আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

তপ্ত ভাতে নুন জোটে না, পান্তা ভাতে ঘি

মানুষকে বিশ্বাস করি,ধর্মকে বিশ্বাস করি , সততাই সর্বোত্তম এটাই যানি

ঢাকার রাস্তায় ব্যাটারিচালিত রিক্সার ব্যাপারে অন্য কোন কথা মাথায় আসে না। কে চেয়েছে সিটি কর্পোরেশানের কাছে এই ধরনের রিক্সা? আমি? আপনি? আমার আপনার পরিচিত কেউ? উত্তর আসবে না না না। আমরা চেয়েছি উন্নত মানের পরিবহন। ঢাকার স্থান 'ক' থেকে স্থান 'খ' তে যাবার নিরাপদ, দ্রুত ও সাশ্রয়ের উপায়। সদিচ্ছা থাকলে অনেক ভাবে সরকার ও পরিবহনশিল্প এই চাওয়া মেটাতে পারে।

বড় বিনীয়োগ না করে ভোক্তার কথা মাথায় রেখে রুট পর্যালোচনা ও যথাযথ ব্যাবস্থাপনার মাধ্যমে অনেকটাই উন্নতি করা সম্ভব। এসব উদ্যোগ শুধু বি আর টি সি আর ট্রাফিক পুলিশের মধ্যে না রেখে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সমিতিগুলোকেও এগিয়ে আনানো যায়। মনে চায় একটা ল্যাম্প পোস্টকে জড়িয়ে ধরে বলি (অন্যকেউ যেহেতু শুনবে না), ডার্লিং, আমরা কাহাকে বোকা বানাইতেছি? সমিতির নেতৃবৃন্দ, সংসদের পরিবহন বিষয়ক কমিটি, পরিবহন মন্ত্রী - ইহারা কি একই শরীরের বিভিন্ন অংশ নন? তেনারা যদি চান তাহইলে বিষয়টাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে পরিবহনশিল্পকে ঢেইলে সাজাতে পারেন। তাদের সদিচ্ছার ফলে এমনটাও হতে পারে যে পরিবহনশিল্প ও সরকারযন্ত্র আমার-আপনার, মানে ভোক্তার কাছে একটি ন্যুনতম মানের সেবা দিতে বাধ্য থাকবে। কিন্তু ল্যাম্পপোস্টও দেখি আমার এইসব কথায় ব্যাজার হয়।

থাক স্বপ্ন দেখাটা আপাতত থামাই। জেগে উঠি। চোখ কচলে তাঁকাই, আদতে কি ঘটছে দেখি। আদতে যা ঘটছে, তা হল চীনের বস্তাপচা কিছু ইলেক্ট্রিক মোটর আমদানি হচ্ছে। দেশের এতবড় ব্যাটারির শিল্প থাকতে চীন থেকে ব্যাটারীও আসছে।

আমার আপনার ও আমাদের ভাই বোনের ঘাম ঝড়ানো টাকা সাঙহাই আর কুয়াঙচৌ (Guangzhou) এর কোন এক কারখানার মালিকের একাউন্টে যাচ্ছে। কি জানি দুইটা ব্যাংক আছে না? লাল ডুগডুগির মত লোগো, আরেকটা নীলসবুজ কেচুয়ার পেজগির মত? তাঁরা তো আবার বিদেশে থাকা বাংলাদেশীদের বৈদেশিক মুদ্রায় হিসাব খুলতে দেন, তাদের টাকা আবার শেয়ার বাজারেও খেলান। এদের হাত ঘুরেই যাচছে ঐ মোটর-ব্যাটারির এলসি। তো এদেরই কিছু লোকজনের কাছে শোনা যে শাংহাইয়ে বসবাসরত একজন প্রভাবশালী বাংলাদেশীই নাকি হাজার পাঁচেক মোটর পাঠিয়ে দিয়েছেন। বংশাল, বাড্ডা আর মিরপুরের কোনাকাঞ্চিতে যেখানে যতগুলি ওয়েল্ডিং মেশিন আছে, সেগুলো এখন ব্যাস্ত, বাঁশ-কাঠ-লোহায় বানানো রিক্সার আদলে জি-আই পাইপ আর রুপবান টিনের রিক্সার গড়তে।

মোটামুটি কিছু একটা খাড়া হলেই তাতে জুড়ে দেয়া হচ্ছে মোটর-ব্যাটারি। তবে এই নতুন রিক্সাগুলোর কাঠামো কি ঢাকার রাস্তায় চলার মত? রাস্তায় হাঁটু সমান পানি উঠলে এগুলো কি ভাসবে না ডুববে? এগুলোর ব্যাটারি চার্জ দিতে বিদ্যুত কোথা হইতে আসিবে? রিক্সাওয়ালা সাহেবের কি হবে? এগুলোর উত্তর আমি জানিনা। তবে ঢাকার রিক্সার প্লাস্টিক শিট আর ক্রোম বুটপিনের সুন্দর কারুকার্য যে এই নতুন রিক্সাগুলোতে থাকবে না, সেটা পরিস্কার। কিজানিএক্টা আজীব নিয়মে এইসব রিক্সার ছাড়পত্র দিচ্ছে সিটি কর্পারেশন। কেন? উত্তর আসে যে মানুষে টানা রিক্সার যে নিয়ম, সেটা এক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

আমরা সবাই জানি যে একটি রিক্সার লাইসেন্স নম্বর নিয়ে পাঁচ-দশটি রিক্সা রাস্তায় আছে। রিক্সার মালিক পক্ষ যে অবিরত শ্রমিকশোষন করে চলছে, তার প্রতিকারে সিটি কর্পোরেশান বা শ্রমিকসমিতিকে কিছু করতে দেখিনি। বড় বড় রাস্তা থেকে রিক্সা তুলে দেয়ার ফলে রিক্সা শ্রমিক ও ভোক্তার যে ক্ষতি হয়ে গেছে, সেদিকটা নিয়েও সিটি কর্পোরেশনের কোন চিন্তা ভাবনা আছে, তাই বা বলি কি করে? আজ তক মানুষে টানা রিক্সা সমস্যারই কোন সমাধানে যে দিতে পারেনি, তার কাছে আরো হাজার সাতেক এই নতুন যন্ত্রের ব্যাবস্থাপনা দিলে এর ফলাফল কত ভয়াবহ হতে পারে? সিটি কর্পোরেশন জানবে ৭ হাজার রিক্সার কথা, রাস্তায় থাকবে আদতে দশ, বিশ, তিরিশ? এখানেও আবার আমাদের বোকা হবার পালা। রিক্সা মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ, সংসদের স্থানীয় সরকার বিষয়ক কমিটি, মেয়রের দপ্তর, এরা কি একই শরীরের বিভিন্ন অংশ নন। থুক্কু, সরকার আর মেয়রের দপ্তরে তো এখন দুই ভিন্ন পাট্টির লোক।

তাই মনে হয় এইসব রিক্সার পারমিট বি আর টি এ'র হাতে দিলে সিটি কর্পোরেশন আর বখরার ভাগ পায় না। তাহলে, সৈয়দ আশরাফের মিন্টু রোডের বাসায় প্রতি শনিবারে যে মজলিশ বসে আর তাতে যে খোকার জন্য আধা বোতল স্কচ বরাদ্দ থাকে, এটা মনে হয় শুধুই মিছা কথা। কেউ কেউ পরিবেশ বাচানোর ধুয়া তুলছেন। অন্য কেউ বলছেন এতে রিক্সাশ্রমিকের জীবন উন্নত হবে। যদি কোন ভাবে জানতাম যে একটি বাঁশ-কাঠ-লোহায় বানানো রিক্সার বদলে, একটি জি-আই পাইপ আর রুপবান টিনের রিক্সা রাস্তায় নামছে, তাহলে না হয় কথা ছিল।

কিন্তু সেটা কি এমনি এমনি হয়ে যাবে? এটা না হওয়ার গভীর আশঙ্কা আরো সুগভীর হয়ে যায় যখন জানা যায় যে ব্যাটারিচালিত রিক্সার জন্য যারা অনুমতি চেয়েছেন, তাদের কারো মালিকানায় একটিও বাঁশ-কাঠ-লোহায় বানানো রিক্সা নেই। আসল সংখ্যাটি কত হবে সেটি না ভেবে শুধু সাত হাজার নিয়েই যদি ভাবি, তাহলে প্রতি রাতে বা একদিন পর পর যদি এগুলোকে চার্জ দিতে হয় তাহলেও তো বিদ্যুত লাগবে। সেটা আসবে কোথা থেকে। এবারো আমাদের আবার বোকা হবার পালা। থাক এই দফা না হয় আর খোকা আর চৌফিকের মামু-ভাইগ্না সম্পর্কের কথা নাই তুললাম।

কিন্তু উত্তরটা কে দেবেন? যেখানে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালের নতুন ইন্টেনসিভ কেয়ার ইউনিটে দেয়ার মত অতিরিক্ত বিদ্যুত ডেসকোর কাছে নেই, সেখানে রিক্সার ব্যাটারি চার্জ দেবার বিদ্যুত কোথা থেকে আসবে? আর এই নতুন রিক্সার মালিকে যদি তার বাসার প্লাগ থেকে চার্জ করে রিক্সা রাস্তায় নামান, তখন আর সেটা ডোমেস্টিক রেটে দেয়া যায় কি না, এইগুলোর মত আজগুবি প্রশ্ন নাই বা করলাম। না, ঢাকার রাস্তায় ব্যাটারিচালিত রিক্সার ব্যাপারে এর চাইতে শ্লীল কোন কথা মাথায় আসে না [,,,,,,,,,,,,,,,,,,,আমার লেখায় বানান এবং বিরাম চিহ্নের সন্নিবেশনের ভুল থাকলে দয়া করে ধরিয়ে দিন। ,,,,,,,,,,,,,,,,,] ,,,,,,,,বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদ্বপি গরীয়সী,,,,,,

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.