আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

উত্তর জনপদের লাখ মানুষকে ১৫০ কিমিঃ পথ ঘুরে বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতু হয়ে যেতে হয় রাজধানী ঢাকায় এই দুঃখ কাহারে জানাই ?

দুরে তুমি দাড়িয়ে রেল ভ্রমণ সুখকর, অনেকটা আরামদায়ক, নিরাপদও বটে। সে রেল ভ্রমণ যদি হয় কষ্টের- হয় যদি অস্বাভাবিক দূরত্বের ? সময় নষ্ট, অর্থ দন্ড, দীর্ঘপথ পাড়ি দিতে যাত্রী সাধারনের ভোগানি- আর কতদি চলবে। বগুড়া -জয়পুরহাট ভায়া বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতু পর্যন্ত ১৫০ কিলোমিটার ব্রডগেজ রেলপথ স্থাপন প্রকল্পটি বাতিল করা হয়েছে। ফলে, বগুড়া থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত কোন রেলপথ নির্মিত হচ্ছেনা, অথচ অনেক আগেই এ ডি বি আর্থিক সহায়তায় বগুড়া থেকে যমুনা সেতু পর্যন- ৭০ কিলোমিটার নূতন রেলপথ স্থাপনের সরকারী সিদ্ধান- নেয়া হয়েছিল। রেলওয়ের কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জাতীয় দৈনিকের মাধ্যমে জানা যায় রেল যোগাযোগ ব্যবসা আধুনিকীকরণের জন্য বগুড়া থেকে যমুনা সেতু ভায়া জামতৈল-জয়দেবপুর পর্যন- ১৫০ কিলোমিটার পর্যন- ব্রডগেজ নূতন রেলপথ স্থাপনের সিদ্ধান- ছিল।

বগুড়া-জয়দেবপুর নয়া রেলপথ নির্মানের জন্য ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় নির্দ্ধারণ করা হয়েছিল। পরিবেশের ক্ষতি হবে বলে এ ডি বি এ প্রকল্পটি বাতিল করে। আরও যা শোনা যায় বগুড়া থেকে জামতৈল পর্যন্ত- নাকি অনেক গুলো রেল সেতু নির্মাণের কারনে ব্যয় বৃদ্ধির কারণে নাকি এ প্রকল্প রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বাতিল করে। ফলে বগুড়া-নওগাঁ-গাইবান্ধা-জয়পুরহাট জেলার ১৫ লাখ অধিবাসীকে সান্তাহার-ঈশ্বরদি হয়ে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ অতিক্রম করে যমুনা সেতুতে যেতে হচ্ছে বলে পত্রিকান-রে জানা যায়। তাই বলে কি বগুড়া-নওগাঁ-গাইবান্ধা-জয়পুরহাট,বৃহত্তর রংপুর জেলার লাখ লাখ অধিবাসীকে নাটোর,সান্তাহার-ঈশ্বরদি হয়ে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ অতিক্রম করে যমুনা সেতু হয়ে রাজধানী যেতে হবে ? বর্তমান সরকার যেখানে দিন বদলের পালা ঘোষনা করেছেন ।

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে বাংলাদেশের প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির কাছে ওয়াদাবদ্ধ । সেখানে গণ প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা সহ মাননীয় যোগাযোগ মন্ত্রী মহোদয়ের সদয় দৃষ্টি আকর্ষন করছি। বগুড়া-নওগাঁ-গাইবান্ধা-জয়পুরহাট অঞ্চলের মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্যগন,মহাজোট সরকারের অংশীদার সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এঁর সদয় ভুমিকা আশা করে উত্তর জনপদের মানুষ। জুন/২০০৯ এর বাজেট অধিবেশনেই এক যোগে সংসদে প্রস্তাব উথ্‌থাপন /নোটিশ আকারে প্রদান করে অত্রাঞ্চলের জন্য আগামীর যোগাযোগকে ত্বরান্বিত করা হোক। বর্নিত জেলার মানুষ গুলো শুধু নয়-ঢাকা থেকে সব জেলায় গমনাগমনকারী যাত্রী সাধারনের ভোগানি- নিরসন করা হোক।

জেলার মানুষের যাতায়াতের ভোগানি- নিরসনে করতে এখনই উদ্যোগ নেয়া হোক। বগুড়া-নওগাঁ-গাইবান্ধা-জয়পুরহাট,বৃহত্তর রংপুর জেলার অধিবাসীকে রেলপথে রাজধানী যেতে সান্থাহার-ঈশ্বরদি হয়ে দীর্ঘ সময় নষ্ট, বাড়তি অর্থ দন্ড করে আর যেন ১৫০ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ অতিক্রম করতে না হয়। বিরাট অঞ্চলের জনগোষ্ঠির বিষয়টি সরকারের সদয় বিবেচনায় নেয়ার জোর দাবী রইল। ** পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশের সকল রেলওয়ে লাইন গুলো কম পক্ষে আগামী ১০০ বছরের জন্য মাষ্টার প্লান ডিজাইন করে চীন, জাপান, ফ্রান্স উন্নত বিশ্বের ন্যায় বিশ্বমানের বৈদ্যুতিক দ্রুতগামী ট্রেন চলাচলের নিমিত্তে ব্রডগেজ ও মিটারগেজ ২/৩ লেন রেলপথ নির্মাণ করা হোক। ** বাংলাদেশের রেলওয়ের অধিগ্রহণকৃত জমিতেই রেল লাইন গুলোর নিরাপদ দূরত্বের দুধার খাল খনন করে উত্তোলিত কমপ্যাক্ট মাটিতে ২/৩ লেন বিশ্বমানের বৈদ্যুতিক দ্রুতগামী ট্রেন চালনার নিমিত্তে রেলপথ নির্মাণ করা হোক।

প্রয়োজন বোধে সরকারকে উন্ন্নত বিশ্বের ন্যায় শুধু ঢাকা নয় সারা দেশ ব্যাপী পাতাল রেলের কথাও ভাবতে হবে অদুর ভবিষ্যতে। ** রেল পথের দুধার নিরাপদ দূরত্ব দিয়ে বিরাট জলাধার সৃষ্টি করে বন্যার পানি সংরক্ষণ (পানির রিজারর্ভার )করা হোক যা শুকনো মওসুমে প্যাকেজ সেচ প্রকল্প করে সেচ প্রদান করে ইরি বোরো সহ নানা সবজী প্রকল্প বাস-বায়ন সহ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা যেতে পারে। ** রেল পথের দুধার দিয়ে বিরাট জলাধারে উন্নত প্রণালীতে মৎস্য চাষের নিমিত্তে মৎস্য বিভাগ, সংশ্লিষ্ট সরকারী /আধাসরকারী, এনজিওর মাধ্যমে মৎস্য চাষ,সবজী চাষ, এলাকা ভিত্তিক নানাবিধ ফসলাদির চাষ করা যেতে পারে। নানা অবকাঠামো নির্মাণ করে বিদেশগামী বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে বেকার সমস্যা নিরসন, মৎস্য উৎপাদন করে মৎস্য উৎপাদন করে সহ দেশের বিরাট প্রোটিনের অভাব পুরণ করেও বিদেশে রফতানী করে বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন করা যেতে পারে। ** রেলপথের দুধারে প্রবাহিত খাল সমুহে ও রেল ব্রীজ গুলো দিয়ে বন্যার সময় হেড রেগুলেটর,সাইফুন, একুইডাক,নানাবিধ জলকাঠামো নির্মাণ করে বন্যার সময়ও অতিরিক্ত পানির যথাযথ ব্যবহার করা যেতে পারে।

উদাহরন স্বরুপ বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সর্ব বৃহৎ প্রকল্প তিস্তা বাঁধ প্রকল্পের নানাবিধ জলকাঠামো সমুহের ডিজাইন অনুস্মরন করা যেতে পারে। বন্যার পর পরই রেল লাইনের দু-ধারের জলাধারে বন্যার পানি ধরে খাল গুলো পানিতে টইটুম্বুর রাখা ও পরে শুকনো মওসুমে সেচ দিয়ে ইরিবোরো সহ নানা ফসল ফলানোর কাজে লাগিয়ে দেশের উৎপাদন বহুগুনে বৃদ্ধি করা যেতে পারে। ফলে ভূ-গর্ভস' পানি উত্তোলন অনেকটা কমে যাবে, প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা হবে। ** আগামী ১০০ বছরের মাষ্টার প্লান করে সে মতে ডিজাইন করে চীন, জাপান, ফ্রান্স, উন্নত বিশ্বের ন্যায় বিশ্বমানের বৈদ্যুতিক দ্রুতগামী ট্রেন চালনার নিমিত্তে ব্রডগেজ ও মিটারগেজ ২/৩ লেন রেলপথ নির্মাণ করা হোক। সারা দেশে জরীপ বা ফিজিবিলিটি ষ্টাডি করে সম্ভাব্য সকল জেলায় ব্রডগেজ,মিটারগেজ রেলপথ নির্মাণ করে বিশ্বমানের রেলওয়ে নেটওয়ার্ক চালু করা প্রয়োজন।

** রেলপথের দুধারের জলাধারে পানি প্রবাহ করে হাইড্রোলিক ষ্টাকচারের মাধ্যমে বন্যা চলাকালীন সময়ে(সম্ভব হলে) প্যাকেজ জলবিদ্যূৎ উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি করা যায় কিনা সংশ্লিষ্ট সকলকে বিষয়টি ভাবতে হবে। ** রেল পথের দুধার দিয়ে বিরাট জলাধারের দু-পাশ দিয়ে কোটি কোটি ফলজ,বনজ,ঔষধি গাছ রোপন/বপন করে প্রাকৃতিক অপরুপ দৃশ্যের অবতারনা করা যেতে পারে। সেই সাথে দেশের বিপুল বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা যেতে পারে। ** দিনাজপুরের হিলি হতে গাইবান্ধার বালাসীঘাট পর্যন- নূতন ব্রডগেজ/মিটারগেজ রেলপথ নির্মাণ করে যোগাযোগের উন্নয়ন সহ ব্যাপক ফলজ, বনজ, ঔষধি গাছ রোপন / বপন করে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করা যেতে পারে। লেখকঃ ডাঃ এম এ রউফ বাদশা বিঃদ্রঃ লেখাটি আমার আব্বুর লেখা।

আমার আব্বু বাংলা একাডেমি এর একজন সদসস। ।


এর পর.....

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.