আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

ভয়াবহ এক সমস্যার নাম মাদক। আপনি কি নিজেকে মুক্ত মনে করেন ?

আমার ছবি নাই , দেশের সম্ভাবনাময় একটি ছবি প্রোফাইলে দিলাম । ঈশান কোনে কালো মেঘ দেখা দিয়েছে। সে মেঘ আরো কালো হয়ো ক্রমশঃ ঘণিভূত হয়ে এগিয়ে আসছে আমার মাথার ওপর। যে কোন সময়ে শুরু হতে পারে প্রলয়ঙ্কারি ঝর। সে ঝরে সব যে লন্ড ভন্ড হয়ে যাবে তাতে কোন সন্দেহ নেই।

এ কালো মেঘটা হচ্ছে মাদক। যে ভাবে এর বিস্তার ঘটছে তা এক কথায় ভয়াবহ। এখনই এর বিস্তার রোধ করা না গেলে বাঁচবোনা আমরা কেউ ; বাঁচবেনা একটা ঘরও। সাম্প্রতিক কালে জাতীয় কিংবা আঞ্চলিক এমন কোন পত্রিকা নেই যাতে প্রতিদিন একটা মাদক সংক্রান্ত খবর থাকে না। এতেই বোঝা যায় মাদক এখন শুধু কোন বিশেষ অঞ্চলের সমস্যা নয় এটা সারা দেশ ব্যাপি একটা সমস্যায় রুপ নিয়েছে।

মাদক সর্বগ্রাসি একটা আকার পেয়েছে। পত্রিকা কে আমরা তৃতীয় চোখ বলি , বিবেক বলি , কন্ঠস্বর বলি ; কেন বলি ? কারণ আমরা অনেকেই যা দেখি না ওরা সেটা দেখে আমরা যা বলতে পারি না ওরা সেটা বলে আর ওরা ওদের সামাজিক দ্বায়িত্বটুকু পালন করে তাই। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওরা মাদক কোথায় পাওয়া যায় , কারা মাদক ব্যবসা করছে , কারা মাদক ব্যবসার গডফাদার সবই পত্রিকায় প্রকাশ করে। আমরা পাঠকরা সে সংবাদ পাঠ করি, ঘরের কোনে বসে সংকিত হই। দেশটা গেল গেল বলে চিৎকার করি; কিন্তু করতে পারিনা কিছুই।

যারা পারেন সেই প্রশাসন মাঝে মধ্যেই হানা দেন ; দু একটা চালান ধরা পরে । পরের দিন সকালে পত্রিকায় একফ্রেমে আটককৃত মাদক , মাদকের বিক্রেতা আর পুলিশের ছবি ছাপা হয়। আমরা আশান্বিত হই ; এবার বুঝি কিছু হলো। কিন্তু একদিন পরেই আবার কোন মাদক সংক্রান্ত সংবাদ আমাদের ভীতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কারা মাদক সেবন করছে ঃ এখন আর কোন বাছ বিচার নেই।

মাদকসেবীর আর কোন বয়সের সীমাবদ্ধতা নেই। শিশু কিশোর থেকে শুরু করে বৃদ্ধ সবাই মাদক সেবন করছে। ভয়ের ব্যাপার হচ্ছে মাদকসেবীদের একটা বড় অংশই শিশু কিশোর। মূলতঃ ছিন্নমূল , ভাসমান শিশুরাই মাদক সেবনের সাথে জড়িয়ে পড়ছে। এরাই একসময় বিক্রেতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় বা হবে।

ঘুমের ট্যাবলেট এবং গাঁজার প্রতি এদের আশক্তি বেশি। কম দাম এবং সহজলভ্য বলেই এ আশক্তি। আর একটা অংশ আমাদের যুব সমাজ , এদের একটা বড় অংশই নেশায় বুঁদ হয়ে থাকছে। মাদক বিক্রেতাদের টার্গেট থাকে স্কুল কলেজগামী কিশোর তরুণদের দিকে। বিভিন্ন সামাজিক কারণেই এ শ্রেণীটার মধ্যে এক ধরণের মানষিক অস্থিরতা থাকে এর থেকে কখনও কখনও তৈরী হয় হতাশা তখনই হাত বাড়িয়ে দেয় মাদক।

বন্ধুর বেশে এক নীরব ঘাতক গলা জড়িয়ে ধরে আপনার প্রিয় সন্তানটির। সম্প্রতি ঢাকা থেকে প্রকাশিত একটি সাপ্তাহিক পত্রিকার প্রতিবেদনে উলেখ করেছে ঢাকার বিভিন্ন কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রিদের টার্গেট করে গড়ে উঠেছে এক মাদক নেটওয়ার্ক । সেখানে তারা শুধু মাদক বিক্রিই করছেনা বরং কিছু ছাত্রকে মাদক বিক্রির কাজে ব্যবহার করছে সেখানে ছাত্র মাদক বিক্রেতা ছাত্রই মাদক ক্রেতা। ভয়াবহতাটা এবার অনুভব করে দেখুন আমরা জানতেও পারবোনা অথচ ভেতরে ভেতরে ধ্বংস হয়ে যাবে আমাদের শিা ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যাবে একটা প্রজন্ম। মাদক এখন অলি গলি রাজপথ ছাড়িয়ে শিাঙ্গনে পা বাড়িয়েছে।

কারা মাদক বিক্রি করছে ? ভাসুরের নাম মুখে আনতে সবারই মানা অথচ জানে সবাই। তবুতো আমাদের পত্র পত্রিকা গুলো কখনও কখনও অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে বিক্রেতা আর তাদের গডফাদারদের চিহ্নিত করছে , মাদক বিক্রয়ের স্পট গুলোর পরিচয় তুলে ধরছে। তাতেও কিছু হচ্ছে না। এরপর কী ধরে এনে তুলে দিতে হবে ? আরো সহজ উপায় আছে তা হলো একজন মাদক সেবীকে থানায় ধরে এনে দু’ঘা লাগিয়ে দিলেই গড় গড় করে সব উগলে দেবে কোথায় মাদক পাওয়া যায় , কারা মাদক বিক্রি করছে । শুরুটা কোথায় ; কীভাবে ? সকল নেশার শুরুটাই হয় তামাকজাত পণ্য থেকে।

জীবনের প্রথমেই কেউ সরাসরি মাদক গ্রহণ করেছেন এমন ইতিহাস একটাও খুঁজে পাওয়া যাবেনা। প্রায় সব েেত্রই শুরুটা হয় সিগারেট , বিড়ি , গুল , খইনি ,কিংবা জর্দ্দা থেকে। এই তামাকজাত পণ্যগুলোই নেশার সূতিকাগার। কঠোরভাবে এগুলো নিয়ন্ত্রন করতে হবে। আমরা এতটাই নির্লজ্জ যে প্রকাশ্যে ধুমপান করা থেকে বিরত থাকার জন্য আইন করতে হয়েছে ।

তারপরেও প্রকাশ্যে পাবলিক পেসে দাঁড়িয়ে বিড়ি সিগারেট ফুঁকছি। নিজের তিতো করছিই অন্যকেও প্রভাবিত করছি। আমি নিশ্চিত আপনি বাসায় ধূমপান না করলে আপনার সন্তান ধূমপান করবেনা। তিন টাকার এক কাঠি সিগারেটে যার শুরু তিনশ টাকার ফেন্সিডিলে তার শেষ। আর এক উপদ্রপ এনার্জি ড্রিঙ্ক ঃ আমাদের সামাজিক জীবনে আর এক উপদ্রপ হাজির হয়েছে এর নাম এনার্জি ড্রিঙ্ক।

কোল্ড ড্রিঙ্কস এর আদলে দোকানে দোকানে সাজানো থাকে এগুলো। বাহারি নাম আর চটকদার বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে শিশু কিশোর তরুণ যুবক গ্রোগ্রাসে গিলছে এ আপদ। ট্রাকে ট্রাকে এসব এনার্জি ড্রিঙ্কস এসেও বাজার নিয়ন্ত্রন করতে পারছেনা। প্রয়শই ব্যাপক চাহিদার কারণে সংকট তৈরী হয় তখন অনেককে বাড়তি দাম দিয়ে কিনতে হয়। অর্থাৎ এটাও একটা নেশায় পরিনত হয়েছে।

এসব এনার্জি ড্রিঙ্কে নেশা তৈরীর কোন উপাদান আছে কীনা আমার জানা নেই তবে থাকাটা স্বাভাবিক কারণ কিছুদিন আগেই মাত্ররিক্ত এ্যালকোহল থাকার অভিযোগে দুটি ব্র্যান্ডের এনার্জি ড্রিঙ্ক বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়। এখন যেগুলো বাজারে আছে সেগুলোতে কী আছে আমাদের জানানো উচিৎ। তথাকথিত এনার্জি তৈরীর এ সিরাপগুলো মূল নেশা ধরার আগে প্রাক নেশা বলা যায়। অন্যভাবে বললে প্রস্তুতিমূলক নেশা। এগুলো নিয়ন্ত্রন জরুরী ।

যে যন্ত্রনার শেষ নেই। আমার খুব কাছের দুজন মানুষের কথা বলি। মনে করি তার নাম জামিল সাহেব। তার মেঝ ছেলেটি যেমন দেখতে তেমনি গুনে। অত্যন্ত মার্জিত ভদ্র ব্যবহার এবং মেধাবী ছাত্র।

কখনও কারো আগে পাছে ছিলনা ছেলেটো। সাফল্যের সাথে এস এস সি এবং এইচ এস সি পাস করেছে ঠাকুরগাঁও থেকে। তারপর ভর্তি হলো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে মাত্র এক বছরের মাথাতেই ছেলেটা অন্যরকম হয়ে গেল। কখন কীভাবে যেন নেশা ওকে জড়িয়ে ফেলেছিল নিজেই বলতে পারেনা।

অবস্থা শেষ পর্যন্ত এমন এক পর্যায়ে গেল যে বাবা হয়ে ছেলেকে পুলিশে সোপর্দ করতে বাধ্য হলেন। এখনও ছেলেটা সেখানেই। এদিকে বাবা মা’র বুক ভাসে চোখের পানিতে। কতদিন এভাবে চোখের পানিতে তাদের বুক ভাসবে কে জানে ? হয়ত জীবন যতদিন..... ততদিন। আর একজন তার নাম মনে করি আমিন সাহেব।

তার বড় ছেলেটা ছিল অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র। এ ছেলেটাও ঠাকুরগাও থেকে এইচ এস সি পাস করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলো। এ ছেলেটাও মাত্র একবছরের মাথাতেই নেশার জগতে নিজেকে হারিয়ে ফেলল। আমিন সাহেব তার সর্বস্ব বিক্রি করে ছেলের চিকিৎসা করালেন । কিছুতেই কিছু হলো না।

বাড়ি থেকে একটু সময় বের হওয়ার সূযোগ পেলেই নেশার জন্য এমন কোন কাজ নেই যা ছেলেটা করতে পারে না। বাধ্য হয়ে এ ছেলেটিকেও তার বাবা পুলিশে দিলেন। কিছুই হলোনা লাভ। ছেলেটা এখন স্নায়বিক বৈকল্যের শিকার হয়ে পাগল। এ দুজন মানুষের যন্ত্রনার শেষ হবে না কোনদিন।

এমন যন্ত্রনাদগ্ধ পরিবার আরো হাজার হাজার পাওয়া যাবে। এ তালিকা ক্রমশঃ দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। এ তালিকায় পরবর্তি নামটা যে আপনার বা আমার নয় তা কিন্তু নিশ্চিত করে বলা যায় না। কাজেই সময় নেই ; যে যেই অবস্থানে আছেন সেখান থেকেই মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলুল। শুরুটা হোক নিজের ঘর থেকে।

আপনি নিজে আগে সিগারেট ছাড়–ন। তারপর অন্যকে বলার অধিকার পাবেন। সেই সাথে প্রশাসনের কাছেও অনুরোধ এগিয়ে আসুন , দেশের প্রাণ শক্তি যুব সমাজকে বাঁচাতে মাদকের বিরুদ্ধে ক্রাশ প্রোগাম চালান। নিশ্চই আমরা আপনাদের সাথে আছি। ।

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে বার

এর পর.....

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.