আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

একটি দূরপাল্লা বাসের যাত্রী সেবা ও তার যাত্রী

আপনাদের নিশ্চয় গোপাল ভাড়ের সেই গল্পটির কথা মনে আছে - যে দিন রাজামশাই গোপাল ভাঁড় কে জিজ্ঞেস করেছিল- "গোপাল, আমার রাজ দরবারে চাকুরী করে তোমার কেমন সুখ অনুভব হয়?" - গোপালের সোজা সাপ্টা উত্তর ছিল - আজ্ঞে রাজা মশাই আমি হেগে (টয়লেট করা)যে রকম সুখ পাই !- উত্তর টা শুনে মহারাজ গোপালের উপর চটেই গেলেন । কিন্তু গোপাল পরে তার কথার মর্মার্থ বুঝিয়ে ছিলেন রাজাকে নদী পথে নৌকা করে যাওয়ার পথে । আর বাকী টুকু গোপাল ভাঁড় পড়ুয়ারা ভালই জানেন......... সে রকম কিছু অথচ সত্যি ঘটনাই ঘটে গেল সেদিন এক দূরপাল্লার বাসে । জনাব রুহান নম্র, ভদ্র, শিক্ষিত চকুরীজিবী একজন মানুষ । সেদিন পাবনা এক্সপ্রেস নামের একটি গাড়ি করে ঢাকায় ফিরছিল ।

সেই পাবনা থেকে রওয়ানা হওয়া বাসটি শুধু মাত্র টাঙ্গাইল এ একবার স্টপেজ দিল । যাত্রীদের যার যা করা দরকার সব করে নিল । কিন্ত রুহানের তেমনটা অনুভব না হওয়ায় শুধুমাত্র হোটেলের বাথরুমে গিয়ে হাত মুখ ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে এসে বাসের সিটে বসল । নির্দিস্ট সময় শেষে বাস আবার চলতে শুরু করল । ঘন্টা দুয়েক চলার পর রুহান সাহেব পেটের মধ্যে একটু মোচড় ভাব অনুভব করল এবং তার একটু বাথরুমের চাপ দিল ।

কিন্ত তিনি সেটা গুরুত্ব না দিয়ে মনে মনে ভাবলেন এই তো সাভার তো চলে এলাম আর ঘন্টাখানেকের মধ্যে গন্তব্যে পৌছেই টয়লেট সেরে ফেলব। কিন্ত যতই সময় যেতে থাকে ততই তার বাথরুমের চাপ বাড়তে থাকে, উপায়ন্ত না দেখে সে গাড়ির হেলপার কে ব্যাপারটা বলল- ভাই একটা পাম্প বা অন্য কোন রেস্টুরেন্ট দেখে মাত্র (০৫)পাঁচ মিনিটের জন্য একটু দাড়ান না ! আমার প্রচন্ড বাথরুমের চাপ দিয়েছে । হেলপাড় সিদ্ধান্ত না নিতে পেরে সে সুপার ভাইজার কে বলল, সুপার ভাইজার মি: রুহানের সমস্যাটাকে গুরুত্ব না দিয়ে বলল- ভাই এই তো সামনেই গাবতলী একটু ধর্য্য ধরেন! কিন্ত ততক্ষণে মি: রুহান ঠান্ডা-প্রকৃতির বাতাসের (সেদিন হালকা গুড়ি বৃষ্টি ছিল) মধ্যেও ঘামতে শুরু করেছিল । শেষমেষ তার সমস্যার কথা ড্রাইভাররের কান পর্যন্ত পৌছাল । কিন্তু ড্রাইভার সাহেব কোন সমস্যাই মনে না করে সে তার আপন মনে চালি্য়েই গেল ।

বেচারা রুহান বাসের সামনে থেকে অসহায়ের মত একদম পিছনে ফিরে এল। তার শরীর মন অস্থির হতে লাগল, সে ভাবল এই বুঝি সেন্সলেস হলাম আর কতক্ষণ এভাবে বাথরুম ঠেকিয়ে রাখা যায় ! বাসটি দূরপাল্লার হওয়ায় চান্দুরা থেকেই যাত্রী নামতে শুরু করে ছিল এবং সভার পর্যন্ত আসতে আসতে পিছনের তিন তিনটি ছিট ফাঁকা হয়ে গিয়েছিল । মি: রুহান তার এই অস্বস্থি থেকে বাচঁতে সে নিয়ত করে ফেলল - সে তার প্যান্টেই মলত্যাগ করে ফেলবে ! ঠিক সেই মুহূর্তে পিছন ফিরে তাকাতেই সে দেখল বাসের শেষের সিটের পরেও কিছু জায়গা ফাঁকা এবং সেখানে বেসে মাথা নিচু করলে কেউ দেখতে পায় না । এই সুযোগটাই জনাব রুহান নিলেন । তিনি পিছনে গেলেন দ্রুত প্যান্টের জিপার খুললেন আর মান সম্মানের ভয় দূরে ছুড়ে ফেলে দিয়ে মল ত্যাগ করতে বসলেন এবং দুই থেকে আড়াই মিনিটের মধ্যে কাজটা সেড়ে সেই গোপালভাঁরের সুখ অনুভব করলেন ।

কেউ টেরও পেল না পিছনে কি কম্মটাই না হল । রুহান সাহেবের মনের জ্বালা দূর হল কিন্ত ভয়ও লাগতে শুরু করল কারণ গাড়ি জ্যামে আটকালেই ভিতরের ফ্যান গুলো ভোঁ ভোঁ করে ঘুরতে থাকে যদি গন্ধ বের হয় । কিন্তু সে যাত্রাও বেঁচে গেলেন ধরা খাওয়ার হাত থেকে- কারণ বাহিরের মৃদৃ মন্দ বাতাস গাড়ির বিপরীত দিকেই ছিল । ঠিক গাবতলী স্টপেজ পেতে না পেতেই রুহান সাহেব তার লাগেজ নিয়ে তাড়াতাড়ি করে গাড়ি থেকে নেমে পড়লেন যেন গাড়ির স্টাপত্রয় মনে করেন তার হাগু ধরেছে বলেই তাড়াতাড়ি নেমে পড়লেন । যে যেটাই ভাবুক রুহান সাহেবের আর কিচ্ছু যায় আসে না ।

সে তো গোপালের মলত্যাগের(হাগার) সুখ পেয়েই এসেছে লক্সারীজ গাড়ীর মধ্যে.............. ! ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.