আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

নটরডেমের সুখ-দূঃখ, পর্ব-২



পর্ব-১ মেসে থাকার অন্যতম বিড়ম্বনা হলো রান্না, বান্না। বুয়ারা একেকজন মহারাণী, ইচ্ছা হলে আসে,ইচ্ছা হলে আসেনা, রান্নাও করে যাচ্ছেতাই। আমাদের বুয়া একদিন কিভাবেজানি একটা তেলাপোকা সহ ডাল রান্না করে ফেলল(মনে হয় অতিরিক্ত মসলা হিসেবে)। আমাদের এক বন্ধু সেই ডাল খেয়ে দুপুরে আরামে ঘুম দিয়েছে(কিছু টের পায়নি)। আমরা কলেজ থেকে এসে খেতে বসেছি।

আমরাও প্রথমে কিছু টের পাইনি, উপরন্তু অন্যন্য দিনের চেয়ে ডালটা বেশ টেস্টি লাগছিল(তেলাপোকা সহ রান্না করলে টেস্টি হয়, চেক করে দেখতে পারেন)। আমি আমার দোস্ত কে বললাম, দোস্ত আরো এক চামচ ডাল দাও তো এদিকে। সেই আরো এক চামচ ডালের সাথে উঠে এলো আস্ত একটা তেলাপোকা! খাওয়া দাওয়া ততক্ষণে মাথায় উঠে গিয়েছে। আমার সেই বন্ধু ঘুম থেকে উঠে বমি করার জন্য অনেক চেস্টা করেছে, লাভ হয়নি। সপ্তাহে অন্তত দুইদিন বুয়া আসতোনা, তখন নিজেরাই রান্না করে খেতাম।

তখন আমাদের টেস্ট পরীক্ষা চলছে, টানা দুই সপ্তাহ ধরে বুয়া নেই,হোটেলের খাবারও আর মুখে রোচেনা আর তিনবেলা হোটেলে খাবার মতো এতো টাকাও নেই। পড়াশোনাই করবো না রান্না করবো। তখন শুধু বাড়ির কথা মনে পড়তো, মায়ের হাতের রান্নার কথা মনে পড়তো। মায়ের কাছে ফোন করে কান্নাকাটি করতাম আর বললতাম আম্মু আমি আর ঢাকায় থাকবোনা, আমার ঢাকা ভালো লাগেনা আম্মু। ফোনের ঐ পাশে আম্মু কান্নাকাটি করতো আর স্বান্তনা দিত ইন্টার পরীক্ষাটা দিয়েই বাসায় চলে এসো আব্বু।

সেই দিন গুলো ফেলে এসেছি অনেকদিন আগে। আজও ঢাকা ছেড়ে যাওয়া হয়নি। আজো আমার ঢাকা ভালো লাগেনা। আমার মা এখন বেশীরভাগ সময় অসূস্হ থাকে । আর চাকুরির পোস্টিং এর জন্য আমার আজো ঢাকা ছাড়া হলোনা।


অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।