জমিদারবাড়িটি রংপুর শহর থেকে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে ৬ কিলোমিটার দূরে তাজহাট গ্রামে অবস্থিত।
গঠন:
রাজবাড়ী সর্বমোট ২১০ ফুটের মত প্রশস্ত ও চার তলার সমান উচুঁ,এর গঠনশৈলী প্রাচীন মুঘল সাম্রাজ্য থেকে অনুপ্রাণিত মনে করা হয়। এর প্রমাণ মেলে মাঝে বিশাল একটা গম্বুজ ও ২ পাশে তার ছড়িয়ে যাওয়া দালান গুলোর একটা মসজিদ এর অবয়ব তৈরী হওয়া থেকে। তবে রাজবাড়ী যেই দিক থেকে সব থেকে আলাদা তা হল এর সিড়িগুলো। সর্বমোট ৩১ টি সিড়ি আছে যার প্রতিটাই ইটালি থেকে আমদানিকৃত শ্বেতপাথর এ তৈরী;অসম্ভব সুন্দর এই সিড়ি গুলো;সিড়ি থেকে উঠে মিউজিয়াম পর্যন্ত মেঝের পুরোটাও একই পাথর এ তৈরী।
পুরো ভবনটিতে রয়েছে ২৮টি কক্ষ।
রাজবাড়ীর পিছনে গুপ্ত সিড়ি দেখতে পাবেন যেটা রাজারা বিপদের সময় পালানোর সময় ব্যবহার করার জন্যে তৈরী করেছিলেন। এই গুপ্ত সিড়ি কোন একটা সুড়ঙ্গের সাথে যুক্ত যা সরাসরি ঘাঘট নদীর সাথে যুক্ত এমন একটা জনশ্রুতি আছে। তবে সিড়ি টা এখন নিরাপত্তা জনিত কারনে বন্ধ থাকে।
রাজবাড়ীর সামনে মার্বেল পাথরের ফোয়ারাটি অতি চমৎকার।
কালের বিবর্তন এ শ্বেতশুভ্র মার্বেল ও তার সবুজাভ নকশা কিছুটা মলিন হলেও এখনো এর জৌলুস বুঝা যায় পুরোপুরি। কথিত আছে রানী'র জন্যেই বিশেষ করে এটি নির্মাণ করা হয়েছিল।
ইতিহাস: প্রাসাদটি বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে মহারাজা কুমার গোপাল রায় নির্মাণ করেন বলে জানা যায়। কিন্তু এখানে আরো কিছু বলে নেয়া ভালো। প্রথমত, মান্না লাল ছিলেন এই জমিদারবাড়ির প্রতিষ্ঠাতা।
অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ দিকে ব্যবসায়িক কারণে তিনি রংপুরের মাহিগণজে আসেন এবং ভবন নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন। ১৮৯৭ সালে ভবনটি ভূমিকম্পে ধ্বংস হওয়ার সময় তিনি আহত হয়ে মৃত্যু বরণ করেন। তার ই দত্তক পুত্র ছিলেন গোপাল লাল রায় বাহাদুর। তিনি পুনরায় ভবনটি তৈরির কাজে হাত দেন এবং ১৯১৭ সালে তা নির্মাণ শেষ হয়। মহারাজা গোপাল রায় ছিলেন হিন্দু এবং পেশায় ছিলেন একজন স্বর্ণকার।
কথিত আছে তার মনমুগ্ধকর তাজ বা মুকুটের কারণেই এ এলাকার নাম তাজহাট নামকরণ হয়। তিনি অনেক অত্যাচারী ছিলেন বলে ধারনা করা হয়।
এই জমিদারবাড়ী বাংলাদেশের রংপুরের তাজহাটে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক প্রাসাদ যা এখন একটি জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং পর্যটকদের কাছে একটি আকর্ষনীয় স্থান বলে বিবেচিত। ১৯৫২ সালে জমিদারি প্রথা বিলুপ্তির পরে এ বাড়ি চলে যায় কৃষি বিভাগ এর অধীনে। এবং গড়ে উঠে কৃষি প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট।
মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রচুর মূল্যবান সম্পদ খোয়া যায় এখান থেকে। ১৯৮৫ থেকে ১৯৯১ পর্যন্ত প্রাসাদটি ব্যবহৃত হয় রংপুর হাইকোর্ট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের একটি শাখা হিসেবে। ১৯৯৫ সালে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ প্রাসাদটি সংরক্ষিত স্থাপত্য হিসেবে ঘোষণা করে।
বাংলাদেশ সরকার এ স্থাপন্ত্যের ঐতিহাসিক গুরুত্ব অনুধাবনে সক্ষম হলে ২০০৫ এ রংপুর জাদুঘরকে সরিয়ে এ প্রসাদের দ্বিতীয় তলাতে নিয়ে আসে। মার্বেলের সিড়ি বেয়ে জাদুঘরে উঠলেই রয়েছে বেশ কয়েকটি প্রদর্শনী কক্ষ যাতে রয়েছে দশম ও একাদশ শতাব্দীর টেরাকোটা শিল্পকর্ম।
এখানে রয়েছে সংস্কৃত এবং আরবি ভাষায় লেখা বেশ কিছু প্রাচীন পান্ডুলিপি। এর মধ্যে রয়েছে মুঘল সম্রাট আওরাঙ্গজেবের সময়ের কুরআন সহ মহাভারত ও রামায়ণ। পেছনের ঘরে রয়েছে বেশ কয়েকটা কাল পাথরের হিন্দু দেবতা বিষ্ণুর প্রতিকৃতি। জাদুঘরে তিনশটি মূল্যবান নিদর্শন রয়েছে। কিন্তু জাদুঘরের ভিতরে ছবি তোলার নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
প্রাসাদ চত্বরে রয়েছে বিশাল খালি মাঠ, গাছের সারি এবং প্রাসাদের দুই পাশে রয়েছে দুইটি পুকুর। জাদুঘরে নির্দিষ্ট প্রবেশ মূল্য পরিশোধ করে প্রবেশ করা যায়।
কিভাবে যাবেন :
ঢাকা /যেকোন জায়গা থেকে বাস এ করে রংপুর চলে আসুন এরপর যেকোন রিকশাও্য়ালা কে বললেই নিয়ে আসবে এখানে।
পরিদর্শন এর সময়সূচিঃ
গ্রীষ্মকালে সকাল ১০ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা।
শীতকালে সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৫ টা।
(মাঝে ১ টা থেকে ১টা ৩০ মিনিট বিরতি)
রোববার পূর্ণদিবস এবং সোমবার অর্ধদিবসসহ সরকারি সব ছুটির দিন জাদুঘর বন্ধ থাকে।
প্রবেশ ফি : বাংলাদেশী হলে ১০টাকা ও বিদেশী হলে ২০ টাকা। প্রাসাদ চত্ত্বরে গাড়ি নিয়ে ঢুকতে চাইলে গাড়ীর জন্যও নির্দিষ্ট ফি দিতে হবে। ।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।