আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

চাঁদের আলোয় তোমার খোঁজে

কাল ঈদ। আগে থেকেই সিদ্ধান্ত ছিলো ঈদ ঢাকা করে বাড়ী যাবো। যান্ত্রিক জীবনটাতে ফুসরৎ বলতে তেমন কিছু নেই । এভাবেই গড়ে উঠা জীবনটা আরো যান্ত্রিকতায় মিশে যাচ্ছে । তবে এ যান্ত্রিকতায় কোন অস্থিরতা নেঈ।

নেই কোন অতৃপ্তি । আছে শুধু নিজেকে তিলে তিলে গড়ে তুলার তীব্র বাসনা , আছে প্রাপ্তির চূড়ান্ত শিখরে নিয়ে যাওয়া। প্রাপ্তি আর আকাংখার জায়গায় ছোট্ট একটি অতৃপ্তি । এ অতৃপ্তি কখনো কখনো প্রশান্তি এনে দেয় আবার এ ছোট্ট অতৃপ্তিটুকু অনেক সময়ে অনেক বড় অতৃপ্তির সৃষ্টি করে। অতৃপ্তি পেয়ে বসে তখনইযখন ভালবাসার মানুষের ভালবাসায় ভাটা পড়ে।

তেমনি এক অতৃ্প্ত বাসনা নিয়ে এক পক্ষকাল যাবত অপেক্ষার প্রহর গুনছি একলা বসে। যান্ত্র্রিক জীবনে যান্ত্রিকতার যদি ভালবাসার পরশ থাকে তাহলে যান্ত্রিকতা কখনো যান্ত্রিক মনে হয় না। অসংখ্য অতৃপ্তি ক্লান্তি অবসাদ না পাওয়ার বেদনা এক নিমিশেই উদাও হয়ে যায় প্রিয় মানুষটির ভালবাসার পরশে। সুসপ্তাহ আজ হয়ে গেল কথা হয়না তার সাথে। সে কেমন আছে , কিভাবে আছে কিছুই জানা হয়ে উঠেনি সপ্তাহদুটি।

দুরালপনি , খুদে বার্তা কোন কিছুতেই নাগাল পাওয়া যাচ্ছে না তাকে। যদিও তার চেয়ে নিজেকেই অপরাধী বেশী মনে হয়। কাল ঈদ কিন্তু এখনো কোন শুভেচ্ছা পেলাম না তার কাছ থেকে , হয়তো প্রতিবারের মতো গভীর রাতে অথবা খুব ভোরে ঘুম উঠে পাবো তার খুদে বার্তা। ততক্ষন অপেক্ষায় রইলাম। ছোট্ট কিন্তু গুরুত্বপূর্নে একটি কাজে বিকালে ছুটে গিয়েছিলাম মাওয়া ঘাটে আমরা ড্রাইভারসহ ৫ জন।

কাজ শেষ করে ফিরতে ফিরার পথ ধরতে সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত ৭.৩০ টা । ফিরতি পথে গাড়ী শেষ সাড়ির সিটটাকে শোয়ার বিছানা হিসেবে ব্যবহার করাই উপযুক্ত মনে করে সিটের বিছানায় গা এলিয়ে দিলাম । কানে হেডফোন লাগিয়ে উপর দিতে তাকাতেই চোখ চলে গেল গাড়ীর কালো গ্লাসের ফাঁক ভেদ করে আকাশে পানে। অসম্ভব সুন্দর দশমী চাদ। ভরা পূর্নিমায় চারিদিক ঝলমলে দুরন্ত বেড়ে ছুটে চলা গাড়ীর জানালা দিয়ে বিপরীত দিকে ছুটে চলা গাছের ডাল পালার ফাঁক দিয়ে চাদের নির্মল আলো চোখে লাগছিলো।

বারবার চোখ ফিরিয়ে নিতে চাইলেও বারবারই চোখ জোড়া ফিরে যাচ্ছিল উজ্জল চাঁদের দিকে। যে চাঁদ কারো সাথে বৈষম্য করে না। যে চাঁদ সকলকে নির্মলতা প্রদানে কার্পন্য করে না। যে চাঁদ মেঘমালাকে ভেদ করে বরাবরই সকলকে সমান ভাবে আলোকিত করে। চাঁদের পানে তাকিয়ে চোখ ফেরাতে পারলাম না মনটা উড়ে চলে গেলো ভালবাসার মানুষটির কাছে।

হঠাৎই যেন সুপ্ত বেদনাটি নাড়া দিয়ে উঠলো। যে চাঁদ কালো গ্লাস ভেদ করে আলো এসে উজ্জল করছে মুখমন্ডল সেই চাঁদের আলোই এখন তার পূর্ব পাশের জানালার ফাঁক গলিয়ে বিছানা সহ রুমের একটি অংশ আলোকিত করছে অথবা তার বাসার সামনের বসার সিড়িটাকে আলোকিত করছে যে স্থানে সে বসে আছে অথবা তার বাসার ছাদের দক্ষিন কোনায় যেখানে বসে সে গুনগুন করে গান গাচ্ছে। যে আলো আমায় আলোকিত করছে সে আলোর প্রতিবিম্বই আলোকিত করছে তাকেও। সে জোৎস্না বিলালো উজ্জল চাঁদটিতে খুঁজে ফিরে তারি চাঁদমুখ খানা। চাঁদের মাঝে দাগগুলোতে অঙ্কন করি তার উন্নত নাসিকা, আঁকি মায়াবী চোখ, গোলাপী ঠোঁট আর সবমিলিয়ে একটি উজ্জল মুখ।

যে চোখে, যে চেহারার দিকে ঘন্টার পর ঘন্টা তাকিয়ে থাকাতেই যেন ভাল লাগে। অন্তরের প্রতিটি নিঃশ্বাস যে হৃদয়ে ধ্বনিত হয় । দীর্ঘক্ষন উজ্জল আলোর দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে অন্তরে বয়ে যাচ্ছিল প্রশান্তির দোলা। সে দোলায় ভেসে বেড়াচ্ছিলাম হাওয়ায় , আকাশে বাতাসে, এক অজানা কল্প রাজ্যে। কতক্ষন এভাবে কেটেছিলো তা বুঝতাম না যদি না গাড়ীর চাকা পাংচার না হতো।

মেরামতের ফাঁকে পিচঢালা রাস্তায় শুয়ে পড়ে আকাশের পানে তাকিয়ে আবারো ফিরে গিয়েছিলাম তার মনের খুব কাছাকাছি কিন্তু সে দুয়ারে কেন যেন হুমড়ি খেয়ে পড়ে গেলাম । কে যেন বারবার সে দুয়ারে দাড়িয়ে বারবার হুংকার ছাড়ছে। কিন্তু এ হুংকারকে পরোয়া করি না , পরোয়া করিনা কোন অনাদর অবহেলাকে। শুধু এটুকই ভালবাসি তোমাকে শুধুই ভালবাসি। এ ভালবাসায় কোন খাঁদ নেই।

তুমি ফিরে আসো চাঁদের উজ্জল আলো হয়ে সেই প্রত্যাশায় রইল এইকুটু ভালবাসার প্রত্যাশী অন্তরটি। যে চাঁদের আলো হবে তোমার আমার।  ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।