আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ~

আমার এই পথ চাওয়াতেই আনন্দ

আমরা মানুষ, থাকি আকাশগঙ্গা গ্যালাক্সির পৃথিবী নামের গ্রহে। আমাদের সত্তা জৈব পদার্থ নির্মিত এক গঠনের মাধ্যমে নিজেকে প্রকাশ করে যাকে আমরা বাংলা ভাষায় বলে থাকি “শরীর”। আমরা কিছু কিছু বস্তুর স্বাদ গন্ধ পাই, কিছু কিছুর পাই না, প্রায় ৪০০ থেকে ৭৫০ ন্যানোমিটার তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের আলো দেখি, ২০ – ২০০০০ হার্জের মধ্যবর্তী কম্পাঙ্কের শব্দ শুনতে পাই। এর বাইরের জগৎ আমাদের ধরা ছোঁয়ার বাইরে, কারন আমাদের ইন্দ্রিয়ের দৌড় এতটুকুই। অন্য ভাষায় বলা যায়, আমাদের সত্তা এই শরীর নামের খাচায় বন্দী।

শুধু কি আমরা মানুষেরাই বন্দী? উত্তর হবে না, সকল সৃষ্টিরই একটা নির্দিষ্ট গন্ডি আছে। আমরা কি পারব কখনও সেই গন্ডিকে অতিক্রম করতে? যদি নাই পারি তবে ঐ কুকুর, তেলাপোকা আর আমার মাঝে পার্থক্য কোথায়? কেন আমি নিজেকে তার থেকে শ্রেষ্ঠ দাবি করি? শুধু কি ওদের থেকেই! আমরাতো নিজেকে সব সৃষ্টি হতেই শ্রেষ্ঠ জানি। আসলে আমরা মোটেও ভুল জানি না। সৃষ্টিকর্তা আমাদের সত্তাকে দেহের কারাগারে বন্দী করে পাঠালেও, আমাদের দিয়েছে মন। এই মনটা দিয়ে আমরা যে কাজটা খুব ভাল করতে পারি ,তা হল সৃষ্টি।

আমি সৃষ্টি করতে পারি, তাইতো আমি শ্রেষ্ঠ। এ কাজতো ঐ কুকুরটা পারে না, না পারে ঐ তেলাপোকা। আমরা সৃষ্টি করতে পারি বলেতো বিজ্ঞনের জন্ম দিয়েছি। আমাদের সীমিত আয়ু ও শারিরিক সীমাবদ্ধতা আমাদের ঐ সূর্যের কাছে পৌছতে না দিলেও আমরা জানি সেটা কি কি বস্তু দ্বারা গঠিত। চোখ দিয়ে আমরা ১০০ মাইক্রোমিটারএর ছোট বস্তু দেখতে পারি না।

কিন্তু আমরা জানি সব থেকে ছোট পোলিও ভাইরাসের আকার কেমন। এসব আমরা পারি কারন আমরা সৃষ্টি করি। বিভিন্ন ঘটনাকে এবং তার ভেতরকার অদৃশ্য ঘটনাগুলো বের করতে আমরা সক্ষম। দুঃখের ব্যাপার আমরা সকলে অদৃশ্যকে দৃশ্য করতে মনটা খাটাই না। আমাদের মাঝে সংখ্যা গরিষ্ট মানুষই আমাদের দৃশ্য জগতে বাস করে সন্তুষ্ট।

অল্প কিছু মানুষ তার মানব সত্তা ব্যবহার করে চারিদিকের ঘটনা গুলোকে অনুভব করে। এদের মাঝে যারা তার অনুভব অন্যের কাছে প্রকাশের রীতি জানে এবং ইচ্ছুক তাকে আমরা বলি জ্ঞানি, দার্শনিক, বিজ্ঞানী প্রভৃতি। আর বাকিরা দৃশ্য জগতে জীবিত থেকে এক সময় অদৃশ্য হয়ে যায়। তাদের ব্যক্তি অস্তিত্ব থাকে না আর, কারন তারা মানুষের জন্য নির্ধারিত সীমার বাইরে যায় না। শ্রেষ্ঠত্বের যে অস্ত্র, চিন্তা তার থেকে নিজেকে দূরে রাখে।

কিন্তু মহাসত্য হল ব্যক্তি অস্তিত্ব না রইলেও একটা নির্দিষ্ট সময়ের নির্দিষ্ট স্থানে মানুষের সমষ্টিগত অস্তিত্ব কখনোই মুছবার নয়। সমষ্টিগত ভাবে এরাই চিন্তাশীলদের চিন্তার রসদ জোগায়, কর্মের প্রেরণা দেয়। এরা সচেতন নয় নিজ স্বার্থ সম্পর্কে। যুগে যুগে এদের প্রকাশ হয় কখনও প্রোলেটারিয়েট হিসেবে, কখনও পরাধীন জাতি হিসেবে, কখন হরিজন হিসেবে আবার কখনও বা শুধু জনগন হিসেবে। অতএব যে ব্যক্তি স্বীয় সত্তা নিয়ে সমাজের জন্য কাজ করে সে ইতিহাসে টিকে থাকে একক অস্তিত্ব নিয়ে।

অন্যদিকে যে সামাজিক সত্তা নিয়ে অনেকের মাঝে একাকার হয়ে কাজ করে সে টিকে রয় তার সামাজিক অস্তিত্ব নিয়ে। প্রথমজন শ্রেদ্ধেয়, কিন্তু নিঃসঙ্গ। দ্বিতীয় জন কেউ না, তবুও তার সঙ্গী অনেক। যে সময়ের মানুষ আমরা এই সময়ে সবকিছুর মতই উপরের চিন্তাধারাও কেন জানি না খাটে না। এখন একজনও এমন পাই না, যাকে সক্রেটিস, প্লেটো এরিস্টোটল, নিউটন, আইনস্টাইন, আলবেরুনি, ইবনে সীনা বা ডারউইনের সাথে তুলনা করা সম্ভব।

তবে কি আমরা সকলেই সমষ্টিগত ভাবে সমাজের জন্যে কাজ করছি? কই তেমন তো দেখি না! সবাই যে যার ব্যক্তি স্বার্থে, সচেতনই ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এরা মোটেও আগের সময়ের নির্বাক, অসচেতন সাধারন জনগন নয়। নিজ স্বার্থে আঘাত এলেই এরা গর্জে উঠে। এটাই হয়ত আমাদের সময়ের সাধারণ জনগনের রূপ। এটা যদি সাধারণ মানুষের রুপ হয়, তবে এই সময়ের সৃষ্টিশীল মানুষের রূপ কেমন? তাকে কোথায় পাব? তাকে খুঁজব কোথায়? খুজতে খুজতে ক্লান্ত আমি প্রতিবারে একটা উত্তরই খুঁজে পাই।

সেটা হল, নিজের মাঝে। [পুনশ্চঃ ব্লগে এটা আমার ৫০ তম পোস্ট। প্রায় দুইবছর আগে ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০০৬ সালে গভীর রাতে ডায়েরীর পাতায় এই লেখাটা লিখেছিলাম। তখন জানতাম না ব্লগের কথা, ফলে আমার কথাও কেউ জানত না। আজ ফেব্রুয়ারির ২৯ তারিখে, ছেড়ে দিলাম।

চারবছর আগের ২৯ ফেব্রুয়ারির কথা মনে নেই। চারবছর পরে কি হবে জানি না। তবে সেদিন তখন মনে রইবে এই ২৯ ফেব্রুয়ারির স্মৃতি]

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।