আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

ওয়েস্টার্ন: জুয়া ( শেষ পর্ব)

ঘাস ফড়িং এর স্বপ্নমালা

১ম পর্ব ২য় পর্ব না... শেষ পর্যন্ত চিড়তনের সাহেব তার সাতের সাথে যোগ দিল । হায় রে... ঐ সাতটিকে গলার কাঁটার মত মনে হচ্ছে । আমার সামনে বসা লোকগুলোর দিকে তাঁকালাম...ভাবলেশহীন চেহারা... ডলারের জন্য এরা সবই করতে পারে । কিছুক্ষণ আগেও যা আমার ছিল তা সবই ঐ বেটাগুলো পকেটস্থ করেছে । ওদেরকে মৃত কল্পনা করতে শুরু করলাম... বিভিন্ন ভঙ্গিমাতে... একজন চেয়ারে উপুড় হয়ে আছে... আরেকজন পিঠে ছোড়া নিয়ে চিৎপটাং হয়ে আছ.... বাদামী হ্যাটটা মাটিতে গড়াগড়ি খাচ্ছে বিডের পর বিড হয়ে যাচ্ছে....খুনে লোক গুলোর থামার কোনোই লক্ষণই নেই ।

আমি ডলারগুলো চাই .... যেভাবেই হোক....যেকোন উপায়েই হোক। জীবনে কোনো কিছুর জন্য এভাবে প্রতীক্ষা করেছি কিনা জানি না... সম্ভবত না । হয়ত ওখানে আমার শেষ সম্বলটুকু আছে অথবা ঐ বাদামী হ্যাটের নিষ্ঠুর দাম্ভিকতা মরিয়া করে তুলছে । ' আছো তো?' স্পষ্ট তাচ্ছিলতার সুর বাদামী হ্যাটের কন্ঠে । মাথা নাড়লাম 'আছি' ।

' তুমি কি তাস পরিবর্তন করবে নাকি তোমার হাতেরগুলোতেই বিশ্বাস আছে ?' একটা দশ... শুধু একটা দশ ওর মুখে একটা চড় বসিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট । স্ট্রেইট হবার জন্য শুধু একটি দশ চাই.... ' কি হে ভড়কে গেলে নাকি বাছা.... হা হা হা ' শুধু একটা দশ.... ' দেখ বাছা... জীবনটাই একটা জুয়া। বাজি না ধরে এই পশ্চিমে তুমি বাঁচতে পারবে না...সেটা জীবনেরই হোক আর ডলারেরই হোক...' বাদামী হ্যাটের প্যাকপ্যাকানি আমার কানে ঢুকছে না । আমার সামনে এখন দুটি পথ খোলা আছে...কাপুরুষের মত খেলা ছেড়ে চলে যেতে পারি অথবা খেলে জিততে পারি...হারতেও পারি । কাপুরুষের মত বেঁচে থাকার চেয়ে রাস্তার ফকির হওয়া ভাল ।

'যদি হেরে যাই তাহলে আমাকে কি করতে হবে?' 'ছোট একটা কাজ' ' শুধুই একটা কাজ?' সে মাথা নাড়ল। জীবনে তো প্রতিমুহূর্তে কিছু না কিছু করছি একটা কাজে কি এমন মহাভারত অশুদ্ধ হবে....। আমি কেন জানি জয়ের সুবাস পাচ্ছি । ' একটা তাস...একটাই পরিবর্তন করব' আবার ঝড়ের গতিতে তাস সাফল হতে থাকল...আমি সাতটা ছুড়ে ফেললাম....নতুন তাসটা টেবিলেই পড়ে থাকল... উল্টে দেখলাম না। তাস দেখানো শুরু হলো...প্রথমজন হতাশ ভঙ্গিতে তাস ছুড়ে ফেলল... যাচ্ছেতাই তাস...বেচারা... দ্বিতী্য় জন পয়েছে 'থ্রি অফ এ কাইন্ড' (3 of A kind).....তার চোখ চকচক করছে জয়ের আশা।

বাদামী হ্যাট একটি একটি করে তাস উল্টাতে শুরু করল...সবগুলোই রুইতন... তার মানে ফ্লাস (Flash) । সব রুইতন । নরকের কীট... স্ট্রেইট তো আর ফ্লাসকে হারাতে পারবে না.... হেরে গেলাম... এত কাছে এসে এভাবে ধরা খেলাম !!!!!!!! ' হেরেই গেলে তাহলে' বাদামী হ্যাটের ঠোঁটে ক্রূর হাসিটা আবার ফুটে উঠল। আমি হতাশ চোখে একবার রুইতনগুলো আর একবার আমার অকম্মার সাতটার দিকে তাকালাম। 'কাজের কথায় আসা যাক'.. বাদামী হ্যাটের কথায় আমার ধ্যান ভাঙ্গলো..ওর দিকে ফিরে চাইলাম... ' তাহলে তুমি এখন আমাদের জন্য একটা কাজ করতে যাচ্ছ।

' ' কি কাজ?' ' শেরিফ..এই শহরে যার জন্য আমাদের আসা...' হঠাৎ সে ঝুঁকে আমার সামনে মৃত সৈনিকের মত উপুড় হয়ে থাকা তাসটা উল্টে দিল । রুইতন । 'সাত' হেসে বলে উঠল সে 'তোমার লাকি নাম্বার মন হয়' 'শেরিফকে তুমি চেনো?' আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম। 'ঐ কুত্তার বাচ্চাটা এখনো আমার সামনে পড়েনি...পড়লে এতক্ষণে..যায় হোক..আমি চাই ওর বুকের বামপাশে ঠিক হৃদপিন্ডে একটা বুলেট ঢুকিয়ে দিতে হবে। ' 'যাকে তুমি দেখইনি..তার প্রতি এত ঘৃনা!!!!!' 'ঐ কুত্তা আমার ভাইকে সবার সামনে গুলি করে মেরেছে...' 'কোনো কারণ ছাড়াই..মেরে ফেলেছিল ?' ' আমি কোনো কারণের ধার ধারি না ...' হঠাৎ করে সেই যমদূতের মত শীতলতা ফিরে আসল তার মধ্যে, 'কাজটা নিজেই করব ভেবেছিলাম...কিন্তু এখন আমার হয়ে কাজটা করবে তুমি...হা হা হা হা' আমি ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালাম... এই প্রথম আমার ঠোঁটে ফুটে উঠল তাচ্ছিল্যের হাসি।

বললাম, ' তুমি বলেছিলে না সাত আমার লাকি নাম্বার...এখন বলত শেরিফের ব্যাচে কয়টা কোণা থাকে??' 'সাত' আমি চেয়ারের পিছনে ঝুলিয়ে রাখা আমার কোটটা তুলে নিলাম...যেখানে ঝলমল করছে শেরিফের ব্যাচ । লোকগুলো ধরমর করে উঠে দাঁড়ালো... কিন্তু তার আগেই আমার হাতে শোভা পাচ্ছে আমার সবচেয়ে হিংস্র বন্ধু .... আমার কোল্ট ০.৫। 'অহু... বাছারা নিজেদের বেল্টে হাত দিয়ে কোনো লাভ নেই... তোমরা ঐ খচ্চর শেরিফের করা আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে সেলুনে ঢুকার সময়ই নিজেদের অস্ত্র জমা দিয়েছিলে...কিন্তু আমি তো শেরিফ তাই না...নিজের আইন নিজেকে মানতে হয় না....হা হা হা' ...... সমাপ্ত

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.