আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

প্রভু

আমি আঁধারে তামাসায় ঘেরা জীবন দেখেছি, আমার বুকের ভেতর শূন্যতা থেকে শূন্যরা এসে বাসা বেঁধেছে, আমি খুঁজেছি তোমাকে সেই আঁধারে আমার মনের যত রঙলীলা; আজ সাঙ্গ হতেছে এই ভবের বাজারে। এই আমার বাংলাদেশ। আমাদের আসলে গর্ব করা ছেড়ে দেয়া উচিৎ। কারন এই দেশে গরীব আজীবন আরও গরীব হবে এবং বিত্তবানেরা আরও বিত্তশালী হয়ে উঠবে। আর বুদ্ধিজীবীগণ থাকবেন তাদের বুদ্ধিদিপ্তি নিয়ে আর তারা চলবেন লেজুড় ব্রিত্তি করে গাঁ বাঁচিয়ে।

তবে কি এরই নাম স্বাধীনতা। আমরা প্রতি শীত আসলেই ব্যাস্ত হয়ে উঠি শীত বস্ত্র বিতরনের জন্য কিন্তু একটিবারও এই দেশের দারিদ্রতা বিমোচনের জন্য কোন পদক্ষেপ নেই না। ভাবি শুধু আরে ভাই নিজে বাঁচলেই বাপের নাম। দেশের সরকার এবং বিরোধী দল ঠিক যেন তাই। কখনও ট্রাকের পেছনে কখনোবা খোলা ময়দানে লম্বা ভাষণ দিয়ে গরীব মানুষগুলোকে লাইনে দাড় করিয়ে ত্রান বিতরন করে বাহ বাহ কুরাচ্ছেন।

তারপর সেই মহান দানশীলতা অনেক ঘটা করে প্রচার করছেন নির্বাচনে জয়ী হবার জন্য। আর আমরা শালা বাংলাদেশী এইসব ভণ্ডামির লেজুড় ব্রিত্তি করে ঘরের ভেতর লেপ কাঁথা মুরি দিয়ে আরামাদায়ক লুঙ্গি পরিধান করে ঘুমিয়ে থাকছি। আর ঘুমের মাঝে কখন যে লুঙ্গি হারিয়ে গেছে সেই হুশ নাই কারন এরই নাম স্বাধীনতা , স্বাধীন দেশের সামাজিক দ্বায়বদ্ধতা। যখন আমার ঘরে অন্ধকার , টাকার অভাবে কেরোসিন কিনতে পারছিনা তখন কিন্তু আমার ঘরে ঝার বাতি লাগিয়ে রাখা মানায় না। ঠিক তেমনি যখন আমার দেশের অধিকাংশ মানুষই দারিদ্রসীমার নীচে বাস করছে , তখন আমাদের দামী দামী গাড়িতে করে ঘোড়া মানায় না।

আর মানাবে তখনই যখন আমরা আমাদের দেশ থেকে দারিদ্রতা পুরোপুরি দূর করতে পারব। অথচ আমরা ব্যাস্ত রয়েছি লুটপাট করে ভোগের ধান্দায়। আমি যখন ঘরে এসির বাতাস খেতে খেতে কাচ্চি বিরিয়ানি খাই ঠিক সেই সময় হাজারো মানুষ না খেয়ে ফুটপাতে জীবন যাপন করছে প্রতিটা মুহূর্ত মৃত্যুর সাথে লড়াই করে। আবার সেই ফুটপাথের পাশ দিয়ে আমি যখন হেটে যাচ্ছি তখন আবার নাক বন্ধ করে বমি করে দিচ্ছি। তাই আজ আমার নিজেকে কুলাঙ্গার বলে মনে হয়।

আমার মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিৎ। প্রভু --------------------------------------- উদ্ভ্রান্ত উদ্বাস্তু আমি একজন যাযাবর, আমাকে করেছি আমি পর, আমি নইত আমার। আমাকে দিয়েছি তুলে পৃথিবীর অমাবস্যায়, বৃক্ষ কর্তনে বৃক্ষের যন্ত্রণায়। শীতের শৈত্য প্রবাহে পথের ধারে যে মানুষ কেঁপে – কেঁপে; মৃত্যুর প্রতীক্ষায়, মৃত্যুর যন্ত্রণায়, পথেই পরে রয়; আমি তাকে পারিনি দিতে; বেঁচে থাকার ঠাই। মৃত্যুর পরেও পারিনি দিতে; আমি তাকে মৃত্যুর ঠাই।

ক্ষমা করে দিও আমায়, “প্রভু” উৎসর্গ হে মানুষ তোমাকে যে তুমি শুয়ে আছো ওইভাবে ফুটপাথে  ।

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।