আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

তালেবানের আব্বাহুজুর !!

ইচ্ছে করে হারিয়ে যাই তোমার সীমানায়

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় গত সোমবার এক সালিস বৈঠকে ধর্ষককে নির্দোষ সাব্যস্ত করে ধর্ষিতাকে শতাধিক বেত্রাঘাত করা হয়েছে। সালিসে সমাজপতিরা ধর্ষিতাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে তা পরিশোধের জন্য সাত দিন সময় বেঁধে দেন। প্রকাশ্য সালিসে শত শত লোকের সামনে বেত্রাঘাত করার সময় মেয়েটি কয়েকবার জ্ঞান হারান। বেত্রাঘাতে অসুস্থ হয়ে পড়া মেয়েটিকে এলাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এলাকাবাসী ও পুলিশ সুত্র জানায়, প্রায় দুই মাস আগে রায়গঞ্জের ধুবিল মেহমানশাহী গ্রামের প্রভাবশালী মাতব্বর আব্দুল মালেক (৪০) মেয়েটিকে (৩০) ধর্ষণকালে গ্রামবাসীর কাছে হাতেনাতে ধরা পড়েন।

সে সময় গ্রামের প্রভাবশালী সমাজপতি হাফিজার রহমান তালুকদারের নির্দেশে তাঁর লোকজন আব্দুল মালেককে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। এরপর মেয়েটি অনেক চেষ্টা করেও বিচার না পেয়ে শেষ পর্যন্ত সিরাজগঞ্জের বিচারিক হাকিম আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালতের আদেশে সলঙ্গা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহবুব মামলার তদন্ত করেন। তিনি ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে গত ১৮ মে আদালতে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মাহবুব বলেন, মেয়েটি ও এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে এবং ঘটনার পূর্বাপর বিশ্লেষণ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছি।

এদিকে বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসার কথা বলে হাফিজার রহমান তালুকদার ও স্থানীয় প্রভাবশালীরা সালিস ডাকেন। হাফিজার রহমান তালুকদারের সভাপতিত্বে তাঁর নিজ বাড়িতে গত সোমবার রাতে এই সালিস বসে। কিন্তু মীমাংসার কথা বলা হলেও সালিসে ধর্ষক আব্দুল মালেককে হাজির না করে কেবল মেয়েটিকে হাজির করা হয়। সমাজপতিরা আব্দুল মালেকের পক্ষ নিয়ে তাঁকে নির্দোষ বলে ঘোষণা দেন। অন্যদিকে সমাজপতিদের কথা অমান্য করে মামলা করার অভিযোগে মেয়েটিকে ১০০ বেত্রাঘাত ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

সালিসের সামনে বেত্রাঘাত কার্যকর করার এবং সাত দিনের মধ্যে জরিমানার টাকা পরিশোধ করার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। ধর্ষক আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করা না হলে এবং সাত দিনের মধ্যে জরিমানার টাকা দিতে ব্যর্থ হলে মেয়েটিকে গ্রামছাড়া করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। সালিসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শত শত মানুষের সামনে মেয়েটিকে তাঁর ভাই ছদরুলকে দিয়ে ১০০ বেত্রাঘাত করা হয়। এ সময় মেয়েটি কয়েকবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। কিন্তু সমাজপতিদের মনে একটুও মায়া জাগেনি।

বেত্রাঘাতে মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়েন। গুরুতর অবস্থায় তিন দিন ঘরে পড়ে থাকলেও তাঁর চিকিৎসার জন্য কেউ এগিয়ে আসার সাহস পায়নি। খবর পেয়ে ধুবিল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আক্তারুল ইসলাম গত শুক্রবার মেয়েটিকে উদ্ধার করে রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। চেয়ারম্যান আক্তারুল ইসলাম বলেন, ধর্ষককে মুক্তি দিয়ে ধর্ষিতাকে বেত্রাঘাত ও জরিমানা করার ঘটনা তিনি এর আগে শোনেননি। তিনি ধর্ষক এবং সালিসে রায় প্রদানকারী সমাজপতিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

সমাজপতি হাফিজার রহমান তালুকদার, হাবুল তালুকদার ও আলেপ তালুকদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাঁদের পাওয়া যায়নি। মেয়েটির ভাই বলেছেন, ‘গ্রামের মাতব্বরদের কথামতো নিজের বোনকে শত শত মাইনসের সামনে পিটাইছি। এতে আমি যে কষ্ট পাইছি তা বলার মতো না। আমি সবার কাছে বিচার চাই। ’ সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেনি।

অভিযোগ করা হলে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। -সূত্র প্রথম আলো। এরপরেও কি আপনি বলবেন দেশে আইন-আদালতের কাজ বা প্রয়োগ চলছে যথার্থভাবে? এলজ্জা আমরা রাখবো কোথায়?

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.