আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

ট্রাইব্যুনালে আলীম

বিএনপি নেতা আবদুল আলীমের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় আজ বুধবার ঘোষণা করবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। এ জন্য আজ সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে আলীমকে ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় আনা হয়েছে।

রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এটি হবে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার অষ্টম এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর পঞ্চম রায়।

বিচারপতি ওবায়দুল হাসান, বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২ গতকাল মঙ্গলবার কার্যক্রমের শুরুতে এই মামলার রায়ের দিন ধার্য করেন।

যুক্তি উপস্থাপন শেষে গত ২২ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনাল এই মামলার রায় অপেক্ষাধীন রাখেন।

আজ রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ট্রাইব্যুনাল এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া সতর্ক অবস্থানে রয়েছে সাঁজোয়া যান। সংশ্লিষ্টদের পরিচয় নিশ্চিত ও তল্লাশি করে ট্রাইব্যুনালে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে।

সাবেক মন্ত্রী আবদুল আলীমের বিরুদ্ধে এই মামলায় গত বছরের ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের ৩৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয় চলতি বছরের ২২ আগস্ট। আসামিপক্ষের তিন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয় ২৭ আগস্ট এবং শেষ হয় ৩ সেপ্টেম্বর। রাষ্ট্রপক্ষ ৪ সেপ্টেম্বর থেকে চার কার্যদিবস এবং আসামিপক্ষ ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে পাঁচ কার্যদিবস যুক্তি দেয়।

যুক্তিতে রাষ্ট্রপক্ষ বলেছে, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালে আবদুল আলীম ছিলেন জয়পুরহাটে অপরাধের কম্পাস। তাঁর নির্দেশে ও পরামর্শে সেখানে বিভিন্ন ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়।

তবে আসামিপক্ষ যুক্তিতে দাবি করে, আলীম ভাষাসৈনিক ছিলেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তিনি ওই সময় আত্মগোপনে ছিলেন।

আলীমকে ২০১১ সালের ২৭ মার্চ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জয়পুরহাট শহরের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই বছরের ৩১ মার্চ শারীরিক অবস্থার কারণে তাঁকে জামিন দেন ট্রাইব্যুনাল-১।

গত বছরের ২৭ মার্চ তাঁর বিরুদ্ধে মামলাটি ট্রাইব্যুনাল-১ আমলে নেন। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ১৬ এপ্রিল মামলাটি ট্রাইব্যুনাল-২-এ স্থানান্তর করা হয়। ওই বছরের ১১ জুন ট্রাইব্যুনাল-২ আলীমের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের ১৭টি অভিযোগ গঠন করেন। এর মধ্যে গণহত্যার অভিযোগ তিনটি। এগুলো হলো জয়পুরহাটের কড়ই কাদিপুর গ্রামে ৩৭০ জন হিন্দুকে হত্যা, উত্তর হাটশহরে নয়জনকে এবং জয়পুরহাট চিনিকলে বিচার বসিয়ে ২৫ জনকে হত্যা।

এ ছাড়া হত্যার ১০টি এবং দেশান্তরকরণে বাধ্য করার একটি অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ গঠনের সময় আসামির পরিচিতিতে ট্রাইব্যুনাল বলেন, আলীম ১৯৩০ সালের ১ নভেম্বর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হুগলি থানার পাদুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫০-৫১ সালে তাঁর পরিবার তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তানের জয়পুরহাটে এসে বসবাস শুরু করে। ১৯৫৮ সালে তিনি মুসলিম লীগে যোগ দেন এবং ১৯৬২ সালে তিনি বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হন। একাত্তরে তিনি কনভেনশন মুসলিম লীগের প্রভাবশালী নেতা ছিলেন।

মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি জয়পুরহাটের বিশিষ্ট পাট ব্যবসায়ী শাওনলাল বাজলার গদিঘর দখল করে সেখানে পাকিস্তানি সেনাদের ক্যাম্প, শান্তি কমিটির কার্যালয়, রাজাকারদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর মেজর আফজালের জন্য থাকার ব্যবস্থা করেন। আলীম ১৯৭৯ সালে বিএনপিতে যোগ দেন এবং সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সরকারের তিনি মন্ত্রী ছিলেন।

ট্রাইব্যুনাল-২ ইতিমধ্যে চারটি মামলার রায় দিয়েছেন। এর মধ্যে চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সদস্য (রুকন) পলাতক আবুল কালাম আযাদকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ, ৫ ফেব্রুয়ারি জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন, ৯ মে আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান ও ১৭ জুলাই সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন।

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে কাদের মোল্লার রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের নিষ্পত্তিও হয়ে গেছে। আপিল বিভাগ ১৭ সেপ্টেম্বর রায়ে কাদের মোল্লাকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন।

ট্রাইব্যুনাল-১ ইতিমধ্যে তিনটি মামলার রায় দিয়েছেন। এর মধ্যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ, ১৫ জুলাই দলটির সাবেক আমির গোলাম আযমকে বয়স বিবেচনায় ৯০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ এবং ১ অক্টোবর বিএনপির নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন এই ট্রাইব্যুনাল।



সোর্স: http://www.prothom-alo.com

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.