা তা চাই না, আমরা চাই অখণ্ড ভারত। ' ‌'বিজেপির লাটিয়াল বাহিনী' খ্যাত এই সংগঠনটি সর্বপ্রথম আলোচনায় আসে ২০০৭-এ। বিশ্ববিখ্যাত চিত্রশিল্পী মকবুল ফিদা হুসেনের চিত্রপ্রদর্শনীতে হামলার মাধ্যমে।

এরপর নানা কীর্তিকলাপের ধারাবাহিকতায় ২০০৯ সালে ম্যাঙ্গালুরের 'পাব' এলাকায় প্রকাশ্য রাজপথে নারীদের ওপর আক্রমণ করে নিন্দিত হয়। ওই বছরই অভিনেতা শাহরুখ খানের 'মাই নেম ইজ খান'এর প্রদর্শনী বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ ও ছবিটির ব্যানার-পোস্টার ছিঁড়ে দেশ-বিদেশে ছবিটির প্রচার বাড়িয়ে আবারও আলোচনায় আসে। অভিযোগ আছে, টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন সময়ে ধর্মীয় ইস্যু নিয়ে রাজপথে নামে এরা। তবে রামসেনাদের দাবি, সমাজে সনাতনী রীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই তাদের সকল কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। এসব অভিযোগের সত্যতা অনুন্ধান করতে গিয়ে সাপ্তাহিক তেহেলকা প্রতিনিধি প্রথমেই সাক্ষাৎ করেন শ্রী রামসেনার সভাপতি প্রমোদ মুথালিকের সঙ্গে, হুবলিতে, দলের কার্যালয়ে।

ওই সাংবাদিক নিজের পরিচয় দেন একজন চিত্রশিল্পী হিসেবে। প্রথম সাক্ষাতেই মুথালিকে আকৃষ্ট করতে আলোচনা শুরুর আগেই রামসেনা তহবিলে ১০ হাজার রুপি অনুদান দেন তিনি। অনুদান হিসেবে এই রুপি পাওয়ার পর তেহেলকা প্রতিনিধির সঙ্গে বেশ খোলামেলা আলোচনা শুরু করেন মুথালিক। আলোচনার শুরুতেই সরাসরি নিজের উদ্দেশ্যের কথা জানিয়ে তেহেলকা প্রতিনিধি বললেন, 'আমি একজন চিত্রশিল্পী। শিগগির আমার একটা চিত্রপ্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

আমি মানুষের কাছে নিজেকে পরিচিত ও জনপ্রিয় করে তুলতে চাই। এ জন্যে আমি চাই আমার চিত্রপ্রদর্শনী নিয়ে কোনো একটা বিতর্ক বা ঝামেলা হোক, যাতে সারা দেশের মিডিয়া আমার প্রদর্শনীর খবর ফলাও করে প্রচার করে। এতে আমিও জনপ্রিয় হয়ে উঠব। আমার ছবিগুলোও চড়া দামে বিক্রি হবে। আমার এই ইচ্ছে পূরণের জন্য আমি আপনাদের সহযোগিতা চাই।

এ জন্য যা প্রয়োজন, আমি করতে রাজি আছি। ' 'আমরা কী করতে পারি'_জিজ্ঞেস করলেন মুথালিক। 'আমি চাই এই প্রদর্শনীর বিরুদ্ধে যেকোনো অভিযোগ এনে রামসেনারা সেখানে একটা হামলা করুক। তাতে আমি গণমাধ্যমে পরিচিত হয়ে উঠতে পারবো। ' 'আমি এই প্রদর্শনীটি করতে চাই ম্যাঙ্গালুরুর মতো একটি মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায়, যাতে এ প্রদর্শনীকে ঘিরে সবধরনের বিশৃঙ্খলার খবর মিডিয়ায় বেশ ফলাও করে প্রচার হয়।

' তেহেলকা প্রতিনিধির কথা শুনে মুথালিক সরাসরি বললেন, 'এই কাজ তো আমার রামসেনারা সহজেই করে দিতে পারবে। তবে প্রদর্শনীটি ম্যাঙ্গালোরে আয়োজিত হলে এর ওপর হামলা এবং প্রচারপ্রসার আরো জোরালোভাবে চালানো সম্ভব। ' 'এই কাজের জন্য রামসেনাদের কী পরিমাণ অর্থ দিতে হবে_ জানতে চান তেহেলকা প্রতিনিধি। মিনিটপাঁচেক চিন্তা করে মুথালিক বললেন, 'আমি আসলে এসবের সঙ্গে সরাসরি জড়িত হতে চাই না। দেশজুড়ে অন্যরকম একটা ভাবমূর্তি আছে আমার ।

সবাই আমাকে একজন সনাতনী আদর্শবাদী ও সৎ লোক হিসেবে চেনে। তাই লেনদেন সম্পর্কিত বিষয়ে রামসেনার ব্যাঙ্গালুরু শাখা সভাপতি ভাসান্ত কুমার ভবানী ও সহসভাপতি প্রসাদ আত্তাভারের সঙ্গে আলোচনা করুন। ' মুথালিকের সঙ্গে ঘণ্টাখানেক আলোচনা হলো তেহেলকা প্রতিনিধির। এরই মধ্যে তিনি রামসেনাদের একটা লক্ষ্য-উদ্দেশ্য খুঁজে বের করে ফেললেন। মুথালিক বলছিলেন, সাধারণ মানুষ জানে, আমরা হিন্দুত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছি।

কিন্তু আমাদের মূল কর্মকাণ্ড একেবারেই অন্য রকম। হিন্দুত্ব প্রতিষ্ঠার চেয়ে ভারতীয় মুসলিমদের প্রতিহত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। ' ক'দিন পরই মুথালিকের সূত্রে তেহেলকা প্রতিনিধি দেখা করেন আত্তাভারের সঙ্গে। আত্তাভার সংগঠনের ব্যাঙ্গালুর শাখা সহসভাপতি। বেশ সাবধানী লোক।

মুথালিকের মতো দীর্ঘ আলাপে গেলেন না। প্রতিনিধির সঙ্গে দেখা করার আগেই তিনি মুথালিরকের কাছ থেকে সব জেনে রেখেছেন। তাই তেহেলকা প্রতিনিধির সঙ্গে তিনি কেবল প্রদর্শনীতে হামলা নিয়ে কথা বললেন। আত্তাভার বললেন, ' ভয়ের কিছু নেই, মুম্বাই থেকে শুরু করে কলকাতা এমনকি উড়িষ্যায়ও যদি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়, তবু আমরা খুব সহজেই হামলা চালাতে পারব। ' 'এই হামলার পর কোনো পুলিশি ঝামেলায় পড়বোনা তো_বললেন প্রতিনিধি।

আত্তাভার বললেন, ভয় নেই, সেটাও আমরা আগে থেকেই ঠিক করে রাখবো । ' 'হামলায় অন্তত ২০০ রামসেনা থাকতে হবে_ডিমান্ড তেহেলকা প্রতিনিধির। আত্তাভার বললেন, ওকে। এর মধ্যে অনেক ঘটনা ঘটে যায়। ২০০৯ সালে ম্যাঙ্গালোরের পাবে ঢুকে মেয়েদের নির্যাতন করার মামলায় মুথালিক ও আত্তাভারসহ রাম সেনার ২৭ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

কিন্তু জেলে বসেও তারা আলোচনা চালু রাখেন। এক সপ্তাহ পর তারা জামিনে বেরিয়ে আসেন। এর মধ্যেই একদিন মুথালিকের সঙ্গে আবার দেখা করেন তেহেলকা প্রতিনিধি। এ সময় ব্যাঙ্গালুরু রামসেনা সভাপতি ভাসান্ত কুমার ভবানীও ছিলেন। তবে তিনি এই আলোচনায় ঘাঢ়ভাবে অংশ নেননি।

হয়তো এভাবে আলোচনাকে নিরাপদ মনে করেন নি। কিছুদিন পর এক মধ্যরাতে রামসেনাদের নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে তেহেলকা প্রতিনিধির সঙ্গে আলোচনায় বসেন ভবানী। সেখানে তিনি এই পরিকল্পনা কিভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করেন। ব্যাঙ্গালুরুর রবীন্দ্র কালাসেত্রায় প্রদর্শনী আয়োজনের পরামর্শ দেন তিনি। কারণ, পাশেই সিটি মার্কেট, এটি একটি মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা।

এখানে যেকোনো ধরনের হামলা ঘটলেই তা বড় আকার ধারণ করবে। ফলও পাওয়া যাবে ভালো। প্রদর্শনীর প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ানের জন্যে কর্নাটকের ওয়াকফ্ বোর্ডের মন্ত্রী মুমতাজ আলী খানকে আমন্ত্রণ জানানোর পরামর্শ দেন ভবানী। বলেন, মন্ত্রী উপস্থিত থাকলে ব্যাপারটা সহজ হবে। গণমাধ্যমের প্রচারও পাওয়া যাবে ভালো।

তবে এই হামলার পর রামসেনার বিরুদ্ধে মামলা করতে হবে। মামলা-মোকাদ্দমা না হলে তবে সাধারণ মানুষের মনে-প্রশ্ন জাগবে। পরে ব্যাপারটা প্রকাশও হয়ে যেতে পারে। 'এই কাজের জন্যে আপনি কতো টাকা দিতে প্রস্তুত'_এবার তেহেলকা প্রতিনিধির কাছে জানতে চান ভবানী। একটা কাগজে প্রতিনিধি ৭০ লাখ রুপি লিখে, তা ভবানীর দিকে এগিয়ে দেন প্রতিনিধি।

তা দেখে ভবানী কিছুক্ষণ চুপ থাকেন। তাঁর মুখে চিন্তার রেখা ফুটে ওঠে। এ সময় গোপন ক্যামেরায় ধরা পড়ে তাঁর মুখের ভাবটি। পরক্ষণেই ভবানী বলেন, 'এই মূল্যে সম্ভবত আত্তাভার রাজি হবে না। তাই পুলিশের প্রাপ্যটা আপনাকেই পরিশোধ করতে হবে।

' ভবানীর সঙ্গে আলোচনার পরদিন তেহেলকা প্রতিনিধি আবারও আত্তাভারের সঙ্গে দেখা করেন। আত্তাভার ৫০ থেকে ৬০ লাখ রুপিতে এই কাজ করতে রাজি হলেও মুথালিক ও ভবানীর কথায় তা ৭০ নির্ধারিত হয়। ঠিক হয়, ব্যাঙ্গালুরু, ম্যাঙ্গালোর ও মাইশোরে একই সঙ্গে প্রদর্শনী আয়োজন করা হবে। এবং একই সঙ্গে তিনটি স্থানে হামলা করবে রামসেনারা। দুই. দু'দিন পরই তেহেলকা পত্রিকায় এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটি ছাপা হয়।

প্রতিবেদন প্রকাশের পরই হৈ চৈ পড়ে যায়। রামসেনাকে নিষিদ্ধ ও মুথালিককে গ্রেফতারের দাবি জানায় কংগ্রেস। কিন্তু রামসেনার ওয়েবসাইটে ( http://www.shriramsena.com) দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক কালকিজি মহারাজ স্বাক্ষরিত এক বার্তায় বলা হয়, মুথালিক রামসেনার কেউ নন, এমন কি সদস্য না। শিবসেনার সাবেক সভাপতি এই নেতা বলেন, I want to kindly inform all the members and leaders of the party that Pramod Muthalik is not the member or leader of SHRI RAM SENA and neither party has any connection or anything to do with Pramod Muthalik. I want to personally request media not to link Mr.Pramod Muthalik in future with SHRI RAM SENA. I have been informed this by my friends who are involved in media that SHRI RAM SENA is being misrepresented in news channels and by media. If anyone will misrepresent the name of SHRI RAM SENA then a legal action would be taken against them. I know that there are lot of people in the country who get jealous by the progress of SHRI RAM SENA. When I heard that some big political party is using media to spoil the image of SHRI RAM SENA but we strive to continue our work and progress under the law of supervision without any voilence. If anybody is going against HINDUISM then we would oppose and protest in a democrated way as taught by BHAGWAN SHRI RAM. তিন. ভারতের হিন্দু মৌলবাদীদের লক্ষ্য সাম্প্রদায়িকতাকে অবলম্বন করে রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল। এরা মুসলিম-খৃস্টানের মতে ভিন্ন ধর্মাবলম্বী এমনকি ক্ষেত্র বিশেষে বৌদ্ধদের উপরও চড়াও হয়।

দাঙ্গা হাঙ্গামা অগ্নি সংযোগ লুটপাট ধর্ষণ প্রভৃতি চালিয়ে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে। এসব ঘটনায় মামলা মোকদ্দমা হলেও অর্থ ও রাজনৈতিক শেল্টারের কারণে পার পেয়ে যায়। হিন্দুত্ববাদের দার্শনিক ভিত্তি হচ্ছে শঙ্করাচার্যের হিন্দু পুনরুজ্জীবনবাদ। স্বয়ং বন্কিমচন্দ্রও এই দর্শনে বিশ্বাসী ছিলেন। দয়ানন্দ সরস্বতী ও আর্য সমাজের প্রেরণায় এ মতবাদ বিকশিত হয়।

১৯১৩ সালে এলাহাবাদে ‘হিন্দু মহাসভা’ ও ১৯২৫ সালে হেডগাওয়ারের উদ্যোগে নাগপুরে ‘রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ’ গঠিত হওয়ার পর হিন্দু মৌলবাদীদের বৃত্ত গড়ে ওঠে। এ বৃত্তকে ঘিরে জনসংঘ (১৯৫১), বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (১৯৬৪), শিবসেনা (১৯৬৬), রামসেনা, ভারতীয় জনতা পার্টি (১৯৮০) এবং বজরঙ্গ দল (১৯৮৪) নিয়ে গড়ে উঠেছে ‘সংঘ পরিবার’। হিন্দু মৌলবাদের মূলকথা 'ভারতীয় সংস্কৃতি হিন্দু ইজমের সমার্থক'। ভারতের সব নাগরিক জাতি পরিচয়ে হিন্দুস্তানি। হিন্দুস্থান কেবল হিন্দুদের দেশ।

অন্য যারা বাইরে থেকে এসেছে (বিশেষত মুসলমান) তারা বহিরাগত। বহিরাগতরা অতিথি হিসেবে, হিন্দু-সংস্কৃতির প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করে এ দেশে থাকতে হবে। সম্প্রতি ভারতে সরকার বলেছে, সেখানে হিন্দু জঙ্গি গোষ্ঠীর সন্ধান পাওয়া গেছে। সরকারের ধারণা, এতোদিন যে-সব বোমা হামলার জন্যে মুসলিম জঙ্গিদের দায়ী করা হয়েছে, সেগুলোর কোনো-কোনোটি ওই হিন্দু সন্ত্রাসী চক্রও ঘটাতে পারে। দ্য ইনডিপেনডেন্ট পত্রিকার সূত্রে জানা গেছে, গতবছর (২০০৯) সেপ্টেম্বর মাসে ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য মহারাষ্ট্রের মুসলিম অধ্যুষিত শহর মালেগাঁ-র কয়েকটি বোমা হামলার ঘটনায় কমপক্ষে ১০ জন জঙ্গি হিন্দু সন্ত্রাসীকে ধরা হয়েছে।

পুলিশ ধারণা, গত বছরে ভারত-পাকিস্তান আন্তঃসীমান্ত রেলে যে নৃশংস হামলাটি হয়েছিল এবং যে-ঘটনায় ৬৮ জন নিরীহ মানুষ নিহত হয়েছিলেন, সে-ঘটনাটিও এরা ঘটিয়েছে। এতোদিন আমরা দেখে এসেছি, যখনই ভারতে কোনো জঙ্গি হামলা হয়, তখনই ভারত সরকার এ জন্যে মুসলিমদের দায়ী করে এবং পাশাপাশি এটিও বলে, পাকিস্তান অথবা বাংলাদেশ এসব জঙ্গি গোষ্ঠীর আশ্রয়স্থল। কিন্তু এবার ভারতের নিজের ঘরেই বিভীষণ শুরু হলো। যাই হোক,এতো সহিংসতা, খুন, রক্তপাতের পরও আমরা কখনোই ভারতকে মৌলবাদের তীর্থস্থান বলতে পারবো না। মকবুল ফিদা হুসেইনের বাড়িতে শিবসেনার হামলা, সারা ভারতে তার বিরুদ্ধে ১২৫০টি মামলা দায়ের, এর প্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি এবং বিপরীতে রাষ্ট্রের কোনো সহযোগিতা না পাওয়ায় তার নির্বাসন, এবং খোদ মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে গুজরাটে সহিংস সাম্প্রদায়িক তাণ্ডব চালানোর পরেও ভারতকে কোনো সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র বলা যাবে না! কেননা মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার যতো আস্ফালনই দেখি না কেনো, ভারত তো আর ইরাক নয়, কিংবা আফগানিস্তান বা পাকিস্তানও নয়।

তা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের পারমাণবিক বোঝাপড়াও আছে। আমাদের এসবও মনে আছে, নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় থমাস ফ্রিডম্যানের মতো বোদ্ধা ভারতের পুঁজিতান্ত্রিক সাফল্যের গল্প শুনিয়েছিলেন বিশ্ববাসীকে, ভারতের গায়ে সেঁটে দিয়েছিলেন পরবর্তী বৈশ্বিক পরাশক্তির তকমা। বোদ্ধাদের কাছে ভারত হলো বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশ, কেননা তাদের নাকে গুজরাটের নিরীহ মৃত মুসলিমদের পোড়া চামড়ার গন্ধ পৌঁছুয় না; তারা বরং তৃতীয় বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলিকে পরামর্শ দেন ভারতের গণতন্ত্রকে মডেল হিসেবে বিবেচনা করার।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.