আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

ইজাহারের ছেলে হারুন গ্রেপ্তার

মুফতি ইজাহারুল ইসলামের ছেলে হারুন ইজাহারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাতে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ইছাপুর গ্রাম থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে মুফতি ইজাহার এখনো পলাতক রয়েছেন।

এদিকে, মাদ্রাসায় বিস্ফোরণের ঘটনায় আহত আরেক ছাত্র চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় গতকাল রাতে মারা গেছেন। তাঁর নাম জুবায়ের আহমেদ।

তিনি আট দিন আগে হবিগঞ্জ থেকে এই মাদ্রাসায় ভর্তি হতে চট্টগ্রামে এসেছিলেন।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের পাঁচলাইশ অঞ্চলের সহকারী কমিশনার আব্দুর রউফ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

গত সোমবার বেলা ১১টার দিকে লালখান বাজার মাদ্রাসার ছাত্রাবাসের তিনতলার একটি কক্ষে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন ছাত্র আহত হন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন গত সোমবার গভীর রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা গেছেন।

তাঁর নাম হাবিবুর রহমান। তিনি ওই মাদ্রাসার ছাত্র বলে জানা গেছে। এ ছাড়া জুবায়ের আহমেদ নামে আহত আরেকজন মারা গেছেন গতকাল। আহত অপর দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিত্সকেরা জানিয়েছেন।

ঘটনার পর ওই দিন সন্ধ্যায় পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে মাদ্রাসার ওই কক্ষের ধ্বংস্তূপ থেকে অবিস্ফোরিত তিনটি হাতবোমা এবং বোমা তৈরির উপাদান লোহার পাইপ ও মার্বেল উদ্ধার করে।

এরপর মাদ্রাসা চত্বরে অবস্থিত মুফতি ইজাহারের বাসা থেকে উদ্ধার করা হয় ১৮ বোতল অ্যাসিড-জাতীয় পদার্থ। এ ছাড়া মঙ্গলবার লালখান বাজার মাদ্রাসা থেকে আটক চার শিক্ষকসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁরা হলেন হাবিবুর রহমান, ইছহাক, মনির হোসেন, আবদুল মান্নান ও তফসির আহমেদ।

 বোমা বানানোর সময় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ এনে পুলিশ খুলশী থানায় দুটি মামলা করেছেন। বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে ও অ্যাসিড আইনে করা মামলা দুটিতে মাদ্রাসার পরিচালক ও অধ্যক্ষ মুফতি ইজাহারুল ইসলাম, তাঁর ছেলে হারুন ইজাহারসহ ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

অন্যরা হলেন সোমবার মাদ্রাসা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচ শিক্ষক-কর্মচারী, আহত চার ব্যক্তি ও অপর একজন মাদ্রাসার কর্মী। এ ছাড়া অনেক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিও জড়িত আছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

নেজামে ইসলাম পার্টির একাংশের সভাপতি ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমির মুফতি ইজাহার সোমবার বিকেল পাঁচটার পর থেকে পলাতক রয়েছেন।

এই পাঁচজনকে পরে পুলিশের করা দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে মহানগর হাকিম নূরে আলম ভূঁইয়ার আদালতে পাঁচজনকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে পুলিশ।

এই আবেদনের ওপর আজ বুধবার শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

এ ছাড়া হাসপাতালে চিকিত্সাধীন নূরনবী, সালমান ও জোবায়ের আহমেদ এবং নিহত হাবিবুরকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে পুলিশ। পরে আবেদন সংশোধন করে তা থেকে মৃত আসামি হাবিবুর রহমানের নাম বাদ দেওয়া হয়।

 

 

সোর্স: http://www.prothom-alo.com     দেখা হয়েছে বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।