আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

‘একুশে ফেব্রুয়ারি’ নামে চলচ্চিত্র দেখতে চাই, অপেক্ষায় একজন জহির রায়হানের।

ভাষা আন্দোলনের অমর গাঁথা আর ’৬৯-এর গণআন্দোলন নিয়ে নির্মিত হয় জহির রায়হানের ‘জীবন থেকে নেয়া’। সেই ছবিতে ব্যবহৃত বরেণ্য সাংবাদিক আবদুল গাফফার চৌধুরীর লেখা ও সংগীতজ্ঞ আলতাফ মাহমুদের সুরে বাংলা ভাষার অন্যতম শ্রেষ্ঠ গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’ আজ আমাদের ভাষা সংগীত হয়ে উঠেছে। জহির রায়হানের ‘জীবন থেকে নেয়া’ কেবল ঢাকার চলচ্চিত্রের অমর সৃষ্টিই নয়, এটি স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেরণা। ফলে এ ছবির নির্মাতাকে তৎকালীন পাকিস্তান সামরিক সরকারের রোষানলে পড়তে হয়। বন্ধ করে দেয়া হয় ছবির শুটিং।

কিন্তু সচেতন নাগরিক সমাজ ‘জীবন থেকে নেয়া’ মুক্তির জোরালো দাবি তোলেন। ১৯৭০ সালে মুক্তি পায় ‘জীবন থেকে নেয়া’। যা সেই সময় ব্যাপক গণজাগরণের সৃষ্টি করে। এ ছবির ব্যাপক সাফল্যের পর জহির রায়হান নির্মাণ করতে চেয়েছিলেন ভাষা আন্দোলনের মহান শহীদদের স্মরণে রক্তের অক্ষরে লেখা অবিস্মরণীয় সেই দিনের অমর কাহিনী নিয়ে ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’। কিন্তু ‘জীবন থেকে নেয়া’র সাফল্য দেখে তৎকালীন স্বৈর সরকার ভীত হয়ে ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’ ছবির কাজ বন্ধ করে দেয়।

জহির রায়হান এ ছবির চিত্রনাট্য এফডিসিতে জমা দিয়েছিলেন। এফডিসির তৎকালীন কর্তৃপক্ষ ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’ ছবিটি নির্মাণের অনুমতি দেয়নি। ফলে স্থগিত হয়ে যায় ছবিটির নির্মাণ পরিকল্পনা। স্বাধীনতার পর ১৯৭১ সালের ৩০শে ডিসেম্বর জহির রায়হান রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে গেলে ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’ ছবি আর নির্মিত হওয়ার জন্য আলোর মুখ দেখেনি। আজ ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে।

তদানীন্তন স্বৈর সরকার জহির রায়হানের চিত্রনাট্য ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’র চলচ্চিত্রায়ন হতে দেয়নি। তবে কি ভাষা আন্দোলনের অমর গাঁথা নিয়ে নির্মিত হবে না আর কোন চলচ্চিত্র! হয়তো খুঁজলে এখনও এফডিসিতে ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’র চিত্রনাট্য পাওয়া যেতে পারে। স্বাধীন দেশে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের সময়েও কি এই প্রজন্ম ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’ নামে কোন চলচ্চিত্র দেখার প্রত্যাশা করতে পারে না? জাতির বিস্মৃতির আড়ালেই কি থেকে যাবে জহির রায়হানের শিল্প মানসের আরেক সৃজনশীলতা? ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’ নামে সেই ছবি দেখার প্রত্যাশায় আমরা একজন জহির রায়হানের অপেক্ষায় থাকবো আজ, আগামীকাল এবং তার পরেও।  ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.