আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

মঞ্চ নাটকে আধুনিকায়নের অভাব

গভীর কিছু শেখার আছে ....

মঞ্চ নাটককে একজন অভিনেতা বা অভিনেত্রীর জন্য অভিনয় শৈলীর মাপকাঠি হিসেবে ধরা যেতে পারে। কারণ সরাসরি দর্শকদের সামনে নিজের অভিনয় প্রতিভা বা দক্ষতাকে তুলে ধরার এ রকম ক্ষেত্র অন্য কোনো মাধ্যমে অনুপস্থিত। টেলিভিশন নাটক কিংবা চলচ্চিত্রে অভিনয়ের স্বার্থে একই দৃশ্যের অনেকবার দৃশ্যায়ন হতে পারে, যা মঞ্চে সম্ভব নয়। এখানে কোনো ভুল হলে সেই ভুলকেই সঠিক বলে অভিনয় চালিয়ে যেতে হয়। মাঝ পথে স্ক্রিপ্ট ভুলে যাওয়া বা কোনো দৃশ্যের পর কোনটি হবে তা ভুল করলেও ভুল শোধরানোর কোনো উপায় থাকে না।

সেজন্য মঞ্চ নাটক অনেক বেশি প্রাণবন্ত হয়। ফলে দর্শকদেরও মঞ্চকে ঘিরে আলাদা রকমের আগ্রহ থাকে। অথচ আমাদের দেশে মঞ্চের বিকাশ যেভাবে হওয়ার কথা ছিল তা কিন্তু হচ্ছে না। বরং দিনকে দিন মঞ্চ নাটকের দর্শক সংখ্যা কমে যাচ্ছে। অনেকেই এজন্য ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রসারকে দায়ী করেন।

ঘরে বসে যদি দর্শক বিনে পয়সায় নাটক উপভোগ করতে পারেন, তবে কেনই বা তিনি কষ্ট করে থিয়েটারে গিয়ে টিকেট কেটে নাটক দেখবেন- এ রকমই মন্তব্য অনেকের রয়েছে। এক্ষেত্রে বলা যেতে পারে মঞ্চ নাটকের যে আলাদা আবেদন রয়েছে তা টেলিভিশন নাটকে কিন্তু পুরোপুরি অনুপস্থিত। টেলিভিশন নাটকে কাহিনী ও দৃশ্যায়নের ভিন্নতা যে রকম থাকে, মঞ্চ নাটকে ভিন্নতা থাকে অন্য রকম। বিভিন্ন থিয়েটার গ্রুপের পরিবেশনায় একই নাটকের উপস্থাপনাতেও থাকে ভিন্নতা। আর এটিই মঞ্চ নাটকের মূল আকর্ষণ।

সুতরাং মঞ্চ নাটকের দর্শক কমে যাওয়ার জন্য মঞ্চের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা এখন যে বিষয়কে তুলে আনেন তা হলো মঞ্চ নাটকের আধুনিকতার অভাবকে। মঞ্চ নাটক আগের চেয়ে অনেক বেশি সাবলীল হয়েছে এ কথা যেমন সত্য, তেমনি আরো যতোটুকু সাবলীল হওয়ার কথা ছিল তা যেমন হয়নি সেটিও সত্য। উদাহরণস্বরূপ, বিদেশি কাহিনীর অনুবাদ ভিত্তিক স্ক্রিপ্টগুলো এতোটাই খাঁটি বাংলা চলিত রীতি মেনে অনুবাদ করা যে, সাধারণ দর্শকদের কাছেই তা দুর্বোধ্যই মনে হয়। অথচ সাধারণ মানুষদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ভিত্তিক স্ক্রিপ্ট তৈরি করলে মঞ্চ দর্শকদের কাছে তা আরো বেশি গ্রহণযোগ্যতা পায়। অন্যদিকে পৌরাণিক কাহিনী বা বিখ্যাত সাহিত্যিকদের কাহিনী অবলম্বন করে মঞ্চ নাটক তৈরির থিমকে সীমিত করে মঞ্চ নাটকে সমসাময়িক কাহিনী নিয়ে নাটকে রূপদানের বহুল প্রচলনের বিষয়টি সব সময়ই যেন উহ্য থেকেছে! শেকড়কে খোঁজা ভালো, কিন্তু শেকড়কে আঁকড়ে ধরে রাখা অবশ্যই ঠিক নয়।

বর্তমানে অনেক টেলিভিশন নাটকেই তরুণ নির্মাতারা এ বিষয়টি মাথায় রেখে তৈরি করছেন সমসাময়িক নানা বিষয় কেন্দ্রিক টিভি নাটক। একই বিয়টি মঞ্চের ক্ষেত্রেও আসাটা ছিল স্বাভাবিক। অথচ বাস্তবে কিন্তু তা হয়নি। ফলে মঞ্চে দর্শক কমে যাচ্ছে। মঞ্চের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ওতপ্রোতভাবে জড়িত অভিনেত্রী সারা যাকের বলেন, সাধারণত ১০টি নাটক করলে একটি নাটক ভালো হবেই।

মঞ্চে কেউবা করছে আধ্যাত্মিক, কেউবা স্থূল ধরনের। তবে আমার মতে, নাটককে অবশ্যই দর্শকের কাছে পৌঁছতে হবে। নাটকের অর্থ যদি দর্শকের বোধগম্য না হয় তবে সে নাটকের কোনো মানে বহন করবে বলে আমি মনে করি না। তাই মানুষের সঙ্গে নাটকের অর্থকে সম্পৃক্ত হতে হবে। আর মঞ্চ নাটকে দর্শকের আসার বিষয়টি নির্ভর করে মূলত দলের ওপর।

আমাদের দেশে এখনো আলাদা করে মঞ্চ নাটকের দর্শক তৈরি হয়নি বলেই আমার ধারণা। বরং তৈরি হয়েছে বিভিন্ন মঞ্চ দলের দর্শক। এ দর্শকরা জানে তাদের দল কেমন ধরনের নাটক করে। ফলে তারা তাদের দলের নাটক দেখতেই উৎসাহিত হয়। আরেক মঞ্চকর্মী অভিনেত্রী মোমেনা চৌধুরী বলেন, মঞ্চ নাটককে অবশ্যই জীবনধর্মী ও বিশ্বমানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে।

গৎবাঁধা ছক থেকে মঞ্চকে বেরিয়ে আসতে হবে। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের সঙ্গে আমাদের দেশের মঞ্চ নাটককে কম্পেয়ার করে তা সমৃদ্ধ করার অপশন রয়েছে। তবে আমি মনে করি যে, আমাদের দেশের মঞ্চ নাটকের মান আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকেও পিছিয়ে নেই। সমসাময়িক বিষয় নিয়ে প্রচুর কাজ বর্তমানে হচ্ছে। তবে এক্ষেত্রে নতুন নাট্যকারদের দল থেকেও সুযোগ করে দিতে হবে।

আর দলের সিনিয়রদের দেশের বাইরের দলগুলোর সঙ্গে অভিজ্ঞতা শেয়ার করে তা জুনিয়রদের জানাতে হবে, শেখাতে হবে। সুতরাং যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মঞ্চ নাটককে আরো বেশি আধুনিক ও সাবলীল করতে না পারলে মঞ্চের দর্শকদের ধরে রাখা বাস্তাবিকই কঠিন হবে। দৈনিক যায়যায়দিনে প্রকাশিত

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.