আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

যুগের হাওয়া.................

অতি দক্ষ মিথ্যুক না হলে সত্যবাদিতা উৎকৃষ্ট পন্থা

রমজানের ইফতারী বাজারে সবাই অংশগ্রহন করছে, যেদিকে তাকাই মনোহর, বিচিত্র ইফতারির পসরা, দুপুর ১২টা থেকে ইফতারির দোকান সাজিয়ে বসে আছে মানুষ, এবং কোনোটাতেই মানুষের কমতি নেই, মানুষ হজ্জ কিংবা তীর্থে যাওয়ার মতো দলে দলে যাচ্ছে ইফতারির বাজারে। ঐতিহ্যবাহী ইফতারীর পসরা এবং বিজ্ঞাপনের ভীড়ে নিজের পথ খুঁজতে হয়। হিসাব করে দেখলাম সব দোকানই ইফতারি বেচতে শুরু করেছে। ব্যতিক্রম শুধু হার্ডওয়্যার আর বেসরকারী ব্যঙ্কগুলো, তারা এখনও তাদের নিয়মিত ব্যবসা ছেড়ে ইফতারীর ব্যবসা শুরু করে নি। তবে যে যুগ পড়েছে তাতে আগামি বছর হয়তো হার্ডওয়্যারের দোকানে স্ক্রু আর নাটের পাশে জিলাপি পিয়াজু সাজানো থাকবে, ব্যাঙ্কের নভিশ কর্মচারী এবং ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনীরা সবাই কোট-টাই পড়ে পিঁয়াজু ভাজবে ব্যাঙ্কের সামনের বারান্দায়।

ঐতিহ্যবাহী ....... ইফতারী। যুগের হাওয়া বুঝতে পারি না, এটা বিশাল একটা সমস্যা আমার জন্য। গানে যন্ত্রের ব্যবহার আমার অসহ্য মনে হয়। মাত্রাতিরিক্ত যন্ত্রের ব্যবহার দেখে প্রশংসিত বিয়র্কের গান আমার মেজাজটা খারাপ করে দিতো তবে বিয়র্কের দেখানো পথ ধরে গানের ধারাই বদলে গেছে। এখন মানুষ প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে যন্ত্র দিয়ে গান গায়।

এইসব রোবোটিক গানে আমি প্রাণ খুঁজে পাই না। হাবিব ফুয়াদ বালাম সবাই ব্যবহার করছে যন্ত্র, এমন কি হালের ক্রেজ হৃদয় খান, আলম খানের পূত্র এবং আজম খানের ভাতুস্পূত্রও নতুন সংগীত পরিচালক হয়েছে এবং খুবই আশ্চর্য হলাম, সে খুবই জনপ্রিয় হয়েছে। আমি প্রতিদিন বিস্মিত হই, হালের মানুষের ধাঁচ কিংবা ইয়াংটিউন ধরতে না পারার অক্ষমতায় বিভ্রান্ত হয়ে যাই। আউটমোডেড হয়ে গেলাম না কি এই সংশয়ে ভুগি। এত মানুষ মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শুনছে প্রশংসা করছে যখন তখন নিশ্চিত ভাবেই কিছু না কিছু আছে সেখানে।

আমি এখনও পুরোনো ধারার মানুষ, এমন কি কি বোর্ডকেও বাহুল্য লাগে সময় সময় গানে, ইলেক্ট্রনিক ড্রামসের বদলে মনে হয় ঢোল আর মাদলে মজমা জমে ভালো। যখন কোনো গানের সুরের কথা মনে হয়, তখন কোনো যন্ত্র নয় বরং চিরপরিচিত বাদ্যযন্ত্র থেকে নতুনত্ব আনা যায় কি না সেটা নিয়ে ভাবি। দিন বদলাচ্ছে, ইদানিং মানুষ খুব বেশী ভায়োলেন্ট হয়ে উঠেছে, আমার পরের প্রজন্মের পছন্দের ছবির তালিকায় আসছে টেক্সাস চেইন স ম্যাসাকার, হোস্টেজ কিংবা হোস্টেল, এবং এই মাত্রাতিরিক্ত হানাহানি আমাকে অসুস্থ করে ফেললেও কেউ কেউ এটাকেই নিজের হ্যাডমের একটা পরিচয় ভেবে নিচ্ছে। আমাদের রুচি নির্মাণ করে মিডিয়া, আমাদের নিয়মিত যা গেলানো হয় আমরা সেটাই গিলতে বাধ্য, এবং নিয়মিত ধর্ষিত হলে এক সময় ধর্ষণও উপভোগ্য মনে হতে পারে, সেটা সম্ভবত আমাদের উপলব্ধির জগতে এখনও পৌঁছায় নি। তাই অতীতচারি হয়ে যাচ্ছি।

বাসে সেদিন দেখলাম অনেকগুলো মেয়ে, কলেজ থেকে বের হয়ে দিব্যি লাফাতে লাফাতে যাচ্ছে, ১৫ থেকে ১৯ বছরের ছেলে মেয়েদের একটা অদ্ভুত স্বতঃস্ফুর্ততা আছে, যা খুব বেশী আন্দোলিত করে, আমিও তাদের দিকে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে ভাবছিলাম, আমাদেরও এই সময়টা গিয়েছে, যখন ধরাকে সরা জ্ঞান করে যেভাবে ইচ্ছা চলেছি, প্রায় ১ সেটিমিটার পুরু লেন্স পড়া বৃদ্ধের মুখের উপরে সিগারেটের ধোঁয়া ছেড়ে চলে এসেছি, তাদের অনুভুতিকে তোয়াক্কা না করেই, এবং আমিই হঠাৎ করে রাস্তায় কোনো পিচ্চিকে সিগারেট টানতে দেখলে মনে হয় থাবড়া দেই একটা। পরিস্থিতি বদলায়। কিন্তু সেই কয়েকজনকে দেখে মনে হলো এখনই সময় আসলে, এই সময়টা কখনই ফিরে আসবে না তাদের জীবনে। এই ঠাট্টা, এই আনন্দ, এই অহেতুক খুনসুটি, আনন্দে অন্যের গায়ে গলে পড়ার দিনগুলো এত দ্রুতই বাস্তবতায় মিইয়ে যাবে, সেসবের স্মৃতিচারণে কাটবে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন, আর বিয়ের পরে সেসব দিন নিয়ে দীর্ঘশ্বাসের পাল্লা ভাড়ী হবে। হেই হোয়াটস আপ? নাথিং মাচ, ইউ আর লাইক, ইয়ো, ইউ নো হোয়াট আই মিন রাইট? আমি মাথা নাড়ি চুপচাপ- হোয়ার আর ইউ ফ্রম- .......... ইউ নো দে হ্যাভ সাম ব্যাড রেপুটেশন।

হি হি হি হি হি। বয়েসটা মারাত্মক, ধ্বন্ধে ভরা, আমিও কিঞ্চিৎ বিব্রত হই, কিন্তু পেশাদার অবিচলিত মুখভঙ্গি ধরে অন্য পাশে চলে যাই। আর ইউ আপসেট দ্যাট আই য়্যাম হিয়ার? নাহ এমন কেনো মনে হলো তোমার? নো ইউ আর ফ্রিকড আউট। ডোন্ট গো ফ্রিকিং আউট অন মি , ইউ হেইট মি রাইট? ওহ নো, সার্টেইনলি নট, ইট ইস যাস্ট আই য়্যাম ফিলিং লো দিজডেজ। ইউ উইল অভারকাম ইট সুন, হ্যাভ ফান ম্যান, এনজয়।

আমি অন্য পাশে যাই, ফিরে আসি, যুগের হাওয়া ধরতে পারি না। শুধু হৃদয় খানের সেলিব্রেটেড গান শুনলে মনে হয় বেচারা তিশমা ছেলের গলায় গান গাইছে, কিংবা তিশমার কোনো গানের সুর চুরি করেছে হৃদয় খান, যুগটাই চুরি চামারির, কে কোথায় ইনস্পিরিশন খুঁজে পায় বলা যায় না,

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।