আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

হঠাৎ বেপরোয়া ধর্মভিত্তিক দল, পাহাড়ে দেশী-বিদেশী ১৭টি সন্ত্রাসী গ্রুপ তৎপর

সম্প্রতি ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলো সরকারবিরোধী আন্দোলনের নামে সংগঠিত হচ্ছে। সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী বাতিলের প্রতিবাদের সঙ্গে এবার যুক্ত হয়েছে হযরত মুহাম্মদ (সা.) কে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্কিত একটি চলচ্চিত্র নির্মাণের ইস্যু। এই দুটি ইস্যুতে নেপথ্যে থেকে ছোট ইসলামি দলগুলোকে সংগঠিত করছে দলগতভাবে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামায়াতে ইসলামি। বিষয়টি এখন ‘ওমপন সিক্রেট’। ওই চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রতিবাদে সমমনা ১২টি ইসলামিক দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসকাবের সামনে পুলিশের রীতিমত সংঘর্ষও হয়।

এতে পুলিশসহ প্রায় ১০০ জন আহত হয়। ঘটনার প্রতিবাদে রোববার ইসলামিক দলগুলো সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দেয়। কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে সকাল-সন্ধ্যা ওই হরতাল চলে নিরুত্তাপভাবে। কিন্তু কেন এই হরতাল? কার বিরুদ্ধেই বা এমন কর্মসূচি? সরকারের তরফ থেকে আগেই তো ওই বিতর্কিত চলচ্চিত্রের ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। দেশে ইউটিউবও বন্ধ করা হয়েছে যাতে কেউ চলচ্চিত্রটি দেখে বিুব্ধ হয়ে উঠতে না পারে।

তারপরও কেন এমন হঠাৎ কর্মসূচি। এর নেপথ্যে কি অন্য কোনো দূরভিসন্ধি আছে? এটা বেশ পরিস্কার বোঝা যাচ্ছে, আমাদের জাতীয় রাজনীতিতে সাম্প্রদায়িক শক্তির এই সংঘটিত হবার চেষ্টা একটি বিশেষ ইঙ্গিতবাহী, আরো পরিস্কার কমর বললে, দুরভিসন্ধিমূলক। এই সরকারের আমলে সরকার ও বিচার বিভাগের নানা তৎপরতায় বেশ কোনঠাসা হয়ে পড়েছে এসব দলগুলো। আদালতের রায় অনুযায়ী পঞ্চম সংশোধনী বাতিল হলে দেশে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি বন্ধ হয়ে যাবে। রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের েেত্র নির্বাচন কমিশনও আদালতের ওই রায় মেনে নেওয়ার কথা বলেছে।

আর এই খবরে মারমুখী হয়ে উঠেছে ইসলামি দলগুলো। বাংলাদেশ ইসলামিক খেলাফত আন্দোলনের দাবি, সরকার তাঁদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পণ্ড করে দিয়েছে এবং তাঁদের ওপর অতর্কিতে হামলা চালিয়েছে। তবে প্রত্যদর্শীর বিবরণে জানা গেছে, বিােভকারীরা ইট-পাটকেল ছুড়ে মারলে পুলিশ তাদের লাঠিপেটা করে। তাদের এ আচরণ যে তাদের উত্থানের বেপরোয়া চেষ্টা এটা পরিকস্কারই বোঝা যায়। ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের এক মুখপাত্র বলেন, ‘সরকার জনগণের কাছে ওয়াদাবদ্ধ, কোরান-সুন্নাহ পরিপন্থী কোন আইন করবে না।

’৭২-এর সংবিধান কার্যকর-করণ এবং ধর্মভিত্তিক রাজনীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়াই সরকারের ওয়াদার বরখেলাপ। তাই সরকার যাতে জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেটের অপব্যবহার করতে না পারে সেজন্যই আন্দোলনে নেমেছি। ’ দলগুলোর নেতৃস্থানীয় সদস্যদের ‘হঠকারী’ বক্তব্যেই স্পষ্ট হয় যে, তারা আসলে তাদের রাজনীতিকে টিকিয়ে রাখতেই মারমুখী এখন। সে কারণেই খুঁজছেন আন্দোলনের নানা ইস্যু। অস্তিত্বের সংকট থেকেই এই তাণ্ডব চালাচ্ছে তারা।

এর আগে সমমনা ইসলামি রাজনৈতিক দলগুলো সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন জোরদার করতে গঠন করে ‘ইসলাম ও ধর্মীয় রাজনীতি রা জাতীয় কমিটি’। কথিত ‘ইসলামী রাজনীতি বন্ধের ষড়যন্ত্রের’ প্রতিবাদে তারা গত বছর মুক্তাঙ্গনে ‘সর্বদলীয় সমাবেশ’ করে। হাতেগোনা নেতাকর্মী সমর্থক আর নামসর্বস্ব এসব ইসলামি দলকে সংগঠিত করে রাজনীতির মাঠ উত্তপ্ত করছে। আর এর পেছনে মূল পরিকল্পনা যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত জামায়াত-শিবির বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। ‘ইসলাম ও ধর্মীয় রাজনীতি রা জাতীয় কমিটি’ কিংবা ‘সর্বদলীয় সমাবেশে’ জামায়াত নেতাদের অবস্থান এবং বক্তব্যই প্রমাণ করে সরকারবিরোধী আন্দোলনে তারাই নেপথ্য নিয়ন্ত্রক।

সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রা বাহিনীও তাদের দমন করার নীতি গ্রহণ করেছে। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এসব ঘটনা প্রবাহ কোন মতেই ইতিবাচক নয়। বিশেষ কমর ধর্মকে রাজনীতির বর্ম হিসেবে ব্যবহার কোনকালেই এ দেশের মানুষ মেনে নেয়নি। এখনও নেবে না। কিন্তু এই মহলের ব্যাপারে সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এমনকি আপামর জনসাধারণকে সজাগ থাকতে হবে।

তথ্যসূত্র:পরিবর্তন.কম পাহাড়ে ১৭টি দেশী-বিদেশী সন্ত্রাসী গ্রুপ তৎপর রয়েছে। এদের কাছে মজুদ রয়েছে পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, ব্রিটেন, চীন, রাশিয়া, ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার ভয়ঙ্কর সব মারণাস্ত্র। অন্তত ১২টি পাহাড়ি এবং ৫টি বিদেশী সন্ত্রাসী সশস্ত্র গ্রুপ রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। দুর্গম জনপদের পানিতেও নতুনভাবে অবস্থান করছে নতুন ব্যানারে শক্তিশালী দেশী-বিদেশী সশস্ত্র বাহিনী। পাহাড়ি জনপথ ও জলপথ শান্তিচুক্তিবিরোধী দেশী-বিদেশী সন্ত্রাসী গ্রুপের দখলে।

এভাবেই চলছে তিন পার্বত্য জেলা ও পাহাড়ি জনপথ। পাশাপাশি শান্তিচুক্তিবিরোধী পাহাড়ি সংগঠন ইউপিডিএফ অধিকাংশ দুর্গম পাহাড়ি জনপথ দখল করে নিয়েছে। জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) শান্তিচুক্তির পক্ষে অবস্থান নিয়ে চুক্তি বাস্তবায়নে ব্যস্ত থাকলেও চুক্তিবিরোধীরা নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থেকে অশান্তির বাতাস চারদিকে ছড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি-বাঙালিরা প্রতিটা মুহূর্তে আতঙ্কের মধ্যে কালাতিপাত করছে। এখানকার অধিকাংশ জায়গা থেকে সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের পর পার্বত্য জেলার বিশেষ করে খাগড়াছড়ি, রাঙামাটির কাপ্তাই, রাজস্থলী ও বান্দরবনের দুর্গম এলাকায় গ-ুশ বাহিনী ও মিজোরামের একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ বেপরোয়া চাঁদাবাজি এবং অস্ত্র-গোলাবারুদ পাচারসহ নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় জেএসএস সূত্র জানায়, সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের পরও পার্বত্য জেলায় শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নে বাধা দিচ্ছে চুক্তিবিরোধী পাহাড়ি সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো। নতুন মাত্রায় বেপরোয়াভাবে তৎপরতা চালাচ্ছে দেশী-বিদেশী সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো। এ অবস্থায় শান্তিচুক্তির পক্ষের শক্তি জেএসএস ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর অবস্থা গোলকধাঁধা। সেখানকার একজন ব্যবসায়ী যিনি ‘নিরাপত্তা’র খাতিরে নাম প্রকাশ করতে চান না, তার মতে, শান্তিবাহিনী উঠে যাওয়ার পর কিছু পাহাড়ি সন্ত্রাসীর সহায়তায় কয়েক বছর ধরে চলছে বেপরোয়া চাঁদাবাজি। তারা নিয়মিত সেখানকার ব্যবসায়ী ও নৌপথে চাঁদা আদায় করে যাচ্ছে।

তাদের চাঁদাবাজির কারণে অনেকে কাঠের ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছে। কাপ্তাইয়ের একজন ব্যবসায়ী বলেন, সব সময় চাঁদা দিয়ে ব্যবসা করা সম্ভব নয়। লাভ সমান হয় না। তার ওপর জানের কোনো নিরাপত্তা নেই। তাই ব্যবসা ছেড়ে দোকান নিয়ে বসেছি।

পাহাড়ি-বাঙালি কয়েকজন জনপ্রতিনিধি অভিযোগ করেন, কাপ্তাই সেনাবাহিনীর ৬৫ ব্রিগেডসহ অধিকাংশ সেনাক্যাম্প প্রত্যাহার করে নেয়ায় পাহাড় অশান্তির রোষানলে জ্বলছে। লিশের একটি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে থাকা তথ্য মতে, আরাকান লিবারেশন আর্মি (এএলপি), মায়ানমার (বার্মা) আরাকান রোহিঙ্গা ইসলামিক ফ্রন্ট, আরাকান পিপলস আর্মি (এপিএ), আরাকান লিবারেশন আর্মি (এএলএ), ন্যাশনাল ইউনাইটেড পার্টি অব আরাকান (নুপা), অপারেশন পার্টি (ওপি), সন্ত্রাস দমন কমিটি (সদক), রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও), ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট অব ত্রিপুরা (এনএলএফটি), ডিপিএ, আরাকান আর্মি (এএ), আরাকান পিপলস আর্মি (এপিপি), ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন পার্টিসহ (আরএসপি) দেশী-বিদেশী বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপ এবং মায়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী একাধিক গ্রুপের তৎপরতা রয়েছে। বান্দরবানে এরা বেশি সক্রিয়। জনসংহতি সমিতি (জেএসএস), ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট ইউপিডিএফের অনেকের সঙ্গেই এসব গ্রুপের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। বান্দরবান জেলার রুমা, রোয়াংছড়ি, নাইক্ষ্যংছড়ি, লামা, আলিকদম ও থানচিসহ ৭ উপজেলা এবং রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় রয়েছে এদের অপরাধের নেটওয়ার্ক।

তথ্যসূত্র: ভোরের কাগজ ।

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।