আমি চাই শক্তিশালী স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ
শেখ মুজিবের ভুলই বলি আর আবেগই বলি যার সুত্র ধরে সন্তু লারমা চাকমাদের সশস্ত্র সংগঠন শান্তিবাহিনী গড়ে তুলে। মুজিব চাকমাদের বলেছিলেন "তোমরা বাঙালী হয়ে যাও"। মুজিব কাজটা সঠিক না করলেও ভারতীয় মদদে পাবর্ত্য চট্টগ্রামকে বাংলাদেশ হতে বিচ্ছিন্ন করার কাজটি চরম দেশদ্রোহীতা ছাড়া আর কিছু নয়। ভারত অস্ত্র, গোলা-বারুদ এবং সামরিক ট্রেনিং দেয় এই সকল বিচ্ছিন্নতাবাদী শান্তিবাহিনীকে। ত্রিপুরা রাজ্যে প্রকাশ্যে শান্তিবাহিনীর জন্য ট্রেনিং সেন্টার গড়ে তোলা হয়।
প্রথম ১৯৭৭ সালে জিয়ার সময় শান্তিবাহিনী তাদের হামলা শুরু করে। কারণ জিয়া ভারতকে উপেক্ষা করে মধ্যপ্রাচ্য এবং চীনের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলেন। তাই ভারত ক্ষুদ্ধ ছিল। কিন্তু চীনের সামরিক সহায়তায় শান্তিবাহিনীকে প্রচন্ড আঘাত করে। ফলে এই বিচ্ছিন্নতাবাদীরা বার বার বাংলাদেশের সেনাদের হাতে মার খেয়ে ভারতের ত্রিপুরায় পলায়ন করে।
পরে এরশাদের সময়ও কঠোর ভাবে শান্তিবাহিনীকে মোকাবেলা করা হয়। এরই কোন এক সময় চীনের সিক্রেট সার্ভিস ও পাকিস্তানের আই.এস.আইয়ের সহায়তায় আসামের উলফা এবং বড়ো গেরিলাদের অস্ত্র ও সামরিক ট্রেনিং দিলে তারা ভারতীয় সেনাদের নাস্তানাবুদ করে ছাড়ে। শুধু যে উলফা সশস্ত্র তা নয় বরং আসাম সহ পুরো সেভেন সিষ্টার্সের সিংহভাগ জনগণ এই স্বাধীনতাকামীদের পক্ষে(বর্তমানে বাংলাদেশ হতে সহয়াতা না হলেও এখনও তারা সুযোগ বুঝে ভারতীয় সামরিক বাহিনীকে আক্রমণ করে ক্ষতি করছে)। ১৯৯০ সাল নাগাৎ বাংলাদেশ সেনা ও বিমান বাহিনীর যৌথ অপারেশনে শান্তিবাহিনীর কোমড় ভেঙে যায়। পক্ষান্তরে উলফা ও বড়োদের আক্রমণ তীব্রতর হয়।
ভারত তখন দিশেহারা হয়ে যায়। দিল্লীই প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের অখন্ডতার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে তাই বাংলাদেশকেও বাধ্য হয়ে উলফাদের সাহায্য করতে হয়। ভারত সেই ১৯৯০ সাল হতেই পথ খুজতে থাকে কিভাবে এর সুরাহা করা যায়। পরে ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা প্রথম বারের মত ক্ষমতায় এসে কয়েকটি অসম শর্তে সন্তু লারমার বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের সাথে শান্তি চুক্তি করে। এর কয়েকটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ;
১) পাবর্ত্য চট্টগ্রামে উপজাতিদের অনুমতি ছাড়া কোন বাঙালী কোন জমি কিনতে পারবে না।
২) বিদ্যমান বাঙালী সেটেলারদের সরিয়ে নিতে হবে,
৩) সকল সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহার করতে হবে এবং
৪) উপজাতিদের নিজস্ব পুলিশ-প্রশাসন ও স্বায়ত্ব শাসন দিতে হবে।
এই সব ধারাই বাংলাদেশের সংবিধানের সাথে সংঘর্ষপূর্ণ! এই ১৯৯৭ সালের করা শান্তি চুক্তি হাসিনা বাংলাদেশের মানুষের অনুমতি তো দূর সংসদেরও অনুমোদন নেয়নি। জিয়ার ও এরশাদের আমলে আমাদের বহু সেনা তাদের জীবন ও আহত হওয়ার বিনিময়ে শান্তিবাহিনীর খপ্পর হতে যে সকল গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত জায়গা পুনঃউদ্ধার করেছিল হাসিনা দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসে তার অনেক জায়গা হতে সেনা সরিয়ে নিয়েছে। বস্তুত দিল্লীর অভিলাশে হাসিনা যদি এই শান্তি চুক্তিতে রাজী না হত এবং সেনা অভিযান ও কার্যক্রম অব্যাহত রাখত তাহলে শান্তিবাহিনী এমনিই বিলুপ্ত বা নিস্ক্রিয় হয়ে যেত। কিন্তু হাসিনা ভারত বিশেষ করে প্রণব বাবুর অনুরোধ উপেক্ষা করতে পারে না।
অপরদিকে ভারতের তামিল নাড়ু প্রদেশের মদদে শ্রীলংকার উত্তরে তামিল অধ্যুষিতদের সেই ভাষা সংস্কৃতির অজুহাতে জাফনা উপদ্বীপকে বিচ্ছিন্ন করার চক্রান্ত করা হয়। তারপর ১৯৮৭ সালে ভারত তামিল দমনে সেনা পাঠিয়েও ব্যার্থ হয়। কারণ ভারতীয় তামিলরাই মদদ অব্যাহত রাখে। পরে শ্রীলংকার জনগণ ক্ষেপে উঠলে ভারত সেনা প্রত্যাহারে বাধ্য হয়। আর দিল্লীও আশংকা করে শ্রীলংকার উত্তরাঞ্চল বিচ্ছিন্ন করলে ভবিষ্যতে তামিল নাড়ুও ভারত হতে আলাদা হওয়ার দাবী তুলবে।
এ কারণে সে তামিল বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সাহায্য সীমিত করে। যা সাহায্য অব্যাহত থাকে তা তামিল নাড়ুর জন্যই। এই কারণে তামিলরা ১৯৯১ সালের মে মাসে রাজীব গান্ধীকে হত্যা করে। যদিও অনেকের ধারণা সি.আই.এ জড়িত! তারপর তামিলদের আত্নঘাতী হামলায় শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট প্রেমাদাসা ১৯৯৩ সালে নিহত হন। তামিলদের কম বেশী হামলা চলতেই থাকে।
এরপর অবস্থা এমন হয় ২০০৯ সালে তামিল এলটিটিই শ্রীলংকার রাজধানী কলোম্বো, সেনা সহ বিভিন্ন স্থাপনায় বিমান হামলার দুঃসাহস দেখায়;
http://www.youtube.com/watch?v=Ko0sd8kfo2k
তখনই শ্রীলংকার সরকার তামিল বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে সর্বাত্নক যুদ্ধের ঘোষণা দেয়। এরই কয়েক মাস পরে কঠোর অভিযানে তামিল এলটিটিইদের গুড়িয়ে দেয় লংকান সেনারা। নিহত হয় এলটিটিইর প্রধান প্রভাকরণ। এই নিয়ে আমাদের কিছু বাকশালী ও ভাদা সুশীলের মাথায় ঠাটা পরে দুঃখের সীমা ছিল না। শ্রীলংকার উপর ইউরোপ ও মার্কিনিদের প্রচন্ড কূটনৈতিক চাপ থাকা সত্ত্বেও তারা তামিলদের বিরুদ্ধে এই সামরিক অভিযান হতে পিছিয়ে আসেনি।
কারণ পশ্চিমারা মতলববাজ। যখন তামিলরা বিমান হামলা চালায় তখনও পশ্চিমারা তেমন কিছুই বলেনি। এলটিটিইর প্রকাশ্য একটি অফিস বহুদিন লন্ডনে ছিল। পরে অবশ্য বৃটিশ সরকার সেটা এলটিটিই সন্ত্রাসী ঘোষিত হলে বন্ধ করে দেয়। আজকে কলোম্বোতে আইরিশ রিপাব্লিকান আর্মিদের অফিস থাকলে কেমন হত? সবই পশ্চিমাদের ডিভাইড এন্ড রুল তথা সুবিধাবাদী পদ্ধতি।
বহু সন্ত্রাসী তামিল কুকুরের মত মরলেও লংকান সরকার তাতে বিন্দুমাত্র অনুতপ্ত নয়। কারণ আজকে জাফনা উপদ্বীপ বিচ্ছিন্ন হলে দেশটাই বিপর্যস্ত হত। তার অখন্ডতা তার নিজেকেই ঠিক রাখতে হয়েছে। জাফনা পুনঃউদ্ধার হলেও শ্রীলংকা তার কৌশলগত সেনার অবস্থান এখনও বজায় রেখেছে। এই নিয়েও পশ্চিমা গোষ্ঠী অব্যাহত চাপ দিচ্ছে শ্রীলংকাকে যে তামিল অঞ্চল হতে সরে আসার।
কিন্তু শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট দৃঢ় ভাবে পশ্চিমাদের কুম্ভিরাশ্রুকে নাকচ করে তার সেনা রাখার ব্যাপারে বদ্ধপরিকর;
Click This Link
গতকাল ওয়াশিংটনে শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জি এল পেইরিসের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন বলেন, শ্রীলঙ্কার সাবেক যুদ্ধকবলিত এলাকা সেনামুক্ত করে কলম্বোর মানবাধিকার রক্ষা করা উচিত। এই আহ্বানের ঠিক কয়েক ঘণ্টা পরই তা নাকচ করে সেনা প্রত্যাহার না করার ঘোষণা দেন দেশটির প্রেসিডেন্ট।
রাজাপক্ষে বলেন, ‘জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র হওয়ায় সব দেশের সঙ্গেই আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। নিজেদের সমস্যা সমাধানে যথেষ্ট শক্তিও আমাদের আছে। সন্ত্রাসীদের পরাজিত করতে আমরা প্রতিবেশী বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতার কথা ভুলিনি।
এখন আমাদের প্রত্যাশা, এবার আমাদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেও তারা সহায়তা করবে। ’
গত মাসে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের একটি সংসদীয় প্রতিনিধিদলও শ্রীলঙ্কার উত্তরাঞ্চলকে সেনামুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছিল। কিন্তু রাজাপক্ষে তা নাকচ করে জানিয়ে দেন, কোনোভাবেই সেনা প্রত্যাহার হবে না।
রাজপক্ষে কত ভাগ্যবান যে পুরো সিংহলীরা তার তথা দেশের স্বার্থের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ আছে। আর আমাদের বাংলাদেশে হাসিনা ও তার আলীগ নিজেরা যেমন চরম র্দূনীতিবাজ ও লুটেরা তেমনি ভারতের ক্রীতদাসেও এক নম্বর।
আজকে পাবর্ত্য চট্টগ্রামের ভবিষ্যত দিনকে দিন অনিশ্চিত হয়ে যাচ্ছে। ইদানিং মার্কিন রাষ্ট্রদূত, ইইউর কূটনীতিকরা ঘন ঘন পার্বত্য চট্টগ্রামে যাচ্ছেন এবং অনেক আচরণই রহস্যজনক। বলতে গেলে যেভাবে বর্তমানে পাবর্ত্য চট্টগ্রাম চলছে তাতে এটা পূর্ব তিমুরের ভাগ্যবরণ করতে পারে। আর হাসিনা এই নিয়ে শান্তির জন্য শুধু নোবেল পুরস্কারই আশা করেন না বরং ডঃ ইউনুসকে নিয়ে চরম হিংসা করেন। দেশের অখন্ডতাকে হুমকিগ্রস্থ কোন দেশপ্রেমিক নোবেল পুরস্কার আশা করে তা এই দুনিয়ায় খুজে পাওয়া যাবে না।
এরাই আবার থিউরী দেয় "একজন রাজাকার চিরকাল রাজাকার আর মুক্তিযোদ্ধা চিরকালই মুক্তিযোদ্ধা নয়"। রাজপক্ষে ও শ্রীলংকার যে দেশপ্রেম-সচেতনতা আছে তার ধারে কাছেও হাসিনা ও আলীগ নেই।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।