আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

মধ্যপ্রাচ্যে শ্রম আইনে পরিবর্তনঃ বিদেশী শ্রমীকদের জন্য খুলে যাচ্ছে অসীম সম্ভাবনার দুয়ার

ফটোগ্রাফি, ভ্রমন, সিনেমা, ওয়ার্ডপ্রেস, এবং সব এলোমেলো ভাবনা
মধ্যপ্রাচ্যে কাজের জন্য আসতে হলে প্রতিটি শ্রমীকের একজন স্পন্সর লাগে। সেটা হতে পারে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান। এসব দেশের প্রতিটি বিবাহিত নাগরিক নিজেদের গৃহকর্মের জন্য একজন করে বিদেশী আয়া এবং ড্রাইভার রাখতে পারে নিজেদের স্পন্সরশীপে। আর শ্রমীকদের স্পন্সর করে তাদের নিয়োগদানকারী প্রতিষ্ঠান। এছাড়া উচ্চপদস্থ কর্মচারী যাদের এসব দেশে পরিবার নিয়ে আসার অনুমতি আছে, তাদের পরিবারের স্পন্সর তারা নিজেরাই করতে পারে।

এই স্পন্সরশীপ আইনের কারনে এদেশের প্রতিটি কর্মজীবীর হাত-পা বাধা থাকে তার স্পন্সরের হাতে। ড্রাইভিং লাইসেন্স দরকার? লাগবে স্পন্সরের নো-অবজেকশন লেটার। দেশের বাইরে যাবেন? স্পন্সরের লেটার। ভয় করে কখন বাথরুমে যাওয়ার সময়ও জিজ্ঞেস করে, নো অবজেকশন লেটার আছে তো! এই স্পন্সর আইনের কারনেই মূলত এসব দেশে চাকরী পরিবর্তনের কোন সুযোগ নেই। এমনকি নিজস্ব চাকরীর পরে পার্ট-টাইম কাজ করারও কোন অনুমতি নেই।

এসব দেশে ফ্রি ভিসা বলতে যে জিনিস আছে, সেগুলোও আসলে কোন কোম্পানী বা ঘরের কাজের ভিসা। স্পন্সর এদের প্রতি ছয় মাস পর পর একটি করে নো-অবজেকশন লেটার দেয়, যদিও সেটাও পুরোপুরি আইনভাবে বৈধ না। এই স্পন্সর আইনের জন্যই শ্রমীকরা লাখ লাখ টাকা খরচ করে এসব দেশে এসে যখন দেখে তারা প্রতিশ্রুত বেতনের কিছুই পাচ্ছে না, তখন তাদের কিছুই করার থাকে না। হয় চাকরী কর, অথবা দেশে ফেরত যাও - যেটা কখনোই সম্ভব হয় না। আমার এক ইঞ্জিনিয়ার বন্ধু দেশের বেশ ভালো চাকরী ছেড়ে ৪,০০০ দিরহাম বেতনের চাকরীতে আমিরাত গিয়ে দেখে তার বেতন ২,০০০ দিরহাম।

দেড় মাস থেকে সে দেশে ফেরত গেছে। আরেকজনও ভালো একটা চাকরী ছেড়ে সৗদি আরবে গিয়ে দেখে তার প্রতিশ্রুত ৪,০০০ রিয়েলের বদলে দেয়া হবে ১,২০০ রিয়েল, তাও প্রথম তিনমাসে এক পয়সাও পায়নি। তাকে দেশে আসার জন্য নো অবজেকশন লেটারও দেয়া হচ্ছে না। আশার কথা হচ্ছে, এ আইনের পরিবর্তন হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের কিছু কিছু দেশে। এ মাসের এক তারিখ থেকে বাহরাইনের শ্রমীকরা কোন ধরনের নো অবজেকশন লেটার ছাড়াই তাদের চাকরী পরিবর্তন করতে পারবে।

একই পথে আরো এক ধাপ এগিয়ে গেছে কুয়েত। গত বৃহস্পতিবার তারা ঘোষণা দিয়েছে, সেদেশে নিয়োজিত শ্রমীকেরা নিজেরাই নিজেদের স্পন্সর করতে পারবে যদি তাদের ২ বছরের ভালো রেকর্ড থাকে। তারা পুরো স্পন্সরশীপ সিস্টেমটাই বাতিল করার লক্ষ্যে এই ঘোষণা দিয়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে কোম্পানীগুলো ক্ষতিগ্রস্থ হলেও অপরিসীম সম্ভাবনার দ্বার খুলে যাবে শ্রমীকদের জন্য। ১০০০ রিয়েলে কাজে নিয়োজিত একজন দক্ষ শ্রমীক অনায়াসে অন্য যে কোন কোম্পানীতে চাকরী খুঁজে নিতে পাবে ২০০০ রিয়েল বেতনে।

আট ঘণ্টা কাজের পর করতে পারবে পার্ট-টাইম চাকরী। যে সোনার হরিনের খোঁজে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো থেকে শ্রমীকের ছুটে আসে মধ্যপ্রাচ্যের এইসব দেশে, তারা এবার সত্যিই সত্যিই খুঁজে পাবে তাদের সেই সোনার হরিন।
 

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.