আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

সভ্য শুয়োর

মাথা নিচু করে হাঁটতে থাকা নাহার ভেবে পায়না কোন্‌দিকে যাবে। অফিস থেকে বেরিয়ে বাস স্ট্যান্ড পর্যন্ত চলে গিয়েছিলো পুরোনো অভ্যাস বসত। গত ন'মাস সে এই একই রুটে চলেছে। বাসের কিছু নিয়মিত হ্যালপার পরিচিত
হয়ে গিয়েছিলো। ওদেরই একজনের তাগাদায় হুস হয়।

সেই শুরু উদ্দেশ্যহীন হাটা। উদ্দেশ্যহীন ঠিক না, বলা যেতে
পারে সিদ্ধান্তহীন। যতোবারই সে গন্তব্য স্থির করতে চাচ্ছে, ততোবারই বুকের ভেতর থেকে দলা বেঁধে উপচে আসছে কান্না। দুমড়ে মুচড়ে যাচ্ছে ভিতরটা।
'অ্যাই রিক্সা, বেইলী রোড......
'আশি ট্যাকা আফা'।


নাহার রিক্সায় উঠে। চোখ মোছে। মন শক্ত করার চেষ্টা করে। পারেনা। ঢুকরে কেঁদে ফেলে।

বয়স্ক রিকশাওয়ালা একবার পেছন ফিরে তাকায়, অন্ধকারে বুঝে উঠতে পারেনা। সামনে মনোযোগ দেয় আবার। পল্টন পেরোবার পর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে নাহার।
'চাচা থামেন'।
রিক্সা ছেড়ে বাসে উঠে নাহার।

বাস চলতে শুরু করার পর আবার দ্বিধান্বিত। ঠিক হবে? ব্যাগটা খুলে সেল ফোনটা হাতে নিয়ে একটুখানি ভাবে। 'স্যার, আমি কি আজ রাতটা আপনাদের বাসায় থাকতে পারি?’ আবারো বুক ছাপিয়ে কান্না পায়, চেপে যায় নাহার। বড্ড অসহায় লাগে নিজেকে।
'চলে আসো, তোমার চাচী একটু বাইরে গেছে, চলে আসবে তুমি আসার আগেই'।


'থ্যাংক ইউ স্যার, থ্যাংক ইউ ভেরি মাচ'। '
ভীষণ কৃতজ্ঞতায় ভরে যায় মনটা। মনে মনে সে আবার বলে, 'অনেক ধন্যবাদ স্যার'। জ্যাম ঠেলে বাস এগিয়ে যায় মন্তর গতিতে। সিটে গা এলিয়ে মাথাটা ঠেসে দেয় জানালায়।

সরিয়ে নেয় একটু পর, ঝাঁকুনি মাথায় লাগছে। অস্থির লাগে। আমি কি বুঝিনি এমনটা হবে? নিজেকেই প্রশ্ন করে নাহার। নয় মাসের বিবাহিত জীবনের শেষ তিনমাসের প্রতিটি ক্ষণে প্রতিটি মুহূর্তে সে বুঝতে পেরেছে ভয়াবহ চোরাবালিতে সে আটকে গিয়েছে। প্রতি পদক্ষেপে সে বুঝতে পারে ভুলগুলো।

কিন্তু রাস্তা বন্ধ। মুক্তির রাস্তা তৈরি করার সাহস তার ছিলোনা, সময়টাও তার প্রতিকুলে। তাই প্রচন্ডভাবে আঁকড়ে ধরে, চাওয়া-পাওয়া জলাঞ্জলি দিয়েও সে চেয়েছিলো কোনক্রমে বেঁচে থাকতে। জীবনটাকে টেনে নিতে। পারেনি।

কিছুই পারেনি নাহার। মাঝে মাঝে নাহারের মনে হয়েছে গ্রাম থেকে আসাটাই উচিৎ হয়নি তার। এতোগুলো বছর ঢাকা শহরে কাটিয়েও নাহার ঢাকা শহরের কেউ হতে পারেনি, ঢাকাও তার হয়ে উঠেনি। এসএসসি, এইচএসসি'তে অসম্ভব ভালো রেজাল্ট তাকে টেনে এনেছিলো যশোর থেকে ঢাকায়।
'আপা, ফার্ম গেইট'।


হকচকিয়ে নেমে পড়ে নাহার। একগাদা সঙ্কোচ আর আস্বস্তি নিয়ে সে ডোর বেল টিপে সাজ্জাদ সাহেবের বাসায়।
'এসো, ফ্রেশ হয়ে নাও, যা লাগবে চেয়ে নিও চাচীর কাছে'।
আবারো কৃতজ্ঞতায় ভরে যায় নাহারের মনটা। একবারও প্রশ্ন করলোনা, বিব্রত করলোনা লোকটা।

এতোটা আশা করেনি সে। মাস ছয়েক আগেই সাজ্জাদ সাহেব অন্য কোম্পানিতে উচ্চপদে জয়েন করেছেন, প্রায়ই খবর নিতেন, সেই সুবাদে কিছুটা জানে অবস্থাটা। একই অফিসে থাকার সময় খুকী বলে ডাকতেন, স্নেহ করতেন খুব, সেই সূত্রে ঢাকা শহরে নির্ভর করার মতো কাউকে ভাবলে সাজ্জাদ সাহেবের কথাই মনে আসে সবার আগে।
রাতের খাবার শেষে সাজ্জাদ সাহেবের স্ত্রী বললেন 'শুয়ে পড়ো আজ, কাল শুনবো তোমার কথা, আজ বিশ্রাম নাও। সঙ্কোচ করোনা'।


জান্নাতুল ফেরদৌস নাহার। বয়স আটাশ। খুবই নিম্নবিত্ত ঘরে জন্ম। ছিপছিপে গঠন না হলেও ভারি নয় শরীর। চেহারায় তীব্র লাবণ্যতা বলতে যা বোঝায় সেটি নেই, গায়ের রঙ যতোটুকু কালো হলে বাবা মা মেয়েকে শ্যমলা বলে, নাহারের গায়ের রঙ সেরকম।

সুন্দর গুছিয়ে কথা বলতে পারে। খুব গাম্ভীর্য নেই, কিন্তু হালকা আড্ডায় স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেনা ঠিক। সবার সাথে মানিয়ে নেয়ার অবিশ্বাস্য ক্ষমতা আছে তার। সবচে' উজ্জ্বল দিক হচ্ছে তার পড়াশুনা। এসএসসি, এইসএসসি দুটোতেই যশোর বোর্ডে প্লেস করেছে সে।

তার গ্রামেতো বটেই, তার স্কুল এবং কলেজে সে-ই প্রথম বোর্ডে মেধাতালিকায় স্থান পাওয়া ছাত্রী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির পর একনাগাড়ে লড়ে গেছে অর্থ এবং পড়াশুনা দু'টোর পিছনেই। নিজের খরচতো মিটিয়েছেই, কখনো সখনো বাবাকেও সামান্য কিছু দিয়েছে। বড়ভাই থেকেও নেই। নিজের বউ বাচ্চা নিয়ে আলাদা থাকে, কারো সাথেই যোগাযোগ নেই।

ছোটবোন স্কুলে পড়ে, ছোটভাই বাউণ্ডুলে। পরিবারে সে-ই প্রথম কলেজ পেরিয়েছে। এমবিএ শেষ করার পর যোগ দিয়েছে একটি প্রাইভেট ফার্মে। পেশাগত ট্রেনিঙে এসে পরিচয় হয় আসিফের সাথে। ভালো ট্রেইনার, বুদ্ধিদ্বীপ্ত প্রেজেন্টেসান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলো। পরিচয়ের অল্প কদিনের
মাথায় বিয়ের প্রস্তাব দেয় নাহারকে। নাহার ধন্ধে পড়ে যায়। বাবা মা'কে জানায়।
'
‘আমরা কি বলবো মা, অতো বুঝিওনা, তুমি পরিচিতদের সাথে আলাপ করে যা ভালো বুঝো কর'।


'আব্বা, আরেকটা সমস্যা আছে'।
'কি মা'?
'ছেলে আগে একবার বিয়ে করেছিলো, একটি ছেলেও আছে, ডিভোর্স হয়েছে বছর খানেক, কারো সাথে যোগাযোগ নেই'।
'মা'রে, আমিওতো দুইবার বিয়ে করেছি, তোমার বড়ভাইয়ের মা মারা যাবার পর তোমার মা'কে ঘরে আনি, তোমার মা কখনো কোনো অভিযোগ করেনি, তোমার বড়ভাইকে কোলে পিঠে করে মানুষ করেছে, সে আজ আলাদা থাকে সেটা তোমার মায়ের কারণে নয়, সেটা তার নিজের সমস্যা। মন যদি পরিষ্কার থাকলে সমস্যা হবেনা। কিন্তু সে যদি তোমার কাছে কিছু গোপন করে তাহলে তুমি কষ্ট পাবে ভবিষ্যতে।

ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিও। তোমার সিদ্ধান্তকে আমরা মেনে নিবো'। গ্রামের নিরক্ষর বাবা মা'র আর কিছু বলার ছিলোনা।
'দেখো বিষয়টা নির্ভর করছে সে মানুষ হিসেবে কেমন তার উপর। সবচে' ভালো হতো যদি তার আগের স্ত্রীর সাথে কথা বলা যেতো, সেটা চেষ্টা করে দেখতে পারো।

যদিও কোন মানে নেই তারপরও বলি সন্তান হবার পর খুব আত্মকেন্দ্রিক না হলে আমাদের সমাজে বিয়ের সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়না। কোন একপক্ষ খুব অ্যারোগেন্ট না হলে এমনটা সাধারণত হয়না। আমি অফিসে যতোটুকু খবর নিয়েছি তাতে যা পেলাম সেটা পজিটিভ। একাডেমিক্যালি খুব ভালো, বিসিএস কোয়ালিফাই করে কিছুদিন জব করেছে। পরে আইবিএ হয়ে আমাদের প্রতিষ্ঠানে।

কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনাচার আমি কিছু জানিনা। তুমি বরং ও যেখানে কাজ করে ওদের কাছে খবর নাও'।
এই ছিলো সাজ্জাদ সাহেবের মূল্যায়ন। নাহার আর খবর নেয়নি। সে মুগ্ধ ছিলো আসিফের কথায়, আচরণে, একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ডে।

নিজের পাত্রের খবর নিজে নিতেও কুণ্ঠিত ছিলো সে। যুক্তি সাজিয়েছে এভাবে যে, আমিতো আহামরি কিছুনা। ওর অতীত নিয়ে ঘাটাঘাটি করে খুঁচিয়ে কি হবে। তাছাড়া সে প্রেমের প্রস্তাব দেয়নি, কোথাও বেড়াতে যাওয়ার কথাও বলেনি, যতোটুকু ফোনে এবং সরাসরি কথা হয়েছে শালীনতার মধ্যেই হয়েছে। তাছাড়া ব্যক্তিজীবনের এই ডিস্‌পিউট নিয়ে অফিস কলিগের সাথে শেয়ার করতে ইচ্ছে করেনি।

পজেটিভলি এগিয়েছে। ঢাকায় নিজের আত্মীয় বলতে কেউ নেই যে খবর নিবে পারিবারিক বিষয়গুলো। মনকে বুঝিয়েছে মানুষকে বিশ্বাস করলে ঠকতে হবেনা। সে এগিয়েছে। আসিফের মায়ের সাথে একবার কথা সে বলেছে।

উনি শুধু এটুকু বলেছেন যে, সে একরোখা, আমাদের সাথে ততোটা সহজ সম্পর্ক না যতোটুকু হওয়া উচিৎ, কিন্তু বৈরিতা নেই। নাহার ভাবেনি, মনে হয়েছে এককেন্দ্রিকতা।
বিয়ের পরদিনই ওরা চলে যায় সিঙ্গাপুর। হানিমুন শেষে আসিফকে নিয়ে নিজেদের গ্রামের বাড়ি ঘুরে এসেছে। কোন সমস্যা চোখে পড়েনি।

সাবলীল ছিলো সবকিছু। যেদিন সে আবিষ্কার করে সে কনসিভ্‌ করেছে সেদিন থেকেই নতুন করে চেনা শুরু আসিফকে।
'চলো কাল নার্সিং হোমে যাই'।
নাহার আসিফের কেয়ারিং দেখে খুশি হয়। 'নার্সিং হোমে না গিয়ে কোন স্পেশালিষ্ট দেখালে ভালো হতোনা?' নাহার নিজের আগ্রহটা প্রকাশ করে।


'স্পেশালিষ্ট লাগেনা, ছোটখাটো ডিএন্ডসি ইন্টার্র্নিরাই করতে পারে এখন। '
'মানে কী, কেন?!’ নাহার হতভম্ব হয়ে প্রশ্ন করে।
'আমি বলেছি তাই। সময় আছে অনেক, পরে এসব নিয়ে ভাবা যাবে'।
তুমি বুঝতে পারছোনা আসিফ, আমার বয়সের সাথে জটিলতা বাড়তে থাকবে যদি এই ইস্যুটাকে ওয়েলকাম না করি'।


আসিফ কোন কথা শুনেনি। নার্সিং হোমে নাহারকে যেতে হয়েছে। ডাক্তার নিষেধ করেছিলেন পরবর্তী কিছুদিন শারীরিক সম্পর্ক এড়িয়ে চলতে। শুনেনি। বাধা দিলেই আসিফ বলেছে সে চায়না তাকে কোন হোটেলে রাত কাটাতে হোক।

নাহার হকচকিয়ে গিয়েছিলো। তার মোহ ভাঙতে শুরু করে আস্তে আস্তে। সে আবিষ্কার করতে থাকে প্রথম স্ত্রীর সাথে আসিফের যোগাযোগ আছে। সেইসাথে বিভিন্ন মেয়েদের সাথে অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়গুলোও সে আবিষ্কার করতে শুরু করে। যৌন সম্পর্কের বিষয়ে আসিফকে ঠিক স্বাভাবিক মানুষ মনে হয়না নাহারের।

জঘন্য আচরণ মনে হয়। আসিফ ক্রমে নাহারের বেতনের টাকাও প্রায় পুরোপুরি দখল করে বসে। না দিতে চাইলে হাত চলে। যুক্তি- শেয়ার বাজারে প্রচুর লোকসান হয়েছে। ঋণ পরিশোধ করতে হচ্ছে।

চাপ দেয় অফিস থেকে লোন করার জন্য। নাহার সেটাও করে দেয়। যখনি ইচ্ছে শারীরিক সম্পর্ক করা চাই। বিচিত্র তার চাহিদা। অনেক সময় কুরুচিপূর্ণও।

কখনো রেপ মনে হয়, জঘন্য যন্ত্রণার। নাহার সয়ে যায়। হাত উঠতে থাকে নিয়মিত। কারণে, অকারণে। একসময় চাপ দেয় 'চাকরী ছেড়ে দাও।

'
'কেন'?
'আমি প্রশ্ন পছন্দ করিনা, আমার সাথে থাকতে গেলে আমি যা চাইবো সেটাই করতে হবে'।
'আমার পরিবার কিছুটা হলেও আমার উপর নির্ভর করে, ছোটবোনের পড়াশুনা........'।
'পরিবারের সাথে না থেকে এখানে পড়ে আছো কেন?'
নাহার অসহায়ের মতো অন্ধকারে পথ চলতে থাকে। বাসার বাজার থেকে শুরু করে সবকিছুই করতে হয়। যে কাজের বুয়াটি ছিলো তাকে বিদায় করে দেয়া হয়েছে।

নাহার ক্রমে আবিষ্কার করে আসিফ মানসিক ভাবে পুরোপুরি সুস্থ নয়। সে সাইক্রিয়াটিস্টের কাছে নিয়ে যেতে চাইলে উল্টো হাত চলে। 'আমি পাগল? কি মনে হয় তোর?' বলতে বলতে বেপরোয়া ভাবে নাহারের জামা খুলে ফেঁসে আসিফ, বিচিত্র ভাবে ভোগ করে। চরম লাঞ্ছিত মনে হয় নিজেকে, ভোগ্যপণ্য ছাড়া আর কিছুর সাথেই নাহার নিজের মিল খুঁজে পায়না। আসিফকে সে সুস্থ করার চেষ্টা করে, বুঝানোর চেষ্টা করে।

পারেনা। একটা সময় মনে হয় সে ইচ্ছে করে এরকম করছে যাতে সম্পর্কটা ভেঙে যায়। নাহার সাবধান হয়। চেষ্টা করে ধৈর্য ধরে সামাল দিতে। মুখ বুঝে মার খেতে থাকে, সইতে থাকে অপমান।

নাহার ভুলে যায় তার ক্যারিয়ারের কথা, শিক্ষার কথা। সে শুধু সংসারটাকে বাঁচাতে চায়। ভাবে ঠিক হয়ে যাবে।
ক’দিন আগে সকালে অফিসে আসার সময় একগাদা নোংরা কথা শুনেছে নাহার। অপরাধ- নাস্তার ডিম ভাজিতে খোসা রয়ে গিয়েছে।

অফিসে দেরি হয়ে যাবে জেনেও নাহার বলেছিল আবার করে দিচ্ছি। জঘন্য একটা গালি দিয়ে আসিফ প্লেট ছুড়ে মারে মেঝেতে। অনেকটা যন্ত্রের মতো অফিস করে নাহার। চুপচাপ। দুপুরের দিকে আসিফ ফোন করে বাসায় চলে যেতে বলে।

নাহার জানায় অফিসে কাজের চাপ আছে।
'এক্ষণ যদি বাসায় না ফিরিস তাহলে আর ফিরার দরকার নেই'।
'তুমি বুঝার চেষ্টা কর আসিফ'।
'তোর মতো গাঁইয়ার কাছে বুঝতে হবে আমাকে? তোকে বলেছি কিনা চাকরি ছেড়ে দিতে'?
নাহার বুঝতে পারে রাতে বাসায় ফিরলে শারীরিক নির্যাতন সহ্য করতে হবে, তবু সে বাসায় ফেরে যতোটা তাড়াতাড়ি সম্ভব। অনুমান মিথ্যে হয়নি।

প্রচণ্ড মারধর করে আসিফ। বের করে দেয় বাসা থেকে। কোথাও যাওয়ার ছিলোনা তার, ছিলো সঙ্কোচ। বাসার ছাদে কিছু সময় কাটিয়ে ডুপ্লিকেট চাবি দিয়ে ঘরে ঢুকে। আর বিরক্ত করেনি আসিফ।

আজ সকালে নাস্তা না করেই বেরিয়ে যায় আসিফ। সন্ধ্যার কিছু আগে উপস্থিত হয় নাহারের অফিসে। নাহার হতভম্ব হয়ে যায়। কুঁকড়ে যায় অজানা ভয়ে। আসিফ নাহারের হাতে দুটি চেক দেয়।

একটি লোন করে দেয়া টাকার অংকে অন্যটি কাবিননামায় উল্লেখিত টাকার অংকে। জানায় দু'এক দিনের মধ্যে উকিল নোটিশ পেয়ে যাবে। ঝড়ের গতিতে চলে যায়।
সাজ্জাদ সাহেবের গেস্টরুমের বিছানা থেকে উঠে বসে নাহার। চটি পায়ে দেয়।

ফ্রেশরুমের দরজা আটকিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়ায়। নিজেকে ঠিক বঞ্চিত মনে হয়না তার, স্বত্নত্র প্রাপ্তিও কিছু খুঁজে পায়না সে। মানুষ মনে হয়না নিজেকে, মনে হয় নিত্য ব্যবহারের একটি সামগ্রী। খুব নোংরা লাগে নিজেকে। সাওয়ার ছেড়ে দাঁড়িয়ে থাকে।

অনেকক্ষণ। যেনো সভ্য শুয়োরের গন্ধ নিমিষেই মুছে ফেলবে সে।
-------------------------------------------------------------------------
-দেব প্রসাদ দেবু

সোর্স: http://www.sachalayatan.com     দেখা হয়েছে বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।