আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

বিজয়ের দিন আজ

পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাজিত করার দিনটি প্রতি বছর উদযাপিত হলেও তা মলিন করত একাত্তরের হানাদার বাহিনীর দোসরদের আস্ফালন।
এবার তা মুছে ফেলে নতুনভাবে বিজয়ের বার্ষিকী উপযাপনের প্রস্তুতিতে সবাই থাকলেও নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনৈতিক সংঘাতের মধ্যেই রোববার উদযাপন করতে হচ্ছে বিজয়ের ৪২তম বার্ষিকী।
নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর আসে বাঙালির চূড়ান্ত বিজয়ের দিন। একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনীর দোসরদের সঙ্গ নিয়ে গণহত্যায় যারা জড়িত ছিল, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ফলে তারা চলে যায় ধরা-ছোঁয়ার বাইরে।
বহু প্রতীক্ষা শেষে চার দশক পর শুরু হওয়া যুদ্ধাপরাধের বিচারের রায় আসার পর গত ১২ ডিসেম্বর ফাঁসিতে ঝোলানো হয় জামায়াতে ইসলামীর নেতা আব্দুল কাদের মোল্লাকে।


এই বিচার দাবির আন্দোলনের নেতা মুশতারী শফীর ভাষায়- “এটা নতুন বিজয়। ৪২ বছর পর নতুন বিজয় পেলাম। ’
একাত্তরে স্বামী, ভাই, ভগ্নিপতি হারানো মুশতারী শফীর মতো অনুভূতি স্বজন হারানো সবারই। সেই অনুভূতি নিয়েই নতুন সূর্যোদয়ের সঙ্গে বিজয় দিবস উদযাপনে শামিল হবে সবাই।
ভোরে সুর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে (পুরনো বিমানবন্দর) ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে মহান বিজয় দিবসের কর্মসূচি শুরু হবে।

এরপর সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় প্যারেড স্কোয়ারে তৈরি করা হবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জাতীয় পতাকা।
বিকালে গণজাগরণ মঞ্চের উদ্যোগে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমবেত কণ্ঠে গাওয়া হবে জাতীয় সঙ্গীত, যে উদ্যান থেকেই বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ডাক এসেছিল এবং যেখানে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পণও করেছিল।
ভোরে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ফুল দেবেন। এরপর শহীদদের প্রতি সবার শ্রদ্ধার ফুলে ভরে উঠবে স্মৃতিসৌধ।
দিনটি উপলক্ষে সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে।

নির্বাচনের কারণে এবারের বিজয় দিবসের কুজকাওয়াজ হচ্ছে না।
বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনায় এরই মধ্যে হয়েছে আলোকসজ্জা। রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও সড়ক দ্বীপগুলো জাতীয় পতাকা ও রঙ-বেরঙয়ের পতাকায় সাজানোর ব্যবস্থা হয়েছে।
জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ সব ধর্মের উপসানালয়ে হবে মোনাজাত ও প্রার্থনা। হাসপাতাল, জেলখানা, বৃদ্ধাশ্রম, এতিমখানা, শিশুপরিবার ও ভবঘুরে প্রতিষ্ঠানগুলোয় উন্নতমানের খাবার সরবরাহ করা হবে।


বিজয়ের এই দিনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া বাণী  দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেছেন, “দেশ ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে আমাদের অমিত সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে। তাই আসুন, স্বাধীনতার সুফলকে জনগণের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিতে আমরা দলমত নির্বিশেষে সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশ গড়ার কাজে অবদান রাখি।
“সম্মৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে সমন্বিত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবো, মহান বিজয় দিবসে এই হোক আমাদের অঙ্গীকার। ”
প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, “...এবার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হয়েছে।

রায় আসছে। এসব রায়ও কার্যকর করে বাংলাদেশকে অভিশাপমুক্ত করা হবে।
“আমরা ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত, সমৃদ্ধ, শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে গড়ে তুলবো। জাতির পিতার সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন পূরণ করব। এজন্য উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হবে।


বিরোধীদলীয় নেতা তার বাণীতে বলেছেন, “স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে আমাদের গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত হয়েছে, জনগণের মৌলিক ও মানবিক অধিকার খর্ব হয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই এদেশের গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষ লড়াই-সংগ্রামের মাধ্যমে গণতন্ত্র ও মৌলিক অধিকার পুনরুদ্ধার করেছে।
“...ওদের হাত থেকে প্রিয় মাতৃভূমির স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং গণতন্ত্রকে বিপদমুক্ত করতে স্বাধীনতা যুদ্ধের চেতনায় বলীয়ান হয়ে আমাদের জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। ”
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, বিরোধী দল বিএনপি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল দিবসটি উপলক্ষে পৃথক কর্মসূচি দিয়েছে।


সোর্স: http://bangla.bdnews24.com

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.