আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

উদাসী কিংবদন্তী পছন্দ করে না!

আসেন দুর্নীতি করি। আর এই দুনিয়াটাকেই খুচাই!

১. খুব সুন্দর শীতের সকাল। খেতা মুড়ী দিয়ে শুয়ে ছিলো ভাইয়েরা একখাটে, আর এক খানে বাবা-মা। রাতের বেলা খুব দুস্টমী। ছোট ভাইটা মাঠে একটা পাকা পেয়ারা কুড়িয়ে পেয়েছে।

সে একা খায়নি, নিয়ে এসেছে বড় ভাইয়ের জন্য। মাকে এসে বলে বড়ভাইকে অনেকদিন পান্তা ছাড়া কিছু খেতে দেখেনি, আজ তার জন্য পেয়ারা এনেছে, আর কাল সকালে তারা খাবে খেজুড়ের রস। কানাই কাকাকে বলে এসেছে খেজুড়ের রস রেডী রাখতে। শীতের দিন গুলো তার খুবই ভালো লাগে। কত আনন্দ হয়! আসলেই তার গ্রামটা সুন্দর।

হয়তো সূর্য্যটা উঠে গেছে। তবুও শীতের কারনে উঠতে মন চাইছে না। একে তে শনের ঘর তার উপর আবার চাল হিসাবে ব্যাবহার করা পলিথিনটা নস্ট হয়ে গেছে। এখন বেশ শীত। একটু পর কারা যেনো দরজায় টোকা দিলো, বাবা কিছুক্ষন পর ঘুম উঠে দরজা খুললো।

কিছু অজানা লোকের গলা! সেদিনের পর থেকেই তারা বাস্তুহারা। কারা যেনো এসে তাদের বাস্তুভীটা, জমি দখল করেছে, সেখানে বিশাল দেয়াল দিয়ে ঘিরে ফেলেছে আজ। শুনেছে সেখানে নাকি শাড়ীর কারখানা হবে,চাকরী হবে, টাকা হবে আর হবে এক চিমটি সুখ। কিন্তু কিছুই হয়নি আজ বাবা রিক্সা চালায়, বড় ভাই লেদ মেশিনে কাজ করে। সেদিনও বড় ভাই হাত পুড়িয়ে এসেছে।

রাতে খুব কেদেছিলো। জ্বরও ছিলো। তবুও কাজে যায় সে। কাল সেও ডিসিশন নিয়েছে রাস্তায় যাবে সে কাগজ কুড়াতে। ইদানিং বস্তির এই টুকরীর ভাড়া বেড়ে গেছে।

দিনে দুই বেলা খাওয়া হয় কিন্তু পেট ভরে না তাতে। বাবাকে সে কিছু বলেও না, কারন বাবাও দিন দিন শুকিয়ে যাচ্ছে, কপালে বাড়ছে প্রতিদন চিকন চিকন দাগ। ২. আমার দেশে কিংবদন্তীরা হারিয়ে যায় কিন্তু রেখে যায় কীর্তি। তার কীর্তি মনে রাখার জন্য আমরা গড়ে তুলি বড় বড় মনুমেন্ট। মাঝে মাঝে তাদের জন্য আবেগে অশ্রু ফেলি, স্বপ্ন দেখি একটা আদর্শ দেশ গড়ার যা আজও তৈরী হয় নি।

আমাদের দেশের ফুলগুলো প্রতিদিন তাই দেখে এই বাস্তুহারার দৃশ্য, দেখে তার বড় ভাইয়ের বিপজ্জনক কাজে হাত পুড়ে যাওয়া, অথবা দেখে বাসের কন্টাক্টরী করতে গিয়ে মানুষের মার খাওয়া। সেও ভাবে এ সমাজ তাকে কি দেয়। তবু কিছু সুন্দর ফুল ভালো থাকে সহ্য করে শত কস্ট, স্বপ্ন দেখে একদিন বড় ভাই, মা-বাবা সবাইকে নিয়ে একটা পাকা পেয়ারা খেতে বসবে। পেয়ারা টা খাবার সময় বাবা একটা সুন্দর চুটকি বলবে, তার পর পেটভরে খাবে খেজুড়ের রস। ৩. আমরা কিছু করতে পারি না এসব লান্ঞ্চিত ছেলে-মেয়েদের জন্য, পারলে হয়তো এমন হতো না।

তাই শিশু শ্রম আমরা যদি ঠেকাতেই না পারি, তাহলে কি আমরা তাদের প্রতি একটা নমনীয় ব্যাবহার করতে পারি না? আজকে একুশের দিন। শুনেছিলাম আমাদের ভাষাসৈনিক রফিক নাকি ছোটবেলায় ভালো(!) গোলকীপার ছিলেন। যখন গোল খেত তখন নাকি বন্ধু বান্ধব গদাম লাথী মারতো আর বলতো,"গোল হইল কেন?" ও বলতো," শটটা অনেক জোড়ে ছিলো। " সেই খেলা দেখতে দেখতে পাশের বাড়ীর কেউ ভালো বেসেছিলো, স্বপ্ন দেখেছিলো তার সাথে বাধবে সুখের ঘর। কিন্তু কোনো এক বুলেটের আঘাতে তার স্বপ্ন গুলো হারিয়ে যায়।

তার গায়ে চড়ানো হয়নি লাল শাড়ী কোনোদিন। একজন সাদামনের মানুষ নিভৃতে সাদা শাড়ী পরে কাটিয়ে দেয় সারা জীবন একা একা! হঠাত কেনো যেনো আর কিংবদন্তীর কবিতা পড়তে ভালো লাগে না। যদি সিকান্দার আবু জাফরকে পেতাম একটা অনুরোধ করতাম,"বস আমার দেশের এসব ছোট ছোট নায়কদের নিয়ে কিছু একটা লেখেন না!তৈরী হোক কোনো অমর কিছু!"

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।