“বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঢাবি শিক্ষার্থী নিহত”
The Daily Star, May 29, 2005
২০০৫ সালের ২৯ মে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলে নিহত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী শাম্মি আক্তার হ্যাপি। এই দুর্ঘটনার প্রতিবাদে ছাত্রদের বিক্ষোভের সময় পুলিশের সাথে সংঘর্ষে ১০০ জন আহন হন এবং বিপুল পরিমাণ গাড়ি ভাংচুর করা হয়।
“ঢাবি শিক্ষার্থী নিহত”
The Daily Star, May 16, 2006
ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র মোবারক হুসেইন বাসের ধাক্কায় গুরুতর ভাবে আহত হন মে মাসের ৮ তারিখ। পরে মে মাসের ১৫ তারিখ তিনি মারা যান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ল হয়ে ওঠে ঢাবি ক্যাম্পাস।
“প্রাইভেট কারের ধাক্কায় ঢাবি শিক্ষকের স্ত্রী নিহত”
The Bangladesh Observer, June 23, 2009
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আই.ই.আর. এর অধ্যাপক পরিমল কুমার সাহার স্ত্রী প্রাইভেট কারের ধাক্কায় নিহত হন জগন্নাথ হলের সামনে।
“দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঢাবি শিক্ষার্থীদের গাড়ি ভাংচুর”
The Daily Star, November 25, 2010
শামসুরনাহার হলের সামনে চলন্ত গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত হন মনোবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র সাধন কুমার ঘোষ। তার দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ২ টি গাড়িতে আগুন দেয়া সহ ২৫ টি গাড়ি ভাংচুর করে।
“ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের প্রাণ গেল বাসের ধাক্কায়”
দৈনিক কালের কণ্ঠ, ২৮ আগস্ট ২০১২
রাজধানীর শাহবাগে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ২য় বর্ষের ছাত্র তৌহিদুজ্জামান। এ ঘটনায় শাহবাগ ও বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্ররা শাহবাগ ও শেরাটন মোড় এলাকায় সড়ক অবরোধ করে অন্তত ১৩টি বাসে ভাঙচুর চালান, এসময় শতাধিক গাড়ি ভাংচুর করা হয়। বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা শাহবাগের পুলিশ বক্সে আগুন লাগিয়ে দেন।
প্রাচ্যের অক্সফোর্ড হিসেবে খ্যাত দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত খবর গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো সড়ক দুর্ঘটনার খবর। শত বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে একটি স্বপ্নকে সফল করতে আশা শিক্ষার্থীরা বার বার হেরে যাচ্ছে ঢাকার রাস্তায় অনিয়ন্ত্রিত ভাবে চালিত কোন যন্ত্রদানবের কাছে। ঢাবি ক্যাম্পাসে সড়ক দুর্ঘটনার কোনো সঠিক বিররণ পাওয়া না গেলেও বিগত ৭ বছরে ঢাবি ক্যাম্পাসে নিহত হয়েছেন ১৩ জন আর গুরুতর আহত হয়েছেন ২০০ জন(সূত্রঃ ভোরের ডাক, ৩০ আগস্ট ২০১২)।
বিগত ১১ বছরে সড়ক দূর্ঘটনায় শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার সংখ্যা ৯ (দৈনিক কালের কন্ঠ, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১২)। প্রোক্টরের অফিসের থেকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থীদের যেই বিবরণ পাওয়া যায়, তা অনেকটা এই রকম।
ঢাবি ক্যাম্পাসে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের বিবরণ:
১৯৯০-৯৫ ১৯৯৬-০০ ২০০১-০৫ ২০০৬-১০ মোট
ছাত্র ১ ০ ৩ ৩ ৭
ছাত্রী ০ ০ ১ ০ ১
শিক্ষক ০ ১ ০ ০ ১
অন্যান্য ০ ০ ০ ১ ১
মোট ১ ১ ৪ ৪ ১০
সূত্র: ঢাবি প্রোক্টর অফিস, সংগ্রহ, Sujan et.al, Academic Research Project, 8th semester, Political Science, 2011
ভোরের ডাক পত্রিকার তথ্য অনুযায়ী, "২০০৬ সালের মে মাসে বাস চাপায় নিহত হন এক পথচারী। গত বছরের ৮ মে শাহবাগ মোড়ে মোবারক হোসেন নামে একজন মারা যান। ২০০৯ সালের ২২ জুন নিহত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের শিক্ষক অধ্যাপক পরিমল কুমার সাহার স্ত্রী অনিমা রাণী সাহা।
একই বছর জুলাই মাসে টিএসসি-বাংলা একাডেমী সংলগ্ন সড়কে গাড়ি চাপায় নিহত হন রোকেয়া হলের এক নারী কর্মচারী। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ হারান প্রো-ভিসি বাসভবনের কর্মচারী বাবুল সর্দার।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গত এক বছরে অন্তত ৫০টি সড়ক দুর্ঘটনা হয়েছে। গত বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি সকালে ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজের সামনে প্রাইভেট কারের ধাক্কায় এক শিশু গুরুতর আহত হয় । ১৮ ফেব্রুয়ারি রাতে গাড়ির ধাক্কায় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রভাষক ও তার স্ত্রী আহত হন।
১১ ফেব্রুয়ারি রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মল চত্বরে গাড়ির ধাক্কায় আহত হন মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের মাসুদ। ৩ ফেব্রুয়ারি টিএসসি সড়কে সূর্যসেন হলের সাইফুল ও তাহের প্রাইভেট-কারের ধাক্কায় আহত হন। জানুয়ারিতে ফুলার রোডে বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের ৩ ছাত্রসহ অন্তত সাতজন দুর্ঘটনার শিকার হন। ২০১০ সালের ডিসেম্বরে দোয়েল চত্বর, জাতীয় কবির মাজার সংলগ্ন রাস্তা ও টিএসসি এলাকায় দুই ছাত্রীসহ অন্তত ১০ জন দুর্ঘটনার শিকার হন। নভেম্বর মাসে টিএসসি সড়কে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী বেবি ট্যাক্সির ধাক্কায় গুরুতর আহত হন।
এ মাসের ২৫ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয় মনোবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র সাধন কুমার ঘোষ সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন। "
সূত্র: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সড়ক দুর্ঘটনা
প্রতিটি দুর্ঘটনার পরই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখা যায়, উত্তেজিত আর বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা সড়ক অবরোধ করে, গাড়ি ভাংচুর করে, গাড়িতে আগুন দেয়, আর অপরাজেয় বাংলার সামনে সমাবেশ করে দায়ী ব্যাক্তি দের বিচারের দাবী জানায় আর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কিছু গালভরা আশার বাণী শুনায়। কিন্তু ক্যাম্পাসে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে যে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন, সেই ব্যাপারে কোনো অগ্রগতি হয় না। ক্যাম্পাসের প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীকেই এখন এই শঙ্কা নিয়ে প্রতি নিয়ত চলতে হয় যে, নিজের প্রিয় ক্যাম্পাসে চলতে গিয়ে কোনো অনিয়ন্ত্রিত চালকের কল্যাণে হয়ত তাকেও কোনো দিন সংবাদের শিরণাম হতে হবে।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।