আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

দেশে আজ তিনটি পার্টি :সরকারি, বিরোধী ও ভুল ধরা পার্টি

অজানাকে জানতে পছন্দ করি। পরিবেশ ও বনমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, দেশে আজ তিনটি পার্টি আছে। সরকারি, বিরোধী ও ভুল ধরা পার্টি। রাত ১২টার পর টক শোগুলোতে তারা ভুল ধরেন। নিজেরা কিছু করেন না।

গতকাল সংসদে প্রেসিডেন্টের ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ভুল ধরা পার্টির কেউ কেউ অথবা তাদের বন্ধুরা ২ বছর দেশ চালিয়েছিলেন। টেলিভিশনে এরা বলেন, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ভাল না। বাজেটের সাইজ বেড়েছে। তাই বলতে হবে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ভাল।

মাথাপিছু আয় এখন অনেক বেড়েছে। এর অন্যতম কারণ এখন দেশে হাওয়া ভবন, খাওয়া ভবন নেই। তিন বছরে দ্রব্যমূল্যের দাম কিছুটা কমেছে। আমাদের জোটেরও কেউ কেউ বলেন, আমরা দ্রব্যমূল্যের লাগাম টেনে ধরতে পারিনি। এটা ঠিক নয়।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভাল উল্লেখ করে তিনি বলেন- অনেকে বলেন, আমেরিকার তুলনায় আমাদের দেশের আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি ভাল। এ সময় তিনি দুই দেশের বেশ কিছু পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। হাছান মাহমুদ বলেন, আজ বিরোধীদলীয় নেত্রীর জনসভায় কোন বোমা বিস্ফোরিত হয় না। তারা নির্বিঘ্নে জনসভা করছেন। বিরোধী দলীয় নেতা বিজয়ের মাসকে বেছে নিলেন যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করতে।

১২ তারিখ ঢাকায় আবার ১৮ই ডিসেম্বরের পরিস্থিতি তৈরি করতে চাচ্ছেন। তারা যে গণ্ডগোল করতে চান তার প্রমাণ সাদেক হোসেন খোকার বক্তব্য। প্রয়োজনে ওই দিন মন্ত্রী এমপিরা একসঙ্গে রাজপথে থাকবে। তাদের উদ্দেশ্য গণতন্ত্রের শিকড় উপড়ে ফেলা। বঙ্গবন্ধুর সৈনিকরা আর তা হতে দিবে না।

দেশ এগিয়ে যাওয়ার এ সময়ে আমরা কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে দেব না। আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ এএইচএম আশিকুর রহমান বলেছেন, কাদের সিদ্দিকী বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের নীলনকশা বাস্তবায়নের কাজ করছেন। মুক্তিযুদ্ধের সময়ও তিনি বেইমানি করেছেন। নিম্নমানের রাজাকারদের মেরে তিনি সুনাম কামিয়েছেন। ’৭১ সালে টাঙ্গাইল জেলা রাজাকার মুক্ত হওয়ার পর তিনি সেখানে লুটপাট করেছেন।

আজ আমাকে রাজাকার বলছেন। যুদ্ধাপরাধী বলছেন। কিন্তু আমি যুদ্ধাপরাধী নই। আমার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের কোন প্রমাণ নেই। এএইচএম আশিকুর রহমান বলেন, জেনারেল জিয়া ক্ষমতা দখল করে জাতির ইতিহাসই পাল্টে দিয়েছিলেন।

আর বর্তমানে তারই স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষায় মাঠে নেমেছেন। তিনি বলেন, এক শ্রেণীর জ্ঞানপাপী কিছু লভ্যাংশের আশায় যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষায় নেতৃত্বদানকারী খালেদা জিয়ার সঙ্গে ভিড়েছেন। বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী আমাকে যুদ্ধাপরাধী বলে সংবাদপত্রে লেখালেখি করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী আমি যুদ্ধাপরাধী হলে একাত্তর সালে কর্মরত শ’ শ’ সরকারি কর্মকর্তা এবং কর্মচারীও যুদ্ধাপরাধী। কাদের সিদ্দিকী বিএনপি-জামায়াত জোটের ক্রীড়নক হিসাবে কাজ করছেন।

টাঙ্গাইল মুক্ত হয় ১১ই ডিসেম্বর। মুক্ত টাঙ্গাইলে কাদের সিদ্দিকী আসেন ১২ই ডিসেম্বর। এসেই তিনি ন্যাশনাল ব্যাংকসহ অসংখ্য দোকানপাট লুট করেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর কাদের সিদ্দিকীর বিশাল অর্থনৈতিক উত্থান এখন মানুষের মুখে মুখে। তার মুক্তিযোদ্ধার উপাখ্যান ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে প্রচার করা হয়েছে।

নিম্ন পর্যায়ের রাজাকারদের বিনা বিচারে হত্যা করে তিনি বীরত্ব দেখিয়েছেন। টাঙ্গাইল মুক্ত করার জন্য জ্যাকবের নেতৃত্বে ভারতীয় বাহিনীর সঙ্গে কাদের সিদ্দিকীর ২০ হাজার মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে যোগ দেয়ার কথা ছিল, কিন্তু তিনি যোগ দেননি। কাদের সিদ্দিকীকে বঙ্গবীর উপাধি দিয়েছে সেটা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। এরপর তিনি বলেন, আমি যুদ্ধাপরাধী নই। আমার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের কোন প্রমাণ নেই।

এরপরও আমাকে যদি যুদ্ধাপরাধী বলা হয় তাহলে ওই সময়ের হাজার হাজার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকেও যুদ্ধাপরাধী বলতে হবে। মাহাবুব আরা গিনি বলেন, স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় জিয়াউর রহমানের ডাকেও খালেদা জিয়া সাড়া দেননি। জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিদেশে চাকরি দিয়েছিলেন। আর খালেদা জিয়া ৯৬ সালে সেই খুনিদের বিরোধীদলীয় নেতা ও এমপি করেছিলেন। খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় ২ জন যুদ্ধাপরাধী নিজামী-মুজাহিদকে মন্ত্রিত্ব দিয়েছিলেন।

২-এর সঙ্গে জিয়া ও খালেদা জিয়ার খুব মিল। তার সন্তান দুইটি। টাকা দুই রকম। কালো এবং সাদা টাকা। শামসুর রহমান শরিফ বলেন, লাজ-লজ্জার মাথা খেয়ে রাজাকার-আলবদরদের ঘাড়ে নিয়ে খালেদা জিয়া জাতির সামনে নতুন রূপে আবির্ভূত হয়েছেন।

সংসদে না এসে রাস্তায় বোমাবাজি, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য চালাচ্ছেন। খালেদা জিয়াকে প্রশ্ন করি, দেশে যুদ্ধাপরাধী না থাকলে একাত্তরে ৩০ লাখ মানুষকে কে খুন করেছে? দু’লাখ মা-বোনের ইজ্জতকে কেড়ে নিয়েছে? শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ নিজ মন্ত্রণালয়ের নানা সাফল্য তুলে ধরে বলেন, সরকার মাদরাসা শিক্ষাকে আরও আধুনিক করার চেষ্টা করছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থায় অনেক অব্যবস্থাপনা ছিল। আমরা নানা পদক্ষেপ নিয়ে তা দূর করেছি। আমরা চাই তরুণ প্রজন্মকে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে।

এজন্য শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। সুত্রঃ এখানে ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.