আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

ফেনীর পুলিশফাঁড়িতে হামলা সারা দেশে সংঘর্ø

ব্যাপক সংঘর্ষ ও দুজনের প্রাণহানির মধ্য দিয়ে পার হয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮-দলীয় জোটের ডাকা ১৩১ ঘণ্টা অবরোধের পঞ্চম দিন। ফেনীতে হামলা চালানো হয়েছে পুলিশফাঁড়িতে। এখানে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন যুবদলের এক নেতা। কিশোরগঞ্জে পিকেটারদের ধাওয়া খেয়ে পিকআপ উল্টে নিহত হয়েছেন চালক। গাজীপুরে মিছিলে পুলিশের এলোপাতাড়ি গুলিতে আহত হয়েছেন জেলা বিএনপির সভাপতিসহ অর্ধশত। গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়েছে অবরোধকারীরা। সাতক্ষীরায় আওয়ামী লীগ কর্মীকে কুপিয়ে জখম করেছে শিবির কর্মীরা। রাজধানীতে বাসে ফের ছোড়া হয়েছে পেট্রল বোমা। এ ছাড়া বিভিন্ন জেলায় যানবাহনে ভাঙচুর এবং পুলিশ, সরকার সমর্থক ও বিরোধীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশসহ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন শতাধিক। আহত হয়েছেন সাংবাদিকসহ তিন শতাধিক ব্যক্তি। আর গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৫০ জনেরও বেশি। নিজস্ব প্রতিবেদক ও জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

ফেনী : বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন নগর ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি হারুনুর রশিদ হারুন। এ সময় গুলিবিদ্ধ হন তিন পুলিশসহ আটজন। এ ঘটনায় অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছে। অবরোধকারীরা শহর পুলিশফাঁড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে। দলীয় নেতা হত্যার প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে জেলা বিএনপি। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বিকেল ৪টার দিকে অবরোধের সমর্থনে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের একটি মিছিল শহরের ওয়াপদা মাঠ থেকে শহিদুল্লা কায়সার সড়ক দিয়ে ডাক্তারপাড়া মোড়ে পেঁৗছায়। আসার সময় তারা সড়কের দুই পাশের ভবনে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ও বেশ কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। পরে ডাক্তারপাড়া মোড়ে এসেও পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে তারা। দুই ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ চলাকালে অবরোধকারীরা শহিদুল্লা কায়সার সড়কে পুলিশফাঁড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। দুই পুলিশকে গুলি করে এবং একজনকে পিটিয়ে জখম করে তারা। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অবরোধকারীদের ওপর দুই শতাধিক রাউন্ড টিয়ার শেল ও শটগানের গুলি ছোড়ে পুলিশ। এ ঘটনায় শহর পুলিশফাঁড়ির তিন সদস্য কনস্টেবল মো. শামসুদ্দিন, মো. মাঈনুদ্দিন, মো. আকতার হোসেনসহ আটজন গুলিবিদ্ধ হন। গুলিবিদ্ধ হারুনকে হাসপাতালে নেওয়ার পর হারুনের মৃত্যু হয়।

কিশোরগঞ্জ : সদর উপজেলার চৌদ্দশত বাজারের কাছে পিকেটারদের ধাওয়া খেয়ে পিকআপ উল্টে চালক নিহত ও অন্তত ১০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে পিকআপটি ইটভাটার শ্রমিক নিয়ে কুমিল্লা যাওয়ার পথে সদরের চৌদ্দশত বাজারের কাছে অবরোধকারীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এ সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা লেগে উল্টে যায়। এতে চালকসহ অন্তত ১১ জন যাত্রী আহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পর চালক উজ্জ্বল সরকার মারা যান। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। টঙ্গী (গাজীপুর) : সকালে পুবাইল মীরের বাজার এলাকায় টঙ্গী-কালিগঞ্জ সড়কে ১৮-দলীয় জোটের মিছিলে গুলি চালিয়েছে পুলিশ। এতে গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি এ কে এম ফজলুল হক মিলন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম বিকিসহ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন অর্ধশত ব্যক্তি। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন পুলিশও আহত হয়েছেন। এ সময় সাতজনকে আটক করেছে পুলিশ। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, জেলা বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক মিলনের নেতৃত্বে মীরের বাজার এলাকায় একটি মিছিল টঙ্গী-কালিগঞ্জ সড়ক অবরোধের চেষ্ট করে। এ সময় ট্রেনসহ ভাঙচুর করা হয় বেশ কয়েকটি গাড়ি। পুলিশ এতে বাধা দিলে সংঘর্ষ বেধে যায়। এ সময় পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং মিছিলে এলোপাতাড়ি শটগানের গুলি ছোড়ে। এতে গুলিবিদ্ধ হন ফজলুল হক মিলনসহ অন্তত ৫০ জন। আহতদের মধ্যে ১৮-দলীয় জোটের নেতা-কর্মী, পুলিশ এবং পথচারীও রয়েছেন। তাদরে আটজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। প্রতিবাদে আজ বৃৃহস্পতিবার সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে বিএনপি।

গাইবান্ধা : গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মোস্তাফিজার রহমান নজমুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করেছে অবরোধকারীরা। পলাশবাড়ীর সাবদিন খাসারবাজার এলাকায় বেলা দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় তার মোটরসাইকেলটি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। এদিকে হামলার প্রতিবাদে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের কোমরপুর বাজার এলাকায় জামায়াত-শিবির সমর্থকদের কয়েকটি দোকানঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে আওয়মী লীগ কর্মীরা।

নেত্রকোনা : নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পূর্বধলার হিরণপুর নামক স্থানে সকালে আওয়ামী লীগ ও পুলিশের সঙ্গে বিএনপির সংঘর্ষে একজন গুলিবিদ্ধ ও পুলিশসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন নবাবের গায়ে তিনটি গুলি বিদ্ধ হয়। তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে পুলিশ রাবার বুলেট ছোড়ে। আহত হয়েছেন সাংবাদিক ও পুলিশের দুই কনস্টেবলও। সাতক্ষীরা : সদর উপজেলার বাঁকাল এলাকায় আবদুস সাত্তার জুয়েল নামের এক যুবলীগ কর্মীকে সকালে কুপিয়ে জখম করেছে অবরোধকারীরা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জুয়েল সদর উপজেলার ভোমরা ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। সদর থানার ওসি ইনামুল হক জানান, জুয়েল ভোমরা থেকে মোটরসাইকেলে সাতক্ষীরায় আসছিল। বাঁকাল ব্রিজ এলাকায় শিবির কর্মীরা তাকে কুপিয়ে জখম করে এবং ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। ঝিনাইদহ : শহরতলির আরাপপুুরে বাসস্ট্যান্ডে বিএনপির কেন্দ ীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মসিউর রহমানের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল বের করলে পুলিশ বাধা দেয়। একপর্যায়ে শুরু হয় সংঘর্ষ। এ সময় পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ ও ১৫ রাউন্ড গুলি ছুড়লে চার যুবদল কর্মী এবং অবরোধকারীদের ইটের আঘাতে পুলিশের তিন সদস্য আহত হন। তিন বিএনপি নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রংপুর : পীরগঞ্জ উপজেলায় পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষে ১৫ জন আহত হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে যুবদল ও ছাত্রদলের ছয় কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। বেলা সাড়ে ১২টায় উপজেলার আংরার ব্রিজ অবরোধ করে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা। পুলিশ বাধা দিলে সংঘর্ষ বাধে। বরিশাল : পুলিশের সঙ্গে বিএনপি কর্মীদের সংঘর্ষ, গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়কে প্রতিবন্ধকতা, বিক্ষোভ মিছিল, বিচ্ছিন্ন পিকেটিং এবং ককটেল বিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে টানা অবরোধের পঞ্চম দিন অতিবাহিত হয় বরিশালে। বেলা সাড়ে ১১টায় বাবুগঞ্জ উপজেলা শ্রমিক দল ও ছাত্রদলের অন্তত ২০০ নেতা-কর্মী বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের সাতমাইল এলাকায় গাছের গুঁড়ি ফেলে বিক্ষোভ করে। এ সময় পুলিশ ধাওয়া করলে বিএনপি কর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। বিএনপি কর্মীদের প্রতিরোধের মুখে টিকতে না পেরে পুলিশ ১৮ রাউন্ড টিয়ার শেল এবং রাবার বুলেট নিক্ষেপ করলে অবরোধকারীরা আরও বিক্ষুব্ধ হয়ে দুই পুলিশ সদস্যকে মারধর করে। সংঘর্ষে দুই পুলিশসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের হটিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। সিলেট : সিলেট নগরীর সোবহানীঘাটে মিছিল থেকে স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা দুটি গাড়িতে আগুন দিয়েছে। ভাঙচুর করেছে ১০টি গাড়ি। এ সময় নেতা-কর্মীরা বেশ কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। সন্ধ্যা ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ তিনজনকে আটক করেছে। কোতোয়ালি থানার ওসি আতাউর রহমান জানান, মিছিল থেকে একটি সিএনজি অটোরিকশায় আগুন দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এদিকে গতকাল সিলেটে পৃথক মিছিল সমাবেশ করেছে ১৮ দলীয় জোট ও বিএনপির অঙ্গ-সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। দক্ষিণ সুরমার কদমতলী, কিনব্রিজের দক্ষিণ প্রান্ত ও হুমায়ূন রশীদ চত্বরে এ মিছিল-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। টাঙ্গাইল : টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ১০ সহস্রাধিক লোক রাস্তায় নেমে এসে গণঅবস্থান নিয়ে অবরোধ কর্মসূচি পালন করে। এ সময় তারা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কুশপুত্তলিকা দাহ, বিক্ষোভ মিছিল করে। সকাল থেকে কেন্দ্রীয় বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক সাবেক প্রতিমন্ত্রী লুৎফর রহমান আজাদের নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে উপজেলা সদরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়ক অবরোধ করে রাস্তায় বসে অবস্থান নেন। বগুড়া : বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বগুড়া জেলা সভাপতি ভিপি সাইফুল ইসলাম বলেছেন, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক ছাড়া আর কোনো নির্বাচন নয়। আন্দোলন শুরু হয়েছে। এর ফসল ঘরে তুলতে হবে। এক বিন্দু ছাড় দেওয়া হবে না। নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার আর নির্যাতন করে লাভ নেই। আমরা রাজপথে আছি। গণমানুষের অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরছি না। শেখ হাসিনার পতন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। পতন হলে ভিনদেশে পালানোর পথ খুঁজে পাবে না। তিনি গতকাল বিকালে বগুড়া শহরের সেউজগাড়ী মোড়ে হরতাল ও অবরোধের সমর্থনে ১৮ দলের সমাবেশে এসব কথা বলেন। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপি নেতা জয়নাল আবেদিন চান, মোস্তফা আলী মুকুল এমপি, মুক্তিযোদ্ধা মো. শোকরানা, বগুড়া জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন, জেলা জাগপার সভাপতি আমীর হোসেন মণ্ডল, ইসলামী ঐক্যজোটের মাওলানা আবদুল ওয়াহেদ, মেহেদী হাসান হিমু প্রমুখ। নরসিংদী : নরসিংদীতে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ, মহাসড়ক অবরোধ ও মিছিল সমাবেশের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে ১৮ দলের ডাকা অবরোধ। গতকাল বেলা ১১টার দিকে কেন্দ্রীয় বিএনপির শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকনের নেতৃত্বে জেলা স্টেডিয়ামের সামনে থেকে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে। অবরোধকারীদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। পুলিশের লাঠিচার্জ ও ইটপাটকেলের আঘাতে ১০ নেতা-কর্মী আহত হয়। ৩টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় অবরোধকারীরা। মেহেরপুর : মেহেরপুরের রাজনগরে অবরোধ করে ১৮ দলীয় জোটের নেতা-কর্মীরা। রাস্তায় গাছ কেটে, আগুন জ্বালিয়ে সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। মহিলা জামায়াতের একটি দলও গতকাল অবরোধে অংশ নিয়েছে।

পিরোজপুর : পিরোজপুরে অবরোধ সমর্থনে মিছিল সমাবেশ ও বিভিন্ন সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে বিএনপি নেতা-কর্মীরা। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে সকালে দলীয় কার্যালয় থেকে মিছিল শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুরাতন ডিসি অফিস চত্বরে সমাবেশে মিলিত হয়। কুড়িগ্রাম : ১৮ দলের ডাকা টানা সপ্তাহব্যাপী অবরোধের পঞ্চম দিনে কুড়িগ্রামে বিক্ষোভ মিছিল ও সারা দিন বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করেছে জামায়াতসহ ১৮ দলীয় নেতা-কর্মীরা। নোয়াখালী : নোয়াখালীর বাণিজ্যিক শহর চৌমুহনীতে অবরোধকারীদের মিছিল থেকে অন্তত ১২টি ককটেলের বিস্ফোরিত হয়। সকালে টায়ারে আগুন দিয়ে ও গাছের গুঁড়ি ফেলে নোয়াখালী-ফেনী-লক্ষ্মীপুর মহাসড়ক অবরোধ করে বিএনপি-জামায়াতের কর্মীরা। এ ছাড়া জেলা শহর মাইজদী, সোনাইমুড়ী, সেনবাগ ও চাটখিলে অবরোধের সমর্থনে মিছিল বের করে ১৮ দল। নাশকতা ঘটানোর অভিযোগে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের ১৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

মুন্সীগঞ্জ : মুন্সীগঞ্জের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবস্থান নেন অবরোধকারীরা। সকালে জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল হাইয়ের নেতৃত্বে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতারা পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গজারিয়া উপজেলার ভবেরচরে অবস্থান নেন। এ সময় সেখানে ১০টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায় তারা। আধা ঘণ্টা অবস্থান নিয়ে দুপুর ১২টায় অবরোধকারীরা মহাসড়ক থেকে সরে যায়। এর আগে অবরোধকারীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এসব তথ্য দিয়ে ভবের চর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম জানান, মহসড়কে এখন যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। পাবনা : পাবনায় বিভিন্ন মহাসড়কে গাছ ও গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ করে ১৮ দলীয় জোটের নেতা-কর্মীরা। পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে ঢাকা-পাবনা বাইপাস মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ ও সমাবেশ করেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পাবনা-নগরবাড়ি মহাসড়কের রাজাপুর, ক্যালিকো, জালালপুর, ধোপাঘাটা, বাঙ্গাবাড়িয়া, পুষ্পপাড়া, মধুপুর, কোলাদী এবং উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার ঈশ্বরদী উপজেলার কুষ্টিয়া-ঢাকা মহাসড়কের দাশুড়িয়া, কোলেরকান্দী বটতলা, নুতনহাট গোল চত্বর, দিয়াড় বাঘইল, ঈশ্বরদী রেলগেট, গোকুলনগরসহ বিভিন্ন পয়েন্টে অবরোধ ও সমাবেশ করে। দিনাজপুর : দিনাজপুরের সদর উপজেলার জামতলীতে অবরোধের পঞ্চম দিনে সকাল থেকেই অবরোধকারীরা লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দিনাজপুর সদর উপজেলার জামতলী নামক স্থানে অবস্থান নেয়। সেখানে তারা দিনাজপুর-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশের একটি দল সেখানে গিয়ে বাধা দিলে অবরোধকারীরা পুলিশকে ধাওয়া করে। এ সময় পুলিশ আত্দরক্ষার্থে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। এরপর বিএনপি-জামায়াত জোটের নেতা-কর্মীরা লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দিনাজপুর-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। বাগেরহাট : লাগাতার অবরোধের কারণে মংলা বন্দর থেকে পণ্য আমদানি-রপ্তানি প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। বন্দরে আমদানিকৃত প্রায় ৩০০ কনটেইনার আটকা পড়েছে। মংলা-খুলনা, মংলা-ঢাকা ও বাগেরহাট-খুলনা মড়াসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে বিএনপিসহ ১৮ দলের নেতা-কর্মীরা সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ করে। মৌলভীবাজার : মঙ্গলবার রাত থেকে গতকাল বিকাল ৩টা পর্যন্ত অবরোধ চলাকালে জেলা সদর ও রাজনগর উপজেলায় ৮টি গাড়ি ভাঙচুর করেছে অবরোধকারীরা। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৭টায় রাজনগর উপজেলার মৌলভীবাজার-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কের চৌধুরীবাজারে ১টি ট্রাক ও ২টি সিএনজ&

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.