সত্যের হয় সূচনা আর মিথ্যের হয় লালন। আর আমি সূচনাকেই স্বাগত জানাই,হোক না সেটা আমার মিথ্যা ভেঙ্গে। পোষ্টের সূচনাতেই বলি যে এটা আমার সামুতে এমনকি কোন ব্লগে আমার প্রথম পোষ্ট। যাই হোক, মন থেকে চাইছিল যে প্রথম পোষ্ট এমন কিছু নিয়ে লিখব যা সামান্য হলেও কিছু ধারনা পরিষ্কার করবে আমার এবং অনেকের সম্পর্কে।
শিরোনাম থেকেই বলতে চাই যে আজ আমি যদি মুসলিম ভিন্ন অন্য কোন ধর্মের পরিবারে জন্মগ্রহন করতাম তাহলে কিন্তু মনে প্রাণে সেটাই হত আমার ধর্ম কিংবা লাখ লাখ বছরের মানসিক ভয় থেকে পরিত্রান পাবার একটা আশ্রয়স্থল।
কিন্তু কেন? সোজা উত্তর- সবই তো বিধাতার হাতে। কথা হল আমি শুধু পরিবার থেকেই ধার্মিক কেন ? সমাজ এর ক্ষেত্র দ্বারা প্রভাবিত কেন? হয়ত অনেকেই জানেন যে কিছু ঘটনা আছে বন্য শিশুদের নিয়ে। জন্মের পর থেকেই জীবজন্তুর সাথে থাকার ফলে তার আচার আচরনে পুরোটাই পশুদের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। প্রভাবিত হওয়াটাই আসলে স্বাভাবিক। এসবের ফাকফোকর দিয়েই আসলে ধর্মের প্রবেশ।
যখন সন্তান উৎপাদনে অক্ষম কোন নারী বা পুরুষ তাদের কষ্ট ভোলার জন্য হয়ত ঘরের কোণে চোখের পানি ফেলত তখনি কিন্তু সমাজ তাদের শিখিয়েছে যে এটা বিধাতার ইচ্ছা,সবই তার হাতে,তোমাদের কোন পাপের ফল এটা,নারীটি বোধহয় অলুক্ষনে.......ইত্যাদি ইত্যাদি। আবার বিজ্ঞানের হাত ধরে (টেষ্টটিউব) ওই অলুক্ষনে নারীই যখন মা হবার পরম তৃপ্তি পেল তখনও বেচারা বিধাতা তার রহমতের দুয়ার খুলে দিয়ে হাজির হলেন।
এবার একটু কড়া আলাপে আসা যাক। আগেই বলে নেই যেহেতু সব ধর্মের উপর থেকেই বিশ্বাস উঠে গেছে তাই কাউকে সন্মান করার প্রয়োজনীয়তা বোধ করছি না। আর মাথাব্যথা ইসলাম নিয়ে বেশি কারন আমি ইহার দ্বারাই ক্ষতিগ্রস্থ।
চিন্তা করার দুইটি ধরন।
এক- আপনি ফলাফল ধরে রেখে সব সাজাবেন
দুই- ফলাফল বের করার জন্য চিন্তা করে সব সাজাবেন
আমি ২ নাম্বার পন্থা অবলম্বন করি তাই ধর্মীয়মতে আজ আমার এই বেহাল অবস্থা। ছোটবেলা থেকেই ধর্ম নিয়ে জানার ইচ্ছা ছিল তা নয়। শুরুটা অনেক পরে কিন্তু ধর্মের কাছে আমার প্রথম প্রশ্ন ছিল (মায়ের কাছে) আচ্ছা আম্মু কোরানে কি ডাইনোসর সম্পর্কে বলা আছে ? সদুত্তর পাইনি । তারও অনেক পরে আসলে জানতে পারলাম কোরানে এমন একটি কথাও বলা নাই যা তখন মানুষ জানত না ।
আমি জানি এর উত্তর কি হবে ! রুপক অর্থ আর ভাববাদ। কিন্তু আমাদের এই জোকার নায়েক,হারুন ইয়াহিয়া,রাশেদ খলিফাদের জন্য দুক্ষের বিষয় যে রূপক অর্থ ব্যবহার করে বাইবেল থেকে অনেক মিরাকল সাজানো হয়েছে। (কেউ জানতে চাইলে লিখে দিব)
আরও দুক্ষের বিষয় যে যেকোন প্রাচীন বই থেকে মিরাকল বের করা খুব একটা কষ্টের ব্যাপার না। রোমান কবি লুক্রেশিয়াস (99 BC-55 BC) এর বইগুলো গবেষনা করে দারুন কিছু মিরাকল পাওয়া যায়। পার্থক্য শুধু এই যে ধর্মবাদীরা মিরাকল পুজি করে বিশ্বাস পাকাপোক্ত করে।
আসলে তাদের এইটা ছাড়া করারই কি আছে?
কোরানে সর্বমোট ১৭ এমনকি এর চেয়ে বেশিবার সিদ্ধ পানির মাধ্যমে অত্যাচার(জাহান্নামে) এর ভয় দেখানো হয়েছে। আল্লাহ কি একবারো বলতে পারলেন না যে সিদ্ধ পানি দ্বারা বিভিন্ন রকমের ভাইরাস অথবা ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস হয়?
কোরানে বলা হল 'He is the lord of Sirius' (53:49)
'Sirius' নামের এই তারাটি আরবদের কাছে বহুল প্রচলিত। প্যগান আরবরা এর পূজা পর্যন্ত করত। আল্লাহ নিজেকে এইটার সৃষ্টি কর্তা
দাবি করলেন। কিন্তু সমস্যা হল সম্প্রতি জানা গেছে যে 'Sirius' নক্ষত্র আসলে দুইটা।
বর্তমানে যা পরিচিত'Sirius A' এবং 'Sirius B'
নামে। এই নক্ষত্র(বি) শক্তিশালী টেলিস্কোপ ছাড়া দেখা যায় না। আল্লাহ আসলে রুপক অর্থে না বলে যদি বলতেন
'He is the lord of two Sirius' তাহলে আজ আমি এই কথাগুলো বলার সুযোগ পেতাম না।
কোরানে আছে
"They ask you, [O Muhammad], about the new moons. Say, "They are measurements of time for the people and for Hajj." And it is not righteousness to enter houses from the back, but righteousness is [in] one who fears Allah. And enter houses from their doors. And fear Allah that you may succeed." 2:189
নতুনা চাঁদ নিয়ে বলা হল। আন্ডারলাইন করা উত্তরের পাশাপাশি চাঁদ নিয়ে খুব সুন্দরভাবে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেয়ার সুযোগ ছিল।
না করে বরাবরের মতই(বোল্ড) প্যাচাল পারলেন।
ইদানিং ফেসবুকে আল্লাহর কিছু নিদর্শন দেখি। যেমন দুই দরিয়াতে পানি মিশে না এইটা নাকি কোরানে
"He has let loose the two seas, converging together, with a barrier between them they do not break through."(55:19-20)
১৪০০ বছর আগে বলা আছে দেখেই আজ আমরা অবাক হইতাছি। ব্যাপারটা এমন নয়,আমরা এখন যেমন জানি সারফেস টেনশন,ঘনত্ব ইত্যাদি কারনে পানি মিক্সড হয় না ঠিক একই কারন না হলেও মানুষ কিন্তু মুহাম্মদের আগে থেকেই জানত।
যেমন “The drinkable, sweet water, then, is light and is all of it drawn up: the salt water is heavy and remains behind,” (Meteorology Book 2 Chapter 2) -এরিস্টটল।
তাই এই ধারনা ১৪০০ বছর আগে হলেও অজানা কিছু ছিল না।
ফেসবুকের আরেক অপার নিদর্শন হচ্ছে মিরাকল অফ ১৯।
আর আমি বলছি ভাওতাবাজি ছাড়া আর কিছুই নয়।
আরও আছে। তা হল অক্ষত কিছু মসজিদ।
সুনামির সময় আর আরেকটি ২য় বিশ্বযুদ্ধের সময়। দুইটাই জাপানের। আনবিক বোমা পড়ে সব শেষ মাগার রহমতের জিনিস কিছুই হইল না। জনাব আল্লাহপাক,আপনারে একটা কথা বলি শুনেন। আমি যদি বিধাতা হতাম তাইলে মসজিদ নিয়া ভাবার চেয়ে আনবিক বোমাটা যেন কিছুতেই না পড়ে সেই ব্যাবস্থা নিতাম।
বিবর্তন নিয়ে কথা বলতে ভয় পাই কারন সত্য মেনে নেয়া যে কত কঠিন তা বিবর্তন প্রমান করসে। এদেশে বিবর্তন সিলেবাস থেকে উঠে যাওয়ার মত। কিন্তু সবাই আবার জীববিজ্ঞানী,উদ্ভিদবিজ্ঞানী,জিনপ্রকৌশলী,অনুপ্রাণবিদ,ফার্মাসিস্ট,ডাক্তার হতে চায়। আসলে বিবর্তন কে না মেনে কিভাবে এইসবক্ষেত্রে ভাল গবেষক হওয়া যায় তা আমার জানা নেই। যদি কেউ হয়ে যায় তবে আল্লাহ নারাজ হইলেও বুঝতে হবে ওই বেচারা বিবর্তন বিষয়টা পড়েছে।
বিবর্তন নিয়ে আরেকদিন বলার ইচ্ছা আছে তবে কেউ কাউণ্টার যুক্তি দিতে চাইলে যে প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে তা হল -
-এইডস এর ভাইরাস নির্মূল করা যাচ্ছে না কেন?
-ডাক্তার সবসময় এন্টিবায়োটিক এর ডোজ কমপ্লিট করতে বলে কেন?
-মানুষের সাথে এপ দের জেনেটিক মিল ৯৮% কেন?
-লেজের হাড় দিয়ে আমরা কি করব?
-আমাদের চোখ এত জটিল হলেও একটু আধুনিক ক্যামেরা থেকে এত কম শক্তিশালী কেন?
কোরানের শত শত কনফ্লিক্ট থেকে আজ শুধু একটাই বলব। আমাদের সৌরমন্ডল এর শক্তিদাতা সূর্যকে নিয়ে আল্লাহ কি ভাবেন দেখা যাক -
"অবশেষে তিনি সূর্যের অস্তাচল স্থলে পৌছলেন, তখন তিনি সূর্যকে এক পঙ্কিল জলাশয়ে অস্ত যেতে দেখলেন এবং সেখানে এক সম্প্রদায়কে দেখলেন। " (১৮: ৮৬)
"ইহার পর জুলকারনাইন অন্য একটি জোগাড়যন্ত্রের পশ্চাতে লাগিল। এ পর্যন্ত যে, চলিতে চলিতে যখন সূর্যোদয় স্থলে উপনীত হইল সূর্যকে এরূপ বোধ হইল যেন কতক লোকের প্রতি উদিত হইয়াছে যাদের জন্য আমি সূর্যের দিকে কোনও আড়াল রাখি নাই। " (১৮:৮৯-৯০)
সূর্য যদি জানতে পারে যে আল্লাহ তারে নিয়া এই ভাবে তাইল মনে আমাদের কপালে আর আলো জুটবে না।
সকল ঈমাণদারদের জন্য প্রশ্ন থাকল যে আল্লাহ বা মুহাম্মদ কি কোন সময় জানতে পেরেছিলেন যে সূয্যিমামা কখনো উদিত হয় না বা অস্ত যায় না।
(আজ বড়ই বিক্ষিপ্ত লিখলাম। আসলে প্রথম লেখা তাই গুছিয়ে লিখতে পারলাম না। আরো ভাল করে লেখার চেষ্টা করব। আর প্রাসঙ্গিক আলোচনা হলে ভাল লাগবে।
অনেক অনেক কিছু বলার বাকি। আজ শুধু শুরু করার সাহস দেখালাম। )
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।