আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

তারেকের বাথরুমে পড়ে যাওয়া আর একজন নিরাপরাধ মানুষের মৃত্যু - একটা প্রশ্নের মিমাংসার আশায়।

যুদ্ধাপরাধীর বিচার ও জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবী করছি

তারেক বাথরুমে পড়ে গেল আর ঢাকা শহরে একদল চাঁদাবাজ আর টেন্ডারবাজ নেমে এলো - আগুন লাগালো গাড়ীতে। মরলো একজন নিরাপরাধ মানুষ। সেই মানুষটির হয়তো একটা পরিবার আছে - আছে সন্তান। এদের কি হবে, সেই পরিবারটির ভবিষ্যত কি হবে? জনস্বার্থে রাজনীতি করা পবনের বাপ আর তার উপদেষ্টা আল বদর মুজাহিদ কি এর জবাব দেবে? এই খবরটি যখন পড়ছিলাম তখন পুরানো একটা ঘটনা মনে পড়ে গেল। তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অভি-নীরু-বাবলুর রাজত্ব।

খালেদা জিয়া তখন প্রচন্ড পরিশ্রমঅ নেত্রী। ছাত্রদলের উপর ভর করে বিএনপি ধীর ধীরে দাড়াচ্ছে। একদিন সন্ধ্যায় প্রচন্ড বিস্ফোরনে কেঁপে উঠলো পুরো বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা। হৈ চৈ শুরু হলো। পরে জানা গেল মহসিন হলের চারতলায় বিস্ফোরনের ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা মারা গেছে।

শুরু হলো রাজনীতি। প্রথমে আসলো সরকারের নাম। তখন স্বৈরাচারী এরশাদ ক্ষমতায়। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার কোন প্রভাব নেই - তাই সেই থিয়োরী চললো না। পরে ছাত্রলীগের উপর দোষ চাপানোর চেষ্টা হলো।

তাও কাজ করলো না - কারন তখন মুহসিন হল ছাত্রদলের দূর্গম ঘাঁটি - সেখানে কেউ বোমা বসাবে ভাবাই যায় না। পরে জানা গেছে যে নিজেদের বোমায় এরা মারা গেছে। এর মধ্যে বাবলু নামের সন্ত্রাসীটাই ছিলো অন্যতম - যে খালেদা জিয়া খুবই প্রিয়ভাজন ছিলো বটে। কিন্তু যে ঘটনাটা আমার মনে ভীষন ভাবে প্রভাব ফেলেছিলো তা হলো ছাত্রদলে নেতাদের কর্মকান্ড। সন্ধ্যায় কয়েকজন মধ্যসারির ছাত্রদল নেতা - আমানুল্লাহ আর ফজলুল হক মিলন ছিলো তাদের মধ্যে।

এরা এসে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ স্মৃতি হলের সামনে সমবেত ছাত্রদের বললো - এখনউ পলাশীর মোড়ে গিয়ে বাস ট্রাক যা পাওয়া যায় তাই জ্বালিয়ে দিতে হবে। যতটুকু মনে পড়ে ওরা সমবেত সবাইকে নিজেদের কর্মী ভেবেছিলো। আমি একটু আগ বাড়িয়ে জানতে চাইলাম - বাস-ট্রাকের দোষ কি? ওদের কেন জ্বলতে হবে। আমান খুবই উত্তেজিত হয়ে উত্তর দিলো - তুমি রাজনীতি বুঝ? তাওয়া গরম থাকতেই রুটি ভাজতে হয়। আশে পাশের লোকজনের তাকানো আর উত্তেজিত বাক্যর আড়ালো আমার পরবর্তী প্রশ্ন হারিয়ে গেল।

আজ প্রথমটা মনের ভিতরে ঘুরপাক খাচ্ছে, আমানের বর্ণিত "তাওয়া"ই বা কোনটা আর "রুটি" বা কে? আমি হয়তো সেই রাজনীতি বুঝিনি যাতে তাওয়া গরম করে জনগনকে কিভাবে ভাজতে হয় তা শিখানো হয়। তাইলে কি আজকের নিহত জাহাঙ্গীর আলমই রুটি - যাকে সেঁকার কথাই বলেছিলো সেই দিনের ছাত্রনেতারা। (ছবি - বিডি নিউজের সৌজন্যে)

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।