আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

জনগণের দুর্ভোগ বাড়ে কিন' মন্ত্রী-এমপিদের বেতন বাড়ে সরকারি কর্মচারীর বেতন বাড়ে আর দ্রব্যমূল্য বাড়ে ঊর্ধ্বশ্বাসে ১% এর কম সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি না করে সঠিক বাজার ব্যবস্থাপনার দ্বারা গোটা দেশবাসীর উপকার করাই ভালো



সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে বেতন বাড়ছে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী-এমপিসহ সাংবিধানিক পদের বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। এছাড়া তাদের আনুষঙ্গিক ভাতা প্রায় দ্বিগুণের প্রস্তাব করা হয়েছে। সপ্তম জাতীয় বেতন স্কেলে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন আগের বেতনের তুলনায় সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ৫৪ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী রাষ্ট্রের শীর্ষ পদধারী রাষ্ট্রপতি পাবেন ৬১ হাজার ২০০ টাকা। এ পদে আগে বেতন ছিল ৩৩ হাজার ৪০০ টাকা।

প্রধানমন্ত্রীর বেতন ৩২ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫৮ হাজার ৬০০ টাকা করা হয়েছে। প্রধান বিচারপতির বেতন ৩০ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৫৬ হাজার টাকা। এ ছাড়াও স্পিকারের ৩১ হাজার থেকে ৫৭ হাজার ২০০, ডেপুটি স্পিকারের ২৯ হাজার থেকে ৫৩ হাজার ১০০, চিফ হুইপের ২৯ হাজার থেকে ৫৩ হাজার ১০০ টাকা করা হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামোতে মন্ত্রীদের বেতন ২৯ হাজার থেকে ৫৩ হাজার ১০০, প্রতিমন্ত্রীদের ২৬ হাজার ১০০ থেকে বাড়িয়ে ৪৭ হাজার ৮০০ এবং উপমন্ত্রীদের ২৪ হাজার ৬৫০ থেকে ৪৫ হাজার ১৫০ টাকা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ জানান, আপিল বিভাগের বিচারপতিদের বেতন ২৯ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫৩ হাজার ১০০ এবং হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিদের বেতন ২৭ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৪৭ হাজার করা হয়েছে।

সংসদ সদস্যদের বেতন ১৫ হাজার টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২৭ হাজার ৫০০ টাকা। বর্তমানে একজন সংসদ সদস্য মাসিক ১৫ হাজার টাকা সম্মানীসহ মোট ৩৪ হাজার ২০০ টাকা পান। মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত বেতন-ভাতা বৃদ্ধি কার্যকর হলে সব মিলিয়ে মাসে প্রায় ৬০ হাজার টাকা পাবেন। এর বাইরে গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রতি মাসে আরো ৪০ হাজার টাকা পাবেন। চিকিৎসা, দুস্থ সেবা, প্রাকৃতিক বিপর্যয়সহ বিভিন্ন খাতে স্বেচ্ছাধীন তহবিল থেকে সহায়তা দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর ঐচ্ছিক অনুদানের পরিমাণ ৫০ লাখ থেকে বাড়িয়ে এক কোটি টাকা করা হয়েছে।

স্পিকারের বিমান ভ্রমণে বীমা সুবিধা ৫ লাখ থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ এবং নিয়ামক ভাতা ছয় হাজার থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে আট হাজার টাকা। এছাড়া ঐচ্ছিক অনুদান হিসেবে স্পিকার সাড়ে চার লাখ, ডেপুটি স্পিকার তিন লাখ, সরকারি আবাসন সজ্জিতকরণ ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় হিসেবে স্পিকার পাঁচ লাখ ও ডেপুটি স্পিকার তিন লাখ টাকা পাবেন। পারিতোষিক ছাড়াও বিভিন্ন সুবিধা পাবেন এমপিরা। তারা নির্বাচনী এলাকার খরচ বাবদ পাঁচ হাজার থেকে সাড়ে সাত হাজার, ব্যয় নিয়ামক ভাতা বাবদ দুই হাজার থেকে তিন হাজার, যানবাহন ভাতা ৪০ হাজার (নতুন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে), নির্বাচনী এলাকার অফিস খরচ বাবদ ছয় হাজার থেকে নয় হাজার টাকা পাবেন। এ ছাড়া পর্দা, বালিশের কভার, বিছানার চাদর, বেড কভার, টয়লেট্রিজ, ক্রোকারিজ বাবদ চার হাজার, ধোলাই খরচ বাবদ এক হাজার, দায়িত্ব পালনের সময় আবাস স্থানে অবস্থানকালে প্রতিদিনের জন্য দুইশ’ থেকে তিনশ’, সংসদীয় কমিটির বৈঠকে যোগদানের জন্য প্রতিদিন চারশ’ থেকে আটশ’, দৈনিক যাতায়াত ভাতা একশ’ থেকে দুইশ’, বীমা বাবদ পাঁচ লাখ থেকে ১০ লাখ, ঐচ্ছিক অনুদান বাবদ এক লাখ থেকে দুই লাখ, চিকিৎসা ভাতা বাবদ পাঁচশ’ থেকে সাতশ’, আবাসিক টেলিফোন ভাতা মাসে ছয় হাজারের পরিবর্তে সাত হাজার ৮০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এমপিরা বর্তমানে শুল্কমুক্ত একটি সিডান কার বা জিপ আমদানির সুবিধা পান। বলার অপেক্ষা রাখে না, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যারাই মন্ত্রী-এমপি হন তারা প্রত্যেকেই আর্থিকভাবে শুধু সচ্ছলই নয়; বরং বলতে গেলে প্রকৃত বিত্তশালী। যাদের শুধু ব্যক্তি অর্থই নয় সাথে আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতাকারী অনেক প্রভাবশালী বিত্তশালী লোকও রয়েছে। কিন' তার বিপরীতে খোদ খাদ্যমন্ত্রীর স্বীকৃতি অনুযায়ীই সরকার ৫২ ভাগ লোকের খাদ্য ব্যবস্থাপনা করতে পারছে না। দেশের পাঁচ কোটি লোক অতি দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাস করে।

সেক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠে, তাদের ন্যূনতম চাহিদা পূরণ করে, এমনকি বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যের ব্যবস্থাটা না করে তাদেরই নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সরকারি সুযোগ সুবিধা দ্বিগুণ বহুগুণ বর্ধিত করার জন্য আইন প্রয়োগ করবেন, কড়ায় গণ্ডায় সব সুযোগ সুবিধা বুঝে নিবেন বরং অতিরিক্ত অনেক বেশি লুটপাট করবেন? এই কী নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের পবিত্র ও সঠিক জনপ্রতিনিধিত্ব? যেখানে জনগণের মুখে দু’বেলা আহার তারা নিশ্চিত করতে পারেনি; তার আগে নিজেদের বর্ধিত বেতন, বহুগুণ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাতে তারা এগোন কী করে? এমনকি কয়েকদিন আগে খালেদা জিয়া একটি তুচ্ছ খাতে সামান্য কয়েক হাজার টাকাও তুলে নিতে দ্বিধা করেননি। অবস্থাদৃষ্টে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়, ‘দেশে শুধু রাজা আর চরম দরিদ্র প্রজা’- এই দুই শ্রেণীই কি বাস করবে? অপরদিকে মন্ত্রী-এমপিদের বেতন বৃদ্ধির খবরেই বাজারে জিনিসপত্রের দাম বহুগুণ বেড়ে যাবে। যে কোন বেতন বৃদ্ধির খবরেই বাজারে এই অবস্থা এখন অনিবার্য হয়ে পড়েছে। অথচ দেশে সরকারি কর্মচারীজীবীর সংখ্যা প্রকৃত অর্থে ১% এরও কম। আর পরিবর্তনীয় আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে তাদের বেতন বৃদ্ধি করেই সরকার মনে করে তার দায়িত্ব খালাস।

অথচ সেটার সুবিধাভোগী হয় মাত্র ১% এরও কম লোক। তাই প্রজ্ঞাপূর্ণ পদক্ষেপ হলো আসলে বেতন বৃদ্ধির পরিবর্তে সঠিক বাজার ব্যবস্থাপনা করা এবং তাতে প্রয়োজনে ভর্তুকি দেয়া। প্রকাশিত এক সংবাদ থেকে জানা যায়, কুমিল্লার নিমসারের কৃষক আলিমুদ্দিন এবার ২০ শতক জমিতে টমেটোর আবাদ করেছেন। ১৫ হাজার টাকা খরচ করে ওই জমিতে টমেটো ফলেছে প্রায় ৬০ মণ। প্রতি মণ টমেটোর উৎপাদন খরচ পড়েছে আড়াইশ’ টাকা।

কিন' গত কয়েক দিনে পানির দরে টমেটো বিক্রি করে আলিমুদ্দিনের এখন সর্বস্ব হারানোর দশা। দেশের অন্যতম বৃহৎ পাইকারি সবজি বাজার নিমসারে এসে প্রতি মণ টমেটোর জন্য ৩০ টাকা দাম শুনে রাগে-দুঃখে সব টমেটো পাশের নর্দমায় ঢেলে দিয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরে গেছেন তিনি। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় শহরগুলোতে যে টমেটো কখনো কখনো ৯০ থেকে ১০০ টাকায় কিনতে হয়, এই ভরা মৌসুমেও যে টমেটো ঢাকার খুচরা বাজারে ১২ থেকে ১৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, সেই টমেটো বিক্রির জন্য ক্রেতা পাচ্ছেন না কুমিল্লার কৃষকরা। দু-একজন ক্রেতা যদিও পাওয়া যায়, তারা দাম বলছেন অসম্ভব রকমের কম। প্রতি কেজির জন্য ৫০ পয়সা থেকে এক টাকার বেশি দাম দিতে রাজি নন তারা।

খুব ভালো টমেটো হলে দুই টাকা কেজি। কঠোর পরিশ্রম করে ভালো ফলন পেলেও বাজার ব্যবস্থার করুণ দশার বলি হচ্ছেন কুমিল্লার টমেটো চাষিরা। এ রকম উদাহারণ শুধু এক টমেটো বা এক কুমিল্লায় নয়; সারাদেশেই এবং সবক্ষেত্রেই। কাজেই দিনবদলের দাবিদার সরকারের উচিত হবে শুধু প্রথাগত কায়দায় বেতনবৃদ্ধি নয়; বরং সঠিক বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে দ্রব্যমূল্যের তেজ কমানো। তাতে ১% সরকারি কর্মচারীর পরিবর্তে গোটা দেশ-জনতাই উপকৃত হবে।

মূলত এসব দায়বোধ তথা দায়িত্ববোধ আসে ইসলামী অনুভুতি ও প্রজ্ঞা থেকে। আর তার জন্য চাই নেক ছোহবত, রূহানী সংস্পর্শ তথা ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ।

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.